📄 ছহীহ লি-জাতিহী
প্রথম প্রকার- ছহীহ লি-যাতিহী (صحیح لذاته)-এর পরিচয়:
সংজ্ঞা: যে হাদীছের মধ্যে হাদীছ ছহীহ হওয়ার ৫টি শর্ত পূর্ণরূপে পাওয়া যায়, তাকে 'ছহীহ লি-যাতিহী' বলে।
হাদীছ ছহীহ হওয়ার শর্ত ৫টি। যথা:
(এক) রাবী ন্যায়পরায়ণ হওয়া।
(দুই) হাদীছ সংরক্ষণে রাবী মযবৃত হওয়া।
(তিন) সানাদ মুত্তাছিল হওয়া অর্থাৎ সানাদে বিচ্ছিন্নতা না থাকা।
(চার) হাদীছ শায না হওয়া।
(পাঁচ) হাদীছে কোন গোপন ইল্লাত না থাকা।
যখন এই ৫টি শর্ত কোন হাদীছের মাঝে পূর্ণরূপে পাওয়া যায়, তখন সেই হাদীছকে ছহীহ লি-যাতিহী বলা হয়। নীচে শর্তগুলোর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা করা হল:
শর্ত-১: রাবী ন্যায়পরায়ণ হওয়া
পাপী নয়, মিথ্যুক নয়, অপরিচিত নয় বরং পরিচিত, তাক্বওয়াশীল, পরহেযগার ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ব্যক্তিকে আদিল বা ন্যায়পরায়ণ বলা হয়। ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন বলতে ভারত্বকে বুঝায়। চায়ের স্টলে, দোকান-পাটে আড্ডা না দেয়া, ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়াতে লিপ্ত না হওয়া ইত্যাদি।
শর্ত-২: হাদীছ সংরক্ষণে রাবী মযবৃত হওয়া
হাদীছ দুইভাবে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। (ক) মুখস্থ শক্তির মাধ্যমে ও (খ) লিখে রাখার মাধ্যমে। মুখস্থ শক্তিতে মযবৃত অর্থ হচ্ছে, স্মৃতি শক্তি ভাল, অত্যধিক ভুল করে না, মযবৃত রাবীদের সাথে বৈপরীত্য সম্পন্ন হাদীছ বর্ণনা করে না, হাদীছ শ্রবণ ও বর্ণনার সময় অমনোযোগী থাকে না। লিখিত সংরক্ষণে মযবৃত অর্থ হচ্ছে, লিখে নেওয়ার পর থেকে অন্যের নিকট বর্ণনা করা পর্যন্ত কিতাবটি নিজের কাছেই থাকা, অন্য কারো কাছে হস্তান্তরিত না হওয়া, পুড়ে বা হারিয়ে না যাওয়া।
শর্ত-৩: সানাদ মুত্তাছিল হওয়া অর্থাৎ সানাদে বিচ্ছিন্নতা না থাকা
হাদীছের সানাদে প্রত্যেক রাবীর তার উস্তাদের নিকট থেকে সরাসরি হাদীছ শ্রবণ করা।
শর্ত-৪: হাদীছ শায না হওয়া
যখন কোন বিশুদ্ধ হাদীছ তার চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশী বিশুদ্ধ হাদীছের বিরোধিতা করে, তখন এই নিম্নতর ছহীহ হাদীছকে শায বলা হয়। আর কোন হাদীছকে ছহীহ হওয়ার জন্য এ ত্রুটি থাকবে না।
শর্ত-৫: হাদীছে কোন গোপন ইল্লাত না থাকা
ইল্লাত হচ্ছে, হাদীছের গোপন দোষ-ত্রুটি। বাহ্যিকভাবে হাদীছকে ছহীহ মনে হবে কিন্তু বাস্তবতা হল, হাদীছটি ছহীহ নয়। হাদীছের ভিতরে এমন দোষ-ত্রুটি আছে, যা কেবল ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম আবু হাতিম, ইমাম আবু যুরআ', দারাকুৎত্নী, বায়হাক্বী (রহঃ) প্রমুখদের মত মহান মুহাদ্দিছগণের পক্ষেই জানা সম্ভব। এই ধরনের দোষ-ত্রুটিকেই উচ্ছ্বলে হাদীছের পরিভাষায় 'ইল্লাত' বলা হয়।
