📘 মুসলিমজাতি বিশ্বকে কী দিয়েছে > 📄 বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারসমূহের সৌন্দর্য

📄 বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারসমূহের সৌন্দর্য


প্রযুক্তিবিদ্যায় মুসলিমদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা কেবল মসজিদ, আজানখানা ও গম্বুজ নির্মাণ এবং বাঁধ ও পুল নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তারা এমনকিছু অভিনব বস্তু আবিষ্কার করেছেন যেখানে মুসলিম বিজ্ঞানীদের সৌন্দর্য-অনুভূতি ও নান্দনিক চিন্তা প্রকাশ পেয়েছে। তারা এ ধরনের বিজ্ঞানকে কতটা আয়ত্ত করেছিলেন তারও প্রমাণ মেলে এসব বস্তু থেকে। এসব বস্তু যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনই চিত্তাকর্ষক ও মনোহর।

ইসলামি সভ্যতায় মুসলিম বিজ্ঞানীরা কয়েকটি জটিল যান্ত্রিক আবিষ্কার সম্পন্ন করেছেন। এসব যন্ত্র কেবল এদের সেই ভূমিকাই পালন করবে যে, প্রতিভাবান কেবল উদ্ভাবক এতেই সন্তুষ্ট থাকেননি। বরং কীভাবে এগুলো আরও বেশি নান্দনিক ভূমিকা পালন করবে, সেদিকেও তারা মনোযোগী ছিলেন। কিছু যন্ত্রের উদাহরণ নিচে পেশ করা হলো।

**ঘড়ি**

ইবনে কাসির উল্লেখ করেছেন যে, জামে দিমাশকের একটি ফটকের নাম ছিল বাবুস সাআত বা ঘড়ি-ফটক। কারণ এই ফটকে কিছু ঘড়ি স্থাপন করা হয়েছিল। ঘড়িগুলো উদ্ভাবন করেছিলেন ঘড়ি-নির্মাতা প্রকৌশলী মুহাম্মাদ ইবনে আলি, যিনি ছিলেন ফখরুদ্দিন রিদওয়ান ইবনুস সাআতির পিতা। প্রধান ঘড়ি থেকে দিবসের প্রতি ঘণ্টার অতিক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারটি টের পাওয়া যেত।

এই ঘড়ির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন ইবনে জুবায়েরও। তিনি বলেছেন, বাবে জিরুনের (জিরুন ফটক) বাইরের দিকে ডানপাশে সম্মুখবর্তী যে প্রাসাদ রয়েছে তার প্রাচীরে একটি কক্ষ বিদ্যমান। কক্ষটিতে একটি বড় গোলাকার খিলানের মতো কাঠামো রয়েছে, দিবসের ঘণ্টার সংখ্যানুপাতে এতে রয়েছে পিতলের তৈরি কয়েকটি বৃত্তাকার ছোট খিলান, প্রকৌশলীয় পরিমাপে প্রস্তুত করা হয়েছে এগুলো। দিবসের একটি ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলেই পিতলের কাঠামোতে নির্মিত দুটি বাজপাখির মুখ থেকে পিতলের দুটি করতাল পতিত হয়। বাজপাখি দুটি দাঁড়িয়ে আছে পিতল-নির্মিত দুটি ছড়ানো পাত্রের (থালার) ওপর। একটি বাজপাখি আছে এই দরজাগুলোর প্রথমটির নিচে, এবং দ্বিতীয় বাজপাখিটি আছে শেষ দরজাটির নিচে। থালা দুটি ছিদ্রযুক্ত; এগুলোতে গোল বল দুটি আঘাত করলে দেয়ালের অভ্যন্তরের কক্ষে ঢুকে যায় এবং দেখা যায় যে, বাজপাখি দুটি থালার দিকে বলসহ তাদের গলা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং খুব দ্রুত বল দুটি নিক্ষেপ করছে। আশ্চর্যজনক কৌশল! দেখলে মনে হয় জাদু ছাড়া কিছু নয়। বল দুটি যখন থালা দুটির ওপর পড়ে, ঝনঝন আওয়াজ শোনা যায়। তখনই দিবসের অতিক্রান্ত ঘণ্টাটির জন্য নির্ধারিত দরজাটি একটি পিতলের পাতের দ্বারা ঢেকে যায়। দিবসের প্রতি ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার সময় ঘড়িটি এভাবেই সচল থাকে। দিবসের ঘণ্টাগুলো শেষ হয়ে যায়, সেগুলোর নির্ধারিত দরজাগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। পরের দিন আবার প্রথম অবস্থায় ফিরে আসে।

