📄 চিন্তার ক্ষেত্রে পশ্চিমা সুবিবেচকদের স্বীকৃতি
ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি যে চিন্তা হলো এই দ্বীনের প্রতি ঈমানের অন্যতম স্তম্ভ। ইসলামি সভ্যতা যেসব স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এটি তার অন্যতম। আল্লাহ তাআলার চিন্তাযোগ্য কিতাবের মূল বক্তব্য এটিই, এটিই গোটা সৃষ্টিজগতের মূলকথা। পঠিত কিতাব (আল-কুরআনুল কারিম) তার বহু আয়াতে এই কিতাবে চিন্তাভাবনা করার আহ্বান জানিয়েছে...। অথচ বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে, এতকিছু সত্ত্বেও এমন লোকদেরও আবির্ভাব ঘটেছে যারা চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মের প্রতি ইসলাম ও ইসলামি সভ্যতার গুরুত্বকে অস্বীকার করতে চায়!
তাদের অন্যায় দাবির খণ্ডনে স্বয়ং পাশ্চাত্যের কিছু ন্যায়বান মনীষীর সাক্ষ্য ও স্বীকৃতি জেনে নেওয়া যাক:
এতেইন্নে দিনেত (Etienne Dinet) বলেন, ইউরোপে চিন্তার স্বাধীনতা সরবরাহ করার ক্ষেত্রে প্রধান কৃতিত্ব যার তিনি হলেন আন্দালুসীয় মুসলিম দার্শনিক ইবনে রুশদ (১১২০-১১৯৮ খ্রি.)। অবশ্য আমাদের স্বাধীন চিন্তা ও নাস্তিক্যবাদের মধ্যে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। ইবনে রুশদ অ্যারিস্টটলের চিন্তা ও দর্শনের যে ব্যাখ্যা হাজির করেন তার প্রতি মধ্যযুগের ইউরোপের স্বাধীনচেতা ব্যক্তিরা অত্যন্ত উৎসাহী হয়ে ওঠেন। তার এসব ব্যাখ্যা শক্তিশালী ইসলামি ভাবপ্রবাহে ছিল। ইবনে রুশদের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ গ্রহণের ফলে ইউরোপে যে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছিল, সেটাই পরবর্তী সময়ে তাদের ধর্মীয় সংস্কারের পথ উন্মুক্ত করার পাশাপাশি আধুনিক যুক্তিবাদী চিন্তাধারার উৎস ছিল। আমরা সত্যিকার অর্থে এভাবেই বিচারবিচেনা করতে পারি।
সিগরিড হুংকে বলেন, আরবজাতির বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ এবং তাদের হাতে নানান জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিমার্জন, বিন্যাস ও নিরীক্ষণ গোটা পাশ্চাত্যে জোয়ার সৃষ্টি করে...। বস্তুত সে সময়কার ইউরোপীয় জ্ঞানী মহলে এমন কোনো জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন না যিনি আরবীয় জ্ঞানভান্ডারে হাত বাড়াননি। সেখান থেকে তারা যা খুশি গ্রহণ করেছেন এবং সুমিষ্ট পানির ঝরনা থেকে পিপাসার্ত যেভাবে জলপান করে সেভাবে জ্ঞান আহরণ করেছেন।... তৎকালীন ইউরোপে রচিত এমন কোনো গ্রন্থ ছিল না যার পৃষ্ঠাসমূহে আরবীয় ঝরনাধারার প্রবল প্রবাহ পরিলক্ষিত হয় না। ইউরোপীয় প্রতিটি গ্রন্থই ছিল আরব জ্ঞানপ্রাচুর্যের মুখাভিনয়। সেগুলোতে আরবীয় প্রভাব ছিল সুস্পষ্ট। শুধু আরবি শব্দ (ইউরোপীয় ভাষায়) অনুবাদের ছাপই নয়, বরং বিষয়বস্তু ও চেতনা প্রকাশেও সেই প্রভাবের সুস্পষ্ট ছাপ পরিলক্ষিত হয়।
তিনি আরও বলেন, শূন্য থেকে শুরু করে সভ্যতার ক্ষেত্রে আরবরা যে বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জন করেছে মানবেতিহাসের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে তা উল্লেখযোগ্য বিষয়। জ্ঞানের ময়দানে ধারাবাহিক বিজয় তাদের সকল সভ্যতার নেতৃত্বের আসনে বসিয়েছে; অন্যান্য সভ্যতার বিবেচনায় তা তুলনাহীন। আরবদের এই বিস্ময়কর অগ্রগতি আমাদেরকে অবাক করে দেয় যে ইতিহাসে তা কীভাবে ঘটল!