ছহীহ লি-যাতিহীর কাল্পনিক উদাহরণ: মনে করি, আমাদের নিকটে মাহমূদ নামের একজন ছাত্র শায়খুল হাদীছের বরাত দিয়ে বলল, তিনি বলেছেন, 'টিভিতে বিভিন্ন খেলা দেখা হারাম'। এক্ষণে আমরা দেখব, অত্র খবরের মধ্যে ৫টি শর্ত পূর্ণরূপে পাওয়া যাচ্ছে কি-না।
প্রথমতঃ মাহমূদ ৫ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে। পাপ কাজে লিপ্ত হয় না। সে খুব পরহেযগার। রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত যথাযথভাবে পালন করে। কাউকে কখনো ধোকা দেয় না, মিথ্যা বলে না, হাটে-বাজারে ও দোকানে আড্ডা দেয় না এবং সুযোগ পেলেই কুরআন তিলাওয়াত করে। সুতরাং মাহমূদ একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি।
দ্বিতীয়তঃ মাহমূদ একজন অত্যন্ত মেধাবী ও নামকরা ছাত্র। কোন বিষয় একবার শুনলেই তার মনে থাকে। সুতরাং তার স্মৃতিশক্তি প্রখর।
নোট: উপরের দু'টি গুণ সম্পন্ন রাবীকে মুহাদ্দিছগণ তাদের পরিভাষায় 'ছিক্বাহ (ثقة)' বলেন। যার বাংলা অনুবাদ নির্ভরযোগ্য, মযবৃত ও শক্তিশালী করা যায়।
তৃতীয়তঃ সে শায়খুল হাদীছের দারসে নিয়মিত বসে। সুতরাং শায়খুল হাদীছের বরাত দিয়ে কোন কথা নকল করা তার জন্য অসম্ভব নয়। অতএব সানাদ মুত্তাছিল।
চতুর্থতঃ মাহমূদের চেয়ে মেধাবী শায়খুল হাদীছের অন্য কোন ছাত্র তার এই কথার বিরোধিতা করছে না। সুতরাং তার কথা শায নয়।
পঞ্চমতঃ স্বাভাবিকভাবে আমরা জানি, শায়খুল হাদীছ গুনাহের কাজের বিষয়ে খুব কঠোর। সুতরাং এই জাতীয় ফৎওয়া তার পক্ষ থেকে হওয়া অসম্ভব নয়। অতএব মাহমূদের কথার মধ্যে কোন ইল্লাতও নেই।
উপরিউক্ত ৫টি শর্ত পূর্ণরূপে পাওয়ার কারণে মাহমূদের প্রদত্ত খবরটি ছহীহ লি-যাতিহী।
বাস্তব উদাহরণ: বুখারী-মুসলিমের অধিকাংশ হাদীছই ছহীহ লি-যাতিহী পর্যায়ের হাদীছ।
: সবচেয়ে বিশুদ্ধ সানাদ )أصح الأسانيد
একেক মুহাদ্দিছের নিকট একেক সানাদ সবচেয়ে বিশুদ্ধ সানাদ হিসাবে বিবেচিত। যেমন-
(ক) ইমাম আহমাদের নিকট সবচেয়ে বিশুদ্ধ সানাদ: ইমাম যুহরী, সালিম, থেকে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে, তিনি রাসূল (ছাঃ) থেকে।
(খ) ইমাম বুখারীর নিকট সবচেয়ে বিশুদ্ধ সানাদ: ইমাম মালেক (রহঃ) নাফে' থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে।
(গ) ইবনু মাঈনের নিকট সবচেয়ে বিশুদ্ধ সানাদ: আ'মাশ ইবরাহীম নাখঈ থেকে, তিনি আলক্বামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে।
নোট: (১) আলক্বামা এবং ইবরাহীম নাখঈ (রহঃ) মামা-ভাগিনা। আলক্বামা (রহঃ) ইমাম নাখঈর মামা ছিলেন। দু'জনই কুফার নামকরা ফক্বীহ।
(২) হাদীছের কিতাবগুলোতে যদি শুধু আব্দুল্লাহ বলা হয় এবং পিতার নাম উল্লেখ না করা হয়, তাহলে তার দ্বারা উদ্দেশ্য হয় আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)।
