📄 হাদীছ ও তার প্রকারভেদ
'হাদীছ'-এর সংজ্ঞা: রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কথা, কাজ ও সম্মতিকে হাদীছ বলা হয়।
উক্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী হাদীছ তিন প্রকার। যথা- (১) হাদীছে ক্বওলী বা রাসূল (ছাঃ)-এর কথা (২) হাদীছে ফে'লী বা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাজ এবং (৩) হাদীছে তাক্বরীরী বা রাসূল (ছাঃ)-এর সম্মতি। নিম্নে আলোচনা করা হল:
(১) হাদীছে কুওলী বা রাসূল (ছাঃ)-এর কথা: মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর মুখ নিঃসৃত বাণীকে হাদীছে ক্বওলী বলা হয়। যেমন- রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ. অর্থাৎ 'প্রতিটি আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল'। ৮
(২) হাদীছে ফে'লী বা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাজ: মুহাম্মাদ (ছাঃ) যে কাজ করেছেন, সেই কাজকে হাদীছে ফে'লী বলা হয়। যেমন- আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ وَإِذَا كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَهُمَا كَذَلِكَ أَيْضًا وَقَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَكَانَ لا يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي السُّجُودِ.
অর্থাৎ 'রাসূল (ছাঃ) তাঁর দুই হাত কাঁধ বরাবর উত্তোলন করতেন, যখন তিনি ছালাত শুরু করতেন এবং রুকুর জন্য তাকবীর দিতেন। অতঃপর যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখনও অনুরূপ করতেন এবং বলতেন, 'সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা লাকাল হামদ'। আর তিনি সিজদাতে অনুরূপ করতেন না'।
(৩) হাদীছে তাক্বরীরী বা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সম্মতি: ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) কোন কাজ করলেন, কিন্তু রাসূল (ছাঃ) তা দেখার পরেও বা শুনার পরেও কিছুই বললেন না, বরং চুপ থাকলেন। ছাহাবায়ে কেরام (রাঃ)-এর এমন কাজের উপর রাসূল (ছাঃ)-এর সম্মতিকে 'হাদীছে তাক্বরীরী' বলা হয়ে থাকে। যেমন- আমর বিন 'আছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
احْتَلَمْتُ فِي لَيْلَةٍ بَارِدَةٍ فِي غَزْوَةِ ذَاتِ السَّلاسِلِ فَأَشْفَقْتُ إِنِ اغْتَسَلْتُ أَنْ أَهْلِكَ فَتَيَمَّمْتُ ثُمَّ صَلَّيْتُ بِأَصْحَابِي الصُّبْحَ فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا عَمْرُو صَلَّيْتَ بِأَصْحَابِكَ وَأَنْتَ جُنُبٌ فَأَخْبَرْتُهُ بِالَّذِي مَنْعَنِي مِنَ الاِغْتِسَالِ وَقُلْتُ إِنِّي سَمِعْتُ اللَّهَ يَقُولُ وَلاَ تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا فَضَحِكَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا.
'একদা যাতুস সালাসিল যুদ্ধে কঠিন ঠাণ্ডা রাতে আমার স্বপ্নদোষ হয়। আমার ভয় হয় যদি গোসল করি তাহলে মারা যাব। সেজন্য আমি তায়াম্মুম করি এবং আমার সাথীদের ছালাতের ইমামতি করাই। পরবর্তীতে তারা বিষয়টি রাসূল (ছাঃ)-এর সামনে উল্লেখ করে। রাসূল (ছাঃ) আমাকে বলেন, আমর! তুমি জুনুবী অবস্থায় ছালাত পড়িয়েছ! আমি তখন রাসূল (ছাঃ)-কে জানালাম, কি কারণে আমি গোসল করিনি। আমি বললাম, মহান আল্লাহ বলেছেন, 'তোমরা নিজেদেরকে হত্যা কর না! নিশ্চয় মহান আল্লাহ তোমাদের উপর দয়ালু' (নিসা ৪/২৯)। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) হেসে উঠলেন এবং কিছুই বললেন না'। ১০ এই হাদীছ দ্বারা বুঝা যায় রাসূল (ছাঃ) তার এই কাজের ব্যাপারে মৌনসম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। তথা জীবনের আশংকা থাকলে ফরয গোসলের ক্ষেত্রেও তায়াম্মুম চলবে।
টিকাঃ
৭. ছহীহ বুখারী হা/১০৯ 'নবী করীম (ছাঃ)-এর উপর মিথ্যারোপ করা অন্যায়' অনুচ্ছেদ-৩৮, 'ইলম' অধ্যায়-৩।
৮. ছহীহ বুখারী হা/১।
৯. ছহীহ বুখারী হা/৭৩৫।
১০. মুসনাদে আহমাদ হা/১৭৮৪৫, সনদ ছহীহ।
📄 খবার ও আছার
◇ খবার ও আছার (الخير والأثر):
কিছু মুহাদ্দিছগণের মতে খবার এবং আছার হল, এটি হাদীছের সমার্থবোধক শব্দ বা প্রতিশব্দ। তবে বর্তমান যুগের প্রায় মুহাদ্দিছ হাদীছ, আছার এবং খবারের মধ্যে পার্থক্য করে থাকেন। যেমন-
'খবার'-এর পরিচয়:
'খবার' শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক, কিন্তু হাদীছ হচ্ছে খাছ। শুধুমাত্র রাসূল (ছাঃ)-এর কথাকে 'হাদীছ' বলা হয় এবং রাসূল (ছাঃ)-এর কথাসহ দুনিয়ার যেকোন সংবাদকে 'খবার' বলা হয়।
'আছার'-এর পরিচয়:
ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈগণের কথা, কাজ ও সম্মতিকে আছার বলা হয়।
📄 কুরআন, হাদীছ এবং হাদীছে কুদসীর মধ্যে পার্থক্য
◇ কুরআন, হাদীছ এবং হাদীছে কুদসীর মধ্যে পার্থক্য
الفرق بين القرآن والحديث والحديث القدسي কুরআন, হাদীছ এবং হাদীছে কুদসী সবগুলোই মহান আল্লাহ্ পক্ষ থেকে অবতীর্ণ অহি। কিন্তু তারপরেও প্রত্যেকটির মাঝে কিছু পার্থক্য রয়েছে। নীচের ছকের মাধ্যমে কতিপয় পার্থক্য তুলে ধরা হল: