📘 মুতাযিলা আকিদা 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


তাফসীর শাস্ত্রের জগতে আল্লামা যামাখশারী প্রণীত তাফসীরে কাশশাফ গ্রন্থটি সকলের নিকট এর যুক্তিপূর্ণ ও তথ্যনির্ভর হওয়ার কারণে সমাদৃত। তিনি এ গ্রন্থে কুরআনের অলৌকিকত্ব ও ই'জাযুল কুরআনকে অতি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। এ গ্রন্থের অপূর্ব শব্দচয়ন, আরবী কবিতা থেকে উদ্ধৃতি প্রদান, ভাষাগত নৈপুণ্য, ব্যাকরণ সম্পর্কিত ব্যাখ্যা প্রদান, পবিত্র কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে ব্যাখ্যাকে শক্তিশালীকরণ ও হাদীস থেকে দলিল প্রদানের কারণে তাফসীর জগতের ইতিহাসে বিশেষ করে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে গ্রন্থটি একটি অনন্য গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। তিনি ভিন্ন মাত্রা ও পদ্ধতিতে সমগ্র বিশ্বের নিকট পবিত্র কুরআনকে উপস্থাপন করেছেন। এ কৃতিত্ব আল্লামা যামাখশারীকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে।

আল্লামা যামাখশারী আল কাশশাফ গ্রন্থটি মু'তাযিলা আকীদার ভিত্তিতে রচনা করেছেন এবং এর বিভিন্ন স্থানে মু'তাযিলা আকীদাকে সন্নিবেশিত করেছেন। তিনি এ গ্রন্থটি মক্কায় কা'বা ঘরের পাশে অবস্থান করে ৫২৬ হিজরী থেকে শুরু করে ৫২৮ হিজরীতে মাত্র দুই বছরের মধ্যেই এ গ্রন্থটি লেখা সম্পন্ন করেন এবং এর নামকরণ করেন আল কাশশাফু আন হাকায়িকিত তানযিল ওয়া উয়ু'নুল আকাবীল ফী উজুহিত তা'বীল। তাঁর দৃষ্টিতে তিনি সত্য বিষয়কে প্রকাশিত ও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

আল্লামা যামাখশারী (রহ:) আল-কাশশাফ গ্রন্থে আদর্শিক মাপকাঠির আলোকে কুরআনের প্রতিটি আয়াতের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন। ফলে পূর্ববর্তী সকল তাফসীরকারকে অতিক্রম করে তিনি তাফসীর জগতে ভাষা অলংকার ও ই'জায নামে নতুন দু'টি অভিনব ধারার প্রবর্তনকারী হিসেবে সমধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেন। আয়াতের ব্যাখ্যায় 'ইলমুল বদী', বয়ান, ইস্তে'আরা, মাজায, ই'জায, ইতনাব এবং আয়াতের ব্যাকরণ ও শব্দগত বিশ্লেষণ বিধি এ গ্রন্থকে অভিনব সাজে সাজিয়েছে। তাই এটি যুগশ্রেষ্ঠ বিদ্বান ও দার্শনিকদের অভীষ্ট লক্ষ্যস্থলে পরিণত হয়।

আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াতসহ মুসলিম বিশ্বের বড় বড় আলেমগণ উক্ত গ্রন্থের সমালোচনা করেছেন। কেননা আল-কুরআন ব্যাখ্যার মূলনীতিকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে এর রচয়িতা আল্লামা যামাখশারী এ গ্রন্থে মু'তাযিলী মতবাদ প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে মুক্ত চিন্তাধারা এবং বিবেকপ্রসূত যুক্তির আশ্রয় নিয়েছেন। মু'তাযিলাদের পঞ্চ মূলনীতির আলোকে তিনি এ গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। তাঁদের এ নীতিমালা অনুযায়ী তাঁরা আল্লাহর গুণাবলীকে চিরন্তন মনে করেন না। পঞ্চ মূলনীতি হল: ক. আল তাওহীদ, খ. আল' আদল, গ. আল ওয়াদ ওয়া আল ওয়ীদ, ঘ. আল আমর বিল মারূফ ওয়া আল নাহী আনিল মুনকার, ঙ. আল মানযিলাতু বাইনা আল মানযিলাতাইন।