(৩) উপরের বিশুদ্ধতম সানাদগুলোর মধ্যে আমরা কোনটাকে কোনটার উপর প্রাধান্য দিব না। বরং সবগুলোকেই উঁচু পর্যায়ের সানাদ বলে গণ্য করব। এছাড়া অন্যান্য মুহাদ্দিছের পক্ষ থেকে যদি অন্য আরো সর্ববিশুদ্ধ সানাদ জানতে পারি, তাহলে সেগুলোও উঁচু পর্যায়ের সানাদ বলে গণ্য হবে।
ছহীহ লি-যাতিহী হাদীছসমূহের স্তর বিন্যাস: যে হাদীছের মধ্যে উপরে বর্ণিত ছহীহ হাদীছের ৫টি গুণ যে পরিমাণে পাওয়া যাবে, সে হাদীছের মানের স্তরও সে হিসাবে বাড়বে। হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) ছহীহ লি-যাতিহী হাদীছ সমূহের মানের উপর ভিত্তি করে নিম্নের স্তর বিন্যাস করেছেন:
১- মুত্তাফাক্ব আলাইহ, তথা যে হাদীছ বুখারী ও মুসলিম গ্রহণ করেছেন।
২- শুধু ছহীহ বুখারীর হাদীছ।
৩- শুধু ছহীহ মুসলিমের হাদীছ।
৪- বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী ছহীহ হাদীছ।
৫- বুখারীর শর্ত অনুযায়ী ছহীহ হাদীছ।
৬- মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী ছহীহ হাদীছ।
৭- যে সমস্ত ছহীহ হাদীছ উপরের ৬ প্রকারের বাইরে।
ফায়দা: দুই হাদীছের মাঝে দ্বন্দ্ব হলে অত্র বিন্যাস অনুযায়ী অপেক্ষাকৃত উপরের স্তরের হাদীছকে প্রাধান্য দেয়া হবে।
বুখারী-মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী ছহীহ: কোন হাদীছের সকল রাবী যদি ঐ সমস্ত রাবীর অন্তর্ভুক্ত হয়, যাদের হাদীছ ইমাম বুখারী ও মুসলিম (রহঃ) তাদের ছহীহে গ্রহণ করেছেন, তাহলে সে হাদীছকে বুখারী-মুসলিমের শর্তে ছহীহ বলা হয়।
নোট: এই স্তর বিন্যাস থেকে আমাদের মনে হতে পারে, মুত্তাফাক্ব আলাইহ হলেই তা সবচেয়ে বিশুদ্ধ বলে গণ্য হবে। কিন্তু এটা একটা ভুল ধারণা। এই স্তরসমূহের বাইরেও অপেক্ষাকৃত বেশী বিশুদ্ধ হাদীছ পাওয়া যেতে পারে। যেমন- মনে করি, তিরমিযীর কোন হাদীছ মাশহুর এবং এর সকল সূত্র বিশুদ্ধ। পাশাপাশি একটা সূত্র আমাদের উপরে বর্ণিত সর্ববিশুদ্ধ সানাদগুলোর অন্তর্ভুক্ত। সকল মুহাদ্দিছ হাদীছকে ছহীহ বলেছেন। তাহলে এই হাদীছটি বুখারী-মুসলিমের ঐ হাদীছের উপর প্রাধান্য পাবে, যার সানাদে এই জাতীয় বৈশিষ্ট্যগুলো নেই। যেমন- বুখারী-মুসলিমের কোন হাদীছ শুধুমাত্র একটি সানাদে বর্ণিত। সানাদের মধ্যে এমন একজন রাবী রয়েছে, যার বিষয়ে মুহাদ্দিছগণের মাঝে মত-পার্থক্য রয়েছে। হাদীছটি ঐ সমস্ত হাদীছের অন্তর্ভুক্ত, বুখারী-মুসলিমের যে সমস্ত হাদীছের উপর কিছু মুহাদ্দিছ অভিযোগ করেছেন। তাহলে বুখারী-মুসলিমে বর্ণিত হওয়ার পরেও হাদীছটি তিরমিযীর উক্ত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হাদীছের চেয়ে নিম্ন স্তরের বলে গণ্য হবে।
📄 হাসান লি-জাতিহী
দ্বিতীয় প্রকার- হাসান লি-যাতিহী (حسن لذاته)-এর পরিচয়: সংজ্ঞা: যে হাদীছের মাঝে হাদীছ ছহীহ হওয়ার ৪টি শর্ত পূর্ণরূপে পাওয়া যায়, কিন্তু রাবীর স্মরণশক্তিতে কোন ত্রুটি বা দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়, তখন তাকে 'হাসান লি-যাতিহী' বলা হয়।
