📄 আল্লামা যামাখশারী ও সমকালীন পরিবেশ
আল্লামা যামাখশারী ছিলেন তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত, বড় আলিম, সাহিত্যিক এবং মুফাসসীর। তাঁর সময়কাল ছিল ৪৬৭ হি./১০৭৫ খ্রি. থেকে ৫৩৮ হি./১১৪৪ খ্রি. পর্যন্ত। তাঁর এ সমসাময়িক কালে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন বংশের শাসন চলছিল। আব্বাসীয়, গজনবী (৩৫১-৫৮২ হি.), বুওয়াইহী (৩৩৪-৪৪৭ হি.), ফাতেমীয় (২৯৭-৫৬৭ হি.) ও সেলজুকী (৪২৯-৫২২ হি.) শাসন এর মধ্যে অন্যতম। আব্বাসীয় শাসন আরব ও আফ্রিকা এলাকায় বিস্তৃত ছিল। গজনবী শাসন খুরাসান ও ভারতবর্ষে প্রভাব বিস্তার করেছিল। ফাতেমীয় শাসন মিসর ও উত্তর আফ্রিকায় বিস্তৃত ছিল। সে সময় পারস্যে সেলজুকী সুলতান মালিক শাহের (৪৬৫-৪৮৫ হি.) শাসনামল চলছিল।
সেলজুকী বংশের শাসন:
মধ্যযুগের ইসলামের ইতিহাসে তুর্কী সেলজুকীদের আবির্ভাবের ফলে আব্বাসীয় খেলাফতে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়। তাদের শাসনকার্য পূর্ব দিক থেকে পশ্চিমে ফারগানা, খাওয়ারিযম থেকে আনাতোলিয়া, সিরিয়া এবং হেজাজ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সেলজুকীদের আবির্ভাবের ফলে ইসলামী ভূখণ্ডসমূহে অনেক ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন সূচিত হয়। বাগদাদের আব্বাসীয় খলীফাগণের কর্তৃত্ব শী'আপন্থী বুওয়াইহীগণের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্তৃত্বের দ্বারা প্রভাবিত হয়।
আব্বাসীয় শাসন আমলেই এ বংশের পূর্ব পুরুষ সেলজুকী নাম অনুসারেই এ বংশের নামকরণ করা হয়। খ্রিষ্টীয় দশম শতকে এ বংশ বুখারায় বসতি স্থাপন করে। সেলজুকীর পৌত্র তুঘরীল বেগ সুলতান উপাধি গ্রহণ করেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই খোরাসান, নিশাপুর, মার্ভ, বলখ, জুরজান, তাবারিস্তান, খাওয়ারিযম (৪৩৪ হি.), হামদান, রায় ও ইস্পাহান তাদের অধীনস্থ এলাকায় পরিণত হয়। ৪৪৭ হিজরীতে বাগদাদও তাদের অধীনে চলে আসে। আব্বাসীয় খেলাফতের দুর্বলতার সুযোগে সেলজুকীগণ দশম শতাব্দীর শেষ দিকে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের দক্ষিণে এন্টিয়ক ও পূর্বে আর্মেনিয়া পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করেন।
৪৫৫ হিজরীতে তুঘরিল বেগ মৃত্যুবরণ করলে তার ভাতিজা আল্প আরসালান সেলজুকী সালতানাতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে জর্জিয়া, সাইলেসিয়া, মেলিদেনো এলাকা সেলজুকীদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। ৪৬৫ হিজরীতে আল্প আরসালান এর মৃত্যুর পর তার পুত্র মালিক শাহ সেলজুকী সালতানাতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সেলজুকী সেনাবাহিনীর বড় বড় সেনাপতিগণ এবং আল্প আরসালানের উযীর নিজামুল-মুলক তার শাসনাধীন রাজ্যসমূহের নতুন শাসক শ্রেণির স্বার্থরক্ষার জন্য সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যবস্থা হিসেবে একটি শক্তিশালী শাসন পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করেন। তার দশ বছরের (৪৫৫-৪৬৫ হি.) শাসন আমল এবং তার পুত্র ও উত্তরাধিকারী আবুল ফাতাহ মালিক শাহ এর বিশ বছরের শাসন আমল (৪৬৫-৪৮৫ হি.) সেলজুকী সালতানাতের স্বর্ণযুগ বলে বিবেচনা করা হয়। উভয়ই তাদের শাসনাধীন সময়ে তাদের রাজ্যের ব্যাপক উন্নয়ন করেন।
সুলতান আবুল ফাতাহ মালিক শাহ এর প্রধান উযীর ছিলেন নিজামুল-মুলক। নিজামুল মুলক একজন আলিম ও পণ্ডিত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁরই পৃষ্ঠপোষকতায় তৎকালীন সময়ে বড় বড় বিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে লুতফী ইবরাহীম বলেন, "He established many institutions for higher learning. Therefore, it is not surprising that khawarizam become the centre of learning for many countries".
রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নে এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমে নিজামুল-মুলক এর অবদান এত বিস্তৃত ছিল যে, ঐতিহাসিক ইবনুল আছির তার সময়কালকে আদ দাওলা আন নিজামিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করতেন।
সেলজুকী বংশের শাসন আমলের স্বর্ণযুগ দীর্ঘদিন স্থায়ী ছিল না। সুলতান মালিক শাহ এর মৃত্যুর পর ক্ষমতার বণ্টন নিয়ে তাঁর ছেলেদের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়। এ বংশের খলীফাগণও যথাযথ ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে পারতেন না। তারা ছিলেন সুলতানগণের পুতুল শাসকের মত। ফলে কেন্দ্রীয় খেলাফতের অধীনে ছোট ছোট রাজ্যের উদ্ভব হয় এবং আমীর ও খলীফাগণের মধ্যে মতবিরোধ বৃদ্ধি পায়। এ কারণে খেলাফতের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা বিস্তার লাভ করে।
এ শাসন আমলেই আলেমগণের মধ্যে দুটি ভাগ লক্ষ্য করা যায়। কিছু সংখ্যক আলেম রাজ্যের খলিফা ও আমীরগণের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তারা রাজ্যের বিভিন্ন পদ ও পদবিতে ভূষিত হতেন। অপরদিকে অনেক আলেম ছিলেন যারা জ্ঞান অর্জন, শিক্ষাদান ও কিতাব রচনায় অধিক মনোযোগী ছিলেন।
আল্লামা যামাখশারীর আগমনকালীন সময়ে জ্ঞান বিজ্ঞান, সাহিত্য, ইসলামী সংস্কৃতি এর ব্যাপক প্রভাব বিদ্যমান ছিল এবং তৎকালীন সময়ে প্রধান উযীর নিজামুল মুলক এর পৃষ্ঠপোষকতায় অনেক সংখ্যক ইসলামী প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। ঐ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাফসীর, হাদীস, ইলমুল কালাম, ইলমুন নাহু, আরবী সাহিত্যসহ বিভিন্ন ইসলামী বিষয়ে শিক্ষাদান করা হতো। তৎকালীন সময়ে খাওয়ারিযম ইসলামী শিক্ষার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
খাওয়ারিযম তৎকালীন সময়ে ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞানের কেন্দ্রে পরিণত হলেও সেখানকার আলেমগণের মধ্যে মু'তাযিলা আকীদার প্রভাব বিদ্যমান ছিল। খাওয়ারিযমের বড় বড় আলেমগণ তাদের পাণ্ডিত্যের কারণে সমকালীন যুগে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। এ শহরটি বড় বড় আলেম এবং অনেক সংখ্যক জ্ঞানীগুণী ছাত্রের জন্ম দিয়েছে। বড় বড় সকল আলেমগণই মু'তাযিলা আকীদায় বিশ্বাসী ছিলেন। এমন কোন আলেম ছিলেন না যারা মু'তাযিলা নন। মু'তাযিলা ব্যতীত আলেম এর সংখ্যা ছিল বিরল। এজন্যই আমরা আল্লামা যামাখশারীর জীবনে মু'তাযিলা আকীদার প্রচণ্ড প্রভাব দেখতে পাই। কেননা তাঁর প্রথম দিকের বড় বড় আলেমগণের সকলেই মু'তাযিলা আকীদায় বিশ্বাসী ছিলেন।
টিকাঃ
১. 'আব্দুর রহমান আস-সাম'আনী, আল-আনসাব, (বৈরূত: দারুল ফিকর, ১৪১৯হি./১৯৯৮ খ্রী.), ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ২৯৭; ইবনুল আছীর, আল-কামিল ফিত তারীখ, (বৈরূত: দারুল কুতুবিল 'আরাবী, তা.বি.), ১১শ খণ্ড, পৃ. ৯৭; হাফেজ ইবন কাছীর আদদামিশকী, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, (কায়রো: দারুল রাইয়্যান লিত-তুরাছ, ১৪০৮ হি./১৯৮৮ খ্রী.), ১২শ খণ্ড, পৃ. ২৩৫; ইবনুল 'ইমাদ আল-হাম্বলী, শাযারাতুয-যাহাব, (বৈরূত: দারুল ফিকর, তা. বি.), ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১২১।
২. মাহমূদ শাকির, আত-তারীখুল ইসলামী, (বৈরূত: আল-মাকতাবুল ইসলামী, ১৪১১ হি./১৯৯১ খ্রী.), ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ১৭১; মুহাম্মাদ খাদারী বেক, তারীখুল উমামিল ইসলামিয়্যাহ, (মিসর: দারুল ফিকর আল-'আরাবী, তা.বি), পৃ. ৩৯৩; ইবনুল জাওযী, আল-মুন্তাযাম ফী তারীখিল মুলুকি ওয়াল উমাম, (বৈরূত : দারুল কুতুবিল 'ইলমিয়্যাহ, তা.বি.), ১৪শ খণ্ড, পৃ. ২২৫; জালালুদ্দীন আস- সুয়ূতী, তারীখুল খুলাফা (দেওবন্দ : আল-মাকতাবাতুত থানবী, ১৯৯৬.), পৃ. ৩২৫-৩২৯; খায়রুদ্দীন যিরিকলী, আল-আ'লাম, (বৈরূত: দারুল 'ইলম লিল মালায়ী, ১২শ মুদ্রণ, ১৯৯৭ খ্রী.), ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৫৩।
৩. নজরুল হাফিজ নদভী, আল যামাখশারী শা'রিয়ান ওয়া কাতিবান, (মিশর : আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ১৪০২ হি./১৯৮২ খ্রী.), পৃ, ৪; তাশ কুবরা জাদাহ, মিফতাহ আল সা'আদাহ, (বৈরূত : দার আল কুতুব আল ইলমীয়্যাহ, ১৪০৫ হি./১৯৮৫ খ্রী.), পৃ. ৭।
৪. ইসলামী বিশ্বকোষ, (ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রী.), ২৪শ খণ্ড ২য় ভাগ, পৃ. ৫; আহমাদ শান্তানাভী ও অন্যান্য, দায়িরাতুল মা'আরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ, (তারীখ ও স্থানের নাম বিহীন), ৯ম খণ্ড, পৃ. ৭১৬।
৫. ইসলামী বিশ্বকোষ, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৩; আহমাদ শান্তানাভী, প্রাগুক্ত।
৬. ইসলামী বিশ্বকোষ, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৬; খাদারী বেক, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪১৬; হাসান ইবরাহীম, প্রাগুক্ত, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ২৯
৭. Lufi Ibrahim," Al-Zamakhshari: His life and works, Islamic Studies, Vol-ixix No-1(Pakistan: the Islamic Research institute, 1969), p. 95.
