📘 মুতাযিলা আকিদা 📄 শিক্ষক মণ্ডলী

📄 শিক্ষক মণ্ডলী


আল্লামা যামাখশারী তাঁর শিক্ষা জীবনে দেশ বিদেশের অনেক আলিম ও পণ্ডিতগণের নিকট হতে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন :

১. আবু মুদার মাহমূদ ইবন জারীর আল দাব্বী আল ইস্পাহানী। তিনি তাঁর যুগের অন্যতম আলেম ছিলেন এবং তিনি আরবী ব্যাকরণ ও সাহিত্যের পণ্ডিত ছিলেন। আল্লামা যামাখশারী তাঁর নিকট হতে আরবী সাহিত্য, আরবী ব্যাকরণ শিক্ষা লাভ করেন। জ্ঞান প্রদানের পাশাপাশি তিনি যামাখশারীকে অর্থনৈতিকভাবেও সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি মু'তাযিলা 'আকীদায় বিশ্বাসী ছিলেন। একমাত্র তাঁরই পৃষ্ঠপোষকতায় খাওয়ারিযমে তৎকালীন সময়ে মুতাযিলী মতবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যামাখশারী তাঁর কাছ থেকে মু'তাযিলা 'আকীদা গ্রহণ করেছিলেন। ৫০৭ হিজরীতে তিনি মারব-এ ইন্তেকাল করেন। যামাখশারী নিজেই স্বীকার করেন যে, তিনি আবু মুদারের কাছে চির ঋণী। এ প্রসঙ্গে তিনি নিজেই বলেন:
وقائله ماهده الدرر التي * تساقطها عينك سمطين
فقلت هو الدر الذى قد حشا * أبو مضر اذني تساقط عيني
“আর তিনি বললেন, তোমার নয়ন দুটি যে ধারায় মুক্তা বর্ষণ করছে, তার কারণ কি? তখন আমি বললাম, আবূ মুদার যে জ্ঞান দ্বারা আমার দুটি কর্ণকে পরিপূর্ণ করেছে, একমাত্র তার কারণেই আমার নয়ন থেকে মুক্তা বর্ষণ করেছে”। যামাখশারীর ত্রিশ বছর বয়সে তাঁর শিক্ষক আবূ মুদার মৃত্যুবরণ করেন। তিনি শোকে কাতর হয়ে তাঁর স্মরণে কবিতা আবৃত্তি করেন :
فقلت لطبعى هات كل ذخيره * فمن أجله مازلت أدخر الذخرا
و ابرز كريمات القوا فى وغـرهـا * فمنه استفد نا العلم و النظم والنثرا -
আমি আমার স্বভাবকে বললাম তোমার (কবিতার) ভাণ্ডার নিয়ে আস। আমি তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে ভাণ্ডারকে পরিপূর্ণ করে দেব। তাঁর সম্মানার্থে আমি কবিতা সমূহকে সন্নিবেশিত করব কেননা আমি তার থেকে জ্ঞান, গদ্য ও পদ্য শিক্ষা লাভ করেছি।

২. আবুলখাত্তাব নসর ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল বাতার আল বাগদাদী। তিনি তৎকালীন সময়ে বিখ্যাত মুহাদ্দিস ছিলেন। যামাখশারী তাঁর কাছ থেকে হাদীস শাস্ত্রে বুৎপত্তি লাভ করেন। তিনি ৩৯৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৯৪ হিজরীতে ৯৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

৩. আবু মানসুর মাওহুব ইবন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-জাওয়ালিকী। তিনি আব্বাসীয় খলিফা মুহাম্মদ ইবনে আল মুসতাহার বিল্লাহ আল মুকতাফা লিআমরিল্লা এর ইমাম ছিলেন। তিনি ছিলেন আরবী ভাষার পণ্ডিত, শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ অভিধান বেত্তা। তিনি সাহিত্যিক হিসেবেই খ্যাতি লাভ করেছিলেন। তিনি মুহাদ্দিস খতীব তিবরিযীর সাহচর্য লাভ করেছিলেন। যামাখশারী তাঁর কাছে ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি ৫৩৩ হিজরীতে জাওয়ালিকীর নিকট থেকে ইজাযাত লাভ করেন। আল যাওয়ালিকি ৪৬৬ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৪০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