নোট: হাসান হাদীছের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ নিয়ে মুহাদ্দিছগণের মাঝে বিস্তর মতদ্বন্দ্ব আছে। আমরা এখানে হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ)-এর সংজ্ঞা ও প্রকারভেদের উপর নির্ভর করেছি।
উদাহরণ-১: আমরা ছহীহ লি-যাতিহীর উদাহরণে মাহমূদ নামটি ব্যবহার করেছিলাম। মনে করি, মাহমূদের প্রদত্ত সেই খবরটি শায়খুল হাদীছের পক্ষ থেকে নাঈম আমাদেরকে দিল। তার মধ্যে সকল গুণ পূর্ণরূপে পাওয়া যায়। অর্থাৎ সে একজন ন্যায়পরায়ণ, তাক্বওয়াশীল ব্যক্তি। শায়খুল হাদীছের ছাত্র। শায়খুল হাদীছের পক্ষ থেকে তার কোন খবর বর্ণনা করা অসম্ভব নয়। অতএব সানাদ মুত্তাছিল তথা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সংযুক্ত। তার চেয়ে ভাল তার কোন পড়ার সাথী তার এই কথার বিরোধিতা করছে না। অতএব খবরটি শাযও নয়। তার বর্ণিত কথায় কোন ইল্লাতও নেই। কিন্তু সব ঠিক থাকলেও তার স্মৃতিশক্তি হালকা দুর্বল। একটা পড়া যেখানে মাহমূদের একবার দেখলেই মুখস্থ হয়ে যায়, সেখানে নাঈমের অন্ততঃপক্ষে দশবার দেখা লাগে। কিন্তু সে আবার এতই দুর্বল নয় যে দশবার দেখার পর যা মুখস্থ হয়, তা কিছুক্ষণ মনে থাকে, তারপর আবার ভুলে যায়। বরং দশবার দেখার পর যা মুখস্থ হয়ে যায়, তা আর ভুলে না। নাঈমের এই স্মৃতিশক্তির হালকা দুর্বলতার কারণে তার প্রদত্ত খবরকে 'হাসান লি-যাতিহী' বলা হবে।
বাস্তব উদাহরণ-২: রাসূল (ছাঃ) বলেন,
لَوْلا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأمَرْتُهُمْ بِالسَّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ.
অর্থাৎ 'যদি আমি আমার উম্মতের উপর কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে প্রতি ওয়াক্ত ছালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম'। ২১
অত্র হাদীছটি তিরমিযীর সানাদে বর্ণিত সকল রাবী মযবৃত। একমাত্র মুহাম্মাদ বিন আমর আল-লায়ছীর স্মৃতিশক্তিতে হালকা সমস্যা আছে। সুতরাং হাদীছটি হাসান লি-যাতিহী।
টিকাঃ
২১. সুনানে তিরমিযী হা/২২।
📄 ছহীহ লি-গয়রিহী
তৃতীয় প্রকার- ছহীহ লি-গইরিহী (صحيح لغيره)-এর পরিচয়:
সংজ্ঞা: শাব্দিক অর্থে, যে নিজে নিজে ছহীহ হওয়ার যোগ্যতা রাখে না, বরং অন্যের সাহায্য নিয়ে ছহীহ হয়, তাকে ছহীহ লি-গইরিহী বলা হয়। পারিভাষিক অর্থে, যে হাদীছ রাবীর স্মরণশক্তির হালকা দুর্বলতার কারণে হাসান লি-যাতিহী হাদীছে পরিণত হয়েছে। সেই হাদীছ যখন বিভিন্ন সানাদ থেকে আসে, তখন হাদীছের দুর্বলতা দূরীভূত হয়ে যায় এবং তখন সে হাদীছকে 'ছহীহ লি-গইরিহী' বলা হয়।
উদাহরণ-১: নাঈমের মত হালকা দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছাত্র আমাদেরকে যে খবরটা দিল, সেই খবরটাই তার মত আরো দশটা ছাত্র দিচ্ছে। তাই আমাদের এটা বলার কোন অবকাশ নেই যে, নাঈমতো দুর্বল, তার কথার কোন ভরসা নেই। কেননা তার মত আরো দশজন একই খবর দেয়ার কারণে খবরটি আর দুর্বল নেই। বরং শক্তিশালী হয়ে গেছে। নাঈম হয়তো ভুলে যেতে পারে বা ভুল করতে পারে। তাই বলে কি দশজনই ভুলে যাবে? তারাও ভুল করবে? এটা সম্ভব নয়। সুতরাং এই রকম বিভিন্ন সানাদ থেকে আসা খবরকে ছহীহ লি-গইরিহী বলা হয়।
