📘 মুতাযিলা আকিদা 📄 আল কাশশাফ গ্রন্থ প্রণয়নের কারণ

📄 আল কাশশাফ গ্রন্থ প্রণয়নের কারণ


আল্লামা যামাখশারী তাঁর জীবনের যতগুলো গ্রন্থ রচনা করেছেন তাফসীরে কাশশাফ তাঁর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। মুসলিম বিশ্বে আল্লামা যামাখশারী কাশশাফ গ্রন্থের প্রণেতা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি তাঁর উস্তাদ আবু মুদার আদদাব্বী এর প্রেরণায় মু'তাযিলা আকীদার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন এবং তাঁর তাফসীরের উস্তাদ আবু সাঈদ আল জাসিমী এর দ্বারাও প্রচণ্ডভাবে প্রভাবিত হন। তিনি মু'তাযিলা আকীদাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাফসীরে কাশশাফ গ্রন্থটি প্রণয়ন করেন। আল্লামা যামাখশারী দ্বিতীয়বার মক্কায় অবস্থানকালে ৫২৬ হিজরীতে আল কাশশাফ রচনা শুরু করেন। মাত্র দু'বছরেই অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধনা এবং একনিষ্ঠতার কারণে তিনি এ তাফসীর গ্রন্থটি রচনার কাজ সম্পন্ন করেন। তিনি ৫২৮ হিজরী ২৩ রবিউল আউয়াল/১১৩৪ খ্রিষ্টাব্দে দারে সুলাইমানী নামক স্থানে এ গ্রন্থ লিখা সমাপ্ত করেন।

কাশশাফ গ্রন্থ লিখার কারণ বলতে গিয়ে আল্লামা যামাখশারী তাঁর তাফসীরে কাশশাফ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন :
রأيت اخواننا في الدين من افاضل الفئة الناجية العدلية - الجامعين بين علم العربية و الاصول الدنية كلما رجعوا الى في تفسير آية فابرزت لهم بعض الحقائق من الحجب أفاضوا فى الاستحسان والتعجب و شوقا الى مصنف يضم اطرافا من ذالك حتى اجتمعوا الى مـقـتـرحـيـن ان املى عليهم الكشف عن حقائق التنزيل وعيون الاقاويل فـاسـتـعـفـيـت فـابـوا الا المراجعة والاستشفاع بعظماء الدين وعلماء العدل والتوحيد والذي حداني على الاستعفاء على علمى انهم طلبوا ما الاجابة اليه على واجبة لان الخوض فيه كفرض العين -

মক্কায় মু'তাযিলা মতবাদের সমর্থনে কুরআনের ব্যাখ্যার প্রয়োজন অনুভূত হওয়ায় তিনি আল কাশশাফ লেখার জন্য উদ্বুদ্ধ হন। তাঁর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ক্ষমতা আকর্ষণীয় বিধায় মক্কার লোকেরা তাঁকে কুরআনের তাফসীর লিখে আল কাশশাফ নামকরণের পরামর্শ প্রদান করেন। প্রথমে তাঁদের প্রস্তাবে সম্মত না হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু অবশেষে তাঁদের অনুরোধে তিনি তাফসীরে এ নাম দিতেই সম্মত হন।

আল্লামা যামাখশারী ধারণা করেছিলেন যে, এ গ্রন্থ শেষ করতে তাঁর প্রায় ত্রিশ বছর সময় প্রয়োজন হবে। কিন্তু তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও সাধনা এবং একনিষ্ঠ পরিশ্রমের ফলে মাত্র দু'বছরেই তিনি এ কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। তিনি মনে করেন যে, পবিত্র কাবা ঘরের বরকতের কারণেই এ রকম একটি কঠিন কাজ এত কম সময়ে সম্পন্ন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়েছে। এ গ্রন্থে তিনি কুরআনের ব্যাকরণ ও আলংকারিক বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলেছেন। অপূর্ব শব্দ চয়ন এবং ভাষার অলংকার পূর্ণ ব্যবহার এবং অসাধারণ মাধুর্যতার কারণে গ্রন্থখানি গুণীজন দ্বারা প্রশংসিত ও সমাদৃত। আল কাশশাফ গ্রন্থের প্রশংসায় তিনি নিজেই বলেন :

إن التفاسير في الدنيا بلا عدد * وليس فيها لعمرى مثل كشافی
إن كنت تبغى الهدى فالزم قرأته * فالجهل كالداء والكشاف كالشافي

'দুনিয়াতে অসংখ্য তাফসীর গ্রন্থ রয়েছে। আমার জীবনের কসম! আমার কাশশাফের মত একটিও নেই। যদি তুমি হেদায়েত চাও তবে এটি অধ্যয়ন করা অপরিহার্য করে নাও। কেননা, মূর্খতা হল রোগ ও কাশশাফ হল তার আরোগ্য দানকারী।'

টিকাঃ
১. ইবন কুনফুয আল কুসানতিনী, প্রাগুক্ত, পৃ. ২৭৮; আল ওফাইয়াত, প্রাগুক্ত, পৃ. ২৭৮।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, মুকাদ্দামা; ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন, প্রাগুক্ত, পৃ. ২২।
১ (পেজ ৪৫). ইমাম যাহাবী, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৫২।

📘 মুতাযিলা আকিদা 📄 আল কাশশাফ এর সমালোচনা

📄 আল কাশশাফ এর সমালোচনা


আলেমগণ এ গ্রন্থটির সাহিত্যিক মর্যাদা স্বীকার করলেও মু'তাযিলী 'আকীদার ভিত্তিতে রচিত হওয়ায় তাঁরা এর সমালোচনা করেছেন।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া মু'তাযিলী আকীদার আলোকে রচিত তাফসীর সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, মু'তাযিলীরা আল-কুরআনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এমন মনগড়া বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন যা সলফে সালেহীনদের মতের বিপরীত। তাঁরা এক্ষেত্রে কল্পনা প্রসূত ধ্যান-ধারণা ও বুদ্ধি ভিত্তিক রায়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এ পর্যায়ে আল্লামা যামাখশারী আল কাশশাফ গ্রন্থে বিদ'আত প্রসূত ব্যাখ্যা করেছেন।

শাইখ হায়দার আল হারাবী বলেন, আল কাশশাফ উন্নত পদ্ধতিতে রচিত একটি গ্রন্থ। এটি তাফসীর গ্রন্থ সমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সারগর্ভ ও অতুলনীয় গ্রন্থ। আল কাশশাফ যে উন্নত ভাবধারা ও অলংকার পূর্ণ বাক্য দ্বারা সুবিন্যস্ত, এ বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই। তবে এ গ্রন্থ প্রণয়নের ক্ষেত্রে গ্রন্থকারের অনুসৃত নীতিমালা ও গৃহীত পদ্ধতি সমূহ এর সার্বজনীনতা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। যেমন গ্রন্থকার আয়াতের বাহ্যিক অর্থ বর্জন ও রূপক অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে মু'তাযিলী মতবাদ প্রতিষ্ঠার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন। তিনি এ উদ্দেশ্যে আউলিয়া কিরামকে অশালীন বাক্য বাণে জর্জরিত করেছেন এবং তাঁদের শানে লাগামহীন বাক্য প্রয়োগের মাধ্যমে দুঃসাহসের চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন। তিনি আহলি সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতকে অশ্রাব্য ভাষায় আক্রমণ করেছেন। এমনকি তাঁদের কে কাফির ও মুলহিদ বলতেও দ্বিধা বোধ করেননি।

তাজউদ্দীন আস সুবকি (মৃ. ৭৭১ হিজরী) বলেন, এ গ্রন্থটি প্রশংসার যোগ্য হলেও এ গ্রন্থ প্রণেতা বিদ'য়াতী ছিলেন এবং নিজেকে বিদ'য়াতী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন। তিনি গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছেন।

ইবন মুনায়্যের আল-ইসকান্দারী (মৃত্যু: ৬৮৩ হিজরী) আল-কাশশাফ গ্রন্থের সমালোচনা করে গিয়ে বলেন যে, আল্লামা যামাখশারী মু'তাযিলী 'আকীদাহকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে চরম ভ্রষ্টতার আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি আহলি সুন্নাহ ওয়াল জামাআতকে ঈর্ষার দৃষ্টিতে দেখেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে তাঁদেরকে নগ্ন ভাষায় গালি দিয়েছেন।

ড. হোসাইন যাহাবী বলেন:
فنراه يرد هجمات الزمخشرى التي يشنيها على أهل السنة بعبارة شديدة يوجيهها الي الزمخشرى وأصحابه مع تحقير له ولهم واسـتـبـشــاعـه لتفسير له وتفسيرهم

আল্লামা যামাখশারী তাঁদেরকে কখনো জাবারীয়া, কখনও হাশাবীয়, আবার কখনও মুশাব্বিহা ও কাদারীয়া প্রভৃতি বাতিল সম্প্রদায় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সূরা আলে ইমরানের নিম্নোক্ত আয়াত :
ولا تكونوا كالذين تفرقوا واختلفوا من بعد ماجاء هم البينات
তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে এবং তাদের নিকট সুস্পষ্ট বর্ণনা আসার পরেও তারা মতপার্থক্য করেছে। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন :
وقيل هم مبتدعو هذه الامة وهم المشبهة والمجبرة والحشوية واشباههم -
অর্থাৎ তারা এ উম্মতের মধ্যে বিদ'আতপন্থী। আর তারাই হলো মুশাব্বিহা, মুজবিরা ও হাশাবীয়া এবং তাদের অনুরূপ মতাদর্শে বিশ্বাসীগণ অন্তর্ভুক্ত।

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জাম'আতের প্রতি এ ধরনের আপত্তিকর আচরণের ক্ষুব্ধ হয়ে আবূ হায়্যান তাঁর প্রতি নিম্নোক্ত কবিতায় নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন:
ولكنه فيه مجال لناقد وزلات سؤ قد أخذن المخانقا
ويعزو الى المعصوم ماليس لائقا فيثبت موضوع الأحاديث جاهلا
ويشتم أعلام الائمة ضلة

'এতে সমালোচকের সমালোচনার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। আর নিন্দনীয় ত্রুটি বিচ্যুতি এ গ্রন্থেও ঘাড় মটকিয়েছে। গ্রন্থকার এতে মূর্খতাবশত মওজু হাদীস প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি নিষ্পাপের প্রতি এমন দোষারোপ করেছেন যা কখনও উচিত নয় এবং তিনি শ্রেষ্ঠ ইমামদেরকে পথভ্রষ্ট বলে গালি দিয়েছেন।'

টিকাঃ
১. ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮; ড. মুহাম্মদ হোসাইন আয যাহাবী প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৪০।
২. প্রাগুক্ত।
৩. প্রাগুক্ত।
৪. প্রাগুক্ত।
১ (পেজ ৪৭). ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮; আয যাহাবী প্রাগুক্ত পৃ. ৪৪০।
২. প্রাগুক্ত।
৩. সূরা আলে ইমরান, আয়াত, ১০৫।
৪. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, ১ম খণ্ড, পৃ. ২০৯।

📘 মুতাযিলা আকিদা 📄 ভাষ্যগ্রন্থ

📄 ভাষ্যগ্রন্থ


আল্লামা যামাখশারীর কাশশাফ গ্রন্থটি এর সাহিত্যিক মান, ভাষা নৈপুণ্য, বালাগাত ও ফাসাহাত এর দৃষ্টান্ত উপস্থাপন এবং পবিত্র কুরআনকে প্রকৃতপক্ষে একটি মু'জিযা হিসেবে উপস্থাপনের কারণেই বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ গ্রন্থটি মু'তাযিলী 'আকীদার ভিত্তিতে লেখা সত্ত্বেও আহলি সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতসহ সকল প্রকার মানুষের এ গ্রন্থটি গ্রহণযোগ্যতা ও খ্যাতি পেয়েছে। এ কারণেই হিজরী ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত গ্রন্থটি অনেক ভাষ্য গ্রন্থ রচিত হয়েছে। নিম্নে কয়েকটি ভাষ্য সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

এক. আল ইনতিসাফু ফী মা তাদামমাহুল কাশশাফু মিনাল ই'তেযাল : এই গ্রন্থটি আল্লামা ইবনুল মুনাইয়ের আল ইসকান্দারী (মৃ. ৬৮৩ হিজরী) রচনা করেন। তিনি মু'তাযিলী আকীদার সমালোচক ছিলেন বিধায় তিনি গ্রন্থটি খুব সূক্ষ্ম সমালোচনাসহ বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছেন। তিনি আহলি সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পক্ষ থেকে মু'তাযিলাদের বিভিন্ন যুক্তি ও দলিলের যুক্তিপূর্ণ জবাব উপস্থাপন করেছেন। এছাড়া যামাখশারী যে সমস্ত স্থানে ক্বীরাত এবং ই'রাব সংক্রান্ত বিষয়ে ভুল করেছেন তা তিনি দেখিয়েছেন। এ গ্রন্থটি কাশশাফের সর্ববৃহৎ সমালোচনামূলক ভাষ্য গ্রন্থ।

দুই. আল কাশশাফু আন মুশকিলাতিল কাশশাফ : গ্রন্থটি আবু হাফস উমর ইবন আব্দুর রহমান ইবন উমর আল ফারিসী আল কাযবিনী (মৃ. ৭৪৫ হিজরী) হিজরী ৮ম শতাব্দীতে রচনা করেন। তিনি তাঁর গ্রন্থে কাশশাফের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেছেন।

তিন. ফুতূহুল গায়ীব ফিল কাশশাফ আন কিনা'য়ির রাইব : আল হোসাইন ইবন মুহাম্মদ ইবন আল তাইয়েবী (মৃ. ৭৪৩ হিজরী) এ কিতাবটি প্রণয়ন করেছেন। তাইয়েবী বলেন, এ গ্রন্থটি রচনার সময় আমি রাসুলুল্লাহ (সা:) কে স্বপ্নে দেখেছি। তিনি আমাকে এক পিয়ালা দুধ পেশ করলেন। আমি তাঁর থেকে কিছু পান করলাম এবং বাকিটুকু রাসুল (সা:) কে ফেরত দিলাম এবং তিনি তা থেকে কিছু পান করলেন। এ ঘটনা থেকেই এ কিতাবটি রচনার গুরুত্ব অনুভব করা যায়। তাইয়েবী এ গ্রন্থে মু'তাযিলী আকীদার বিশ্লেষণ এবং কাশশাফ গ্রন্থের উল্লিখিত হাদীস সমূহের বিশুদ্ধতা যাচাই করেছেন। গ্রন্থটি ছয় খণ্ডে সমাপ্ত।

চার. সাবাবুল ইনকিফাফি আন ইকরায়িল কাশশাফ : আবুল হাসান তাকীউদ্দীন আল ইবন আব্দুল্লাহ কাফি আস সুবুকী (মৃ.৭৫৬হি:) এ গ্রন্থটি প্রণয়ন করেন। এ গ্রন্থটিও কাশশাফের সমালোচনা মূলক একটি ভাষ্য গ্রন্থ। তিনি তাঁর গ্রন্থে মু'তাযিলা আকীদার বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেছেন।

পাঁচ. খুলাসাতুল কাশশাফ : নবাব ছিদ্দীক হাসান খান (মৃ. ১৩০৭ হিঃ) গ্রন্থটি রচনা করেছেন। তিনি তাঁর গ্রন্থে কাশশাফ এ বর্ণিত বিভিন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ করেছেন।

ছয়. আল ইনসাফু ফীল জাম'য়ে বাইনা কাশফুশ সা'লাবি ওয়াল কাশশাফ : ইবনুল আছির আল জাযারি হিজরী ৭ম শতাব্দীতে গ্রন্থটি প্রণয়ন করেন। তিনি তাঁর গ্রন্থে সায়া'লাবী রচিত আল কাশশাফ এবং আল্লামা যামাখশারী রচিত আল কাশশাফ গ্রন্থ সম্পর্কে তুলনামূলক আলোচনা করেছেন।

সাত. আল ইনসাফু ফী মাসাইলীল খিলাফী বাইনা যামাখশারী ওয়া ইবনুল মুনাইয়ির : আবু ইসহাক আর ইরাকী আল আনসারী গ্রন্থটি রচনা করেন। তিনি তাঁর গ্রন্থে আল্লামা যামাখশারী এবং ইবনুল মুনাইয়ির এর মধ্যে ইখতিলাফ সম্বলিত মাস'আলা সমূহের বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

আট. মুশাহিদাতুল আল ইনতিসাফ আল শাওয়াহিদু আল কাশশাফ : এটি শাইখ মুহাম্মদ ইলইয়ান রচিত কাশশাফের একটি ভাষ্য গ্রন্থ। এতে তিনি আল কাশশাফে ব্যবহৃত মু'তাযিলী আকীদারও সমালোচনা করেছেন।

নয়. আল ইনসাফু শরহু আল কাশশাফ : এটি মাহমুদ ইবন মাস'উদ আল শীরাযী (মৃত্যু : ৭১০ হিজরী) রচনা করেন। এ গ্রন্থটি দুখণ্ডে সমাপ্ত হয়েছে।

দশ. কিতাবুত তাময়ীজ লিবায়ানি মা ফী তাফসীরিল যামাখশারী মিনাল ই'য়তেযার : গ্রন্থটি আবু আলী উমর ইবন মুহাম্মদ ইবন খালীল আল মাগরিবী (মৃ. ৭০৭ হি) রচনা করেন।

এছাড়াও কাশশাফ গ্রন্থের আরও অনেক ভাষ্য গ্রন্থ রচিত হয়েছে। নিম্নে এর কিছু উল্লেখ করা হলো :
এক. আলী আল-জুরজানী (মৃ. ৮১৬/১৪১৩) কর্তৃক রচিত ভাষ্য গ্রন্থটি ১৩০৮ হি. ও ১৩১৮ হি. কায়রোতে মুদ্রিত আল-কাশশাফের সহিত উহার পার্শ্ব টীকা- রূপে মুদ্রিত হয়েছে।

দুই. নাগ'বাতু'ল-কাশশাফ মিন খুতবাতি'ল-কাশশাফ : মুহাম্মদ আদ-দাওয়ানী (মৃ. ৯০৭/১৫০১) উক্ত ভাষ্য-গ্রন্থধারা আল-ফীরূযাবাদী (মৃ. ৮১৭/১৪১৪ সন) হয়েছে।

তিন. খিদর ইবন 'আতাউল্লাহ কর্তৃক রচিত আল-ইসজাফ ফী শারহি শাওয়াহিদি'ল-কাদী ওয়াল-কাশশাফ শিরোনামের ভাষ্যগ্রন্থ খানাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য যে, শেষোক্ত ভাষ্যগ্রন্থটিতে কাদী আল বায়দাবী কর্তৃক রচিত তাফসীর গ্রন্থে উল্লিখিত পরস্পর সদৃশ আয়াতসমূহ ও উহাতে বিভিন্ন অভিমতের সমর্থনে প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপিত আয়াতসূহের ব্যাখ্যা রয়েছে।

চার. তাজরীদুল কাশশাফ মা'আ যিয়াদাতি নুকাতিন লিতাফ : এ সার গ্রন্থটি জামালুদদীন আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আবুল কাসিম ইবন আল হাদী ইলাল হাকক ইবন রাসূ লিল্লাহ আষ যায়দী কর্তৃক ৭৯৫/১৩৯৩ সনে সানা'আ শহরে প্রণীত হয়।

পাঁচ. আল জাওহারুশ শাফফাফ আল মুলতাকাতু মিম্মা গাসসাতিল কাশশাফ : উক্ত সার গ্রন্থটি আবদুল্লাহ ইবন আল হাদী কর্তৃক ৮১০/১৪০৭ সনে প্রণীত হয়।

ছয়. আবুল বাকা আব্দুল্লাহ ইবন আবী আবদিল্লাহ হুসায়ন আল উকবারী (মৃ. ৬১৬ হি./১২১৯ খ্রী.) কর্তৃক রচিত আল মুহাসসাল (আল ফিহরিস্ত, কায়রো, ২য় সংস্করণ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৫৭)।

সাত. আব্দুল ওয়াহিদ ইবন আলী আল আনসারী কর্তৃক রচিত আল মুফাদদাল।

আট. মুহাম্মদ ইবন সাদ আল মারাযী কর্তৃক রচিত আল মাহসাসাল।

নয়. ইবন মালিক (মৃ. ৬৭৩/১২৭৩ সন) কর্তৃক রচিত যিকরু আমানী আবনিয়াতিল আলমাইল মাওজুদাতি ফিল মুফাসসাল। দামেশকে উক্ত গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত হয়েছে।

দশ. আলোচ্য আল মুফসসাল গ্রন্থে উদ্ধৃত কবিতার ব্যাখ্যায় ফখরুদ্দীন আল খাওয়ারিযমী কর্তৃক রচিত গ্রন্থ।

এগার. মুহাম্মদ ইবন মহাম্মদ ফাখরুল ফারাসখানে কর্তৃক রচিত ব্যাখ্যা গ্রন্থ। গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে।

টিকাঃ
১ (পেজ ৪৮). ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন প্রাগুক্ত, পৃ. ২৯; আয যাহাবী প্রাগুক্ত পৃ. ৪৩৮।
২. ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন প্রাগুক্ত, পৃ. ৩০; তাহলীলী জায়ীযাহ, পৃ. ৫১৭।
৩. মুহাম্মদ মুনীর আব্দু আগা আল দিমাশকী, নামুযাজ মিনাল 'আমাল আল খায়রীয়‍্যাহ (রিয়াদ: মাকতাবাহ ইমাম আল শাফিয়ী, ১৪৯১হি.১৯৯৮ খ্রী.), পৃ. ৩৬৯; ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন প্রাগুক্ত, পৃ. ৩০; তাহলীলী জায়ীযাহ, পৃ. ৫১৭।
১ (পেজ ৪৯). কাশফ আল যুনুন, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৪৭৮।
২. যিরিকলী, আল 'আলম, ৫ম খণ্ড, (কায়রো: ১৯৫৯), পৃ. ১১৭।
৩. ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩১; ব্রোকলম্যান, ১ম খ খণ্ড, পৃ. ৫১০।
৪. কাশফ আল যুনূন, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৮২।
৫. ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩২; আল 'আলাম, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৭৮।
১ (পেজ ৫০). ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩২; আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত।
২. তাহলীলী জায়িযাহ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৫১৯।
৩. ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩২; কাশফ আল যুনূন, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৪৮২।
৪. ইসলামী বিশ্বকোষ, সম্পাদনা পরিষদ (ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ) ২১শ খণ্ড, পৃ. ৫১২।
১ (পেজ ৫১). ইসলামী বিশ্বকোষ, সম্পাদনা পরিষদ (ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ) ২১শ খণ্ড, পৃ. ৫১২।

📘 মুতাযিলা আকিদা 📄 বৈশিষ্ট্য

📄 বৈশিষ্ট্য


আল্লামা যামাখশারী কাশশাফ গ্রন্থটি মু'তাযিলা আকীদার ভিত্তিতে রচনা করেছেন। তবে বালাগাত ফাসাহাত ও সাহিত্যিক মানের দিক থেকে গ্রন্থখানা অনন্য। আল কুরআনের সাহিত্যিক অলংকার উদ্ঘাটন, শব্দ বিন্যাস, বাক্য বিন্যাস, ও ব্যাকরণগত পর্যালোচনা ও ব্যাখ্যা প্রদানে আল কাশশাফ একটি অতুলনীয় গ্রন্থ। এ প্রসঙ্গে আল্লামা যামাখশারী নিজেই বলেছেন :
ان التفاسير في الدنيا بلا عدد * وليس فيها لعمري مثل كشافی
ان كنت تبغى الهدى فالزم قرأتة * فالجهل كالداء والكشاف كالشافي

