📄 আল্লাহ অমঙ্গলের স্রষ্টা নন
মু'তাযিলাদের আকীদা হলো আল্লাহ মানুষকে সৎকাজে আদেশ দেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন। তিনি মানুষকে ভাল ও মন্দ বিবেচনা করার ক্ষমতা দিয়েছেন এবং তাঁকে সৎ ও কল্যাণকর কাজের আদেশ দিয়েছেন। অকল্যাণ ও পাপ কাজ থেকে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وإذا فعלו فاحشة قالوا وجدنا عليها أباء نا والله أمرنا بها قل إن الله لا يامر بالفحشاء أتقولون على الله ما لا تعلمون -
"যখন তারা কোন অশ্লীল কাজ করে, তখন তারা বলে : আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে এরূপ দেখেছি এবং আল্লাহ্ আমাদেরকে এ আদেশই দিয়েছেন। বলুন : আল্লাহ কখনও অশ্লীল কাজের আদেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কথা বলছ যা তোমরা জান না?"
উপরোক্ত আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা মানুষকে অশ্লীল, অন্যায়, অকল্যাণকর ও পাপ কাজের নির্দেশ প্রদান করেন না। সুতরাং ঐসকল পাপ কাজের স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা নন। আল্লাহ তায়ালাকে পাপ কাজের স্রষ্টা ধরে নিলে পাপ কাজের দায়ভার আল্লার তায়ালার উপরই বর্তাবে। অবশ্য আহলি সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত এর মত হলো, আল্লাহ তায়ালা সকল কাজের স্রষ্টা এবং বান্দা তাঁর অর্জনকারী মাত্র। আল্লামা যামাখশারী তাফসীরের বিভিন্ন স্থানে মুতাযিলাদের আকীদাকে সন্নিবেশিত করেছেন।
আল্লাহ তায়ালা অমঙ্গলের স্রষ্টা নন বিষয়ে আল্লামা যামাখশারী কর্তৃক উত্থাপিত দলিলের জবাব এবং আহলি সুন্নাত ওয়াল জামা'য়াত এর দলিল :
আল্লাহ তায়ালা সকল কিছুর স্রষ্টা। মঙ্গল অমঙ্গল ও ভাল-মন্দ সকল কিছুর স্রষ্টা। মানুষ আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী এর অর্জনকারী মাত্র। মানুষ কোন কিছু সৃষ্টি করতে পারে না। এ বিষয়ে মু'তাযিলাদের আকীদা ভ্রান্ত। তাঁদের মতে মানুষ তাঁর কর্মের সৃষ্টিকর্তা এবং ভাল মন্দ উভয়ই তাঁর সৃষ্টি। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ভাল মন্দ উভয় পথই দেখিয়েছেন এবং তাঁর আমল অনুযায়ী তাঁকে প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ তায়ালাকে অমঙ্গলের সৃষ্টিকর্তা নয় মেনে নিলে শিরক এর সম্ভাবনা তৈরি হয়।
পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং মানুষ তাঁর অর্জনকারী মাত্র। মানুষ তাঁর কর্মের দ্বারা প্রতিফল পাবে। মানুষ যখন কোন কর্মের ইচ্ছাপোষণ করে তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁকে ক্ষমতা প্রদান করেন। মানুষকে আল্লাহ তায়ালা ভাল মন্দ উভয় পথই দেখিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন খালেক (خالق) আর মানুষ হচ্ছে (عامل وكاسب) আমলকারী ও অর্জনকারী। এজন্যই মানুষের কর্মের জন্য স্রষ্টাকে দায়ী করা যায় না।
টিকাঃ
১. আল কুরআন, সূরা ৭ আল আ'রাফ, আয়াত, ২৮।
২. আল কুরআন, সূরা ৯ তাওবা, আয়াত, ৪৬।
১ (পেজ ২৯৬). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৭৬।
২. আল কুরআন, সূরা আন ২৭ নমল, আয়াত, ৪।
১ (পেজ ২৯৭). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৪৮।
১ (পেজ ২৯৭). আল কুরআন, সূরা নমল, আয়াত-৬২।
৩. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৯৭।
১ (পেজ ২৯৮). আল কুরআন, সূরা আল বাকারা, আয়াত, ৭।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫০।
১ (পেজ ২৯৯). আল কুরআন, সূরা ৭ আল আরাফ, আয়াত, ২৮।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ৯৯।
১ (পেজ ৩০০). আল কুরআন, সূরা ২৩ মুমিনূন, আয়াত, ৮৮।