বিষয়টির গবেষণায় তাফসীরে কাশশাফ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে উল্লিখিত মুতাযিলা আকীদাসমূহকে চিহ্নিত করা হয়েছে ও তা সূত্রসহ উল্লেখ করা হয়েছে এবং কুরআন, হাদীস ও আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর আকীদার ভিত্তিতে তাঁর পর্যালোচনা ও যথার্থতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। মুতাযিলাগণ আল্লাহ তায়ালার গুণাবলিকে চিরন্তন মনে করতেন না। তারা আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদের এবং চিরন্তন অস্তিত্বে বিশ্বাসী ছিলেন। তারা মনে করতেন চিরন্তন সত্তার সাথে তাঁর গুণাবলি সমূহকে মিলানো সম্ভব নয়। তাতে আল্লাহ তায়ালার ভিন্ন ভিন্ন অস্তিত্বের সম্ভাবনা তৈরি হবে যা একত্ববাদের বিরোধী। আল্লাহ তায়ালার সাথে তাঁর গুণাবলিগুলোকে মেনে নেয়া হলে আরো অসংখ্যক চিরন্তন সত্তার অস্তিত্বকে মেনে নেওয়া হবে।

গবেষণায় কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রমাণ করা হয়েছে যে, আল্লাহ তায়ালা অবিনশ্বর সত্তা এবং তাঁর গুণাবলিও অবিনশ্বর। এসব গুণাবলি আল্লাহ তায়ালার সত্তার সাথে অভিন্ন নয় বরং চিরন্তন। এসব চিরন্তন গুণাবলি আল্লাহ তায়ালার তাওহীদকে ক্ষুণ্ণ করে না। এক্ষেত্রে মুতাযিলাদের বক্তব্য সঠিক নয়। আল্লাহ তায়ালার সীফাতগুলো শাশ্বত এবং চিরন্তন।

মু'তাযিলাদের মতে মানুষ তাঁর কর্মের স্রষ্টা। কুরআন ও হাদীসের প্রমাণের প্রেক্ষিতে আমরা প্রমাণ করেছি যে, মুতাযিলাদের আকীদা সঠিক নয়। মানুষের কাজের ইচ্ছার স্বাধীনতা রয়েছে মানুষ তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী কর্ম সম্পাদনের ইচ্ছা পোষণ করলে আল্লাহ তাঁকে সেই অনুযায়ী কাজ করার ক্ষমতা প্রদান করেন এটাই আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকীদা। কেননা তাঁদের মতে বান্দা তাঁর কর্মের স্রষ্টা নন। আল্লাহ তায়ালাই সকল কর্মের স্রষ্টা। বান্দা এর উপার্জনকারী মাত্র। বান্দা যখন কোন কাজের ইচ্ছা পোষণ করে আল্লাহ তায়ালা তখন তাঁকে ঐ কাজের ক্ষমতা প্রদান করেন বান্দা যেন এখানে উপার্জনকারী মাত্র।

মু'তাযিলাদের মতে, কবীরা গুনাহকারী পাপীদের জন্য কিয়ামতের দিন কোন শাফা'য়াতের ব্যবস্থা থাকবে না। পাপীর জন্য সুপারিশের ব্যবস্থা থাকলে এটা তাঁকে পুরস্কৃত করার নামান্তর। আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর মতে কিয়ামতের দিন শাফায়াত সাব্যস্ত হবে। কুরআন ও হাদীসের বক্তব্যকে পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে, শাফায়াত সাব্যস্ত হবে। আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াতগণ আল্লাহ তায়ালার রহমতের জন্য আশাবাদী। তারা মনে করেন নবী, সিদ্দীক, শহীদগণ এবং ছালেহীনগণ কিয়ামতের দিন সুপারিশ করার অধিকার পাবেন। আল্লাহ তায়ালা সুপারিশ করার অনুমতি দিয়ে তাঁদেরকে সম্মানিত করবেন।

আল্লামা যামাখশারী যে সকল দলিল উপস্থাপন করেছেন তাঁর মধ্যে শাফায়াত সাব্যস্ত হবে না মর্মে যে আয়াতগুলো পেশ করেছেন তা মূলত সর্তকতা এবং ধমক হিসেবে বলা হয়েছে। আমরা কুরআন ও অন্যান্য হাদীস থেকে দেখতে পাই যে, একত্ববাদী পাপী মু'মিনদের সুপারিশের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। আল্লামা যামাখশারী সূরা বাকারার ৪৮ নং আয়াতের উল্লেখ করেছেন। আয়াতের মধ্যে واتقوا يوما শব্দটি রয়েছে। এখানে يوما শব্দটি نكره বা অনির্দিষ্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কেননা কিয়ামতের দিন হিসাবের সময়কাল অনেক দীর্ঘ হবে। এর মধ্যে কিছু সময় বা কোন কোন সময় শাফায়াতের জন্য নির্ধারিত থাকবে। যে সময়টা হলো নবী রাসূলগণের জন্য প্রতিশ্রুত সময়। কেননা কুরআন ও হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ী কিয়ামত এবং হিসাবের সময়কাল পঞ্চাশ হাজার বছর হবে।