পৃথিবীতে অগণিত তাফসীর গ্রন্থ রয়েছে; আমার জীবনের শপথ, এর মধ্যে আমার কাশশাফের মত কোন গ্রন্থ নেই; যদি তুমি হেদায়েত চাও, তাহলে এ গ্রন্থ পাঠ কর, কেননা মুর্খতা হলো রোগ আর কাশশাফ হলো এর নিরাময়কারী।

কাশশাফ গ্রন্থে আল্লামা যামাখাশারী কুরআন ও হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে আকল বা যুক্তিকে সুন্নাহ এর উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। নিম্নে কাশশাফ গ্রন্থের কিছু বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো:

এক. সূরার পরিচিতি উপস্থাপনা : আল্লামা যামাখশারী তাঁর গ্রন্থের প্রত্যেক সূরার শুরুতে সূরার নাম, আয়াত, সংখ্যা, সূরাটি মাক্কী না মাদানী তা উল্লেখ করেছেন ও কখনো কখনো শানে নুযুল উল্লেখ করেছেন। যেমন সূরা ফাতিহার শুরুতে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন:
سورة فاتحة الكتاب ، مكية وقيل مكية ومدنية لانها نزلت بمكة مرة وبالمدينة أخرى و تسمى ام القرآن لاشتمالها على المعانى اللتي في القرآن من الثناء على الله تعالى بما هو أهله - ومن التعبد بالأمر والنهي و من الوعد والوعيد وسورة الكنز والوافية لذلك - وسورة الحمد والمثانى لانها تثنى في كل ركعة -

অর্থাৎ, সুরাতু ফাতিহাতিল কিতাব, মাক্কী। তবে কেউ বলেছেন, মাক্কী ও মাদানী। কেননা এ সূরা মক্কায় একবার নাযিল হয়েছে এবং মদীনায় আরেকবার নাযিল হয়েছে। এ সূরাকে বলা হয় উম্মুল কুরআন, কেননা এতে পবিত্র কুরআনের মূল বিষয় তথা আল্লাহ প্রশংসার কথা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তিনি যার যোগ্য। এছাড়া আদেশ, নিষেধ, ওয়াদা এবং ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই কারণে এ সূরাকে سورة الكنز এবং سورة الوافية বলা হয়। এ সূরাকে سورة الحمد والمثاني ও বলা হয় কেননা এ সূরা প্রত্যেক রাকাতে পড়া হয়।

দুই. কুরআনের আয়াত দ্বারা ব্যাখ্যা প্রদান :
এ গ্রন্থের আরো একটি বৈশিষ্ট্য হলো কুরআনের আয়াত দ্বারা কুরআনের ব্যাখ্যা করা। আল্লামা যামাখশারী একটি আয়াতের ব্যাখ্যায় অন্য একটি আয়াত উল্লেখ করেছেন। যা কুরআন তাফসীরের মূলনীতির মধ্যে অন্যতম। যেমন আল্লাহ তায়ালার বাণী : ان كنتم في ريب مما نزلنا على عبدنا فاتوا بسورة من مثلة وادعوا شهدائكم من دون الله ان كنتم صادقين - "আর যদি তোমরা সন্দেহ পোষণ কর তাতে যা আমি নাযিল করেছি আমার বান্দার প্রতি, তাহলে তোমরা এর মত একটি সূরা নিয়ে এস। ডেকে নাও তোমাদের সাহায্যকারীদেরও এক আল্লাহ ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।”

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আল্লামা যামাখশারী আরো উল্লেখ করেছেন। যথা:- وقال الذين كفروا لولا نزل عليه القرآن جملة واحدة - আর কাফিররা বলে সমগ্র কুরআন তার প্রতি একবারে নাযিল হল না কেন? এবং فأتو( )بـعـشـر سـور مـثـلــه উল্লেখ করেছেন, উল্লেখিত আয়াতে কুরআনের চ্যালেঞ্জকে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াতের দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তা হলো: قل لئن اجتمعت الانس والجن على ان ياتوا بمثل هذا القرآن لا يأتون بمثله ولوكان بعضهم لبعض ظهيرا - “আপনি বলে দিন: যদি সকল মানুষ ও জ্বিন এ উদ্দেশ্যে সমবেত হয় যে, তারা এ কুরআনের অনুরূপ কুরআন রচনা করে আনবে এবং তারা পরস্পরের সাহায্যকারী হয় তবুও তারা কখনও এর অনুরূপ আনতে পারবে না।”

তিন. হাদীস দ্বারা কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান :
আল্লামা যামাখশারী তাঁর গ্রন্থে কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা:) এর হাদীস সন্নিবেশিত করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি সিহাহ সিত্তাহ, মাসনাদে আহমাদ, বায়হাকী ও মুসতাদরাকে হাকিম গ্রন্থ হতে হাদীস উদ্ধৃতি করেছেন। প্রখ্যাত সাহাবীগণের বর্ণনা থেকে হাদীস উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা:), আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা:), আলী (রা:), আয়েশা (রা:), হুযায়ফাহ (রা:) আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা:) অন্যতম এবং তাবেয়ীগণের মধ্যে মুজাহিদ, ইকরামাহ, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, যায়েদ ইবন আলী, সুফিয়ান ইবনে ওয়ায়নাহ, সুফিয়ান সাওরী, শা'বী, ইবরাহীম নাখ'য়ী, মুহাম্মদ ইবন সীরীন, তাউস, কাতাদাহ, ওয়াহাব ইবন মুনাব্বাহ (র.) প্রমুখ অন্যতম।