২. আল কুরআন, সূরা ৩৬ ইয়াসীন, আয়াত ৮৩।
৩. আল কুরআন, সূরা ১৭ বানী ইসরাঈল, আয়াত, ২৯।
১ (পেজ ৩০১). আল কুরআন, সূরা ৩০ আর রুম, আয়াত, ৪১।
২. আল কুরআন, সূরা ৪২ আশ শুরা, আয়াত, ৩০।
৩. আল কুরআন, সূরা ৭ আল আরাফ, আয়াত, ১৪৯।
৪. আল কুরআন, সূরা ২ আল বাকারা, আয়াত, ২৯।
১ (পেজ ৩০২). আল কুরআন, সূরা ১১৩ আল ফালাক, আয়াত, ২।
২. আল কুরআন, সূরা ১১৪ আন নাস, আয়াত, ৪।
৩. আল কুরআন, সূরা ৬৪ আত তাগাবুন, আয়াত, ২।
📄 নবীগণের উপর ফেরেশতাদের মর্যাদা
মুতাযিলাদের মতে ফেরেশতাদের মর্যাদা নবী ও রাসূলগণের চেয়েও বেশি। তাঁদের মতে ফেরেশতাগণ সকল অবাধ্যতা থেকে মুক্ত এবং তারা আল্লাহ তায়ালার অধিক নিকটবর্তী। আল্লামা যামাখশারী কাশশাফ গ্রন্থে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
আল্লামা যামাখশারী এর দলিলের জবাব এবং আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর মত :
আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মতে নবী এবং রাসূলগণের মর্যাদা ফেরেশতাগণের চাইতেও বেশি। কেননা ফেরেশতাগণকে কোন কর্মের স্বাধীনতা দেয়া হয়নি। আল্লাহ তায়ালা যা নির্দেশ করেন তাই তারা বাস্তবায়ন করে থাকে। পক্ষান্তরে মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালার খলিফা। মানুষকে প্রবৃত্তি দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তাঁকে স্বাধীনতাও দেয়া হয়েছে।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন নেককার মানুষগণ তাঁর পরিণতির দিক থেকে ফেরেশতাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কেননা তারা বেহেশতে প্রবেশ করবে, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জন করবে, উচ্চমর্যাদায় আসীন হবে এবং তাঁদের রবের দীদার লাভ করবে। আর ফেরেশতাগণ আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ ক্রমে তাঁদের খেদমতে নিয়োজিত থাকবে। অপর পক্ষে ফেরেশতাগণ সৃষ্টির পর্ব হিসেবে তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। কেননা তারা আল্লাহ তায়ালার অতি সন্নিকটে অবস্থান করেন এবং মানুষের মতো পাপ কর্ম থেকে তারা মুক্ত। সার্বক্ষণিক তারা আল্লাহ তায়ালার ইবাদতে মগ্ন থাকেন। এ দিক থেকে তারা শ্রেষ্ঠ।
উপরোক্ত আয়াতগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ফেরেশতাগণের চাইতে নবী ও রাসূলগণের মর্যাদা অনেক উর্ধ্বে। আল্লাহ তায়ালা মানুষের জন্যই সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন। সূরা আল বাকারার ৩৪ নং আয়াতে দেখতে পাই আল্লাহ তায়ালা আদম (আ:) কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। এটা ফেরেশতাদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদেরকে তাঁর কালিমা এর সৃষ্টি করেছেন। আর মানুষকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। জ্ঞানের দিক থেকেও মানুষ ফেরেশতাদের থেকে শ্রেষ্ঠ। কেননা আল্লাহ তায়ালা আদম (আ:) কে সৃষ্টি করার পর তাঁকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন।
টিকাঃ
১. আল কুরআন, সূরা ৪ আন নিসা, আয়াত, ১৭২।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৯৫-৫৯৬।
১ (পেজ ৩০৪). আল কুরআন, সূরা ২১ আম্বিয়া, আয়াত, ২৬।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১১২।
৩. আল কুরআন, সূরা ৬ আল আন'আম, আয়াত, ৫০।
১ (পেজ ৩০৫). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২র্থ খণ্ড, পৃ. ২৫।
২. আল কুরআন, সূরা ১৭ বানী ইসরাঈল, আয়াত, ৭০।
১ (পেজ ৩০৬). আল কুরআন, সূরা ২ আল বাকারা, আয়াত, ৩৪।
২. আল কুরআন, সূরা ২২ হজ্ব, আয়াত, ৭৫।
৩. আল কুরআন, সূরা আল ফুরকান, আয়াত, ৭।