মুতাযিলাদের মতে হারাম রিযিক নয়। তাঁদের মতে হালাল-ই একমাত্র রিযিক। তাঁদের যুক্তি হলো হারাম রিযিক হলে, বান্দা যা হারাম রিযিক উপার্জন করবে তা আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পর্কিত হয়ে পড়ে। এ মতটি তাঁদের পূর্ব আকীদা আল্লাহ তায়ালা বান্দার অমঙ্গলজনক কাজের স্রষ্টা নন এবং বান্দার ইচ্ছার স্বাধীনতার সাথে সম্পর্কিত। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে হালাল উপার্জনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং হারাম উপার্জন বর্জন করতে নিষেধ করেছেন। হারামকে রিযিক ধরা হলে আল্লাহ তায়ালা যে রিযিকদাতা তা অসম্মান করা হয়।

আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর মতে হালাল এবং হারাম উভয় রিযিকের অন্তর্ভুক্ত। কেননা রিযিক হলো বান্দা যার থেকে উপকৃত হয় তাই রিযিক যদিও তা হারাম হয়। রিযিকের সাথে দুটি বিষয় সম্পর্কিত ১. বান্দা যার দ্বারা উপকৃত হয় তথা খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে বা অন্য কোন ভাবে উপকৃত হয় এবং ২. বান্দা যাহা কিছু মালিকানা অর্জন করে। হারামকে রিযিক থেকে বাদ দেয়া হলে একথা মেনে নিতে হয় যে, আল্লাহ তায়ালা হারাম ভক্ষণকারীর রিযিকদাতা নন। অথচ আল্লাহ তায়ালা সকল সৃষ্টির রিযিকদাতা।

আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর মতে আল্লাহ ছাড়া কোন রিযিকদাতা নেই এবং সৃষ্টিকর্তা নেই। মহাবিশ্বের সকল প্রাণীর সৃষ্টিকর্তা এবং রিযিদাতা মহান আল্লাহ তায়ালা। রিযিকের মধ্যে হালাল ও হারাম উভয়ের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা। বান্দাহ এর অর্জনকারী মাত্র। আল্লাহ তায়ালা হালাল রিযিক রোজগার করতে বলেছেন এবং হারাম থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। এ মূলনীতি আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অন্য একটি মূলনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। তা হলো আল্লাহ তায়ালা সকল কর্মের সৃষ্টিকর্তা এবং বান্দা তাঁর অর্জনকারী মাত্র। যা মু'তাযিলাগণের আকীদা বিরোধী।

আল্লাহ তায়ালা হালাল ও হারাম উভয়কে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। হারাম রিযিক থেকে বেঁচে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন মৃত প্রাণী, শুকর, প্রবাহমান রক্ত ইত্যাদি। কোন ব্যক্তি নিরূপায় বা অপারগ হলে তাঁর বেঁচে থাকার জন্য সাময়িক সময়ের জন্য হারাম ভক্ষণ করার অনুমতি রয়েছে। যা সূরা বাকারার ১৭৪ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। অনাহারে জীবননাশের আশংকা থাকলে ঐ ব্যক্তির জন্য মৃত প্রাণীর গোশত ভক্ষণ করা বৈধ। অর্থাৎ হারাম রিযিকই ঐ সময় তাঁর জন্য বৈধ বা হালাল। এটা ইসলামের বিধান এবং আল্লাহ তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ। তাঁর মানে এ নয় যে, সে ঐ সময় হারাম ভক্ষণ করছে বা সে রিযিক থেকে বঞ্চিত। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ মান্য বা অমান্য করার মধ্যেই হালাল ও হারামের তাৎপর্য নিহিত। সুতরাং মুতাযিলাদের আকীদা সঠিক নয় বরং হারাম ও হালাল উভয়ই রিযিকের অন্তর্ভুক্ত। মানুষ এর উপার্জনকারী মাত্র।