অনেক ক্ষেত্রে তিনি পূর্ণ সনদকে উল্লেখ না করেই হাদীস বর্ণনা করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণ সনদকে বাদ দিয়ে শুধু বর্ণনাকারী রাবীর নাম উল্লেখ করেই হাদীস নিয়ে এসেছেন। যেমন: আল্লাহ তায়ালার বাণী-
ان الله لا يستحيى ان يضرب مثلا ما بعوضة فما فوقها ـ فاما الذين امنوا فيعلمون انه الحق من ربهم واما الذين كفروا فيقولون ماذا اراد الله بهذا مثلا يضل به كثيرا ويهدى به كثيرا وما يضل به إلا الفسقين -
“নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা লজ্জাবোধ করেন না উপমা দিতে কোন বস্তু দিয়ে, হোক তা মশা কিংবা তার চেয়েও ক্ষুদ্র কিছু। সুতরাং যারা ঈমান এনেছে তারা জানে যে, তাদের পালনকর্তার তরফের এ উপমান নির্ভুল ও সঠিক। কিন্তু যারা কাফের তারা বলে, আল্লাহ কি উদ্দেশ্যে এ তুচ্ছ বস্তুর উপমা দিয়েছেন? এ দিয়ে আল্লাহ অনেককে বিপথগামী করেন এবং অনেককে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। তবে ফাসেকদের ছাড়া অন্য কাউকে তিনি এরূপ উপমা দিয়ে গোমরা করেন না।”

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা যামাখশারী حياء শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাদীস উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:
وذلك في حديث سلمان قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ان الله حي كريم - يستحيى اذا رفع إليه العبد يديه ان يردهما صفرا حتى يضع فيهما خيرك
অর্থাৎ, হযরত সালমান (রা:) এর হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, ”আল্লাহ তায়ালা লজ্জাশীল অতি দয়ালু, যখন বান্দা তাঁর নিকট দুহাত তুলে দোয়া করে তখন তিনি বান্দার দু'হাত খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন, যতক্ষণ না তিনি তাতে কল্যাণ দান করেন।

অনুরূপ আল্লাহ তায়ালার বাণী: و إذ أخذ الله ميثاق الذين أوتوا الكتب لتبيننه للناس ولا تكتمونه فنبذوه وراء ظهورهم واشتروا به ثمنا قليلا فبئس ما يشترون - "স্মরণ কর, যখন আল্লাহ প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন আহলে কিতাবের : তোমরা মানুষের কাছে কিতাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না। কিন্তু তারা সে প্রতিশ্রুতি নিজেদের পেছনে ফেলে রাখল এবং তার পরিবর্তে নগণ্য বিনিময় গ্রহণ করল। সুতরাং তারা যা বিনিময় গ্রহণ করল তা কতইনা নিকৃষ্ট!”

অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা যামাখশারী হাদীস উল্লেখ করেছেন-
وعن النبي صلى الله عليه وسلم من كتم علما من أهله ألجم بلجام من نار -
রাসূল (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইলম গোপন করবে, তাকে আগুনের পোশাক পরানো হবে। আল্লামা যামাখশারী হাদীসটির রাবীর নাম উল্লেখ করেননি ও সনদ বর্ণনা করেননি। হাদীসটি আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাযাহতে হযরত আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত হয়েছে।

চার. ফিকহী মাসআলাহ এর উল্লেখ :
আল্লামা যামাখশারী কাশশাফ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী ফিকহী মাসআলাহ উল্লেখ করেছেন। অধিকাংশ স্থানে তিনি হানাফী মাযহাবকে প্রাধান্য দিয়েছেন যদিও তিনি মাযহাবের মুকাল্লিদ ছিলেন না। হানাফী মাযহাবের সাথে তাঁর অনেক বিষয়ের মতৈক্যের কারণ হলো : উভয়ই আকল বা যুক্তিকে গুরুত্ব প্রদান করতেন। কাশশাফ গ্রন্থে ফিকহী মাসআলার আলোচনায় তিনি ভারসাম্য রক্ষা করেছেন এবং পক্ষে-বিপক্ষে উভয় দিকের দলিল আলোচনায় উল্লেখ করেছেন। যেমন: আল্লাহ তায়ালার বাণী
يسئلونك عن المحيض قل هو أذى فاعتزلوا النساء في المحيض ولا تقربوهن حتى يطهرن فاذا تطهرن فأتوهن من حيث أمركم الله ان الله يحب التوابين ويحب المتطهرين
“তারা আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে রক্তস্রাব সম্বন্ধে। আপনি বলুন: তা অশুচি। কাজেই রক্তস্রাব অবস্থায় তোমরা স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাকবে এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না। সুতরাং যখন তারা উত্তমরূপে পরিশুদ্ধ হবে তখন তারা তাদের কাছে ঠিক সেভাবে গমন করবে যেভাবে আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তওবাকারীদের ভালবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালবাসেন।”

আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা যামাখশারী বলেন, আয়াতে اعتزلوا (দূরে থাকা/সঙ্গ বর্জন) সম্পর্কে ফকীহগণ ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন। ইমাম আবু হানিফা (র.) এবং ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর দ্বারা লজ্জাস্থানের আবৃত স্থান থেকে দূরে থাকার কথা বলেছেন। ইমাম মুহাম্মদ (র.) শুধু সহবাসের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

অনুরূপভাবে আল্লামা যামাখশারী- بسم الله الرحمن الرحيم এর ব্যাখ্যায়ও ফকীহগণের মত তুলে ধরেছে। তিনি বলেন,
অর্থাৎ মদীনা, বসরা ও সিরিয়ার ফকীহগণের নিকট بسم الله সূরা ফাতিহার অংশ নয় এবং অন্য কোন সূরারও অংশ নয়। এটা এক সূরাকে অন্য সূরা হতে পৃথক করা এবং বরকতের জন্য লিখা হয়েছে, যেমনিভাবে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে بسم الله দিয়ে শুরু করা হয়ে থাকে। এটাই ইমাম আবূ হানিফা (রহ.) এবং তার অনুসারীগণের মাযহাব এবং এজন্যই তারা নামাযে উচ্চস্বরে بسم الله তিলাওয়াত করেন না। মক্কা ও কুফার ফকীহগণের নিকট এটা সূরা ফাতিহার অংশ ও অন্য সকল সূরার অংশ। ইমাম শাফেয়ী (রা) এবং তার অনুসারীগণ এ মতের উপর রয়েছেন এবং এজন্য তারা নামাযে তা উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করেন।