৮. Philip K. Hitti, History of the Arabs (London: Macmillan & Co. LTD. 1961), P. 476.
৯. মুহাম্মাদ আব্দুল হাদী আবু রাইদাহ, আল হিদারাতুল ইসলামিয়্যাহ (বৈরূত : দারুল কিতাব আল- আরাবী, ৪র্থ সংস্করণ, ১৩৮৭ হি.), ২য় খণ্ড, পৃ. ১৫৮।
১০. শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল মাকদিসী, আহসানুত তাকাসীম ফী মা'রিফাতিল আকালীম, (বৈরূত: দারুস সাদর, ২য় সংস্করণ, ১৯০৯ খ্রী.), পৃ. ৩৯৫।
📄 নাম ও বংশ পরিচয়
মাহমূদ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-খাওয়ারিযমী আল-যামাখশারী। তাঁর উপনাম হচ্ছে আবুল কাশেম, উপাধি জারুল্লাহ এবং নিসবতী নাম যামাখশারী ও খাওয়ারিযমী। তাঁর পিতার নাম উমর ইবনে মুহাম্মদ। তাঁর বংশক্রম হল- আবুল কাসিম মাহমুদ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে আহমাদ আল খাওয়ারিযমী আল যামাখশারী।
খাওয়ারিযমের অন্তর্গত 'যামাখশার' নামক গ্রামে তিনি জন্ম লাভ করেন বলে তাঁকে আল খাওয়ারিযমী ও আল যামাখশারীও বলা হয়। পবিত্র মক্কা নগরীতে বাইতুল্লাহর সন্নিকটে তাঁর দীর্ঘ সময় অবস্থান করার কারণে তাঁকে جار الله বা আল্লাহর প্রতিবেশী উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং পরবর্তীকালে তিনি এ উপাধিতে খ্যাতি লাভ করেন। আল্লামা যামাখশারী পারস্যের খাওয়ারিযমের অন্তর্গত যামাখশার নামক পল্লীতে ৪৬৭ হিজরী ২৭ রজব/ ৮মার্চ, ১০৭৫ খ্রিষ্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
টিকাঃ
১. মাওলানা আব্দুল হাই লাখনুবী, আল ফাওয়ায়িদ আল বাহীয়্যাহ ফী তারাজিম আল হানাফীয়্যাহ (করাচী : মাকতবাহ খাইর কাছীর, তা: বি) পৃ: ২০৯; হাজী খলীফা, আল-কাশফ আল যুনুন, (বৈরূত: দার আল ফিকর, ১৪০২হিঃ/১৯৮২) ২য় খণ্ড, পৃঃ ১৪৭০। ইমাম আযযাহাবী, সীয়ারু আ'লাম আল নুবালা, (বৈরূত: মুয়াসাসাহ আল রিসালাহ, ১৪০৬ হিঃ/১৯৮৬), ২০শ খণ্ড, পৃ. ১৫১-১৫২,; প্রফেসর ফজলুর রহমান, যামাখশারী কী তাফসীর আল কাশশাফ এক তাহলীলী (আলীগড় : আলীগড় মুসলিম ইউনিভাসিটি প্রেস, ১৯৮৬), পৃ. ১২২; উমর ফাররুখ, তারীখ আল আদাব আল আরাবী (বৈরূত : দার আল'ইলম লিল মালায়িন, ১৯৬৯), পৃ. ২৭৭। ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন ও ড. মো: নিজাম উদ্দীন, তাইসীরুল কাশশাফ (ঢাকা: এদারাযে কুরআন, ১৪১৮হিঃ/১৯৮৮) পৃ. ৮।
২. জুরজী যায়দান, তারীখ আদাব আল লুগাহ আল আরাবীয়্যাহ (বৈরূত: দ্বার মাকতাবাহ হায়াত, ১৯৮৩), পৃ.৪৭; উমর ফাররুখ, প্রাগুক্ত, পৃ. ২৭৭।
৩. ইবন কুনফুয আল কুসানতিণী, আল-ওফাইয়াত, (বৈরূত: দার আল আফাক আল জাদীদাহ ১৪০০হিঃ/১৯৮০), পৃঃ২৭৮।
৪. উমর ফাররুখ, প্রাগুক্ত, পৃ. ২৭৭; জুরজী যায়দান, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৭।
📄 পরিবার
যামাখশারীর পিতা উমর একজন ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন। জন্মের পর যামাখশারী ধর্মীয় পরিবেশেই লালিত পালিত হন। তাঁর পরিবার একটি দ্বীনী পরিবার হিসেবে তৎকালীন সময়ে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। ধার্মিক পিতামাতার স্নেহ মমতায় তাঁর শৈশবকাল অতিবাহিত হয়। সে সময় পারস্যে সেলজুকী সুলতান মালিক শাহের শাসনামল চলছিল।
যামাখশারীর পিতা উমর এর ধর্মপরায়ণতা খাওয়ারিযমের সাধারণ মানুষের মধ্যে সুপ্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। আল্লামা যামাখশারী নিজেই স্বীয় পিতা সম্পর্কে বলেন: فقدته فاضـلا فـاضـت مـا ثره * العلم والادব الماثور والورع 'গৌরব উজ্জ্বল অবস্থায় আমি তাঁকে হারিয়েছি। জ্ঞান, শিষ্টাচার এবং খোদাভীতিতে তাঁর কৃতিত্ব ছড়িয়ে আছে।
আল্লামা যামাখশারীর পিতা উমর একজন তাকওয়াবান পরহেজগার লোক ছিলেন। এর প্রসঙ্গে নজরুল হাফিজ নদভী বলেন: ووالده الفاضل الذي لم يكن عالما فحسب بل كان قائم اليل وصائم النهار يخشى الله في السر والعلن - তাঁর সম্মানিত পিতা শুধু একজন আলিমই ছিলেন না বরং তিনি রাত্রি জাগরণ করে নামাজ আদায় করতেন। দিনে রোজা রাখতেন এবং প্রকাশ্য ও গোপন উভয় অবস্থায় আল্লাহকে ভয় করতেন।
যামাখশারীর পিতা উমর ইবনে মুহাম্মদ তৎকালীন শাসক মুয়াইয়িদ আল মুলক উবায়দুল্লাহ (মৃ. ৪৯৪ হি.) কর্তৃক বন্দী হয়েছিলেন। পিতার মুক্তির জন্য তিনি অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তিনি তাঁর পিতার উদ্দেশ্যে কবিতা রচনা করেন:
أكفأ الكُفاةِ مُؤيدُ الملك الذي * خضع الزمان لعزه وجلاله
إرحم أبى لشبابه ولفضله * وارحمه للضعفاء من أطفاله
إرحم أسيراً لو راه من العدى * أقساهم قلبا لرق لحاله
ما أطول الليل الذي يفنيه في * سهر وأطول منه ليل عياله
আমি মুয়াইয়িদ আল মুলক এর নিকট আমার যথার্থ ও উপযুক্ত আবেদন করছি যিনি তার সম্মান ও মহিমায় যুগকে বশীভূত করেছেন। আমার পিতার উপর অনুগ্রহ করুন তার যৌবন ও বদান্যতার জন্য এবং তার দুর্বল সন্তানদের জন্য অনুগ্রহ করুন। বন্দির প্রতি অনুগ্রহ করুন যদিও তাকে শত্রু মনে হয়, তাদের অন্তর শক্ত হয়ে গিয়েছে তার অবস্থার জন্য।
অবশেষে তাঁর পিতা কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি কি জন্য বন্দী হয়েছিলেন তার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে খুব সম্ভবত: তিনি রাজনৈতিক কারণে বন্দি হয়েছিলেন। যামাখশারী তখন যুবক ছিলেন এবং জ্ঞান অন্বেষণে ব্রত ছিলেন। তাঁর পিতার মৃত্যুকালীন সময়ে যামাখশারী অনেক দূরে অবস্থান করেছিলেন। পিতার মৃত্যু তাঁর পরবর্তী জীবনকে খুবই প্রভাবিত করেছিল। পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার স্মরণে একটি কবিতা লিখেন-
يا حسرتا أنني لم أرو غـلـتـه * وغـلـتـي بـزمـان فيـه نـجـتـمـع
قد كنت أشكو فـراقـا قـبـল মـنـقـطـعـا * وكـيـف لـي بـعـده بـالـعـيـش مـنـتـفـع
হায় আফসোস! আমি তার ফল ফসলকে দেখে যেতে পারলাম না; আর এ সময়ে আমি আমার ফসলগুলো জমা করেছি। তাকে বিদায় দেয়ার পূর্বেই আমি তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি এবং তার বিদায়ের পরে আমার জীবন কিভাবে উপকৃত হবে।
তাঁর মাতাও ছিলেন অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারিনী। দয়া, আতিথেয়তা, সেবা প্রভৃতি গুণ ছিল তার সাধারণ বৈশিষ্ট্য। যামাখশারী তাঁর পিতার মৃত্যুর শোক না কাটাতেই অল্পদিনের ব্যবধানে তাঁর মাতার মৃত্যু হয়। মাতৃশোকে তিনি খুবই মুহ্যমান হয়ে পড়েন। তিনি বলতেন, পার্থিব সবকিছু এমনকি নিজের প্রাণের বিনিময়ে হলেও যদি মাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হতো তবে তিনি তা-ই করতেন। তিনি কবিতায় উল্লেখ করেন-