৪. আবু সায়াদ আল মুহসিন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কারামাহ আল জাসিমী আল বায়হাকী। তিনি আল হাকিম আল জাসিমী নামে পরিচিত। তিনি একজন আলিম, মুফাসসির এবং কালাম শাস্ত্র ও উসুলিল ফিকহ এর পণ্ডিত ছিলেন। তিনি যায়েদিয়া মু'তাযিলা ছিলেন। তিনি যামাখশারীর তাফসীরের শিক্ষক ছিলেন। তিনি 'আত তাহযীব ফি তাফসীরিল কুরআন' শিরোনামে দশ খণ্ডে সমাপ্ত একটি তাফসীর গ্রন্থ লিখেছেন। তিনি ৪১৩ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৯৪ হিজরীতে মক্কায় ইন্তেকাল করেন।

৫. আব্দুল্লাহ ইবনে তালহা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল ইয়াবিরী। তিনি একজন নাহুবীদ এবং উসূলুল ফিকহ এর পণ্ডিত ছিলেন। মক্কায় অবস্থানকালে আল্লামা যামাখশারী তাঁর নিকট থেকে কিতাবু সিবওয়াহ শিক্ষা গ্রহণ করেন।

৬. আবূ মানসুর নাসর আল হারিছী। তিনি তৎকালীন সময়ে আরবী ভাষা ও সাহিত্য এবং হাদীস শাস্ত্রেও আলিম ছিলেন। যামাখশারী তাঁর নিকট থেকে হাদীস, উসুল বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

৭. আবূ সা'দ আল শাক্কানী।

৮. আবূ 'আলী আল-হাসান ইবন আল মানসুর আল নিশাপূরী। যামাখশারী তাঁর কাছে আরবী সাহিত্য অধ্যয়ন করেন। তিনি খাওয়ারিযমের সমকালীন শ্রেষ্ঠ কবি এবং সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি ৪৪২ হিজরীতে ৪ রমযানে ইন্তেকাল করেন। ইবন আরসালান তাঁর জীবনী গ্রন্থ লিখেছেন।

৯. শায়েখ আসসাদীদ আল খিয়াতি। আল্লামা যামাখশারী তাঁর নিকট থেকে ফিকাহ শাস্ত্র অধ্যায় করেন।

১০. রুকনুদ্দীন ইবনে মুহাম্মদ আল উসূলী। আল্লামা যামাখশারী তাঁর নিকট থেকে ইলমুল উসুল শিক্ষা গ্রহণ করেন।

টিকাঃ
১ (পেজ ২৪). ইবনে খাল্লিকান, ওফাইয়াতুল আইয়ান, প্রাগুক্ত, ৫ম খণ্ড, পৃ. ১৭৩।
২ (পেজ ২৪). আল যামাখশারী, শায়িরান ও য়া কাতিবান, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩০।
৩ (পেজ ২৪). যামাখশারী, মাখতুতু দেওয়ানিল আদাব, প্রাগুক্ত, পৃ.৫৭। কামিল মুহাম্মদ মুহাম্মদ আউয়িদাহ, প্রাগুক্ত: পৃ. ৩৬।
১ (পেজ ২৫). মু'জামুল মুয়াল্লিফীন, ৮ম খণ্ড, পৃ. ১৮৭; কাশফুয যুনূন, পৃ. ৫১৭; ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৪।
২ (পেজ ২৫). তাহলীলী জায়িযাহ, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৫২; আব্বাসিয় খলিফা আল মুকতাফা একজন আলিম, সম্মানিত, দ্বীনদার, ধৈর্যশীল ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ৫৩০ হিজরীতে খিলাফতের দায়িত্ব লাভ করেন এবং ৫৫৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়ায়, ১২ খণ্ড, পৃ. ২৬৯।
৩ (পেজ ২৫). সিয়ারু আ'লামুন নুবালা, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৬; মু'জামুল বুলদান, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৯২; শাযারাতুয যাহাব, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪০২।
৪ (পেজ ২৫). আল্লামা আসসুয়ূতী, তাবাকাতুল মুফাসসীরিন, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩১।
৫ (পেজ ২৫). তালীলী জায়িযাহ, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৫১; ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন প্রাগুক্ত, পৃ. ১৪।
১ (পেজ ২৬). প্রফেসর ফজলুর রহমান, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৪৮।
২ (পেজ ২৬). মিফতাহুস সায়াদাত, ২য় খণ্ড, প্রাগুক্ত, পৃ. ১০০।
৩ (পেজ ২৬). মিফতাহুস সায়াদাত, প্রাগুক্ত, পৃ. ১০০।

