📘 মুতাযিলা আকিদা 📄 কবরের আযাব

📄 কবরের আযাব


মু'তাযিলাগণের মতে কবরের আযাব হবে না। তারা কবরের আযাব এবং মুনকার ও নকির এর প্রশ্ন এবং উত্তরকে তারা অস্বীকার করে। কবরের আযাব সাব্যস্ত হলে বিচারের পূর্বেই শাস্তিদান অপরিহার্য হয়ে পড়ে। যা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। আল্লাহ তায়ালা সকল মানুষকে কিয়ামত দিবসে একত্রিত করবেন। হাশরের ময়দানে সকলের হিসাব নেয়া হবে এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁদের আমলের ভিত্তিতে তাঁদেরকে পুরস্কৃত বা শাস্তি দান করবেন। কুরআন ও হাদীসে বিষয়টি প্রমাণিত।

মু'তাযিলারা মনে করেন যে, হিসাব দিবসের পূর্বে শাস্তি বা পুরস্কার প্রদানের বিষয়টি যুক্তি সংগত নয়। তাই কবরের আযাব সাব্যস্ত হলে হিসাব গ্রহণ ও বিচারের পূর্বেই শাস্তি প্রদান আবশ্যক হয়ে যায়। মুতাযিলাগণ কবরের আযাব সংক্রান্ত হাদীস সমূহকে অস্বীকার করেছেন। তারা মনে করেন যে সকল হাদীসে কবরের আযাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা মূলত ধমক ও সর্তক করনের জন্য বলা হয়েছে।

আল্লামা যামাখশারী এর দলিলের জবাব এবং আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর মত :
আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর মতে কবরের আযাব সত্য। রাসূল (সা:) হতে বর্ণিত সহীহ হাদীসমূহের মাধ্যমে প্রমাণিত যে, কবরের আযাব সত্য এবং মুনকার ও নাকীরের সওয়াল ও জাওয়াব সত্য। কবর হলো পরকালের অনন্ত জীবনের প্রথম ধাপ। যে এই ধাপ থেকেই বোঝা যাবে সে কি সৌভাগ্যবান না কি দুর্ভাগা।

বোখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা:)-এর রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে তাঁকে কবর জগতে সকাল-সন্ধ্যা সে স্থান দেখানো হয়, যেখানে কেয়ামতের হিসাব-নিকাশের পর সে পৌঁছবে। সে স্থান দেখিয়ে প্রত্যহ তাঁকে বলা হয়, তুমি অবশেষে এখানে পৌঁছবে। কেউ জান্নাতী হলে তাঁকে জান্নাতের স্থান এবং জাহান্নামী হলে জাহান্নামের স্থানে দেখানো হয়।

উপরোক্ত কুরআন ও হাদীসের আলোকে প্রমাণ হয় যে, কবরের আযাব সত্য। মুনকার ও নাকীরের সওয়াল ও জাওয়াব সত্য। কবর হলো পরকালের অনন্ত জীবনের প্রথম ধাপ। যে এই ধাপ থেকেই বোঝা যাবে সে কি সৌভাগ্যবান না কি দুর্ভাগা।

টিকাঃ
১. আল কুরআন, সূরা ৩ আল ইমরান, আয়ত, ১৮৫।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড পৃ. ৪৪৯।
১ (পেজ ৩১৩). মুহাম্মদ ইবনে ইমাঈল আল বোখারী, সহীহ আল বোখারী প্রাগুক্ত, কিতাবুল অযু, বাবু মীনাল কাবায়ের আল্লা ইয়াসতাতীরু মিন বাউলিহি, হাদীস নং, ৬১।
২. মুহাম্মদ ইবনে ইমাঈল আল বোখারী, সহীহ আল বোখারী প্রাগুক্ত, কিতাবুল জানায়েয বাবু আততা'য়াওউজ মিন আযাবিল কাবার, হাদীস নং, ১০৩।
১ (পেজ ৩১৪). মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল বোখারী, সহীহ আল বোখারী, প্রাগুক্ত, কিতাবুল জানায়্যেয, বাবু আততা'য়াওউজ মিন আযাবিল কাবার, হাদীস নং, ১০২।
২. আল কুরআন, সূরা ৪০ আল মু'মিন, আয়াত, ৪৫-৪৬।
৩. মুফতী মুহাম্মদ শাফী, মাআরেফুল কুরআন, প্রাগুক্ত, পৃ. ১১৯১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px