লুইস সিডিও বলেন, ইউরোপ যে ধরনের বিবেকহীনতা, চিন্তাগত দৈন্য, আত্মিক কলুষতা, জ্ঞান ও জ্ঞানীর সঙ্গে নির্দয় আচরণ প্রত্যক্ষ করেছে ইসলামি সভ্যতা তা প্রত্যক্ষ করেনি। ইতিহাস এটাও সাক্ষ্য দেয় যে ইউরোপে বত্রিশ হাজার জ্ঞানীগুণীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এতে কোনো মতভেদ নেই যে, চিন্তার স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ইসলামি ইতিহাস এরকম জঘন্য অত্যাচারের সম্মুখীন হয়নি। বরং সে অন্ধকার যুগে একমাত্র মুসলিমরাই জ্ঞানবিজ্ঞানের সাধনা করত। এমনটি কখনো ঘটেনি যে কোনো ধর্ম-রাষ্ট্র ক্ষমতায় আরোহণ করেছে, আর আকিদা-বিশ্বাসে বিরুদ্ধবাদীদেরকে সর্বপ্রকার স্বাধীনতা দিয়ে সহায়তা করেছে, অথচ ইসলামি সভ্যতা সর্বদাই জনগণকে সব রকমের স্বাধীনতা প্রদান করেছে।
ফরাসি প্রাচ্যবিদ ব্যারন কারা ডি ভো বলেন, আরবরা বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন এবং জ্ঞানসংক্রান্ত গবেষণায় সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে এমন সময়ে যখন খ্রিষ্টজগৎ বর্বরতার করাল গ্রাস থেকে মুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে সংগ্রাম করছে (যা পনেরো শতাব্দী পর্যন্ত অব্যাহত থাকে)। আরবরা নবম এবং দশম শতাব্দীতে তাদের উৎকর্ষ ও উন্নতির শীর্ষে পৌঁছে। দ্বাদশ শতাব্দীর পর থেকে প্রত্যেক বিজ্ঞানমনস্ক পশ্চিমা ব্যক্তির প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে মারাকেশ এবং মধ্যপ্রাচ্য। আর এ সময়ে ইউরোপীয়রা আরবদের জ্ঞানভান্ডার অনুবাদ করতে শুরু করে। যেভাবে আরবরা গ্রিকদের জ্ঞানভান্ডার অনুবাদ করেছিল।
মরিস বুকাইলি তার The Bible, The Qur'an and Science গ্রন্থে বলেন, আমরা জানি, ইসলামের দৃষ্টিতে ধর্ম এবং বিজ্ঞান জমজ দুই সন্তানের মতো। বিজ্ঞানকে পরিমার্জন করা শুরু থেকেই ইসলামের ধর্মীয় নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই বিধি প্রয়োগের ফলে ইসলামি সভ্যতার যুগে আশ্চর্যজনক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্ব রেনেসাঁসের পূর্ব থেকেই তার দ্বারা উপকৃত হয়েছিল।
হিন্দুস্তানি জাতিসত্তা এবং ধর্মীয় পরিমণ্ডলের উপর ইসলামি একত্ববাদী বিশ্বাসের ভূমিকার কথা আলোচনা করতে গিয়ে মিশরে নিযুক্ত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত কে. এম. পানিক্কর (১৮৯৫-১৯৬৩ খ্রি.) বলেন, এটা সুস্পষ্ট যে, এই (ইসলামি) যুগে হিন্দুধর্মের ওপর ইসলামের গভীর প্রভাব ছিল। হিন্দুদের মধ্যে যে আল্লাহর ইবাদতের (ঈশ্বরের উপাসনার) চিন্তা তা ইসলামের ভাবধারাপ্রসূত। এই যুগে চিন্তা ও ধর্মের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তাদের দেবতাদের ভিন্ন ভিন্ন নামে আখ্যায়িত করা সত্ত্বেও এক আল্লাহর ইবাদতের প্রতি আহ্বান করেছেন এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ইবাদতের উপযুক্ত উপাস্য একজনই, কেবল তারই কাছে মুক্তি ও সৌভাগ্য প্রার্থনা করা যায়। ইসলামি যুগে ভারতে যেসব ধর্মান্দোলনের উদ্ভব ঘটেছে সেগুলোর ওপর ইসলামি চিন্তাধারার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। যেমন ভক্তি আন্দোলন এবং কবীর পরমেশ্বর আন্দোলন।
