📄 হাসান লি-গয়রিহী
চতুর্থ প্রকার- হাসান লি-গইরিহী (حسن لغيره)-এর পরিচয়:
সংজ্ঞা: শাব্দিক অর্থে, যে নিজে নিজে হাসান হওয়ার যোগ্যতা রাখে না; বরং অন্যের সাহায্য নিয়ে হাসান হয়, তাকে হাসান লি-গইরিহী বলা হয়। পারিভাষিক অর্থে, যখন কোন যঈফ হাদীছ বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে বর্জনের স্তর থেকে গ্রহণের যোগ্যতা লাভ করে, তখন তাকে 'হাসান লি-গইরিহী' হাদীছ বলা হয়।
নোট:
একটি যঈফ হাদীছ দু'টি শর্তে হাসান লি-গইরিহী হয়। যেমন-
(ক) হাদীছটির যঈফ হওয়ার কারণ অবশ্যই যেন রাবীর পাপ বা মিথ্যাচার না হয়। বরং হাদীছটি যেন রাবীর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা নতুবা সানাদ বিচ্ছিন্ন হওয়া কিংবা রাবী মাসতুর হওয়া- এই জাতীয় ত্রুটির কারণে যঈফ হয়। (খ) যঈফ হাদীছের অন্যান্য সূত্রগুলো যেন তার চেয়ে দুর্বল না হয়। বরং তার সমপর্যায়ের বা তার চেয়ে বেশী শক্তিশালী হয়।
সতর্কতা:
বিভিন্ন সানাদ থেকে আসার কারণে যঈফ হাদীছকে 'হাসান' বলার কাজটি অনেক কঠিন। এক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য দক্ষ মুহাদ্দিছগণের শরণাপন্ন হওয়াই শেষ সমাধান।
উদাহরণ: রাসূল (ছাঃ) বলেন,
إِنَّمَا بُعِثْتُ بِالْحَنِيفِيَّةِ السَّمْحَةِ. অর্থাৎ 'আমি হানীফ তথা স্বচ্ছ, সহনশীল ও একনিষ্ঠ দ্বীন নিয়ে প্রেরিত হয়েছি'।
এই হাদীছে দু'জন যঈফ রাবী আছে। (এক) আলী বিন ইয়াযিদ আলহানী- হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) তাকে 'যঈফ' বলেছেন। (দুই) মুয়ান বিন রিফায়া- হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) তাকে 'লাইয়িনুল হাদীছ' বলেছেন।
এই হাদীছ আরো অন্যান্য সানাদে বর্ণিত হয়েছে। যেমন হাদীছটি আয়েশা (রাঃ)-এর সানাদেও বর্ণিত হয়েছে। ঐ সানাদকে আল্লামা আজলূনী হাসান বলেছেন। ২৩ এছাড়া পবিত্র কুরআনের ঐ সমস্ত আয়াতও এই হাদীছের শাহেদ বা সাক্ষ্য, যেখানে আল্লাহ বলেছেন, ইবরাহীম (আঃ) ছিলেন 'হানীফ'। এই সমস্ত আয়াত ও হাদীছকে সামনে রেখে আলবানী (রহঃ) হাদীছটিকে হাসান লি-গইরিহী বলেছেন। ২৪
টিকাঃ
২৩. কাশফুল খাফা ১/৬১ পৃঃ।
২৪. সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৯২৪।