১ (পেজ ৩০৭). আল কুরআন, সূরা ৬৬ আত তাহরীম, আয়াত, ৬।
২. ইমাম ইবনে তাইমিয়া, মাজমূ'য়ুল ফতোয়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩৭২।
📄 খালকে কুরআন
আল কুরআন মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী, যা জিবরাইল (আ:) এর মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর ওপর অবতীর্ণ হয়। মুতাযিলা চিন্তা উদ্ভবের পূর্বে সকলেই পবিত্র কুরআনকে চিরন্তন মনে করতেন। মুতাযিলা মতবাদ উদ্ভবের পর তারাই সর্বপ্রথম কুরআনের চিরন্তনতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। মুতাযিলা চিন্তাবিদগণ যেমনিভাবে আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদের সাথে তাঁর গুণাবলিকে অস্বীকার করেন তেমনিভাবে একই যুক্তিতে পবিত্র কুরআনের চিরন্তনতাকে অস্বীকার করেন।
পবিত্র কুরআনকে চিরন্তন ধরে নেয়া হলে, দুটি চিরন্তন সত্তার আবির্ভাব মেনে নেওয়া হয়। একটি আল্লাহ তায়ালার চিরন্তন সত্তা অপরটি আল কুরআন। দুটি চিরন্তন সত্তা পাশাপাশি অবস্থান করলে আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদকে অস্বীকার করা হয়। সুতরাং কুরআন সৃষ্ট বা মাখলুক। পবিত্র কুরআন রাসূল (সা:) এর ওপর ২৩ বছর ব্যাপী বিভিন্ন স্থান, কাল ও ঘটনার প্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে। পবিত্র কুরআন নির্দিষ্ট এলাকায় তথা আরব ভূমিতে আরবী ভাষায় নাযিল হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে পবিত্র কুরআনকে চিরন্তন সত্তা হিসেবে গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত নয়। আরবী ভাষা পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট জাতির গোষ্ঠীর ভাষা। শব্দ, ভাষারীতিসহ বিভিন্ন বর্ণনা ভঙ্গির কারণে আরবী ভাষা একটি পরিবর্তনশীল ভাষা। উপরিউক্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুতাযিলাগণ আল কুরআনকে চিরন্তন মনে করেন না বরং এটাকে মাখলুক বা সৃষ্ট মনে করেন। এবং এ মতবাদকে তারা আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদ রক্ষার স্বার্থে সঠিক ও যথার্থ মনে করেন।
আল্লামা যামাখশারী এর দলিলের জবাব এবং আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর মত :
আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর মতে আল কুরআন হচ্ছে চিরন্তন। কেননা এটা আল্লাহ তায়ালার কালাম। অনাদি ও অনন্তকাল ধরে আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্বের সাথে আল কুরআন একাত্ম হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহ তায়ালা মানুষের জন্য উপযোগী করে তা নাযিল করেছেন। যা লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত ছিল এবং হযরত জিবরাঈল এর মাধ্যমে দীর্ঘ তেইশ বছর ব্যাপী মহানবী (সা:) এর ওপর নাযিল হয়েছে। এটি মাখলুক বা সৃষ্ট নয়। এর শব্দ এবং অর্থ উভয়ই কাদীম এবং মু'জিযাহ।
পবিত্র কুরআনের আয়াতের আলোকে আমরা বলতে পারি পবিত্র কুরআন হলো : هو صفة قديمة أزلية ، قديم لفظه ومعناه
কুরআন হচ্ছে চিরন্তন ও অবিনশ্বর। অনাদি ও অনন্তকাল ধরে আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্বের সাথে আল কুরআন একাত্ম হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহ তায়ালা মানুষের হেদায়েতের জন্য তা নাযিল করেছেন। যা লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত ছিল এবং রমযান মাসের লাইলাতুল কদর এর রাত্রিতে তা লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে নাযিল হয় এবং পরবর্তী সময়ে হযরত জিবরাঈল এর মাধ্যমে দীর্ঘ তেইশ বছর ব্যাপী মহানবী (সা:) এর ওপর নাযিল হয়েছে। এটি মাখলুক বা সৃষ্ট নয় এর শব্দ এবং অর্থ উভয়ই কাদীম।