পাঁচ. মু'তাযিলা মতবাদকে সন্নিবেশিত ও প্রতিষ্ঠিত করণ :
আল্লামা যামাখশারী তার কাশশাফ গ্রন্থে মুতাযিলা মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ গ্রন্থে মু'তাযিলা মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য অনেক স্থানে কুরআনের বাহ্যিক অর্থ (المعنى الظاهر) গ্রহণ করেছেন এবং কোন কোন স্থানে বাহ্যিক অর্থকে পরিত্যাগ করে রূপক অর্থ গ্রহণ করেছেন। মু'তাযিলাগণ নিজেদেরকে اهل العدل والتوحيد (ন্যায় ও একত্ববাদের অনুসারী) দাবি করে থাকেন। আল্লামা যামাখশারী কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় নিজেদেরকে اهل العدل والتوحيد প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন, আল্লাহ তায়ালার বাণী:
شهد الله أنه لا اله إلا هو والملئكة وأولوا العلم قائما بالقسط لا إله إلا هو العزيز الحكيم -
“আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই, ফেরেশতা ও জ্ঞানীবর্গও; আল্লাহ ন্যায়নীতিতে প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। তিনি পরাক্রমশালী, মহাবিজ্ঞ।”

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা যামাখশারী বলেন:
فان قلت : مالمراد بأولى العلم الذين عظمهم هذا التعظيم حيث جمعهم معه و مع الملائكة فى الشهادة على وحدانـيـتـه وعدله؟ قلت : هم الذين يثبتون وحدا نيته وعدله بالحجج الساطعة والبراهين القاطعة وهم علماء العدل والتوحيد -
অর্থাৎ তুমি যদি বল : আয়াতে (اولى العلم) জ্ঞানীগণ বলতে কাদেরকে বুঝানো হয়েছে, যাদের এত মর্যাদা যে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর এবং ফেরেশতাদের সাথে তাদের নাম উল্লেখ করেছেন ন্যায় ও একত্ববাদের সাক্ষ্য দেয়ার জন্য। আমি বলব : তারা হলেন ঐ সকল আলেম যারা অকাট্য দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহর আদল ও একত্ববাদ প্রমাণ করেছেন। আর তারা হলেন আল আদল ওয়াত তাওহীদ এর আলেমগণ।

ছয়. বিভিন্ন প্রকার ক্বিরাতের উল্লেখ :
আল্লামা যামাখশারী তার কাশশাফ গ্রন্থে বিভিন্ন স্থানে ক্বিরাতের বিভিন্ন পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন। আয়াতসমূহের শব্দবিশ্লেষণের পাশাপাশি শব্দটি কত প্রকার ক্বিরাতে তথা উচ্চারণে পড়া যায় তার উল্লেখ করেছেন। ক্বিরাতের বিভিন্ন পার্থক্যের ফলে শব্দের অর্থের ক্ষেত্রে কি পরিবর্তন হবে সেগুলোও বর্ণনা করেছেন।

সাত. জয়ীফ হাদীস দ্বারা দলীল প্রদান :
আল্লামা যামাখশারী কাশশাফ গ্রন্থে বিভিন্ন স্থানে তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে হাদীস উল্লেখ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি সহীহ হাদীসের পাশাপাশি অনেক জয়ীফ ও মওজু হাদীস উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে সূরার ফযিলত বর্ণনার ক্ষেত্রে সূরার শেষে অনেক জয়ীফ ও মওজু হাদীস উল্লেখ করেছেন।

আট. ঈসরাঈলী রেওয়ায়েতের উল্লেখ :
আল্লামা যামাখশারী বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁর তাফসীরে অনেক স্থানে ঈসরাঈলী রেওয়ায়েত থেকে ঘটনা বর্ণনা করেছেন। যেমন, মূসা (আ:) ও ফেরাউন এর ঘটনা বর্ণনার ক্ষেত্রে ঈসরায়েলী রেওয়ায়েতের উল্লেখ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি এর সত্যতা যাচাই বাছাই করেননি।

নয়. নবী ও রাসূলগণের প্রতি অশোভন উক্তি :
আল্লামা যামাখশারী পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে নবী ও রাসূলগণের প্রতি অশোভন উক্তি করেছেন। নবী ও রাসূলগণের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত আয়াত গুলো ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তিনি এ সকল উক্তি করেছেন। যেমন আল্লাহ তায়ালার বাণী:
عفا الله عنك لم أذنت لهم حتى يتبين لك الذين صدقوا وتعلم الكذبين -
“আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করেছেন। আপনি কেন তাদেরকে অনুমতি দিলেন, যে পর্যন্ত না আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে যেত কারা সত্যবাদী এবং আপনি জেনে নিতেন মিথ্যাবাদীদের?"

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা যামাখশারী রাসূল (সা:) এর শানে অশোভন উক্তি করেছেন। আল্লামা যামাখশারী উপরিউক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন:
كناية عن الجناية لان العفوا رادف لها ، ومعناه أخطأت وبئس ما فعلت .
অপরাধের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা ক্ষমা তার স্থলাভিষিক্ত হবে। এর অর্থ হচ্ছে, আপনি ভুল করেছেন, আপনি যা করেছেন তা কতই না নিকৃষ্ট।

দশ. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত সম্পর্কে অশোভনীয় উক্তি :
আল্লামা যামাখশারী তার গ্রন্থের বিভিন্ন জায়গায় মু'তাযিলাদের বিরোধীদেরকে অশোভনীয় ভাষায় আক্রমণ করেছেন। বিশেষ করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতই তাঁর আক্রমণের লক্ষ্যস্থল বলে প্রতীয়মান হয়।

