📄 হারাম রিযিক নয়
মুতাযিলাদের মতে হারাম রিযিক নয়। তাঁদের মতে হালাল-ই একমাত্র রিযিক। তাঁদের যুক্তি হলো হারাম রিযিক হলে, বান্দা যা হারাম রিযিক উপার্জন করবে তা আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পর্কিত হয়ে পড়ে। হারামকে রিযিক ধরা হলে আল্লাহ তায়ালা যে রিযিকদাতা তা অসম্মান করা হয়। আল্লামা যামাখশারী কাশশাফ গ্রন্থে বিভিন্ন স্থানে আয়াতের ব্যাখ্যায় বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
আহলি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর মতে হালাল এবং হারাম উভয় রিযিকের অন্তর্ভুক্ত। রিযিক হলো বান্দা যার দ্বারা উপকৃত হয় এবং বান্দা যাহা কিছুর মালিকানা অর্জন করে। হারামকে রিযিক থেকে বাদ দেয়া হলে একথা মেনে নিতে হয় যে, আল্লাহ তায়ালা হারাম ভক্ষণকারীর রিযিকদাতা নন। অথচ আল্লাহ তায়ালা সকল সৃষ্টির রিযিকদাতা। আল্লাহ ছাড়া কোন রিযিকদাতা নেই এবং সৃষ্টিকর্তা নেই। আল্লাহ তায়ালা হালাল রিযিক রোজগার করতে বলেছেন এবং হারাম থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।
টিকাঃ
১ (পেজ ২৩৫). আল কুরআন, সূরা ২ বাকারা, আয়াত-৩।
২. আল কুরআন, সূরা ১৬ আন নাহল, আয়াত-১১৪।
৩. আল কুরআন, সূরা ২ বাকারা, আয়াত-১৭২।
১ (পেজ ২৩৬). আল কুরআন, সূরা ২ বাকারা, আয়াত-২।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪০।
১ (পেজ ২৩৭). আল কুরআন, সূরা ১০ ইউনুস, আয়াত- ৩১।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৪৫।
৩. আল কুরআন, সূরা ১১ হুদ, আয়াত-৬।
১ (পেজ ২৩৮). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৭৯।
২. আল কুরআন, সূরা ১১ হুদ, আয়াত-৮৬।
১ (পেজ ২৩৯). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪১৯।
২. আল কুরআন, সূরা ১৩ রা'দ, আয়াত- ২২।
৩. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫২৬।
১ (পেজ ২৪০). আল কুরআন, সূরা ২০ তাহা, আয়াত- ১৩১।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৯৮।
১ (পেজ ২৪১). আল কুরআন, সূরা ৩৫ ফাতির, আয়াত-৩।
১ (পেজ ২৪২). আল কুরআন, সূরা ১১ হুদ, আয়াত-৬।
২. আল কুরআন, সূরা ৬৩ মুনাফিকুন, আয়াত-১০।
১ (পেজ ২৪৩). আল কুরআন, সূরা ২ বাকারা, আয়াত-১২৬।
২. আল কুরআন, সূরা ৩০ রুম, আয়াত-৪০
১ (পেজ ২৪৪). আল কুরআন, সূরা ৩৬ ইয়াসীন, আয়াত-৪৭।
২. আল কুরআন, সূরা ৪২ শুরা, আয়াত-৩৮।
৩. আল কুরআন, সূরা ৬ আন'আম, আয়াত-১৪০।
১ (পেজ ২৪৫). আল কুরআন, সূরা ২২ হজ্ব, আয়াত-৩৪।
২. আল কুরআন, সূরা ২৯ আল আনকাবূত, আয়াত-৬০।
১ (পেজ ২৪৫-৪৬). আল কুরআন, সূরা ২ বাকারা, আয়াত-১২৬
২ (পেজ ২৪৬). আল কুরআন, সূরা ২ বাকারা, আয়াত-২৫।
১ (পেজ ২৪৭). আল কুরআন, সূরা ১০ ইউনুস, আয়াত-৫৯।
২. আল কুরআন, সূরা ১৬ নাহল, আয়াত-৭১।
১ (পেজ ২৪৮). আল কুরআন, সূরা ২৯ আনকাবুত, আয়াত-১৭।
২. আল কুরআন, সূরা ৩৪ সাবা, আয়াত-১৫।
৩. আল কুরআন, সূরা ৪২ শুরা, আয়াত-২৭।
১ (পেজ ২৪৯). আল কুরআন, সূরা ৪৫ আল জাসিয়াহ, আয়াত-৫।
২. আল কুরআন, সূরা ২ বাকারা, আয়াত-২২।
১ (পেজ ২৫০). আল কুরআন, সূরা ১৪ ইব্রাহীম, আয়াত-৩২।
২. আল কুরআন, সূরা ৫১ যারিয়াত, আয়াত-২২।