টিকাঃ
১. আল কুরআন, সূরা ৭ আ'রাফ, আয়ত, ১৪৩।
২ (পেজ ৩০৯). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৫১-১৫২।
৩. আল কুরআন, সূরা ১৯ বানী ইসরাঈল, আয়ত, ৮৮।
১ (পেজ ৩১০). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ৬৯২।
২. আল কুরআন, সূরা ১৬ আন নাহল, আয়ত, ১০২।
১ (পেজ ৩১১). আল কুরআন, সূরা ৬ আনআম, আয়াত, ১১৪।
২. আল কুরনআ, সূরা ৩৫ আল হিজর, আয়াত, ১।
৩. আল কুরআন, সূরা ৪১ হ্যা মীম সাজাদাহ, আয়াত, ৩।
৪. আল কুরআন, সূরা ৮৫ আল বুরুজ, আয়াত, ২১-২২।
📄 কবরের আযাব
মু'তাযিলাগণের মতে কবরের আযাব হবে না। তারা কবরের আযাব এবং মুনকার ও নকির এর প্রশ্ন এবং উত্তরকে তারা অস্বীকার করে। কবরের আযাব সাব্যস্ত হলে বিচারের পূর্বেই শাস্তিদান অপরিহার্য হয়ে পড়ে। যা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। আল্লাহ তায়ালা সকল মানুষকে কিয়ামত দিবসে একত্রিত করবেন। হাশরের ময়দানে সকলের হিসাব নেয়া হবে এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁদের আমলের ভিত্তিতে তাঁদেরকে পুরস্কৃত বা শাস্তি দান করবেন। কুরআন ও হাদীসে বিষয়টি প্রমাণিত।
মু'তাযিলারা মনে করেন যে, হিসাব দিবসের পূর্বে শাস্তি বা পুরস্কার প্রদানের বিষয়টি যুক্তি সংগত নয়। তাই কবরের আযাব সাব্যস্ত হলে হিসাব গ্রহণ ও বিচারের পূর্বেই শাস্তি প্রদান আবশ্যক হয়ে যায়। মুতাযিলাগণ কবরের আযাব সংক্রান্ত হাদীস সমূহকে অস্বীকার করেছেন। তারা মনে করেন যে সকল হাদীসে কবরের আযাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা মূলত ধমক ও সর্তক করনের জন্য বলা হয়েছে।
আল্লামা যামাখশারী এর দলিলের জবাব এবং আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর মত :
আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর মতে কবরের আযাব সত্য। রাসূল (সা:) হতে বর্ণিত সহীহ হাদীসমূহের মাধ্যমে প্রমাণিত যে, কবরের আযাব সত্য এবং মুনকার ও নাকীরের সওয়াল ও জাওয়াব সত্য। কবর হলো পরকালের অনন্ত জীবনের প্রথম ধাপ। যে এই ধাপ থেকেই বোঝা যাবে সে কি সৌভাগ্যবান না কি দুর্ভাগা।
বোখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা:)-এর রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে তাঁকে কবর জগতে সকাল-সন্ধ্যা সে স্থান দেখানো হয়, যেখানে কেয়ামতের হিসাব-নিকাশের পর সে পৌঁছবে। সে স্থান দেখিয়ে প্রত্যহ তাঁকে বলা হয়, তুমি অবশেষে এখানে পৌঁছবে। কেউ জান্নাতী হলে তাঁকে জান্নাতের স্থান এবং জাহান্নামী হলে জাহান্নামের স্থানে দেখানো হয়।
উপরোক্ত কুরআন ও হাদীসের আলোকে প্রমাণ হয় যে, কবরের আযাব সত্য। মুনকার ও নাকীরের সওয়াল ও জাওয়াব সত্য। কবর হলো পরকালের অনন্ত জীবনের প্রথম ধাপ। যে এই ধাপ থেকেই বোঝা যাবে সে কি সৌভাগ্যবান না কি দুর্ভাগা।
টিকাঃ
১. আল কুরআন, সূরা ৩ আল ইমরান, আয়ত, ১৮৫।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড পৃ. ৪৪৯।
১ (পেজ ৩১৩). মুহাম্মদ ইবনে ইমাঈল আল বোখারী, সহীহ আল বোখারী প্রাগুক্ত, কিতাবুল অযু, বাবু মীনাল কাবায়ের আল্লা ইয়াসতাতীরু মিন বাউলিহি, হাদীস নং, ৬১।
২. মুহাম্মদ ইবনে ইমাঈল আল বোখারী, সহীহ আল বোখারী প্রাগুক্ত, কিতাবুল জানায়েয বাবু আততা'য়াওউজ মিন আযাবিল কাবার, হাদীস নং, ১০৩।
১ (পেজ ৩১৪). মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল বোখারী, সহীহ আল বোখারী, প্রাগুক্ত, কিতাবুল জানায়্যেয, বাবু আততা'য়াওউজ মিন আযাবিল কাবার, হাদীস নং, ১০২।
২. আল কুরআন, সূরা ৪০ আল মু'মিন, আয়াত, ৪৫-৪৬।
৩. মুফতী মুহাম্মদ শাফী, মাআরেফুল কুরআন, প্রাগুক্ত, পৃ. ১১৯১।