📘 মুতাযিলা আকিদা 📄 বিবাহ

📄 বিবাহ


আল্লামা যামাখশারী জ্ঞান অর্জন ও অধ্যবসায়ে জীবনকে অতিবাহিত করেন। তিনি বিবাহ করেননি। পিতা-মাতা ও ভাই-বোনদের নিয়েই তাঁর সাংসারিক জীবন সীমাবদ্ধ ছিল। আল্লামা যামাখশারীর পিতা অর্থনৈতিকভাবে খুব বেশি সচ্ছল ছিলেন না। তাঁর ভাই-বোনের সংখ্যা বেশি ছিল বিধায় সাংসারিক অর্থসংকটে তিনি জীবন অতিবাহিত করেন। এ জন্যই আমরা দেখতে পাই তিনি কর্মজীবনে একটি সরকারি পদ লাভের জন্য সচেষ্ট ছিলেন। যদিও তিনি তা লাভ করতে পারেননি।

জ্ঞান সাধনা, জ্ঞান অর্জনের জন্য বিভিন্ন স্থানে সফর এবং দেশবিদেশের বিভিন্ন উস্তাদগণ এর সান্নিধ্যে সময় অতিবাহিত করার মধ্যেই তিনি জীবনের সার্থকতা খুঁজে পেয়েছেন এবং বিবাহ করার প্রয়োজনবোধ করেননি। এ বিষয়ে তিনি একটি কবিতায় বলেন,
رأيت أبا يشقى لتربية ابنه ويسعى لكن يدعى مكبا ومنجبا
أخو شقوة مازال مركب طفله فأصبح ذاك الطفل للناس مركبا
لذاك تركت النسل واخترت سيرة مسيحية أحسن بذلك مذهبا
“আমি আমার পিতাকে দেখেছি, তিনি তার সন্তানের লালন-পালনের জন্য নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তিনি তাদের জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা রত, নিবেদিত এবং অনেক সন্তানের জনক। আমার ভাইকে দেখেছি, দুর্ভাগা হিসেবে তার শিশুকাল অতিবাহিত করতে। অতঃপর এ শিশুটি হয়ে গেল, মানুষের জন্য ভিন্ন চরিত্রের অধিকারী। এ জন্যই আমি সংসার ত্যাগ করেছি এবং ঈসা (আ:) এর আদর্শকে পছন্দ করেছি, যা অতি উত্তম পন্থা।”

আল্লামা যামাখশারী আরো বলেন- لا تخطب المرأة لحـسـنــا ولـكـن لـحـصـنـها فإن اجتمع الحصن والجبال فذاك هو الكمال وأكـمـلـهـن ذلك أن تعيش حصوراً وإن عمرت عصورا -
"তুমি কোন মহিলার প্রতি তার সৌন্দর্যের কারণে তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিবে না বরং তার সততার জন্য তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিবে। আর যদি তুমি সৌন্দর্য এবং সততা এক সাথে পাও, সেটা হবে তোমার জন্য পূর্ণতা। আরও অধিক পূর্ণতা হবে যদি তুমি নিস্পৃহ (নারীদের সঙ্গ থেকে বিরত) থাক। যদিও তুমি অনেক দিন বেঁচে থাক।

আল্লামা যামাখশারী বিবাহ না করার ক্ষেত্রে জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ও সাধনা তাঁকে উৎসাহিত করেছে। আরো একটি কারণ হতে পারে, তিনি তাঁর পিতাকে অর্থসংকটের মধ্য দিয়ে সংসারের দায়িত্ব পালন করতে দেখেছেন। কেননা তাঁর অনেক ভাই-বোন ছিল এবং খুব বেশি সাচ্ছন্দে তারা জীবনকে অতিবাহিত করেননি। এছাড়া আল্লামা যামাখশারী একটি পা হারিয়েছিলেন। তাঁর পা কেটে ফেলতে হয়েছিল এবং তিনি তার পরিবর্তে একটি কাঠের পা ব্যবহার করতেন। এটাও তাঁর বিবাহ না করার কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে এ কারণে তাঁর জীবনে কোন হতাশা বা দুঃখবোধ লক্ষ্য করা যায়নি এবং তা তাঁর শিক্ষা জীবনকে আরও গতিশীল করেছে।