মু'তাযিলাগণ মনে করেন পৃথিবীতে এবং পরকালে আল্লাহ তায়ালাকে দেখা সম্ভব নয়। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার দর্শন লাভ কখনোই সম্ভব নয়। কারণ তারা মনে করেন কোন কিছুকে দর্শন করার জন্য তাঁর শরীর বা আকার আকৃতি থাকা বাধ্যতামূলক। আল্লাহ তায়ালা এ সবকিছুর ঊর্ধ্বে বিধায় তাঁকে দর্শন সম্ভব নয়। কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মু'মিনগণ পরকালে আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করবেন এবং এটাই তাঁদের জন্য আনন্দদায়ক বিষয় হবে। তবে দুনিয়াতে আল্লাহ তায়ালার দর্শন সম্ভব নয় এটাই আহলি সুন্নাত ওয়াল জামা'য়াত এর মত। এ ক্ষেত্রে মুতা'যিলাদের আকীদা সঠিক নয়। আল্লাহ তায়ালার পক্ষে সবকিছুই সম্ভব এটাই আমাদের বিশ্বাস।

মু'তাযিলাদের মতে কবীরা গুনাহকারী পাপী মুসলমান তাওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করলে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে। তাঁদের মতে যে একবার জাহান্নামে প্রবেশ করবে সে আর বের হতে পারবে না। কেননা তাঁদের মতে পাপীদের জন্য কোন প্রকার শাফা'য়াত সাব্যস্ত হবে না। এছাড়া তাঁদের মতে পাপী মুসলমান ঈমান ও কুফরীর মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকবে। তথা 'আল মানযিলাতু বায়নাল মানযিলাতাইন'। আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর মতে পাপী মুসলমান তাওবা ব্যতীত মৃত্যুবরণ করলে তাঁর বিষয়টি আল্লাহ তায়ালার ওপর ন্যাস্ত থাকবে। আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছা করলে তাঁকে শাস্তি দিবেন অথবা ক্ষমা করবেন। তাঁদের মতে পাপীদের শাস্তি প্রদান করা আল্লাহর ওপর ওয়াজিব নয় বরং আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছা করলে পাপীদের ক্ষমা করে দিতে পারেন। এ বিষয়ে মুতা'যিলাদের আকীদা একটি ভ্রান্ত।

মু'তাযিলাদের আকীদা হলো আল্লাহ তায়ালা অমঙ্গলের স্রষ্টা নন। তিনি মানুষকে সৎকাজের আদেশ দেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন। তিনি মানুষকে ভাল ও মন্দ বিবেচনা করার ক্ষমতা দিয়েছেন এবং তাঁকে সৎ ও কল্যাণকর কাজের আদেশ দিয়েছেন। অকল্যাণ ও পাপ কাজ থেকে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা সকল কিছুর স্রষ্টা। মঙ্গল অমঙ্গল ও ভাল-মন্দ সকল কিছুর স্রষ্টা। মানুষ আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী এর অর্জনকারী মাত্র। মানুষ কোন কিছু সৃষ্টি করতে পারে না। এ বিষয়ে মু'তাযিলাদের আকীদা ভ্রান্ত। তাঁদের মতে মানুষ তাঁর কর্মের সৃষ্টিকর্তা এবং ভাল মন্দ উভয়ই তাঁর সৃষ্টি। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ভাল মন্দ উভয় পথই দেখিয়েছেন এবং তাঁর আমল অনুযায়ী তাঁকে প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ তায়ালাকে অমঙ্গলের সৃষ্টিকর্তা নয় মেনে নিলে শিরক এর সম্ভাবনা তৈরি হয়।

পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং মানুষ তাঁর অর্জনকারী মাত্র। মানুষ তাঁর কর্মের দ্বারা প্রতিফল পাবে। মানুষ যখন কোন কর্মের ইচ্ছাপোষণ করে তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁকে ক্ষমতা প্রদান করেন। মানুষকে আল্লাহ তায়ালা ভাল মন্দ উভয় পথই দেখিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন খালেক আর মানুষ হচ্ছে আমলকারী ও অর্জনকারী। এজন্যই মানুষের কর্মের জন্য স্রষ্টাকে দায়ী করা যায় না।

মু'তাযিলাদের মতে ফেরেশতাদের মর্যাদা নবী ও রাসূলগণের চেয়েও বেশি। তাঁদের মতে ফেরেশতাগণ সকল অবাধ্যতা থেকে মুক্ত এবং তারা আল্লাহ তায়ালার অধিক নিকটবর্তী। আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মতে নবী এবং রাসূলগণের মর্যাদা ফেরেশতাগণের চাইতেও বেশি। কেননা ফেরেশতাগণকে কোন কর্মের স্বাধীনতা দেয়া হয়নি। আল্লাহ তায়ালা যা নির্দেশ করেন তাই তারা বাস্তবায়ন করে থাকে। পক্ষান্তরে মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালার খলিফা। মানুষকে প্রবৃত্তি দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তাঁকে স্বাধীনতাও দেয়া হয়েছে। কুরআন ও হাদীস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ফেরেশতাগণের চাইতে নবী ও রাসূলগণের মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে। আল্লাহ তায়ালা মানুষের জন্যই সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন। সূরা আল বাকারার ৩৪ নং আয়াতে দেখতে পাই আল্লাহ তায়ালা আদম (আ:) কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। এটা ফেরেশতাদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদেরকে তাঁর কালিমা এর সৃষ্টি করেছেন। আর মানুষকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। জ্ঞানের দিক থেকেও মানুষ ফেরেশতাদের থেকে শ্রেষ্ঠ। কেননা আল্লাহ তায়ালা আদম (আ:) কে সৃষ্টি করার পর তাঁকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন।

