📄 তাফসীরুল কাশশাফে মু'তাযিলী আকীদার প্রভাব
আল্লামা যামাখশারী তাফসীরুল কাশশাফ গ্রন্থটি মু'তাযিলী আকীদার ভিত্তিতেই প্রণয়ন করেছেন। তাফসীরুল কাশশাফ এর অনন্য রচনা শৈলী, প্রাঞ্জল ভাষার ব্যবহার এবং পবিত্র কুরআনকে প্রকৃতপক্ষে মু'জিযা হিসেবে উপস্থাপন সত্ত্বেও এর বিভিন্ন স্থানে মু'তাযিলী আকীদার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তিনি অতি সূক্ষ্মভাবে মু'তাযিলী আকীদাকে তাঁর তাফসীরে সন্নিবেশিত করেছেন। যা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। কেবল অতি বিজ্ঞ আলেমদের পক্ষে তা খুঁজে বের করা সম্ভব।
তাফসীরে কাশশাফ এর বিভিন্ন আয়াত ও সূরার ব্যাখ্যার পাশাপাশি আল্লামা যামাখশারী অত্যন্ত কৌশলে মু'তাযিলী আকীদাকে কোন কোন স্থানে প্রত্যক্ষভাবে এবং কোন কোন স্থানে পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য চেষ্টা করেছেন। আরবী ব্যাকরণের বিন্যাস ও ক্বিরাত এর পার্থক্য বর্ণনার পাশাপাশি মু'তাযিলী আকীদাকে বর্ণনা করেছেন। যেন মনে হবে আল্লামা যামাখশারী মু'তাযিলী আকীদাকে প্রবেশ করানোর জন্য কোন সুযোগকেই হাত ছাড়া করেননি।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম- এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা যামাখশারী বলেন:
ফان قلت ما معنى تعلق إسم الله تعالى بالقرأة؟ قلت فيه ও جهان অحدهما ان يتعلق بها تعلق القلم بالكتابة في قولك كتبت بالقلم على معنى ان المؤمن لما اعتقد ان فعله لا يجئ معتدا به في الشرع ও اقعا على السنة حتى يصدر بذكر اسم الله لقوله عليه الصلاة والسلام كل أمرذى بال لم يبدأ فيه باسم الله فهو أبتر وإلا كان فعلا كلا فعل جعل فعله مفعولا باسم الله كما يفعل الكتب بالقلم -
আল্লামা যামাখশারী উক্ত ব্যাখ্যায় আল্লাহ তায়ালার সিফাতকে অস্বীকার করেছেন। মু'তাযিলা ও কাররামিয়াদের মতানুযায়ী যারা আল্লাহর সিফাতকে অস্বীকার করেন তাঁদের মতে غير الاسم المسمى । আহলি সুন্নাত ওয়াল জামাআত এর আলিমদের মতে الاسم هو المسمى ।
আয়াত ৫- داياك نعبد وإياك نستعين -
আল্লামা যামাখশারী এ আয়াতের ব্যাখ্যা বলেন:
ফান قلت : فلم قدمت العবادة على الاستعانة قلت : لان تقديم الوسيلة قبل طلب الحاجة - ليستوجبوا الاجابة إليها - فان قلت : لم أطلقت الاستعانة؟ قلت ليتناول كل مستعان فيه -
আল্লামা যামাখশারী উক্ত ব্যাখ্যায় : ليتوجبوا الاجابة إليهما এর মাধ্যমে মু’তাযিলা আকীদাকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস চালিয়েছেন। কেননা মু’তাযিলাদের মতে, বান্দাকে প্রতিদান দেয়া আল্লাহর জন্য ওয়াজিব।
আল্লামা যামাখশারী সূরা আলে ইমরানের ৭নং আয়াতের তাফসীর নিম্নোক্তভাবে বর্ণনা করেন:
هُوَ الَّذِي أَنزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُّحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা যামাখশারী বলেন:
"(محكمات) احكمت عبارتها بأن حفظت من الاحتمال والاشتباه (متشابهات) محتملات ( هذا أم الكتاب أى أصل الكتاب تحمل المتشابهات و ترد إليها ও উদাহরণ স্বরূপ (لا تدركه الابصار)، (إلى ، بها ناظرة)، (لا يامر بالفحشاء) (أمرنا مـتـرفـيـهـা) "_
