📘 মুসলিমজাতি বিশ্বকে কী দিয়েছে > 📄 সুন্দর রুচিবোধ

📄 সুন্দর রুচিবোধ


রুচিবোধ বলতে বোঝায় স্বচ্ছ-নির্মল অভ্যন্তরীণ অনুভূতিকে, এর ফলে একজন ব্যক্তি অন্যদের অনুভূতি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রতি যত্নশীল থাকে। মানুষের সঙ্গে আচার-আচরণের এটাই হলো আদবকেতা। অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি সুন্দর বিদ্যা।

রুচিবোধের বিষয়টি যেমন বাহ্যিক হতে পারে তেমনই অভ্যন্তরীণ বা মানসিকও হতে পারে। এখানে রুচিবোধের কিছু বহিঃপ্রকাশ নিয়ে আলোচনা করব। এসব ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এসব নির্দেশ দিয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে তিনিই আমাদের আদর্শ ও নমুনা।

**a. চলাচলের পথে ও কণ্ঠস্বরের ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের প্রকাশ:**
আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا

রহমান-এর বান্দা তারাই যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদেরকে যখন অজ্ঞ ব্যক্তিরা সম্বোধন করে, তখন তারা বলে, ‘সালাম’।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,

وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُوْرٍ وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ إِنَّ أَنْكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيْرِ

অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোনো উদ্ধত, অহংকারীকে পছন্দ করেন না। তুমি পদচারণায় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো এবং তোমার কণ্ঠস্বর সংযত রাখো, নিশ্চয় সুরের মধ্যে গর্দভের সুরই সবচেয়ে অপ্রীতিকর।

ইবনে কাসির উপর্যুক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আওয়াজের ক্ষেত্রে গাধার সঙ্গে তুলনার কারণে তা নিষিদ্ধ ও চূড়ান্ত তিরস্কারের উপযুক্ত হওয়ার কথা। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

لَيْسَ لَنَا مَثَلُ السَّوْءِ الَّذِي يَعُودُ فِي هِبَتِهِ كَالْكَلْبِ يَرْجِعُ فِي قَيْنِهِ
নিকৃষ্ট উপমা দেওয়া আমাদের জন্য শোভনীয় নয় (তবু বলতে হয়), যে দান করে ফিরিয়ে নেয় সে ওই কুকুরের মতো যে বমি করে আবার তা খায়।

**২. অন্যদের বিরক্ত না করার ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের প্রকাশ :**
আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّ الَّذِينَ يُنَادُونَكَ مِنْ وَرَاءِ الْحُجُرَاتِ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ)
যারা ঘরের বাইরে থেকে আপনাকে উচ্চৈঃস্বরে ডাকে তাদের অধিকাংশই নির্বোধ।

এই আয়াত কিছু গ্রাম্য লোকের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। এদের দুর্ব্যবহার ও অসৌজন্যমূলক আচরণের কথা আল্লাহ তাআলা তুলে ধরেছেন। আল্লাহ তাঁর রাসুলের ওপর যা নাযিল করেছেন তার সীমারেখা না জানাটা তাদের জন্য সংগত। প্রতিনিধি হিসেবে তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিল। তারা তাকে তার ঘরে, কোনো এক স্ত্রীর কামরায় পেল। আদবও দেখাল না, ধৈর্য নিয়ে অপেক্ষা করল না যে, তিনি নিজ থেকে বাইরে বেরিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করবেন। বরং চিৎকার করে ডাকতে লাগল, মুহাম্মাদ, হে মুহাম্মাদ! বেরিয়ে এসো! তাই আল্লাহ তাদের বুদ্ধি-বিবেক নেই বলে নিন্দা করলেন। আল্লাহর রাসুলের সঙ্গে কীভাবে আদব-তমিজ ও সম্মান দেখাতে হবে তা তারা বোঝেইনি। কারণ আদবকেতা ও সৌজন্যবোধ বুদ্ধিমত্তা ও বিবেকেরই পরিচায়ক।

**৩. পথ ও রাস্তার ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের প্রকাশ:**
আবু সাইদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إِيَّاكُمْ وَالْجُلُوسَ بِالطُّرُقَاتِ. فقالوا: يا رسول الله، ما لنا من مجالسنا بد، نتحدث فيها. فقال: "إِذْ أَبَيْتُمْ إِلَّا الْمَجْلِسَ فَأَعْطُوا الطَّرِيقَ حَقَّهُ. قالوا: وما حق الطريق يا رسول الله؟ قال: غَضُ الْبَصَرِ، وَكَفُ الأَذَى، وَرَدُّ السَّلامِ، وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ، وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ»

তোমরা রাস্তার ওপর বসা থেকে বিরত থাকো। তারা (সাহাবিগণ) বললেন, আমাদের তো রাস্তার ওপর বসা ছাড়া গত্যন্তর নেই। কারণ, রাস্তায় আমরা প্রয়োজনীয় কথাবার্তা সমাধা করি। তিনি বললেন, যদি তোমরা সেখানে বসতে একান্ত বাধ্যই হও তবে রাস্তার হক আদায় করবে। তারা বললেন, রাস্তার হক কী, ইয়া রাসুলুল্লাহ? তিনি বললেন, দৃষ্টি নিচু রাখা, কাউকে (পথচারীকে) কষ্ট না দেওয়া, সালামের জবাব দেওয়া, সৎকাজের আদেশ করা ও অসৎকাজে নিষেধ করা।

**৪. আতিথ্যগ্রহণ ও অনুমতিগ্রহণের ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের প্রকাশ:**
আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَدْخُلُواْ بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُواْ وَتُسَلِّمُواْ عَلَىٰ أَهْلِهَا ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَّعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ﴾

হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কারও ঘরে ঘরবাসীদের অনুমতি না নিয়ে এবং তাদের সালাম না দিয়ে প্রবেশ করো না। তা-ই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, «الْاسْتِئْذَانُ ثَلَاثٌ؛ فَإِنْ أُذِنَ لَكَ، وَإِلَّا فَارْجِعُ»

অনুমতি চাইবে তিন বার; অনুমতি দিলে তো ভালোই, অন্যথায় ফিরে আসবে।

**৫. স্ত্রীর সঙ্গে সদাচারে সুন্দর রুচিবোধের প্রকাশ :**
সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

وَلَسْتَ تُنْفِقُ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللَّهِ إِلَّا أُجِرْتَ بِهَا حَتَّى اللُّقْمَةَ تَجْعَلُهَا فِي فِي امْرَأَتِكَ

তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যা-কিছু দান করবে তার বিনিময়ে প্রতিদান পাবে, এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমা তুলে দাও তার বিনিময়েও।

সাইয়িদা আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كُنْتُ أَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِي فَيَشْرَبُ وَأَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضُ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَع فَاه على موضع في

আমি ঋতুমতী অবস্থায় পানি পান করতাম, তারপর তা (পানির পাত্রটি) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিতাম, তিনি আমার মুখের জায়গায় মুখ লাগিয়েই পান করতেন। আমি ঋতুমতী অবস্থায় হাড়ের গোশত খেতাম, তারপর তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিতাম। তিনি আমার মুখের জায়গায় মুখ রেখেই খেতেন।

**৬. হাঁচি দেওয়ার ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের প্রকাশ:**

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হাঁচি দিতেন তাঁর হাত বা কাপড় মুখের ওপর রাখতেন এবং এভাবে হাঁচির আওয়াজ ছোট করতেন।

**৭. হাঁচিদাতার সঙ্গে আচরণে সুন্দর রুচিবোধের প্রকাশ :**

আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

عطَسَ رَجُلانِ عِنْدَ النَّبِيِّ، فَشَمَّتَ أَحَدَهُمَا وَلَمْ يُشَمِّتِ الْآخَرَ، فَقِيلَ لَهُ، فَقَالَ: هُذَا حَمِدَ اللَّهَ وَهُذَا لَمْ يَحْمَدِ اللَّهَ

একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে দুই লোক হাঁচি দিলো। তিনি তাদের একজনের জবাব দিলেন, আরেকজনের জবাব দিলেন না। তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, এই লোক আলহামদুলিল্লাহ বলেছে, আর ওই লোক আলহামদুলিল্লাহ বলেনি।

**৮. হাই তোলার ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের প্রকাশ :**
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«التَّقَاؤُبُ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَإِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَرُدَهُ مَا اسْتَطَاعَ»

হাই আসে শয়তানের থেকে, তাই তোমাদের হাই আসলে সে যেন তা যথাসম্ভব রোধ করে।

**৯. ঘ্রাণের ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের প্রকাশ :**
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ - يُرِيدُ الثَّومَ - فَلَا يَغْشَانَا فِي مَسَاجِدِنَا»

কেউ এই গাছ-অর্থাৎ রসুন-খেয়ে থাকলে সে যেন মসজিদে আমাদের সঙ্গে না মেশে।

মুসলিমের রেওয়ায়েতে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা গন্ধের কারণে। ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الْبَقْلَةِ، فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسَاجِدَنَا حَتَّى يَذْهَبَ رِيحُهَا»
যে লোক এই সবজি (রসুন) খাবে, সে যেন এর গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়।

**১০. মুসাফাহার ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের প্রকাশ:**
আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কারও সঙ্গে মুসাফাহা করতেন, অপর লোক রাসুলুল্লাহর হাত না ছাড়া পর্যন্ত তিনি তার হাত ছেড়ে দিতেন না।

**১১. সফর থেকে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের প্রকাশ :**
কোনো পুরুষ সফর থেকে ফিরে এসে হুট করে তার স্ত্রীর কাছে যাবে না। কারণ সে স্ত্রীকে এমন অবস্থায় দেখতে পারে, যা তার পছন্দ নয়। এ ব্যাপারে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত হাদিস রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

يَا أَيُّهَا النَّاسُ، لا تَطْرُقُوا النِّسَاءَ لَيْلاً، وَلَا تَغْتَرُوهُنَّ
হে লোকেরা, তোমরা (সফর থেকে ফিরে এসে) রাতেরবেলা তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে (তাদের জানান না দিয়ে) সাক্ষাৎ করো না এবং তাদের আত্মপ্রবঞ্চনায় ফেলো না।

**১২. বসার ক্ষেত্রে সুন্দর রুচিবোধের প্রকাশ:**
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই ব্যক্তির মাঝে তাদের অনুমতি ব্যতীত কাউকে বসতে নিষেধ করেছেন।

এই হলো সুন্দর রুচিবোধের বহিঃপ্রকাশের কিছু ক্ষেত্র, এসব ব্যাপারে ইসলাম গভীর ও সূক্ষ্ম নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি ব্যাখ্যাও রয়েছে।

কখনোই কোনো মতবাদের উদ্গাতা, কোনো ধর্মাদর্শের প্রবর্তক বা কোনো আইন-প্রণেতা এসব বিষয়ে সচেতন ছিলেন না। এটাই আল্লাহ তাআলার বিধান ও মানুষের বিধানের মধ্যে পার্থক্য, ইসলাম এবং অন্যান্য মতাদর্শ ও দর্শনের মধ্যকার ভিন্নতা। এভাবে পার্থক্য সূচিত হয় আমাদের সভ্যতার ও অন্যান্য সভ্যতার মধ্যে।