টিকাঃ
১. মাখতুত দেওয়ানুল আদব, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৮।
২. আল্লামা যামাখশারী, কিতাবু আতওয়াকুয যাহাব ফীল মাওয়ায়িযি ওয়াল খুতাব, (মাতবা'আতু আস সা'আদা, ১৩২৮হি. পৃ. ১০৭; কামিল মুহাম্ম মুহাম্মদ আওয়্যিদাহ, প্রাগুক্ত, পৃ.৫৬।
৩. কামিল মুহাম্ম মুহাম্মদ আওয়্যিদাহ, প্রাগুক্ত, পৃ.৫৬-৫৭।

📘 মুতাযিলা আকিদা 📄 কর্ম জীবন

📄 কর্ম জীবন


আল্লামা যামাখশারী শিক্ষা জীবনের পর তিনি শিক্ষাদান ও সাহিত্য সাধনা ও তাফসীর চর্চায় তাঁর জীবনকে অতিবাহিত করেন। তিনি ছিলেন একজন পরহেজগার ও এবাদতগুজার ব্যক্তি। তিনি সারা জীবন ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে যেমন: তাফসীর, হাদীস, ফিকহ, অলংকার শাস্ত্র, উসূল, যুক্তি বিদ্যা, কবিতা ও সাহিত্য ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান চর্চা ও গ্রন্থ প্রণয়ন এবং ছাত্রদেরকে শিক্ষাদানের মাধ্যমে তাঁর জীবনকে অতিবাহিত করেন।

যামাখশারীর মধ্যে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি সরকারী দপ্তরে উচ্চ পদ লাভের ইচ্ছা ছিল। তাই তিনি বুখারা হতে দেশে ফিরে এসে সুলতান মালিক শাহের প্রধান উযীর নিযামুল মুলকের শরণাপন্ন হন। যামাখশারী নিযামুল মুলকের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সরকারী দপ্তরের উচ্চ পদে একটি চাকুরী প্রদানের জন্য তাঁকে অনুরোধ করেন। তিনি নিযামুল মুলকের প্রশংসায় কবিতা লিখেন :
إليك ريب الملك أشكر أنعما ليمناك هطالا على ربابها
ودائمة مني لك الدعوة التي تجوب السماوات العلى مستجابها
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত: তাঁর এ অনুরোধ বিবেচনা করা হয়নি। এতে তিনি নিজকে খুবই অপমানিতবোধ করেন এবং মর্মাহত হন। তাঁর এ গ্লানি দূর করার জন্য তিনি দেশ ত্যাগ করে খুরাসান গমনের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি দুঃখ, কষ্ট ও গ্লানি নিয়ে আরও একটি কবিতা লিখেন:
خليلي هل تجدى على فضائل إذا أنا لم أرفع على كل جاهল
“হে আমার বন্ধু! তুমি আমার ওপর কাউকে মর্যদাবান পেয়েছ? অথচ আমি মূর্খদের অবস্থান থেকে উর্ধ্বে উঠতে পারিনি”।

খুরাসান অবস্থানকালে তিনি অনেক সরকারী কর্মকর্তার সংস্পর্শে আসেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মুজীব আল দৌলা আবূ আল ফাতহ আলী ইবন হুসাইন আল-আরতাসতানী এবং মুয়াইয়িদ আল-মুলক 'উবাউদুল্লাহ ইবন নিযামুল মুলক। যামাখশারী এখানেও একটি সরকারী চাকুরী লাভের প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। আল্লামা যামাখশারী 'মুয়াইয়িদ আল-মুলক 'উবাউদুল্লাহ ইবন নিযামুল মুলক এর নিকট গমণ এবং সরকারি একটি পদ লাভের জন্য আবেদন করেন এবং এ বিষয়ে একটি কবিতা লিখেন:
فلا ترضى يا صدر الكفاة بأن ترى أعالي قوم الحقوا باسافل
ولا تجعلوني مثل همزة واصل فيسقطني حذف ولا راء واصل
فكل امرىء اماله عدد الحصى وهات نظيري في جميع المحافل
“হে মর্যাদার অধিকারী আমার উপর অসন্তুষ্ট হবেন না, আপনি দেখতে পাচ্ছেন না আমার জাতির পিছনের লোকেরা আমার চেয়েও উচ্চ মর্যাদায় আসীন। আমাকে হামযা ওয়াসেল এর মত রাখবেন না। যাতে আমাকে পিছন থেকে ছেটে ফেলা যায়। প্রত্যেক ব্যক্তি তার অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়েই থাকে। আমার এ অবস্থা সকল মাহফিলেই!”