৩. আল কুরআন, সূরা ৬৭ মুলক, আয়াত-২১।
১ (পেজ ২৫১). আল কুরআন, সূরা ২ বাকারা, আয়াত-২৩৩।
২. আল কুরআন, সূরা ৫১ যারিয়াত, আয়াত-৫৮।
১ (পেজ ২৫২). আল কুরআন, সূরা ২ বাকারা, আয়াত, ১৭৩-১৭৪।
১ (পেজ ২৫৩). মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত, কিতাবুল ক্বদর, বাবু কায়ফিয়াতি খলকিল আদামি ফী বাতানি উম্মিহি, হাদীস নং, ২০৩৬।
📄 আল্লাহর দর্শন
মু'তাযিলাগণ মনে করেন পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালাকে দেখা সম্ভব নয়। এমনকি পরকালেও আল্লাহ তায়ালাকে দেখা সম্ভব নয়। কারণ তারা মনে করেন কোন কিছুকে দর্শন করার জন্য তাঁর শরীর বা আকার আকৃতি থাকা বাধ্যতামূলক। আল্লাহ তায়ালা এ সবকিছুর ঊর্ধ্বে বিধায় তাঁকে দর্শন সম্ভব নয়। আল্লামা যামাখশারী তাঁর কাশশাফ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুতাযিলাদের আকীদাকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন।
মু'মিনগণ পরকালে আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করবেন এবং এটা তাঁদের জন্য আনন্দদায়ক বিষয় হবে। তবে দুনিয়াতে আল্লাহ তায়ালার দর্শন সম্ভব নয়। এটা আহলি সুন্নাত ওয়াল জামা'য়াত এর মত। মুমিনগণই সেদিন আল্লাহ তায়ালার দর্শন লাভ করবেন এবং কাফেরগণ বঞ্চিত হবেন। হাদীসসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, কিয়ামাতের দিন মু'মিনগণ তাঁদের মহান প্রভুকে সরাসরি দেখতে পাবেন।
টিকাঃ
১ (পেজ ২৫৪). আল কুরআন, সূরা ৬ আল আন'আম, আয়াত নং, ১০৩।
২. আল কুরআন, সূরা ৭ আল আ'রাফ, আয়াত- ১৪৩।
১ (পেজ ২৫৫). আল কুরআন, সূরা ২ বাকারা, আয়াত-৫৫।
১ (পেজ ২৫৬). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৪১।
২. আল কুরআন, সূরা ৩ আলে ইমরান, আয়াত, ৭।
১ (পেজ ২৫৭). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৩৭।
১ (পেজ ২৫৮). আল কুরআন, সূরা ৩ আলে ইমরান, আয়াত-১৯।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৪৫।
১ (পেজ ২৫৯). আল কুরআন, সূরা নিসা, আয়াত, ১৫৩।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৮৪।
৩. আল কুরআন, সূরা মায়েদা, আয়াত, ২৪।
১ (পেজ ২৬০). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৬২১।
২. আল কুরআন, সূরা ৬ আনআম, আয়াত-১০৩।
১ (পেজ ২৬১). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২ম খণ্ড, পৃ. ৫৪।
২. আল কুরআন, সূরা ७ আরাফ, আয়াত-১৪৩।
১ (পেজ ২৬২). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৫২-১৫২।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৫৫।
৩. আল কুরআন, সূরা ১০ ইউনুস, আয়াত- ১৪।
১ (পেজ ২৬৩). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৩৩।
২. আল কুরআন, সূরা ১০ ইউনুস, আয়াত-২৬।
৩. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ.৩৪২।
১ (পেজ ২৬৪). আল কুরআন, সূরা ৩৯ যুমার, আয়াত-৬০।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৩৯-১৪০।
১ (পেজ ২৬৫). আল কুরআন, সূরা ৪০ গাফের, আয়াত-৭।
১ (পেজ ২৬৬). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৫২।
২. আল কুরআন, সূরা ৫৭ হাদীদ, আয়াত-৩।
৩. আল কুরআন, সূরা ৭৫ কিয়ামাহ, আয়াত-২২-২৩।