আল্লামা যামাখশারী উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় মু'তাযিলা মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে আল্লাহ তায়ালার দর্শন সম্ভব নয় এবং আল্লাহ তায়ালা বান্দার সকল কর্মের স্রষ্টা নন। এজন্যই তিনি মুহকাম ও মুতাশাবিহ এর উদাহরণ দিতে গিয়ে এখানে ৪টি আয়াতের অংশকে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে لاتدركه الابصار و هو يدرك الابصار আয়াতটি মুহকামাত আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু অপর আয়াত: - وجوه يومئذ ناضرة إلى ربها ناظرة - আয়াতটিকে মুতাশাবিহ এর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন।
টিকাঃ
১ (পেজ ১২৯). মাহমূদ ইবন উমর আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ আন হাকাইকি গাওয়ামিদিত তানযীল ওয়া উয়ূনুল আকাবীল ফী ওজুহীত তাবীল, (বৈরুত, দারুল কিতাব আল আরাবী, ১৩৬৬ হি./১৯৩৭ খ্রী) ১ম খণ্ড, পৃ.৩।
১ (পেজ ১৩০). আহমাদ ইবন মুনীর আল ইসকান্দারী, আল ইনতিসাফু ফীমা তাদাম্মা নাহুল কাশশাফু মিনাল ই'তিযাল, (মিশর: আলবাবী আল হালাবী, ১৩৯২ হিজরী), ১ম খণ্ড, পৃ. ৩।
২. আল কুরআন সূরা আল আরাফ ৭: ১৮০।
৩. আল কুরআন, সূরা ২০ ত্বাহা, ৮।
৪. আল কুরআন সূরা ৫৯ আল হাশর, ২৪।
৫. আল কুরআন সূরা ১৭ আল ইসরা, ১১০।
১ (পেজ ১৩১). আল কুরআন, সূরা ৮১ তাকবীর, ২৮-২৯।
১ (পেজ ১৩২). আল কুরআন, সূরা ৪৩ যুখরুফ, ৭২।
২. আল কুরআন, সূরা ৩২ আস সাজদাহ, ১৪
৩. মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল আল বুখারী, আস সহীহ, কিতাবুল জিহাদ ওয়াল সিয়ার, বাবু হাফরিল খান্দাক, ৩/২১৩; মুসলিম ইবন হাজ্জাজ আল কুশায়রী, আস সহীহ, কিতাবুল জিহাদ ওয়াল সিয়ার, বাবু গাযওয়াতুল আহযাব খন্দক, ৩/১৪৩০।
৪. আল কুরআন, সূরা ১৮ আল কাহাফ, ১৭।
১ (পেজ ১৩৩). আল কুরআন, সূরা আল ফাতিহা, ৫।
২. যামাখশারী প্রাগুক্ত: পৃ. ১৪।
১ (পেজ ১৩৪). মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল আল বুখারী, আস সহীহ, কিতাবর রিকাক, বাবুল কাসদি ওয়াল মুদাওয়ামাতি আলাল 'আমাল, ৭/১৮২; মুসলিম ইবন হাজ্জাজ আল কুশায়রী, আস সহীহ, কিতাবুল সিতাফতিল মুনাফিক্বীনা ওয়া আহক্বামুহুম, বাবু লান ইয়াদখুলাল জান্নাতা আহাদুন বি'আমালিহী, ৪/২১৭১।
২. আল কুরআন, সূরা ৩২ সাজদা, আয়াত, ১৭।
১ (পেজ ১৩৫). আল কুরআন, সূরা ৪১ হা-মীম আস্ সাজদা, আয়াত, ২৮।
২. আল কুরআন, সূরা ২৮ আল কাসাস, আয়াত, ৮৪।
৩. আল কুরআন, সূরা ৫ আল মায়েদাহ, আয়াত, ৯।
৪. আল কুরআন, সূরা ১০ ইউনুস, আয়াত, ৯।
১ (পেজ ১৩৬). আল কুরআন: সূরা ১৮ আল কাহাফ, আয়াত, ৩০।
২. আল কুরআন, সূরা ৪২ আল আশ শুরা, আয়াত, ২৬।
৩. আল কুরআন, সূরা ৪৫ জাছিয়া, আয়াত, ৩০।
৪. আল কুরআন, সূরা আল ফাতিহা, আয়াত, ৭।
১ (পেজ ১৩৭). যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৭।
২. আল কুরআন, সূরা ৪ আন নিসা আয়াত, ১১৬।
৩. আল কুরআন, সূরা ৩৯ আয যুমার আয়াত, ৫৩।
১ (পেজ ১৩৮). আল কুরআন, সূরা ২ আল বাকারা: ২৮৪।
২. আল কুরআন, সূরা ৩ আলে ইমরান আয়াত, ১২৯।
৩. আল কুরআন, সূরা ৩ আল ইমরান, আয়াত, ৭।
১ (পেজ ১৩৯). আল্লামা যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৩৭।
২. আল কুরআন, সূরা ৬ আল আন'আম, আয়াত, ১০২।
৩. আর কুরআন, সূরা ৭৫ আল কিয়ামাহ, আয়াত, ২৩-২৪।
১ (পেজ ১৪০). আল কুরআন, সূরা ৭ আল আরাফ, আয়াত, ২৮।
২. আল কুরআন, সূরা ১৭ আল ইসরা, আয়াত, ১৬।