খুরাসানে সরকারী পদ লাভে ব্যর্থ হয়ে তিনি সেলজুকদের রাজধানী ইস্পাহানে গমন করেন। এখানে এসে তিনি সুলতান মালিক শাহ ও তার উত্তরাধিকারী সানজারের প্রশংসা গাঁথা রচনা করেন। তিনি বলেন:
محمد بن أبي الفتح الذي تركت
أوصاف لكتبة في كل منطيق
ابن السلاطين من أبناء سلجوق
وابن الغطارف منهم والغرانيق

৫১২ হিজরিতে আল্লামা যামাখশারী কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। ফলে তিনি সরকারী চাকুরীর ইচ্ছা পরিহার করেন এবং বাকী জীবন শিক্ষাদান ও সাহিত্য সাধনায় কাটিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং আল্লাহর কাছে প্রতিজ্ঞা করেন যে, আল্লাহ যদি তাঁকে এ রোগ থেকে মুক্তি দান করেন তাহলে তিনি আর কোন বাদশাহী পদ এর আকাঙ্ক্ষা করবেন না এবং আর রাজা বাদশার প্রশংসা গাথা রচনা করবেন না।

অতঃপর আল্লামা যামাখশারী আল্লাহর রহমতে রোগ থেকে মুক্তি পান এবং মুক্তির পর তিনি কিছুদিন বাগদাদে অবস্থান করেন। তিনি বাকী সময়টুকু মক্কা ভূমিতে অতিবাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে মক্কায় গমন করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
والله أكبر رحمة والله أكثر * نعمة وهو الكريم القادر
وأحق ما يشكو ابن ادم ذنبه * وأحق من يشكو إليه الغافر
فعسى المليك بفضله وبطوله * يكسو لباس البر من هو فاجر
يا من يسافر في البلاد منقبا * إني إلى البلد الحরাম مسافر
إن هاجر الإنسان عن أوطانه * فالله أولى من إليه يهاجر
وتجارة الأبرار تلك ومن يبع * بالدين دنياه فنعم التاجر

আল্লাহ মহান এবং অনুগ্রহশীল আল্লাহ অধিক নিয়ামত দাতা এবং তিনি হলেন শক্তিশালী ও মহান। আদমের সন্তান তাদের গুনাহ মাফের জন্য অভিযোগ করার ক্ষেত্রে তিনিই অধিক হকদার। আশা করছি, আল্লাহ মালিক তার অনুগ্রহ ও বদান্যতা দ্বারা পাপাচারিকে পূণ্যের পোশাক পরিয়ে দিবেন। পবিত্র ভূমির দিকে গমনকারী হে মুসাফির! আমিও পূণ্য ভূমি মক্কা শহরের উদ্দেশ্যে সফরকারী। কোন ব্যক্তি যদি তার নিজ জন্মভূমির থেকে হিজরত করে তাহলে আল্লাহই অধিক যোগ্য তাঁর দিকে হিজরত করার জন্য। এটাই পূণ্যবানদের ব্যবসা, যারা দুনিয়ার বিনিময়ে দ্বীনকে ক্রয় করে নিয়েছেন: তারা কতই না উত্তম ব্যবসায়ী।

মক্কায় দু'বছর অবস্থানের পর তিনি মাতৃভূমির টানে খাওয়ারিযমের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দেশে ফেরার পর তিনি তৎকালীন খাওয়ারিযমের শাহ মুহাম্মদ ও তাঁর পুত্র আতসীজের প্রশংসা গাঁথা রচনা করেন। কিন্তু এতেও কোন ফল হয়নি। দারুণভাবে মর্মাহত হয়ে তিনি আবার মক্কায় গমনের সিদ্ধান্ত নেন। ৫২৬ হিজরীতে তিনি মক্কায় গমন করেন। মক্কায় তিন বছর অবস্থান করার পর পুনরায় তিনি স্বদেশে ফিরে আসেন এবং আমৃত্যু এখানেই অবস্থান করেন। তিনি কবিতার মাধ্যমে বলেন:
أحب بلاد الله شرقا وغربا * إلي التي فيها غذيت وليدا
ولكن تواسي بالكرامة غيرها * وهذي أرى فيها الهوان عتيدا