يا حادثات الدهر امي بعد ما * أدركت امي بالردي من مشيت
روحی و ارواح العشيرة بعد ها * جلل عذرتك ايهن غشيت
“হে যুগের ঘটনাচক্র! তুমি আমার মাকে তোমার চাদর দ্বারা পাকড়াও করেছ। এরপর আমার ও পরিবারের আত্মা তোমার এমন সত্তাকে বড় মনে করেছে যদ্বারা আমি আবৃত।”
পা হারানোর ঘটনা:
আল্লামা যামাখশারী এক পা হারিয়েছিলেন কারণ তা কেটে ফেলা হয়েছিল। তবে কি কারণে পা হারিয়েছিলেন সে সম্পর্কে দুটি মত পাওয়া যায়:
১. ইয়াকূত আল হামুবী বলেন, وأصابه خراج في رجـلـه فـقـطـعـهـا و اتخذ رجلا عن خشب "তাঁর পায়ে টিউমার হওয়ায় তিনি তা কেটে ফেলেছিলেন এবং তৎপরিবর্তে একটি কাঠের পা গ্রহণ করেছিলেন"।
২. হানাফী ফকীহ আল্লামা দামেগানী যামাখশারীকে তাঁর পা বিচ্ছিন্ন হবার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি যে জবাব দিয়েছিলেন, সে মতটি অধিক গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত। তিনি জবাবে বলেছিলেন,
كنت في صباي أمسكت عصفورا وربـطـتـه بـخـيـط فـي رجله فأفلت من يدي فأدركته وقد دخل في خرق فجذبته فانقطعت رجله في الخيط فتألمت والدتى لذلك وقالت : قطع الله رجلك : كما قطعت رجله - فلما رحلت الى بخاري في طلب العلم سقطت عن الدابة في اثناء الطريق فانكسرت رجلي واصابني من الألم ما أوجب قطعها -
“আর আমি ছোটবেলায় একদিন একটি চড়ুই পাখি ধরে পায়ে সুতো বেঁধেছিলাম। অতঃপর চড়ুইটি আমার হাত থেকে ছুটে গিয়ে একটি ফাঁকে ঢুকে পড়লে তাৎক্ষণিক আমি চড়ুইটিকে টান দিতেই তার একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।” এতে আমার মা ব্যথিত হয়ে বলেছিলেন, পাখিটির পা যেমন বিচ্ছিন্ন হয়েছে তেমনি তোমার পাও আল্লাহ বিচ্ছিন্ন করুক। অতঃপর পরবর্তীতে জ্ঞান অন্বেষণে বুখারায় গমনকালে বাহন থেকে পড়ে আমার একটি পা ভেঙে যায় এবং এমন ব্যথা পাই যে, পা কেটে ফেলতে বাধ্য হই”।
তাঁর একটি পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সত্ত্বেও তাঁর জীবনের কোন পর্যায়ে জ্ঞান অন্বেষণ ও অধ্যবসায় এর কোন ব্যত্যয় ঘটেনি এবং এ ঘটনা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি যার প্রমাণ আমরা তার জীবনীতে দেখতে পাই।
টিকাঃ
৫. নজরুল হাফিজ নদভী, আল যামাখশারী শা'য়িরান ওয়া কাতিবান, এম.এ থিসিস (মিশর: আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ১৪০২হিঃ/১৯৮২খৃঃ) পৃ. ৪; তাশ কুবরা জাদাহ, মিফতাহ আল সা'আদাহ, (বৈরূত: দার আল কুতুব আল ইলমীয়্যাহ, ১৪০৫ হিঃ/১৯৮৫), ২য় খণ্ড পৃ. ৭।
৬. ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন ও ড. মো: নিজাম উদ্দীন, তাইসীরুল কাশশাফ, প্রাগুক্ত, পৃ. ৯, যামাখশারী, আল দিওয়ান, মাখতুত, পৃ.১২৫
৭. নজরুল হাফিজ নদভী, প্রাগুক্ত পৃ. ২৮।
৮. কামিল মোহাম্মদ মোহাম্মদ আউয়িদাহ্, আলযামাখশারী আল মুফাসসিরুল বালিগ, (বৈরূত : দারুল কুতুব আল ইলমিয়্যাহ, ১৪১৪ হিঃ/১৯৯৪) পৃ. ৩১।
৯. কামিল মোহাম্মদ মোহাম্মদ আউয়িদাহ্, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৩।