ফরাসি ঐতিহাসিক লুইস সিডিও ইসলামি সভ্যতার মৌলিক দিকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে যাচাই-বাছাই করেন এবং অবশেষে এ কথা বলে তার বক্তব্যের সমাপ্তি টানেন, আধুনিক ইউরোপের ওপর ইসলামি সভ্যতার প্রভাব খুবই সুস্পষ্ট।
যাই হোক, ইসলামি সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রভাব সম্পর্কে এসব বক্তব্য ন্যায়নিষ্ঠ ও ইনসাফপরায়ণ পশ্চিমা ঐতিহাসিক ও প্রাচ্যবিদদের।
ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লসের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে এ অধ্যায়ের ইতি টানছি। তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্রে (Oxford Centre for Islamic Studies) 'ইসলাম ও পাশ্চাত্য' শীর্ষক এই বক্তব্য দিয়েছিলেন। বক্তব্যটির চুম্বকাংশ নিচে দেওয়া হলো :
ইসলামের প্রকৃতি ও স্বভাব সম্পর্কে পাশ্চাত্যে ব্যাপক ভুল ধারণা রয়েছে। আমাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতি ইসলামি বিশ্বের কাছে যে সমৃদ্ধি ও ঐশ্বর্যের কারণে ঋণী সে সম্পর্কেও আমাদের মধ্যে সমপরিমাণ অজ্ঞতা রয়েছে। মুসলিম শাসনামলে স্পেন শুধু রোমান ও গ্রিক সভ্যতার বুদ্ধিবৃত্তিক ঐশ্বর্যকে সংগ্রহ ও সংরক্ষণই করেনি, বরং সেই সভ্যতার বিস্তৃতি ও বিকাশ ঘটিয়েছে ব্যাপকভাবে। সে সময় স্পেন তার নিজের পক্ষ থেকে মানব-গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত, আলজেব্রা-শাখাটি মূলত আরবি আইনবিদ্যা, ইতিহাস, চিকিৎসা, রসায়ন, আলোকবিজ্ঞান, কৃষি ও স্থাপত্যশিল্পে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি রয়েছে।
দশম শতকে কর্ডোভা জ্ঞানবিজ্ঞানে ও সভ্যতা-সংস্কৃতিতে ইউরোপের সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত হয়। এখন আধুনিক ইউরোপ যেসব বৈশিষ্ট্য নিয়ে গর্ববোধ করে সেগুলো মূলত স্পেনে মুসলিম শাসনামলের গৌরব ও অবদানের স্মারকচিহ্ন। কূটনীতি, স্বাধীন ব্যবসানীতি, উন্মুক্ত সীমানা, প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা-পদ্ধতি, নৃবিজ্ঞান, শিষ্টাচার, পোশাকশিল্পের বিকাশ, বিকল্প চিকিৎসাব্যবস্থা (Alternative medicine) এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা-এ সবকিছু সেই সমৃদ্ধ নগরী (কর্ডোভা) থেকেই প্রাপ্ত।
এগুলোর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এই যে, ইসলাম আমাদের পৃথিবীতে সমঝোতার সঙ্গে জীবনযাপনের পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছে। এ ব্যাপারগুলো খ্রিষ্টধর্মে নেই এবং তা এই ধর্মকে দুর্বলতম স্থানে পৌঁছে দিয়েছে। সৃষ্টিজগতের প্রতি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা অনুসারেই পৃথিবীকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। কেননা ইসলাম মানুষ ও প্রকৃতি, ধর্ম ও বিজ্ঞান, বিবেক ও জড়বস্তুর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তৈরিকে প্রশ্রয় দেয়নি; বরং এগুলোর মধ্যকার সম্পর্ককে জোরালো করেছে। একত্বের প্রতি এবং আমাদের চারপাশের পৃথিবীর পবিত্র ও আত্মিক প্রকৃতির সুরক্ষার প্রতি এমন প্রগাঢ় অনুভূতি এক অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা ইসলাম থেকে আমরা নতুন করে শিখতে পারি।
