📄 অনুপম রুচিবোধ
আমরা ইতিপূর্বে বলেছি, রুচিবোধ বলতে বোঝায় স্বচ্ছ-নির্মল অভ্যন্তরীণ অনুভূতিকে, যার ফলে একজন ব্যক্তি অন্যদের অনুভূতি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রতি যত্নশীল থাকে। মানুষের সঙ্গে আচার-আচরণের এটাই হলো আদবকেতা। অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি সুন্দর বিদ্যা।
পূর্ববর্তী অধ্যায়ে আমরা সুন্দর রুচিবোধের বহিঃপ্রকাশ কীভাবে ঘটে তার কিছু নমুনা তুলে ধরেছি। ইসলামি সভ্যতা এসব রুচিশীলতার প্রবর্তন করেছে। এখন আমরা কিছু শিরোনাম উল্লেখ করব যেগুলো ইসলামি সভ্যতায় চারিত্রিক সৌজন্য ও রুচিবোধের সৌন্দর্য প্রকাশ করে।
**অন্যদের অনুভূতিকে আহত না করার ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের পরিচয়:**
নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে সরাসরি তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করা থেকে বিরত থাকতেন। এই ক্ষেত্রে তিনি বলতেন, مَا بَالُ أَقْوَام-'লোকদের কী হলো...।'
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةٌ فَلَا يَتَنَاجَى رَجُلانِ دُوْنَ الْآخَرِ، حَتَّى تَخْتَلِطُوا بِالنَّاسِ؛ أَجْلَ أَنْ يُحْزِنَهُ
যখন তোমরা তিনজন একসঙ্গে থাকবে তখন একজনকে বাদ দিয়ে দুজনে চুপে চুপে কথা বলবে না-অন্য লোকদের সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত। এটা এ জন্য যে, তা তাকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে পারে।
**বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ এবং মানুষকে যথোপযুক্ত মর্যাদাদানে সুন্দর রুচিবোধের পরিচয়:**
উবাদা ইবনে সামিত রা. বর্ণনা করেন, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا وَيُوَفِّرْ كَبِيرَنَا
যে লোক আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়।
**মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের পরিচয়:**
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لَا يَشْكُرُ اللَّهَ مَنْ لَا يَشْكُرُ النَّاسَ»
যে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।
**কারও বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের পরিচয় :**
বেড়াতে যাওয়া-সংক্রান্ত আয়াতে দুটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا ﴾
হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কারও ঘরে ঘরবাসীদের অনুমতি না নিয়ে এবং তাদের সালাম না দিয়ে প্রবেশ করো না।
কারও বাড়িতে বা ঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনুমতি প্রার্থনা ইসলামের রুচিশীলতার একটি দিক। কিন্তু এই আয়াত মানুষের অভ্যন্তরীণ সৌজন্যবোধের কথাও বলছে, সেটা হলো ইসতিনাস বা যাদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া হচ্ছে তাদের আগ্রহ বোঝার চেষ্টা করা। এটি অনুমতি প্রার্থনার চেয়ে সূক্ষ্ম ব্যাপার। এর অর্থ এই যে, বাড়ির মালিক বা লোকদের আগ্রহ ও অভিপ্রায় কী-মেহমানদের বেড়াতে যাওয়া নাকি না যাওয়া-সেটা অবহিত হওয়া ও অনুধাবন করা। গিয়ে সরাসরি অনুমতি চাওয়ার চেয়ে এতে বেশি সৌজন্যবোধ প্রকাশ পায়।
**অনুমতি প্রার্থনার ক্ষেত্রে আরেকটি রুচিবোধের পরিচয় :**
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে এটা করেছিলেন। একজন আনসারি সাহাবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছিলেন। দাওয়াতে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে একজন লোক গেল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাড়ির মালিককে বললেন,
إِنَّ هُذَا قَدْ تَبِعَنَا، فَإِنْ شِئْتَ أَنْ تَأْذَنَ لَهُ فَأْذَنْ لَهُ، وَإِنْ شِئْتَ أَنْ يَرْجِعَ رجَعَ. فقال: لا، بل قد أَذِنْتُ لَهُ»
এই লোকটাও আমাদের সঙ্গে এসেছে। তুমি তাকে অনুমতি দিতে চাইলে অনুমতি দিতে পারো। আর তুমি যদি চাও সে ফিরে যাক তাহলে সে ফিরে যাবে। মেযবান বললেন, না, আমি তাকে অনুমতি দিলাম।
**খাদেম ও পরিচারকদের ডাকার ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের পরিচয়:**
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لَا يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ: عَبْدِي وَأَمَتِي. كُلُّكُمْ عَبِيدُ اللَّهِ، وَكُلُّ نِسَائِكُمْ إِمَاءُ اللَّهِ، وَلَكِنْ لِيَقُلْ: غُلَامِي وَجَارِيَتِي، وَفَتَايَ وَفَتَاتِي
তোমাদের কেউ যেন কখনো 'আমার বান্দা', 'আমার বাঁদি' না বলে। কারণ তোমরা প্রত্যেকেই আল্লাহর বান্দা এবং তোমাদের নারীরা সবাই আল্লাহর বাঁদি। বরং তোমাদের বলা উচিত: আমার গোলাম (বেটা), আমার জারিয়া (বেটি), আমার খাদেম, আমার খাদেমা ইত্যাদি।
**নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের পরিচয়:**
আসরাম নামের একটি লোক ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করল, তোমার নাম কী? লোকটি বলল, আমি আসরাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, না, তুমি বরং যুরআহ।
এক লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হলো। তিনি লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কী? লোকটি বলল, 'হাযন'। তিনি বললেন, তোমার নাম সাহল।
**স্ত্রীর সঙ্গে সুন্দর রুচিবোধের পরিচয়:**
এই প্রসঙ্গে কিছু কথা আমরা পূর্ববর্তী অধ্যায়ে বাহ্যিক রুচিবোধ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছি। এখানে আমরা নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়িশা রা. থেকে উম্মে যারআ-এর গল্প শোনার পর তার সঙ্গে কেমন সৌজন্যবোধের প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন তা উল্লেখ করব। উম্মে যারআ-এর গল্প নামে একটি প্রসিদ্ধ গল্প আছে। গল্পটি অনেক লম্বা। নবীজি মনোযোগ দিয়ে তা শুনলেন কিন্তু বিরক্ত হলেন না। অথচ তিনি ইসলামি রাষ্ট্রের নেতা, তাঁর মাথায় বিভিন্ন চিন্তা ও সমস্যা ঘুরপাক খায়। গল্প শোনা শেষে তিনি এমন মন্তব্য করলেন যা শুনতে আয়িশা রা. ভালোবাসেন। তা ছাড়া এমন মন্তব্য ছিল সর্বোচ্চ রুচিবোধের প্রকাশ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
يَا عَائِشَةُ، كُنْتُ لَكِ كَأَبِي زَرْعٍ لأُمِّ زَرْعٍ، إِلَّا أَنَّ أَبَا زَرْعٍ طَلَّقَ، وَأَنَا لَا أُطلق
হে আয়িশা, আমি তোমার জন্য তেমনই যেমন ছিলেন উম্মে যারআর জন্য আবু যারআ। তবে আবু যারআ উম্মে যারআকে তালাক দিয়েছিল, আমি তোমাকে তালাক দেবো না।
**মুশকিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের পরিচয়:**
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য তাঁর স্ত্রী উম্মে সালামার পক্ষ থেকে খাদ্যভরতি একটি পাত্র এলো। আয়িশা রা. সেই পাত্র উলটে ফেলে দিয়ে ভেঙে ফেললেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর স্ত্রী আয়িশার সঙ্গে কেমন প্রজ্ঞাপূর্ণ আচরণ করেছিলেন তা এখানে উল্লেখযোগ্য। আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ بَعْضِ نِسَائِهِ فَأَرْسَلَتْ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ بِصَحْفَةٍ فِيهَا طَعَامُ فَضَرَبَتِ الَّتِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْتِهَا يَدَ الْخَادِمِ فَسَقَطَتِ الصَّحْفَةُ فَانْفَلَقَتْ فَجَمَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِلَقَ الصَّحْفَةِ ثُمَّ جَعَلَ يَجْمَعُ فِيهَا الطَّعَامَ الَّذِي كَانَ فِي الصَّحْفَةِ وَيَقُولُ: غَارَتْ أُمُّكُمْ. ثُمَّ حَبَسَ الْخَادِمَ حَتَّى أُتِيَ بِصَحْفَةٍ مِنْ عِنْدِ الَّتِي هُوَ فِي بَيْتِهَا فَدَفَعَ الصَّحْفَةَ الصَّحِيحَةَ إِلَى الَّتِي كُسِرَتْ صَحْفَتُهَا وَأَمْسَكَ الْمَكْسُورَةَ فِي بَيْتِ الَّتِي كَسَرَتْ
একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কোনো স্ত্রীর ঘরে ছিলেন। এ সময় উম্মুল মুমিনিনদের অপর একজন বড় পাত্রে করে খাবার পাঠালেন। (এতে রাগ করে) নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যার ঘরে ছিলেন তিনি খাদেমের হাতে আঘাত করলেন, ফলে পাত্রটি পড়ে গিয়ে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাত্রের টুকরোগুলো একত্র করলেন, তারপর তাতে যে খাদ্য ছিল তা জমা করতে লাগলেন এবং বললেন, তোমাদের মা ঈর্ষান্বিত হয়েছেন। খাদেমকে তিনি আটকে রাখলেন, যতক্ষণ না তিনি যার ঘরে ছিলেন তার থেকে একটি আস্ত পাত্র আনা হলো। তিনি আস্ত পাত্রটি তাকে দিলেন যার পাত্র ভাঙা হয়েছিল এবং ভাঙাটি তার ঘরে রেখে দিলেন যিনি তা ভেঙেছিলেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাদেমের সামনে তাঁর স্ত্রী আয়িশা রা.-কে ধমক দিলেন না, কোনো কড়া কথা বলে তার ব্যক্তিত্ববোধকে আহত করলেন না; বরং 'তোমাদের মা ঈর্ষান্বিত হয়েছেন' বলে তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করলেন। লক্ষ করুন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শব্দচয়নেও আয়িশা রা.-এর প্রতি মূল্যায়ন প্রকাশ পেয়েছে; তিনি বলেছেন 'তোমাদের মা', অথচ 'এই মেয়ে তো ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছে' বা 'আয়িশা ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছে' এরকম কিছু বলেননি।
এ ছাড়াও আরও বহু বিষয় রয়েছে যেখানে ইসলামি সভ্যতা সুন্দর রুচিশীলতা ও চারিত্রিক সৌজন্যের প্রবর্তন ঘটিয়েছে। ইসলামের আগে বা পরে কোনো জীবনদর্শনেই এসব ব্যাপারে কোনো ধারণা ছিল না। ইসলামি সভ্যতার মানবিকতা, সৌন্দর্য ও মহত্ত্বেরই পরিচায়ক এসব বিষয়।
টিকাঃ
২৫৪. ইমাম বুখারি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন- আয়িশা রা. বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি কাজ করলেন (অর্থাৎ, সফরে রোযা ভাঙলেন) এবং তা করার জন্য অন্যদেরও অনুমতি (রুখসত) দিলেন। তা সত্ত্বেও কিছু লোক রোযা ভাঙা থেকে বিরত থাকল। এই খবর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কানে পৌঁছল। ফলে তিনি খুতবা দিলেন, প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তারপর বললেন, 'সে-সকল লোকের কী হলো যারা আমি যে কাজ করি তা থেকে বিরত থাকে? আল্লাহর কসম, তাদের চেয়ে আমি আল্লাহকে বেশি জানি এবং তাদের চেয়ে তাঁকে বেশি ভয় করি।' (সুতরাং যে কাজ করতে আমি দ্বিধা করি না সে কাজ করতে সে দ্বিধা করবে কেন?) বুখারি, কিতাব: আল-আদাব, বাব: মান লাম ইয়ুওয়াজিহুন নাসা বিল-ইতাব, হাদিস নং ৬১০১। উদাহরণ হিসেবে আরও দেখা যেতে পারে, বুখারি, কিতাব, কিতাব আল-বুয়ু, বাব: ইযা ইশতারাতা শুরুতান ফিল-বাইয়ি লা তাহিলু, হাদিস নং ২০৬০; মুসলিম, কিতাব: আল-ইক, ইন্নামাল ওয়ালাউ লিমান আ'তাকা, হাদিস নং ১৫০৪।
২৫৫. বুখারি, বাব: ইযা কানু আকসারা মিন সালাসাতিন ফালা বা'সা বিল মুসাওয়াতি ওয়াল-মুনাজাতি, হাদিস নং ৫৯৩২; কিতাব : আস-সালাম, বাব : তারহিম মুনাজামুসাররাতি-ইসনাইনি দুনাস-সালিসি বিগাইরি রিদাহু, হাদিস নং ৩৮।
২৫৬. তিরমিযি, কিতাব: আল-বিররু ওয়াস-সিলাহ, বাব: রহমাতুস সিবয়ান, হাদিস নং ১৯১৯। তিনি বলেছেন, এটা গরিব হাদিস। আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৯৪৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৬৭৩৩; হাকিম, হাদিস নং ৪২১।
২৫৭. আবু দাউদ, কিতাব : আল-আদাব, বাব : শুক্রল মারুফ, হাদিস নং ৪৮১১; তিরমিযি, হাদিস নং ১৯৫৪; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৭৪৯৫; ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৩৪০৭।
২৫৮. সুরা নুর: আয়াত ২৭।
২৫৯. আবু হাইয়ান, তাফসিরুল বাহরিল মুহিত, খ. ৬, পৃ. ৪৪৫, ৪৪৬।
২৬০. বুখারি, কিতাব: আল-বুয়ু, বাব: আস-সাহুলাহ ওয়াস-সামাহহি ফিশ-শিরা ওয়াল-বায়... হাদিস নং ১৯৭৫; মুসলিম, কিতাব: আল-আশরিবাহ, বাব: মা ইয়াফআলুদ-দাইফ ইযা তাবিআহু গাইরু মান দাআহু.., হাদিস নং ২০৩৬।
২৬১. বুখারি, আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত হাদিস, কিতাব: আল-ইত্ক, বাব: কারাহিয়্যাতুত তাতাউল আলার-রাকিক ওয়া কাওলিহি আবদি ওয়া আমাতি, হাদিস নং ২৪১৪; মুসলিম, কিতাব: আল-আলফায মিনাল আদাব ওয়া গাইরিহা, বাব: হুকমু ইতলাকি লাফযিল-আব্দ ওয়াল-আমাত, হাদিস নং ২২৪৯।
২৬২. আসরাম অর্থ কাটা বা কর্তিত। একই ধাতু থেকে সারিম, যার অর্থ কর্তিত ফসল বা যে-ভূমির ফসল কর্তন করা হয়েছে। শব্দটি কুলক্ষণযুক্ত ও হতাশাজনক। আর 'যুরআহ' অর্থ ফসল ও শস্য। এতে কল্যাণ ও বরকত রয়েছে।-অনুবাদক
২৬৩. আবু দাউদ, কিতাব: আল-আদাব, বাব: তাগয়িরুল-ইসমিল কাবিহ, হাদিস নং ৪৯৫৪।
২৬৪. হাযন অর্থ: কঠোর, শক্ত; সাহল অর্থ: কোমলতা, নম্রতা।-অনুবাদক
২৬৫. বুখারি, কিতাব: আল-আদাব, বাব: ইসমুল হায়ন, হাদিস নং ৫৮৩৬; আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৯৫৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ২৩৭২৩।
২৬৬. বুখারি: কিতাব; আন নিকাহ, বাব; হুসনুল মুআশারাতি মাআল আহলি, হাদিস নং ৪৮৯৩। মুসলিম: কিতাব; ফাদায়িলুস সাহাবা, বাব; যিকরু হাদিসি উম্মে যারআ, হাদিস নং ২৪৪৮।
২৬৭. বুখারি, কিতাব: আন-নিকাহ, বাব: আল-গাইরাহ, হাদিস নং ৪৯২৭; আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৫৬৭; নাসায়ি, হাদিস নং ৩৯৫৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ১২০৪৬।
২৬৮. একটি আরবীয় বাগধারা। এ কথা বলে স্নেহ-মমতা-ভালোবাসা-সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়।-অনুবাদক