১০. নজরুল হাফিজ নদভী, প্রাগুক্ত, পৃ:২৯
১১. ইয়াকূত আল হামুবী, মু'জাম আল উদাবা, (বৈরুত, তা.বি.) ১৯শ খণ্ড, পৃ. ১২৭।
১২. ইবন খাল্লিকান, ওফাইয়াত আল আইয়ান, ৪র্থ খণ্ড (কায়রো: মাকতাবাহ আল নাহদা আল মিসরীয়্যা, তা. বি.) পৃ. ১৫৫।
📄 শিক্ষা জীবন
আল্লামা যামাখশারী তাঁর মাতৃভূমি যামাখশারে পিতামাতার নিকট প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। অসাধারণ স্মৃতিশক্তির বলে তিনি বাল্যকালেই পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর তিনি জ্ঞানান্বেষণে বুখারায় গমন করেন। তৎকালীন সময়ে বুখারা ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞানের জন্য ছিল সর্ববৃহৎ নগরী। তিনি সেখানকার বড় বড় পণ্ডিত ও বিশেষজ্ঞদের নিকট থেকে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেন। ইবনে খাল্লিকান বলেন :
أنه لما بلغ سن الطلب رحل إلى بخارى لطلب العلم ، وبخارى منذ الدولة السامانية شهرت بالاداب فكانت كما يصفها الثعالبي مثابة المجد وكعبة الملك ومجمع أفراد الزمان ومطلع نجوم أدباء الأرض وموسم فضلاء الدهر
“তিনি যখন লেখা পড়ার বয়সে পৌছলেন তখন তিনি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য বুখারায় গমন করেন। সামানীয় রাজত্বের ঐ সময়ে বুখারা সাহিত্য কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিল। ছা'য়ালাবী যেমনি এর প্রশংসায় বলেন বুখারা তখন মর্যাদার উচ্চশিখরে এবং সমকালীন জ্ঞানীগুণীদের সম্মিলন কেন্দ্রে এবং বিশ্বের বড় বড় সাহিত্যিকদের উদিতস্থান এবং যুগের সম্মানিত ব্যক্তিদের মিলনকেন্দ্র ছিল।
তিনি বুখারায় অবস্থানকালে শাইখুল ইসলাম আবূ মানসুর নসর আল হারিছীর নিকট থেকে হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন। বুখারায় দীর্ঘসময় জ্ঞান অর্জনের পর তিনি বাগদাদ গমন করেন। সে সময় বাগদাদ ছিল জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রাণকেন্দ্র। বাগদাদের আলেমদের নিকট থেকে জ্ঞান লাভ না করে তখন সর্বজন স্বীকৃত জ্ঞানী হওয়া যেত না। যামাখশারী জ্ঞান অর্জনের জন্য বাগদাদে কয়েকবার গমন করেন।
তিনি বাগদাদের যে সকল মনীষীদের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আবু মুদার মাহমূদ ইবন জারীর আল দাব্বী আল ইস্পাহানী, আবুল হাসান 'আলী ইবন আল মুজাফফর আল নীশাপুরী, আবুল মনসুর নছর আল হারিছী, আবু সা'দ আল শাক্কানী প্রমুখ। তিনি এ সকল পণ্ডিতগণের কাছ থেকে তাফসীর, হাদীস, আরবী সাহিত্য, নাহু, বালাগাত প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেন। বুখারা বাগদাদ ছাড়াও তিনি খুরাসান, ইস্পাহান, হিজায ও মুসলিম বিশ্বের অনেক স্থানে সফর করেন।
সমসাময়িক কবি সাহিত্যিকগণ তাঁর প্রশংসা করতেন। তিনি একবার বাগদাদে গমন করলে বাগদাদের তৎকালীন সাহিত্যিক শরীফ আবু সা'য়াদাত হেবাতুল্লাহ ইবন আল শাজারী তাঁকে স্বাগত জানালেন এবং তাঁর শানে নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করেন:
وكانت مسألة الركبان تخبر ني * عن أحمد بن داؤد وأطيب الخبر
حتى التقينا فلا والله ما سمعت * أذني باحسن مما قد رأى بصرى