আল কুরআন মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী, যা জিবরাইল (আ:) এর মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর ওপর অবতীর্ণ হয়। মু'তাযিলা চিন্তা উদ্ভবের পূর্বে সকলেই পবিত্র কুরআনকে চিরন্তন মনে করতেন। মু'তাযিলা মতবাদ উদ্ভবের পর তারাই সর্বপ্রথম কুরআনের চিরন্তনতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। মু'তাযিলা চিন্তাবিদগণ যেমনিভাবে আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদের সাথে তাঁর গুণাবলিকে অস্বীকার করেন তেমনিভাবে একই যুক্তিতে পবিত্র কুরআনের চিরন্তনতাকে অস্বীকার করেন। আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর মতে আল কুরআন হচ্ছে চিরন্তন। কেননা এটা আল্লাহ তায়ালার কালাম। অনাদি ও অনন্তকাল ধরে আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্বের সাথে আল কুরআন একাত্ম হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহ তায়ালা মানুষের জন্য উপযোগী করে তা নাযিল করেছেন। যা লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত ছিল এবং হযরত জিবরাঈল এর মাধ্যমে দীর্ঘ তেইশ বছর ব্যাপী মহানবী (সা:) এর ওপর নাযিল হয়েছে। এটি মাখলুক বা সৃষ্ট নয় এর শব্দ এবং অর্থ উভয়ই কাদীম এবং মু'জিযাহ।

মু'তাযিলাগণের মতে কবরের আযাব হবে না। তারা কবরের আযাব এবং মুনকার ও নাকিরের প্রশ্ন এবং উত্তরকে অস্বীকার করেন। কবরের আযাব সাব্যস্ত হলে বিচারের পূর্বেই শাস্তিদান অপরিহার্য হয়ে পড়ে। যা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। মুতাযিলাগণ কবরের আযাব সংক্রান্ত হাদীস সমূহকে অস্বীকার করেছেন। তারা মনে করেন, যে সকল হাদীসে কবরের আযাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা মূলত ধমক ও সতর্ক করণের জন্য বলা হয়েছে। আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর মতে কবরের আযাব সত্য। রাসূল (সা:) হতে বর্ণিত সহীহ হাদীসমূহের মাধ্যমে প্রমাণিত যে, কবরের আযাব সত্য এবং মুনকার ও নাকীরের সওয়াল ও জাওয়াব সত্য। কবর হলো পরকালের অনন্ত জীবনের প্রথম ধাপ। যে এ ধাপ থেকেই বোঝা যাবে সে কি সৌভাগ্যবান না কি দুর্ভাগা।

পরিষেশে আমরা বলতে পারি যে, তাফসীরে কাশশাফ গ্রন্থটি পবিত্র কুরআনের একটি অনন্য তাফসীর গ্রন্থ। তবে মু'তাযিলা আকীদাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি গ্রন্থটি লিখেছেন। মুসলিম বিশ্বে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও মু'তাযিলা আকীদার কারণে তা সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি। উপরিউক্ত গবেষণায় আমরা প্রমাণ করেছি যে, মু'তাযিলাদের আকীদাসমূহ সঠিক নয়, যা কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তাফসীরে কাশশাফ গ্রন্থ থেকে মু'তাযিলী আকীদাকে পৃথকীকরণের জন্য এ গবেষণাটি একটি প্রয়াস মাত্র। সঠিক আকীদা অনুধাবন এবং ধারণের জন্য গবেষক ও পাঠকদের জন্য গবেষণাটি অনুপ্রেরণার উৎস হবে বলে আমার বিশ্বাস এবং তা হলেই গবেষণাটি সার্থক হবে।