টিকাঃ
১৭৯. শান্তি কামনা করে, তর্কে লিপ্ত হয় না।- অনুবাদক
১৮০. সুরা ফুরকান: আয়াত ৬৩।
১৮১. সুরা লুকমান: আয়াত ১৮-১৯।
১৮২. বুখারি, কিতাব: আল-হিবাহ ওয়া ফাদলুহা, বাব: লা ইয়াহিলু লি-আহাদিন আন ইয়ারজিআ ফি হিবাতিহি ওয়া সাদাকাতিহি, হাদিস নং ২৪৭৯।
১৮৩. ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আযিম, খ. ৬, পৃ. ৩৩৯।
১৮৪. বনু তামিমের একটি দল নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসে। তখন তিনি তাঁর কামরায় অবস্থান করছিলেন। তারা কামরার পেছন থেকে চিৎকার করে তাকে ডাকতে থাকে। আয়াতটি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়। এতে এবং এই সুরার আরও কিছু আয়াতে সামাজিক শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।- অনুবাদক
১৮৫. সুরা হুজুরাত: আয়াত ৪।
১৮৬. আস-সাদি, তাইসিরুল কারিমির রাহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান (তাফসিরে সাদি), পৃ. ৭৯৯।
১৮৭. বুখারি, আবু সাঈদ আল-খুদরি রা. থেকে বর্ণিত হাদিস, কিতাব : আল-মাযালিম, বাব : আফনিয়াতুদ দুর ওয়াল-জুলুসি ফিহা ওয়াল-জুলুসি আলাস-সুউদাত, হাদিস নং ২৩৩৩; মুসলিম, কিতাব : আল-লিবাস ওয়ায-যিনাহ, বাব: আন-নাহয় আনিল-জুলুসি ফিত-তুরুকাত ওয়া ই'তাউত তারিকি হাক্কাহু, হাদিস নং ১১৪।
১৮৮. সুরা নুর: আয়াত ২৭।
১৮৯. বুখারি, কিতাব: আল-ইসতিযান, বাব: আত-তাসলিম ওয়াল-ইসতিযান সালাসান, হাদিস নং ৫৮৯১; মুসলিম, কিতাব আল-আদাব, বাব: আল-ইসতিযান, হাদিস নং ৩৪।
১৯০. বুখারি, কিতাব: আল-মাগাযি, বাব হাজ্জাতুল বিদা, হাদিস নং ৪১৪৭; মুসলিম, কিতাব: আল-ওয়াসিয়্যাহ, বাব: আল-ওয়াসিয়্যাতু বিস-সুলুস, হাদিস নং ১৬২৮।
১৯১. মুসলিম, কিতাব: আল-হায়দ, বাব: জাওয়াযু গুসলি রাসি যাওজিহা ওয়া তারজিলিহি... হাদিস নং ৩০০; নাসায়ি, হাদিস নং ২৮২; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ২৫৬৩৫।
১৯২. আবু দাউদ, কিতাব: আল-আদাব, বাব : ফিল-উতাস, হাদিস নং ৫০২৯; তিরমিযি, হাদিস নং ২৭৪৫।
১৯৩. বুখারি, কিতাব: আল-আদাব, আল-হামদু লিল-আতিসি, হাদিস নং ৫৮৬৭; মুসলিম, কিতাব : আয-যুহদ ওয়ার-রাকায়িক, বাব: তাশমিতুল আতিস ওয়া কারাহাতুত তাসাউব, হাদিস নং ২৯৯১।
১৯৪. বুখারি, কিতাব: বাদউল খাল্‌ক, বাব : সিফাতু ইবলিস ওয়া জুনুদিহি, হাদিস নং ৩১১৫; মুসলিম, কিতাব: আয-যুহ্‌দ ওয়ার-রাকায়িক, বাব: তাশমিতুল আতিসি ওয়া কারাহাতুত তাসাউব, হাদিস নং ২৯৯৪।
১৯৫. বুখারি, কিতাব: সিফাতুস সালাত, বাব: মাজাআ ফিসসুমিন নিয়্যি ওয়াল-বাসাল ওয়াল-কুররাস, হাদিস নং ৮১৬; মুসলিম, কিতাব: আল-মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত, বাব: নাহয়ু মান আকালা সুমান আও বাসালান আও কুররাসান আও নাহওয়াহা, হাদিস নং ৫৬৪। হাদিসটি বুখারি থেকে উদ্ধৃত।
১৯৬. মুসলিম, কিতাব : আল-মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত, বাব : নাহয়ু মান আকালা সুমান আও বাসালান আও কুররাসান আও নাহওয়াহা, হাদিস নং ৫৬১।
১৯৭. তিরমিযি : সিফাতুল কিয়ামা ওয়ার-রাকায়িক ওয়াল-ওয়ারা, হাদিস নং ২৪৯০; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৭১৬।
১৯৮. দারিমি, বাব : তাজিলু উকুবাতি মান বালাগাহু আনিন নাবিয়্যি হাদিসুন ফালাম ইয়ুআযযিমহু, হাদিস নং ৪৪৪; আবু ইয়ালা, হাদিস নং ১৮৪৩; হাকিম, হাদিস নং ৭৭৯৮।
১৯৯. আবু দাউদ, কিতাব : আল-আদব, বাব : আর-রাজুলু ইয়াজলিসু বাইনার রাজুলাইনি বিগাইরি ইযনিহা, হাদিস নং ৪৮৪৪; তিরমিযি, হাদিস নং ২৭৫২; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৬৯৯৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00