এগার. কুরআনের আয়াত ও সূরা এর ফযিলত বর্ণনা :
আল্লামা যামাখশারী তাঁর প্রণীত তাফসীরে কাশশাফ এর বিভিন্ন স্থানে কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন আয়াত ও সূরা সমূহে ফযিলত বর্ণনা করেছেন। যেমন সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত তথা আয়াতুল কুরসীর এর ফযিলত সম্পর্কে তিনি বর্ণনা করেছেন।

বার. প্রশ্ন ও উত্তরের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করণ :
আল্লামা যামাখশারী, তাফসীরে কাশশাফে আয়াত ও সূরার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। তা হলো প্রশ্ন এবং উত্তরের মাধ্যমে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন। আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে তিনি “যদি তুমি জিজ্ঞেস কর (فأن قلت)” বলে উক্ত আলোচনার সম্ভাব্য প্রশ্নের অবতারণা করেছেন এবং এরপরই তিনি “আমি বলব (قلت)” বলে পূর্বোক্ত প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

তের. আরবী কবিতার উদ্ধৃতি প্রদান : আল্লামা যামাখশারী তার গ্রন্থে বিভিন্ন আয়াত ও সূরার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শব্দের বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কবিতার উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছেন। তিনি শব্দটির ব্যবহার বুঝাতে গিয়ে কবিতার মাধ্যমে দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। পবিত্র কুরআন যেহেতু আরবী ভাষায় নাযিল হয়েছে তাই আরবী শব্দটি তৎকালীন সময়ে আরবগণ কোন অর্থে ব্যবহার করতেন তার প্রমাণ হিসেবে তিনি আরবী কবিতার উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি আরবের প্রাচীন কবি সাহিত্যিকগণের উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছেন।

টিকাঃ
১ (পেজ ৫২). আয যাহাবী, প্রাগুক্ত, ২০শ খণ্ড, পৃ. ১৫২; মুজামুল উদাবা, প্রাগুক্ত ৫ম খণ্ড, পৃ. ৪৯১।
১ (পেজ ৫৩). যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ১।
২. আল কুরআন, সূরা ২ বাকারা, আয়াত-২৩।
৩. আল কুরআন, সুরা ২ বাকারা, আয়াত. ৩২।
১ (পেজ ৫৪). আল কুরআন, সুরা ১৭ আল ইসরা, আয়াত. ৮৮।
২. আল কুরআন সূরা ২ বাকারা, আয়াত, ২৬।
১ (পেজ ৫৫). যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ১১২।
২. যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ১১২।
৩. আল কুরআন, সূরা ৩ আলে ইমরান, আয়াত. ১৮৭।
১ (পেজ ৫৬). যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৫০।
২. আল কুরআন, সূরা ২ বাকারা, আয়াত-২২২।
১ (পেজ ৫৭). আল্লামা যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ১।
১ (পেজ ৫৮). আল কুরআন, সূরা ৩ আলে ইমরান, আয়াত.১৮।
২. আল্লামা যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৪৪।
৩. আল কুরআন, সূরা ৩ আলে ইমরান, আয়াত, ১৯।
১ (পেজ ৫৯). আল্লামা যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৪৫।
২. আল কুরআন, সূরা ৬ আল আন'আম, আয়াত, ১৩৭।
১ (পেজ ৬০). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২ম খণ্ড, পৃ. ৬৯।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ.৪৬০।
৩. ইবনে জাওযি, আল মাওজু'য়াত, উবাই ইবন কা'আব থেকে বর্ণিত, বাবে ফাযায়েল আস সুয়ার ১ম খণ্ড, পৃ. ২৩৯।
৪. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ.৪৬০।
১ (পেজ ৬১). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৩য় খণ্ড, পৃ.১০০।
২. আল কুরআন, সূরা ७ আল আ'রাফ, আয়াত, ১০৭।
১ (পেজ ৬২). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ.১৩৮।
২. আল কুরআন, সূরা ৯ তওবা, আয়াত, ৪৩।
৩. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ.২৭৪।
১ (পেজ ৬৩). আল কুরআন, সূরা ৬৬ তাহরীম, আয়াত, ১।
২. মুফতী মুহাম্মদ শাফী (রহ:), তাফসীরে মা'আরিফুল কুরআন। (মদিনা মোনওয়ারা: খাদেমুল- হারামাইন বাদশাহ ফাহদ কুরআন মুদ্রণ প্রকল্প, অনু. মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, ১৪১৩ হি.), পৃ. ১৩৮৬।
৩. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৪র্থ খণ্ড, পৃ.৫৬৪।
১ (পেজ ৬৪). আল কুরআন, সূরা ১১ হূদ, আয়াত, ৪৬।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ.৪০০।
৩. আল কুরআন, সূরা ৮১ তাকবীর, আয়াত, ১৯-২২।
১ (পেজ ৬৫). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ৪র্থ খণ্ড, পৃ.৭১২।
২. আল কুরআন, সূরা ৩ আলে ইমরান, আয়াত, ১০৫।
১ (পেজ ৬৬). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ.৩৯৯।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩০২-৩০৩।
১ (পেজ ৬৭). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৮১৯।
২. আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৫১০-৫১১।
১ (পেজ ৬৮). আল্লামা যামাখশারী, আল কাশশাফ, প্রাগুক্ত ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৫১০-৫১১।
১ (পেজ ৬৯). আল্লামা যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম, পৃ. ৩।
২. আল্লামা যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম, পৃ. ১৪।
১ (পেজ ৭০). যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৭।
২. আল্লামা যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম, পৃ. ৪। ড. বেলাল হোসেন, প্রাগুক্ত, পৃ. ৯৫।
১ (পেজ ৭১). আল্লামা যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম, পৃ. ৮। ড. মো. বেলাল হোসেন, প্রাগুক্ত, পৃ. ১২৫
২. আল্লামা যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ২।
১ (পেজ ৭২). আল্লামা যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫।
২. আল কুরআন, সুরা ২ আল বাকারা, আয়াত, ১৩৫।
৩. আল্লামা যামাখশারী, প্রাগুক্ত, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৯৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px