আধুনিক ইউরোপের রেনেসাঁসে ইসলামি সভ্যতার অবদান সম্পর্কে বিশদ বিবরণ জানতে লুইস সিডিও রচিত 'তারিখুল আরাবিল আম' গ্রন্থের ষষ্ঠ অধ্যায়ে 'ওয়াসফুল হাদারাতিল আবাবিয়্যাহ' শীর্ষক আলোচনা দেখুন। আরও দেখতে পারেন গুস্তাভ লি বোঁ-র হাদারাতুল আরাব গ্রন্থের পঞ্চম অধ্যায় এবং সিগরিড হুংকের 'শামসুল আরাব তাসতাউ আলাল গারব' গ্রন্থটি। এসব গ্রন্থগুলোতে পাশ্চাত্যসভ্যতার ওপর ইসলামি সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করা হয়েছে। উপরন্তু জর্জ সার্টন (George Sarton, 1884-1956) রচিত ‘মুকাদ্দামাতুন ফি তারিখিল উলুম’ গ্রন্থে যত উৎস ও তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো দেখা যেতে পারে।
এসব বর্ণনা সন্দেহাতীতভাবে ইসলামি সভ্যতার মৌলিকত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব, উন্নতি, সামগ্রিকতা ও ক্রমবিকাশ, বাস্তবতা ও উদারতা এবং মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় ও আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার গোড়াপত্তনে বিরাট অবদানের প্রমাণ বহন করে।
সময় হয়েছে এখন নবজাগরণের প্রত্যাশায় ইসলামি সভ্যতার সেসব অবদান অনুধাবন করার।
টিকাঃ
৪৭৭. এতেইন্নে দিনেত (Etienne Dinet 1861-1929): ফরাসি প্রাচ্যবিদ, চিত্রকর। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখক।
৪৭৮. এতেইন্নে দিনেত, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ, পৃ. ৩৪৩।
৪৭৯. সিগরিড হুংকে, শামসুল আরাব তাসতাউ আলাল গারব, পৃ. ৩০৫, ৩০৬।
৪৮০. সিগরিড হুংকে, শামসুল আরাব তাসতাউ আলাল গারব, পৃ. ৩৫৪।
৪৮১. হাসসান শামসি পাশা, হাকাযা কানু ইয়াওমা কুন্না, পৃ. ৮০।
৪৮২. ব্যারন বার্নার্ড কারা ডি ভো (Baron Bernard Carra De Vaux): ফরাসি প্রাচ্যবিদ। ফরাসি ভাষাতেই লিখেছেন। তার আগ্রহের বিষয় ছিল আরবের জ্ঞানভান্ডার। মুসলিম বিজ্ঞানীদের কয়েকটি রচনা তিনি পুনর্নিরীক্ষণ ও সম্পাদনা করেছেন।
৪৮৩. বার্নার্ড কারা ডি ভো: টমাস আর্নল্ড সম্পাদিত তুরাসুল ইসলাম গ্রন্থে আল-ফালাক ওয়ার-রিয়াদিয়্যাত শীর্ষক প্রবন্ধ, পৃ. ৫৬৪।
৪৮৪. ওয়াহিদুদ্দিন খান, আল-ইসলাম ইয়াতাহাদ্দা, পৃ. ১৪।
৪৮৫. বক্তব্যটি ১৯৮২ সালের অক্টোবর মাসে নয়ডা সাহেবে অবস্থিত ইংল্যান্ডের দূতাবাস বক্তব্যটির আমাই অনুমোদ আর পার, পরবর্তী সময়ে প্রিন্স চার্লসের ঘরকে তা পুষ্টিতা আকারে প্রকাশ
৪৮৬. ফরাসি ঐতিহাসিক লুইস সিডিও ইসলামি সভ্যতার মৌলিক দিকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে যাচাই-বাছাই করেন এবং অবশেষে এ কথা বলে তার বক্তব্যের সমাপ্তি টানেন, আধুনিক ইউরোপের ওপর ইসলামি সভ্যতার প্রভাব খুবই সুস্পষ্ট।
৪৮৮. 'ইসলাম ও পাশ্চাত্য' শীর্ষক বক্তৃতা, প্রিন্স চার্লস ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ অক্টোবর অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ-এ এই বক্তৃতা প্রদান করেন। তারপর ব্রিটিশ দূতাবাস এই বক্তৃতার অনূদিত কপি দামেশকে বিতরণ করে। পরবর্তী সময়ে প্রিন্স চার্লসের অর্থায়নে তা একটি ছোট পুস্তিকায় মুদ্রিত হয়ে প্রকাশিত হয়।
৪৮৯. Histoire des Arabes (১৮৫৪), ফরাসি থেকে আরবি অনুবাদ করেছেন আদিল যুআইতার।
৪৯০. Introduction to the History of Science.