১ (পেজ ২৬৭). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৭২।
১ (পেজ ২৬৮). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৬৬২।
১ (পেজ ২৬৯). আল কুরআন, সূরা ৭৫ আল কিয়ামাহ, আয়াত-২২-২৩।
১ (পেজ ২৭০). আল কুরআন, সূরা ৫০ ক্বাফ, আয়াত-৩৫।
২. মুফতী মুহাম্মদ শাফী, তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, প্রাগুক্ত, পৃ. ১২৯২।
৩. আল কুরআন, সূরা ১০ ইউনুস, আয়াত-২৬।
১ (পেজ ২৭১). আল কুরআন, সূরা ইউনুস, আয়াত-৯০।
২. আল কুরআন, সূরা শুয়ারা, আয়াত-৬১।
৩. আল্লামা যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৩৩
১ (পেজ ২৭২). আল কুরআন, সূরা ২০ ত্বহা, আয়াত-৩৯।
২. আল কুরআন, সূরা ৫২ তুর, আয়াত-৪৮।
৩. আল কুরআন, সূরা ৫৪ কামার, আয়াত-১৪।
৪. আল কুরআন, সূরা ২০ ত্বহা, আয়াত-৪৬।
৫. আল কুরআন, সূরা ৯৬ আলাক, আয়াত-১৪।
১ (পেজ ২৭৩). আল কুরআন, সূরা ২ বাকারা, আয়াত-১৪৪।
২. আল কুরআন, সূরা ৮৩ মুতাফিফীন, আয়াত-১৫।
১ (পেজ ২৭৪). আল কুরআন, সূরা ৫৭ হাদীদ, আয়াত-১৩।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৫৪।
১ (পেজ ২৭৫). আল কুরআন, সূরা ২ আল বাকারা, আয়াত, ৯৫।
২. আল কুরআন, সূরা ৪৩ যুখরুফ, আয়াত, ৭৭।
৩. আল কুরআন, সূরা ৯ তাওবা, আয়াত, ৮৩।
১ (পেজ ২৭৬). আল কুরআন, সূরা ৪৮ আল ফাতহ, আয়াত, ১৫।
১ (পেজ ২৭৭). মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, কিতাবুল ঈমান, বাবু ইসবাতু রূ'ইয়াতুল মু'মিনিনা ফীল আখিরাতি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা, হাদীস নং, ৩৫৬।
২. সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত, হাদীস নং, ৩৫৭
১ (পেজ ২৭৮). মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, কিতাবুল ঈমান, বাবু ইসবাতু রূ'ইয়াতুল মু'মিনিনা ফীল আখিরাতি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা, হাদীস নং, ৩৫৮।
১ (পেজ ২৭৯-৮১). মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, কিতাবুল ঈমান, বাবু ইসবাতু রূ'ইয়াতুল মু'মিনিনা ফিল আখিরাতি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা, হাদীস নং, ৩৯৬।
১ (পেজ ২৮২). মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, কিতাবুল ঈমান, বাবু মা'না কাওলুল্লাহি 'আযযা ওয়া জাল্লা 'ওয়ালাকাদ রাআ'হু নাযলাতান উখরা', হাদীস নং, ৩৫১।
২. মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, কিতাবুল ঈমান, হাদীস নং ৩৫২।
📄 আহলুল কাবাইর
মু'তাযিলাগণের মতে কবীরা গুনাহকারী পাপী মুসলমান তাওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করলে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে। তাঁদের মতে, যে একবার জাহান্নামে প্রবেশ করবে সে আর বের হতে পারবে না। কেননা তাঁদের মতে পাপীদের জন্য কোন প্রকার শাফা'য়াত সাব্যস্ত হবে না। আল্লামা যামাখশারী তাঁর কাশশাফ গ্রন্থে বিভিন্ন স্থানে মু'তাযিলাদের আকীদাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উপস্থাপন এবং তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন।
আহলি সুন্নাত ওয়াল জামা'আহ এর মতে কবীরা গুনাহকারী মুমিনগণ তাওবা ব্যতীত মৃত্যুবরণ করলে তাঁদের বিষয়টি আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছার অধীনে সোপর্দ থাকবে। তাঁদের মতে পাপীদের শাস্তি প্রদান করা আল্লাহর ওপর ওয়াজিব নয় বরং আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছা করলে পাপীদের ক্ষমা করে দিতে পারেন। আল্লাহ তায়ালা শিরক ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন। একত্ববাদীগণ জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না।
টিকাঃ
১ (পেজ ২৮৩). আল কুরআন, সূরা ৪ নিসা, আয়াত-৯৩।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৫১।
১ (পেজ ২৮৪). আল কুরআন, সূরা ৪ নিসা, আয়াত, ১১৯।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৬৬।
১ (পেজ ২৮৫). আল কুরআন, সূরা ৬ আনআম, আয়াত-১৫৮।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫৮২।
১ (পেজ ২৮৬). আল কুরআন, সূরা ৩৫ ফাতির, আয়াত-৫।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৫৯৯।
৩. আল কুরআন, সূরা ৩৯ যুমার, আয়াত-৫।
১ (পেজ ২৮৭). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৫১৩।
২. আল কুরআন, সূরা ৩৯ আয যুমার, আয়াত-৯।
৩. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১১৭।
১ (পেজ ২৮৮). আল কুরআন, সূরা ১ আল ফাতিহা, আয়াত-৭।
২. যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৭।
১ (পেজ ২৮৯). আল কুরআন, সূরা ৪ আন নিসা, আয়াত-১১৬।
২. আল কুরআন, সূরা ৩৯ আয যুমার, আয়াত-৫৩।
১ (পেজ ২৯০). আল কুরআন, সূরা ২ আল বাকারা আয়াত, ২৮৪।
২. আল কুরআন, সূরা ৩ আলে ইমরান আয়াত, ১২৯।
৩. আল কুরআন, সূরা ২৫ আল ফুরকান, আয়াত, ৬৮-৭০।
১ (পেজ ২৯১). আল কুরআন, সূরা ২ আল বাকারা, আয়াত, ১৭৮।
২. আল কুরআন, সূরা ২ আন নিসা, আয়াত-৪৮।
১ (পেজ ২৯২). মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, কিতাবুল ঈমান, বাবু ইসবাতুশ শাফায়াত, হাদীস নং, ৩৮৫।
১ (পেজ ২৯৩). মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, কিতাবুল ঈমান, বাবু ইসবাতু শাফায়াত, হাদীস নং, ৩৭৪।
১ (পেজ ২৯৪). মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, সহীহ মুসলিম, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, কিতাবুল ঈমান, বাবু ইসবাতু শাফায়াত, হাদীস নং, ৩৬৬।
📄 আল্লাহ অমঙ্গলের স্রষ্টা নন
মু'তাযিলাদের আকীদা হলো আল্লাহ মানুষকে সৎকাজে আদেশ দেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন। তিনি মানুষকে ভাল ও মন্দ বিবেচনা করার ক্ষমতা দিয়েছেন এবং তাঁকে সৎ ও কল্যাণকর কাজের আদেশ দিয়েছেন। অকল্যাণ ও পাপ কাজ থেকে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وإذا فعלו فاحشة قالوا وجدنا عليها أباء نا والله أمرنا بها قل إن الله لا يامر بالفحشاء أتقولون على الله ما لا تعلمون -
"যখন তারা কোন অশ্লীল কাজ করে, তখন তারা বলে : আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে এরূপ দেখেছি এবং আল্লাহ্ আমাদেরকে এ আদেশই দিয়েছেন। বলুন : আল্লাহ কখনও অশ্লীল কাজের আদেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কথা বলছ যা তোমরা জান না?"