বাস্তব উদাহরণ-২: হাসান লি-যাতিহী হাদীছের উদাহরণে মিসওয়াকের যে হাদীছ আমরা পেশ করেছিলাম সেই হাদীছটি তিরমিযীর অত্র সানাদ ছাড়াও সুনানে ইবনু মাজাহ২২ সহ বিভিন্ন কিতাবে অনেক সানাদে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং হাদীছটি ছহীহ লি-গইরিহী।
টিকাঃ
২২. সুনানে ইবনে মাজাহ হা/৩০২; সুনানে আবিদাউদ হা/৪৭।
📄 হাসান লি-গয়রিহী
চতুর্থ প্রকার- হাসান লি-গইরিহী (حسن لغيره)-এর পরিচয়:
সংজ্ঞা: শাব্দিক অর্থে, যে নিজে নিজে হাসান হওয়ার যোগ্যতা রাখে না; বরং অন্যের সাহায্য নিয়ে হাসান হয়, তাকে হাসান লি-গইরিহী বলা হয়। পারিভাষিক অর্থে, যখন কোন যঈফ হাদীছ বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে বর্জনের স্তর থেকে গ্রহণের যোগ্যতা লাভ করে, তখন তাকে 'হাসান লি-গইরিহী' হাদীছ বলা হয়।
নোট:
একটি যঈফ হাদীছ দু'টি শর্তে হাসান লি-গইরিহী হয়। যেমন-
(ক) হাদীছটির যঈফ হওয়ার কারণ অবশ্যই যেন রাবীর পাপ বা মিথ্যাচার না হয়। বরং হাদীছটি যেন রাবীর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা নতুবা সানাদ বিচ্ছিন্ন হওয়া কিংবা রাবী মাসতুর হওয়া- এই জাতীয় ত্রুটির কারণে যঈফ হয়। (খ) যঈফ হাদীছের অন্যান্য সূত্রগুলো যেন তার চেয়ে দুর্বল না হয়। বরং তার সমপর্যায়ের বা তার চেয়ে বেশী শক্তিশালী হয়।
সতর্কতা:
বিভিন্ন সানাদ থেকে আসার কারণে যঈফ হাদীছকে 'হাসান' বলার কাজটি অনেক কঠিন। এক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য দক্ষ মুহাদ্দিছগণের শরণাপন্ন হওয়াই শেষ সমাধান।
উদাহরণ: রাসূল (ছাঃ) বলেন,
إِنَّمَا بُعِثْتُ بِالْحَنِيفِيَّةِ السَّمْحَةِ. অর্থাৎ 'আমি হানীফ তথা স্বচ্ছ, সহনশীল ও একনিষ্ঠ দ্বীন নিয়ে প্রেরিত হয়েছি'।
এই হাদীছে দু'জন যঈফ রাবী আছে। (এক) আলী বিন ইয়াযিদ আলহানী- হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) তাকে 'যঈফ' বলেছেন। (দুই) মুয়ান বিন রিফায়া- হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) তাকে 'লাইয়িনুল হাদীছ' বলেছেন।
এই হাদীছ আরো অন্যান্য সানাদে বর্ণিত হয়েছে। যেমন হাদীছটি আয়েশা (রাঃ)-এর সানাদেও বর্ণিত হয়েছে। ঐ সানাদকে আল্লামা আজলূনী হাসান বলেছেন। ২৩ এছাড়া পবিত্র কুরআনের ঐ সমস্ত আয়াতও এই হাদীছের শাহেদ বা সাক্ষ্য, যেখানে আল্লাহ বলেছেন, ইবরাহীম (আঃ) ছিলেন 'হানীফ'। এই সমস্ত আয়াত ও হাদীছকে সামনে রেখে আলবানী (রহঃ) হাদীছটিকে হাসান লি-গইরিহী বলেছেন। ২৪
টিকাঃ
২৩. কাশফুল খাফা ১/৬১ পৃঃ।
২৪. সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৯২৪।