📘 মুতাযিলা আকিদা 📄 গ্রন্থপঞ্জী

📄 গ্রন্থপঞ্জী


আল কুরআন আল কারীম
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আল জামি' আল সাহীহ, দিল্লী: আসাহ্ আল মাতাবী, তা. বি.
ইসমাঈল আল বুখারী : সহীহ আল বুখারী, ঢাকা: আধুনিক প্রকাশনী, ৬ষ্ঠ সংস্করণ, ১৪২২হি./২০০১ খ্রী.
মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ আল কুশাইরী : আল সাহীহ, দিল্লী: আসাহ্ আল মাতাবি, তা. বি. সহীহ মুসলীম, (অনু : মাওলানা আফলাতুন কায়সার), ঢাকা : বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, ১৪২২হি./২০০১খ্রী.
আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত তিরমীযী: আল জামি, করাচী: নুর মুহাম্মদ কারখানা তিজারতে কতুব, তা. বি.
ইমাম আবু দাউদ আস সিজিস্তানী : আল সুনান, দিল্লী, আসাহ্ আল মাতাবি, তা. বি.
ইমাম আল নাসাঈ : আল সুনান, সাহারানপুর : মুখতার এন্ড কোম্পানী, তা. বি.
ইমাম ইবন মাজাহ : আল সুনান, করাচী: নূর মুহাম্মদ কারখানা তিজারতে কুতুব, তা. বি.
ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল : আল মুসনাদ; লেবানন: দার আল কতুব আল ইলমীয়্যাহ, ১৯৯৩ হি./১৪১৩ খ্রী.
ইব্রাহীম মুস্তফা ও আহমাদ হাসান আল যাইয়্যাত : আল মু'জামুল ওয়াসিত, ইস্তাম্বুল : আল মাকতাবাতুল ইসলামিয়া, ১৩৯২ হি.
মুহাম্মদ ফুয়াদ আবদুল বাকী : আল মু'জামুল মাফহারাস লি আলফাজিল কুরআনিল কারীম, কায়রো, দারুল হাদীস, ১৪২২হি./২০০১খ্রী.
ইমাম আল কুরতবী : আল জামি' লি আহকাম আল কুরআন, বৈরূত : দারইহইয়া আত তুরাছ আল আরবী, তা. বি.
আবুল কাসেম আল হুসাইন ইবন মুহাম্মদ আল রাগিব আল ইস্পাহানী : আল মুফরাদাতু ফী গারীবিল কুরআন, করাচী: নূর মুহাম্মদ কারখানা তিজরাতে কুতুব, তা. বি.
মাওলানা আব্দুল হাই লাখনুবী : আল ফাওয়ায়িদ আল বাহীয়্যাহ ফী তারাজিম আল হানাফীয়্যাহ, করাচী : মাকতবাহ খাইর কাছীর, তা. বি.
হাজী খলীফা : আল-কাশফ আল যুনুন, বৈরূত: দার আল ফিকর, ১৪০২হি./১৯৮২ খ্রী.) ২য় খণ্ড
ইমাম আযযাহাবী : সীয়ারু আ'লাম আল নুবালা, বৈরূত মুয়াসাসাহ আল রিসালাহ, ১৪০৬ হি./১৯৮৬ খ্রী., ২০শ খণ্ড
প্রফেসর ফজলুর রহমান : যামাখশারী কী তাফসীর আল কাশশাফ এক তাহলীলী, আলীগড়: আলীগড় মুসলিম ইউনিভাসিটি প্রেস, ১৯৮৬
উমর ফাররুখ : তারীখ আল আদাব আল'আরাবী, বৈরূত: দার আল 'ইলম লিল মালায়িন, ১৯৬৯ খ্রী.
ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন ও ড. মো: নিজাম উদ্দীন : তাইসীরুল কাশশাফ, ঢাকা: এদারায়ে কুরআন, ১৪১৮হি./১৯৮৮ খ্রী.
জুরজী যায়দান : তারীখ আদাব আল লুগাহ আল আরাবীয়্যাহ, বৈরূত : দ্বার মাকতাবাহ আল হায়াত, ১৯৮৩ খ্রী.
ইবন কুনফুয আল কুসানতিণী : আল-ওফাইয়াত, বৈরূত: দার আল আফাক আল জাদীদাহ ১৪০০হি./১৯৮০ খ্রী.
নজরুল হাফিজ নদভী : আল যামাখশারী শা'য়িরান ওয়া কাতিবান, থিসিসি, মিশর: আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ১৪০২হি./১৯৮২ খ্রী.
তাশ কুবরা জাদাহ : মিফতাহ আল সা'আদাহ, ২য় খণ্ড, বৈরূত: দার আল কুতুব আল ইলমীয়্যাহ, ১৪০৫ হিঃ/১৯৮৫ খ্রী.