আমি পূর্ব পশ্চিমে আল্লাহর জমিনকে ভালোবাসি এবং আমি আমার মাতৃভূমিকেও ভালোবাসি যেখানে আমি ছোট থেকেও বড় হয়েছি। কিন্তু আমি আমার মাতৃভূমিকে বাদ দিয়ে অন্য স্থানে সম্মান ও মর্যাদা খুঁজেছি এবং আমি সেথায় অসম্মান দেখেছি।

টিকাঃ
১ (পেজ ২৮). কামিল মুহাম্মদ মুহাম্মদ আওয়িদাহ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪০; দিওয়ানুল আদব, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৩
২ (পেজ ২৮). প্রফেসর ফজলুর রহমান, প্রাগুক্ত, পৃ. ১২৭।
৩ (পেজ ২৮). কামিল মুহাম্মদ মুহাম্মদ আওয়িদাহ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪১; দিওয়ানুল আদব, প্রাগুক্ত, পৃ. ৬৫।
১ (পেজ ২৯). Lufi Ibrahim," Al-Zamakhshari : His life and works, Islamic Studies, Vol-ixix No-1 (Pakistan : the Islamic Research institute, 1969), p.98.
২ (পেজ ২৯). কামিল মুহাম্মদ মুহাম্মদ আওয়িদাহ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪২; দিওয়ানি আদাব, প্রাগুক্ত, পৃ. ৯৫।
৩ (পেজ ২৯). কামিল মুহাম্মদ মুহাম্মদ আওয়িদাহ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৫; দিওয়ানি আদাব, প্রাগুক্ত, পৃ. ৮৬।
১ (পেজ ৩০). কামিল মুহাম্মদ মুহাম্মদ আওয়িদাহ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৫; তাহলীলী জায়িযাহ প্রাগু, পৃ. ১৩০।
১ (পেজ ৩১). কামিল মুহাম্মদ মুহাম্মদ আওয়িদাহ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৬; দিওয়ানি আদাব, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৩।
২ (পেজ ৩১). ড. মুজিবুর রহমান, আল্লামা যামাখশারী (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৪০০হিঃ/১৯৮০) পৃ. ১১; যাহাবী, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৫২; Lutfi Ibrahim, Ibid. p. 100.
৩ (পেজ ৩১). কামিল মুহাম্মদ মুহাম্মদ আওয়িদাহ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪২; দিওয়ানি আদাব, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৭।

📘 মুতাযিলা আকিদা 📄 ইন্তেকাল

📄 ইন্তেকাল


৫১২ হিজরিতে আল্লামা যামাখশারী কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। ফলে তিনি সরকারী চাকুরীর ইচ্ছা পরিহার করেন এবং বাকী জীবন শিক্ষাদান ও সাহিত্য সাধনায় কাটিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং আল্লাহর কাছে প্রতিজ্ঞা করেন, যে আল্লাহ যদি তাঁকে এ রোগ থেকে মুক্তি দান করেন তাহলে তিনি আর কোন বাদশাহী পদ এর আকাঙ্ক্ষা করবেন না এবং আর রাজা বাদশার প্রশংসা গাথা রচনা করবেন না।

অতঃপর আল্লামা যামাখশারী আল্লাহর রহমতে রোগ থেকে মুক্তি পান এবং মুক্তির পর তিনি কিছুদিন বাগদাদে অবস্থান করেন। তিনি বাকী সময়টুকু মক্কায় দু'বছর অবস্থানের পর মাতৃভূমির টানে খাওয়ারিযমের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ৫২৬ হিজরীতে তিনি মক্কায় গমন করেন। মক্কায় তিন বছর অবস্থান করার পর পুনরায় তিনি স্বদেশে ফিরে আসেন এবং আমৃত্যু এখানেই অবস্থান করেন।

আল্লামা যামাখশারী মক্কা হতে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের পর ৫৩৮ হিজরীর আরাফাতের রাতে খাওয়ারিযমের জিননুন নদীর তীরবর্তী জুরজানিয়া নামক গ্রামে ইন্তেকাল করেন। জুরজানিয়াতেই তাঁকে দাফন করা হয়।

টিকাঃ
১. কামিল মুহাম্মদ মুহাম্মদ আওয়িদাহ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৫; ইবনে খাল্লিকান প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড পৃ. ১০৭
২. কামিল মুহাম্মদ মুহাম্মদ আওয়িদাহ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৬; ইবনুল মুনির, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px