واستكبر الأخبار قبل لقائه * فلما التقيا صغر الحبر الخبر
'আমি অনেক কাফেলার আরোহী এর নিকট প্রশ্ন করে আহমদ ইবন দাউদ সম্পর্কে আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক সংবাদ পেয়েছি। তারপর আমাদের পরস্পরের সাক্ষাতের পর; তার সম্পর্কে যা আমার কান শ্রবণ করেছে আল্লাহর শপথ! তার চেয়েও বেশী দেখতে পেয়েছি। তাঁর সাক্ষাতের পূর্বে তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে যা শুনেছি সে সব যেন মনে হয়েছিল অতিরঞ্জিত। কিন্তু যখন তাঁর সাক্ষাতের সুযোগ হল, তখন পূর্ব শ্রুত গুণাবলীগুলো যেন মনে হল তুচ্ছ ও নিষ্প্রভ”।
অধ্যবসায়, নিরলস পরিশ্রম ও প্রখর স্মৃতিশক্তির কারণে তিনি অল্প দিনের মধ্যে আরবী ভাষা, সাহিত্য, 'ইলমুত তাফসীর, 'ইলমুন নাহু, 'ইলমুন বয়ান বিভিন্ন বিষয়ে যুগশ্রেষ্ঠ আলেম হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। এ বিষয়ে কুফতী বলেন-
وكان رحمه الله ممن يضرب به المثل فى علم الادب والنحو واللغة لقى الافاضل والأكابر وصنف التصانيف في التفسير وغريب الحديث و النحو وغير ذالك -
'যাঁরা ভাষা ব্যাকরণ ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছেন তিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বড় বড় আলেম ও সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন। তিনি তাফসীর, গরীবুল হাদীস এবং আরবী ব্যাকরণ ও বিভিন্ন বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।'
তিনি তাঁর জ্ঞান সাধনা সম্পর্কে নিজেই বলেন:
سهرى لتنقيح العلوم الذلي * مـن وصـل غـانـيـة وطـيـب عـنـاق
وتمايلي طر با لحل عويصة * أشهى واحلى من مدامة ساق
وصرير أقلامى على اوراقها * أحلى من الدوكاء والعشاق
والذ من نقر الفتاة لدفها * نقرى لالقى الرمل عن أوراق
'জ্ঞানানুশীলন ও অধ্যয়নে রাত্রি জাগরণ করা আমার ষোড়শীর সাথে মধুর মিলন এবং তাঁর বাঁকা কাঁধে ভালবাসার হাত রাখার চেয়ে অধিক আনন্দদায়ক ও পছন্দনীয়। দুর্বোধ্য ও কঠিন বিষয়কে বুঝার প্রতি আমার আগ্রহ পরিবেশনকারীনীর শরাব পান করা থেকে অধিক আকর্ষণীয়। কাগজের বুকে কলমের খসখস শব্দ আমার নিকট প্রেমিকদের হৈ চৈ এবং গানে মত্ত থাকার চেয়ে বেশী মিষ্টি। কাগজের মধ্য হতে বালিকণা দূরীকরণে আমার হাতের শব্দ যুবতীর ঢোলের শব্দ হতেও অধিক তৃপ্তিদায়ক।'
টিকাঃ
১৩. ইবন খাল্লিকান, প্রাগুক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ. ১০৭; কামিল মুহাম্মদ মুহাম্মদ আউয়িদাহ, প্রাগুক্ত: পৃ. ৩৪।
১৪. নজরুল হাফিজ নদভী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৪; প্রফেসর ফজলুর রহমান, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৫১
১৫. আল কুফতী, ইনবাহ আল রূওয়াত, ৩য় খণ্ড (কায়রো: দার আল কুতুব আল মিসরীয়্যাহ, ১৩৬৯ হিজরী/১৯৫০) পৃ. ২৭০।
১৬. ইয়াকূত আল হামুবী, প্রাগুক্ত, পৃ. ১২৮।
১৭. আল কুফতী, প্রাগুক্ত, পৃ. ২৬৫; ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, প্রাগুক্ত, পৃ. ১২।
১৮. তাহলীলী জায়িজাহ; প্রাগুক্ত, পৃ. ১৩৯; ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, প্রাগুক্ত, পৃ. ১২।