কামিল মোহাম্মদ মোহাম্মদ আউয়িদাহ্ : আলযামাখশারী আল মুফাসসিরুল বালিগ, বৈরূত: দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ, ১৪১৪ হি./১৯৯৪ খ্রী.
ইয়াকুত আল হামুবী : মু'জাম আল উদাবা, বৈরুত: তা. বি. ১৯শ খণ্ড
ইবন খাল্লিকান : ওফাইয়াত আল আইয়ান, ৪র্থ খণ্ড, কায়রো: মাকতাবাহ আল নাহদা আল মিসরীয়্যা, তা. বি.
আল কুফতী : ইনবাহ আল রূওয়াত, কায়রো : দার আল কুতুব আল মিসরীয়্যাহ, ১৩৬৯ হি./১৯৫০ খ্রী. ৩য় খণ্ড
মুহাম্মাদ আব্দুল হাদী আবু রাইদাহ : আল হিদারাতুল ইসলামিয়্যাহ, বৈরূত: দারুল কিতাব আল-আরাবী, ৪র্থ সংস্করণ, ১৩৮৭ হি. ২য় খণ্ড।
আহমাদ শান্তানাভী ও অন্যান্য : দায়িরাতুল মা'আরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ, তারীখ ও স্থানের নাম বিহীন, ৯ম খণ্ড
আব্দুর রহমান আস-মা'আনি : আল-আনসাব, বৈরূত : দারুল ফিকর, ১৪১৯হি./১৯৯৮ খ্রী. ৬ষ্ঠ খণ্ড
ইবনুল আছীর : আল-কামিল ফিত তারীখ, বৈরূত: দারুল কুতুবিল 'আরাবী, তা. বি. ১১শ খণ্ড
হাফেজ ইসমাঈল ইবন কাছীর আদদামিশকী : তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, বৈরূত : মাকতাবাতুল দারুস সালাম, ১৪১৩ হি./১৯৯২ খ্রী. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, কায়রো: দারুল রাইয়্যান লিত-তুরাছ, ১৪০৮ হি./১৯৮৮ খ্রী. ১২শ খণ্ড
ইবনুল ‘ইমাদ আল-হাম্বলী : শাযারাতুয-যাহাব, বৈরূত: দারুল ফিকর, তা. বি. ৪র্থ খণ্ড
মাহমূদ শাকির : আত-তারীখুল ইসলামী, বৈরূত: আল-মাকতাবুল ইসলামী, ১৪১১ হি./১৯৯১ খ্রী. ৬ষ্ঠ খণ্ড
মুহাম্মাদ খাদারী বেক : তারীখুল উমামিল ইসলামিয়্যাহ, মিসর : দারুল ফিকর আল-'আরাবী, তা. বি.
ইবনুল জাওযী : আল-মুন্তাযাম ফী তারীখিল মুলুকি ওয়াল উমাম, বৈরূত : দারুল কুতুবিল 'ইলমিয়্যাহ, তা. বি. ১৪শ খণ্ড
জালালুদ্দীন আস- সুয়ূতী : তারীখুল খুলাফা, দেওবন্দ : আল-মাকতাবাতুত থানবী, ১৯৯৬ খ্রী.
খায়রুদ্দীন যিরিকলী : আল-আ'লাম, বৈরূত: দারুল 'ইলম লিল মালায়ী, ১২শ মুদ্রণ, ১৯৯৭ খ্রী.
শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল মাকদিসী : আহসানুত তাকাসীম ফী মা'রিফাতিল আকালীম, বৈরূত: দারুস সাদর, ২য় সংস্করণ, ১৯০৯ খ্রী.
আল্লামা যামাখশারী : কিতাবু আতওয়াকুয যাহাব ফীল মাওয়ায়িযি ওয়াল খুতাব, মাতবা'আতু আস সা'আদা, ১৩২৮ হি.
মুহাম্মাদ আব্দুল হাদী আবু রাইদাহ : আল হিদারাতুল ইসলামিয়্যাহ, বৈরূত: দারুল কিতাব আল-আরাবী, ৪র্থ সংস্করণ, ১৩৮৭ হি. ২য় খণ্ড
ইসলামী বিশ্বকোষ : ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রী. ৪র্থ, ৫ম, ৭ম, ১১শ, ১৯শ, ২০শ ও ২৪শ খণ্ড (২য় ভাগ)
জুরজী যায়দান : তারীখ আদাব আল লুগাহ আল আরাবীয়্যাহ, বৈরূত: দ্বার মাকতাবাহ আল হায়াত, ১৯৮৩ খ্রী.
ইবন কুনফুয আল কুসানতিণী : আল-ওফাইয়াত, বৈরূত: দার আল আফাক আল জাদীদাহ ১৪০০ হিঃ/১৯৮০ খ্রী.
ড. মুজিবুর রহমান : আল্লামা যামাখশারী, ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৪০০হি:/১৯৮০ খ্রী.
আল-খাওয়ানসারী : রওযাহ আল জান্নাহ, তেহরান : আলী আল হাজর, ১৩৬০ হি.