উপরোক্ত আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা মানুষকে অশ্লীল, অন্যায়, অকল্যাণকর ও পাপ কাজের নির্দেশ প্রদান করেন না। সুতরাং ঐসকল পাপ কাজের স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা নন। আল্লাহ তায়ালাকে পাপ কাজের স্রষ্টা ধরে নিলে পাপ কাজের দায়ভার আল্লার তায়ালার উপরই বর্তাবে। অবশ্য আহলি সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত এর মত হলো, আল্লাহ তায়ালা সকল কাজের স্রষ্টা এবং বান্দা তাঁর অর্জনকারী মাত্র। আল্লামা যামাখশারী তাফসীরের বিভিন্ন স্থানে মুতাযিলাদের আকীদাকে সন্নিবেশিত করেছেন।
আল্লাহ তায়ালা অমঙ্গলের স্রষ্টা নন বিষয়ে আল্লামা যামাখশারী কর্তৃক উত্থাপিত দলিলের জবাব এবং আহলি সুন্নাত ওয়াল জামা'য়াত এর দলিল :
আল্লাহ তায়ালা সকল কিছুর স্রষ্টা। মঙ্গল অমঙ্গল ও ভাল-মন্দ সকল কিছুর স্রষ্টা। মানুষ আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী এর অর্জনকারী মাত্র। মানুষ কোন কিছু সৃষ্টি করতে পারে না। এ বিষয়ে মু'তাযিলাদের আকীদা ভ্রান্ত। তাঁদের মতে মানুষ তাঁর কর্মের সৃষ্টিকর্তা এবং ভাল মন্দ উভয়ই তাঁর সৃষ্টি। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ভাল মন্দ উভয় পথই দেখিয়েছেন এবং তাঁর আমল অনুযায়ী তাঁকে প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ তায়ালাকে অমঙ্গলের সৃষ্টিকর্তা নয় মেনে নিলে শিরক এর সম্ভাবনা তৈরি হয়।
পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং মানুষ তাঁর অর্জনকারী মাত্র। মানুষ তাঁর কর্মের দ্বারা প্রতিফল পাবে। মানুষ যখন কোন কর্মের ইচ্ছাপোষণ করে তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁকে ক্ষমতা প্রদান করেন। মানুষকে আল্লাহ তায়ালা ভাল মন্দ উভয় পথই দেখিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন খালেক (خالق) আর মানুষ হচ্ছে (عامل وكاسب) আমলকারী ও অর্জনকারী। এজন্যই মানুষের কর্মের জন্য স্রষ্টাকে দায়ী করা যায় না।
টিকাঃ
১. আল কুরআন, সূরা ৭ আল আ'রাফ, আয়াত, ২৮।
২. আল কুরআন, সূরা ৯ তাওবা, আয়াত, ৪৬।
১ (পেজ ২৯৬). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৭৬।
২. আল কুরআন, সূরা আন ২৭ নমল, আয়াত, ৪।
১ (পেজ ২৯৭). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৪৮।
১ (পেজ ২৯৭). আল কুরআন, সূরা নমল, আয়াত-৬২।
৩. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৯৭।
১ (পেজ ২৯৮). আল কুরআন, সূরা আল বাকারা, আয়াত, ৭।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫০।
১ (পেজ ২৯৯). আল কুরআন, সূরা ৭ আল আরাফ, আয়াত, ২৮।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ৯৯।
১ (পেজ ৩০০). আল কুরআন, সূরা ২৩ মুমিনূন, আয়াত, ৮৮।
২. আল কুরআন, সূরা ৩৬ ইয়াসীন, আয়াত ৮৩।
৩. আল কুরআন, সূরা ১৭ বানী ইসরাঈল, আয়াত, ২৯।
১ (পেজ ৩০১). আল কুরআন, সূরা ৩০ আর রুম, আয়াত, ৪১।
২. আল কুরআন, সূরা ৪২ আশ শুরা, আয়াত, ৩০।
৩. আল কুরআন, সূরা ৭ আল আরাফ, আয়াত, ১৪৯।
৪. আল কুরআন, সূরা ২ আল বাকারা, আয়াত, ২৯।
১ (পেজ ৩০২). আল কুরআন, সূরা ১১৩ আল ফালাক, আয়াত, ২।
২. আল কুরআন, সূরা ১১৪ আন নাস, আয়াত, ৪।
৩. আল কুরআন, সূরা ৬৪ আত তাগাবুন, আয়াত, ২।