মাহমূদ ইবন উমর আল যামাখশারী : আল কাশশাফ আন হাকাইকি গাওয়ামিদিত তানযীল ওয়া উয়ূনুল আকাবীল ফী ওজুহীত তাবীল, বৈরুত, দারুল কুতুব আল আরাবী, ১৩৬৬হি./১৯৩৭ খ্রী. ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ খণ্ড
আহমাদ ইবন মুনীর আল ইসকান্দারী : আল ইনতিসাফু ফীমা তাদাম্মা নাহুল কাশশাফু মিনাল ই'তিযাল, মিশর, আলবাবী আল হালাবী- ১৩৯২ হি. ১ম খণ্ড
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল কারীম শাহরিস্তানী : আল মিলাল ও নিহাল, বৈরুত, দারুল মারিফাহ, ১৯৮০ খ্রী.
আল্লামা শিবলী নু'মানী : ইসলামী দর্শন, অনুঃ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৯৮১ খ্রী.
ইসলামী বিশ্বকোষ : সম্পাদনা পরিষদ, ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ২০শ খণ্ড
ড. মুজিবুর রহমান : কুরআনের চিরন্তন মু'জিযা, ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ১৯৮০ খৃ.
ড. মুহাম্মদ হোসাইন আয যাহাবী : আল তাফসীর ওয়া আল মুফাসসিরুন, দার আল কুতুব আল হাদীসাহ, ১৯৮৬ খ্রী.
কাসিম আল কাইসী : তারীখ আল তাফসীর, ইরাক : মাতবাআহ আল মাজমা আল ইরাকী, তা. বি.
মুফতী মুহাম্মদ শাফী (রহ:) : তাফসীরে মা'আরিফুল কুরআন, মদিনা মোনওয়ারা : খাদেমুল হারামাইন বাদশাহ ফাহদ কুরআন মুদ্রণ প্রকল্প, অনু. মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, ১৪১৩ হি.
মুহাম্মদ মুনীর আব্দু আগা আল দিমাশকী : নামুযাজ মিনাল 'আমাল আল খায়রীয়‍্যাহ, রিয়াদ: মাকতাবাহ ইমাম আল শাফিয়ী, ১৪৯১হি./১৯৯৮ খ্রী.
আল মুকরী : নাফহ আল তীব, ২য়খণ্ড, কায়রো : ১২৭৯ হি.
হেলাল নাজি : আয যামাখশারী হায়াতুহু ওয়া আসারুহু, মাজাল্লিত আলিম আল কুতুব, ৪র্থ সংখ্যা ১৪১১ হিজরী
ইবন খাল্লিকান : ওফাইয়াত আল আইয়ান, ৪র্থ খণ্ড, কায়রো : মাকতাবাহ আল নাহদা আল মিসরীয়্যা, তা. বি.
ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান : আধুনিক আরবী-বাংলা অভিধান, ঢাকা : রিয়াদ প্রকাশনী, ২০০৫ খ্রী.
হাজী খলীফা : কাশফুয যুনূন 'আন আসামীল কুতুবি ওয়াল ফুনূন, করাচী : নূর মুহাম্মাদ কারখানায়ে তিজরাতে কুতুব, তা. বি.
মুস্তাফা আসসাবী : মানহাজু আল যামাখশারী ফী তাফসীরুল কুরআন, মিসর : দারুল মা'য়ারেফ, তা. বি.
সম্পাদনা পরিষদ : মু'জামুল কুরআন, ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশন এন্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন ঢাকা ২০১২ খ্রী.
ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর : ইসলামী আকীদা, ঝিনাইদহ, আস সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ২০০৭
Dr. Muhammad Taqi-ud-Din al-Hilali : The Noble Qur'an, Madina: King fahd complex, Dr. Muhammad Muhsin Khan 1404 h.
Lutfi Ibrahim : Al-Zamakhshari: His life and works, Islamic Studies, Vol-ixix No-1, Pakistan: The Islamic Research Institute, 1969
Philip K. Hitti : History of the Arabs, London : Macmillan & Co. LTD. 1961
Syed Ameer Ali : The Spirit of Islam, London : Chatto and windus, 1922

ফন্ট সাইজ
15px
17px