রাতেরবেলার জন্য ঘড়িটির অন্য কৌশল রয়েছে। তা এই যে, উপরিউক্ত ছোট খিলানগুলোর উপরে স্থাপিত বাঁকযুক্ত ধনুকটিতে পিতলের বারোটি বৃত্ত রয়েছে, বৃত্তগুলো ছিদ্রযুক্ত। কক্ষে প্রাচীরের ভেতর থেকে বৃত্তগুলোর উপরে রয়েছে কাচের আড়াল। কাচের পেছনে রয়েছে একটি বাতি, পানির সাহায্যে ঘণ্টার সময়ের অনুপাতে বাতিটি ঘোরে। রাতের একটি ঘণ্টা কেটে গেলে কাচের ওপর বাতির আলো পরিপূর্ণভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং কাচের সামনে যে বৃত্ত রয়েছে তাতে কাচের রশ্মি ছড়িয়ে যায়, তখন দৃষ্টিতে ভেসে ওঠে একটি লালাভ বৃত্ত। তারপর ওই বাতি অন্য বৃত্তের কাছে চলে যায়, রাতের ঘণ্টাগুলো কেটে যেতে থাকে এবং একটির পর একটি লালাভ আকৃতি নিয়ে দৃশ্যমান হতে থাকে। ঘড়িটির তত্ত্বাবধান ও অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য কক্ষে একজন লোক নিযুক্ত করা হয়েছে, সে ঘড়ির কার্যক্রম ও পরিবর্তন সম্পর্কে অভিজ্ঞ। দরজাগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া ও করতাল যথাস্থানে রাখা তার কাজ। মানুষ এটির নাম দিয়েছে 'আল-মিনজানা' (অর্থাৎ ঘড়ি)।

এ তো গেল ঘড়ির কথা। আব্বাসি খলিফা হারুনুর রশিদ হিজরি দ্বিতীয় শতকে (খ্রিষ্টীয় নবম শতক, ৮০৭ সালের দিকে) তার বন্ধু ফরাসি সম্রাট শার্লেমাইনের কাছে একটি আশ্চর্যজনক উপঢৌকন পাঠান। উপঢৌকনটি ছিল একটি বিরাটাকার ঘড়ি, ঘড়িটি কামরার দেয়ালের সমান উঁচু এবং অভ্যন্তরীণ জলীয় (ব্যবস্থায় উৎপাদিত) শক্তিতে সঞ্চালিত হয়। প্রতি ঘণ্টা শেষে নির্দিষ্ট সংখ্যক ধাতব বল ঘণ্টার সংখ্যানুপাতে একের পর এক পতিত হয়। বলগুলো পতিত হয় একটি পিতলের পাত্রের ওপর, ফলে একটি সংগীতময় অনুরণন শোনা যায়, পুরো প্রাসাদজুড়ে অনুভূত হয় তার গুঞ্জরণ। ঠিক একই সময়ে ঘড়িটির অভ্যন্তরীণ বারোটি দরজার একটি দরজা খুলে যায় এবং সেই দরজা দিয়ে একজন অশ্বারোহী বেরিয়ে এসে ঘড়িটির চারপাশে ঘোরে। তারপর যেখান থেকে বেরিয়ে এসেছিল সেখানেই ফিরে যায়। ঘড়িতে বারোটা বাজার সময় বারোটি দরজা দিয়ে একসঙ্গে বারোজন অশ্বারোহী বেরিয়ে আসে এবং ঘড়িটির চারপাশে পূর্ণ এক চক্কর দিয়ে ফিরে যায়। দরজাগুলো দিয়ে ভেতরে প্রবেশের পর দরজা বন্ধ হয়ে যায়।

এই ঘড়ি সম্পর্কে আরব ও অনারব উৎস-গ্রন্থসমূহে এমনই বৈশিষ্ট্যাবলী বর্ণিত হয়েছে। ঘড়িটি তৎকালে শিল্পের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বস্তু বলে বিবেচিত হয়েছিল। এমনকি তা ফরাসি সম্রাট ও তার সহচরদেরও বিস্ময়াভিভূত করে তুলেছিল। কিন্তু প্রাসাদের পুরোহিতদের মনে এই বিশ্বাস জন্মাল যে, ঘড়ির ভেতরে নিশ্চয় একটি শয়তান রয়েছে, ওই শয়তানই ঘড়িটিকে নাড়ায়। ফলে তারা রাতের অপেক্ষায় থাকল। রাতেরবেলা কুড়াল নিয়ে উপস্থিত হলো। কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে ঘড়িটি পুরো ধ্বংস করে ফেলল। তবে তারা ভেতরে কিছুই পেল না।

ইতিহাসের উৎসগুলো বরাবরই এসব বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছে এবং বলেছে, আরবরা এই ধরনের যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন ও উন্নতিসাধনে যুগধর্মকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তার আরও উদাহরণ আছে। খলিফা আল-মামুনের যুগে ফরাসি সম্রাটকে অধিকতর উন্নত একটি ঘড়ি উপহার দেওয়া হয়েছিল। ঘড়িটি চলন্ত শিকলের সঙ্গে যুক্ত পাথরের বলের সাহায্যে উৎপাদিত যান্ত্রিক শক্তির দ্বারা। এই শক্তি ছিল জলীয় শক্তির বিকল্প।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, চিন্তা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ইসলামি প্রতিভা সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছেছিল। এসব উদ্ভাবনে জ্ঞানগত দিক ও নান্দনিক দিকের সমন্বয় সাধিত হয়েছিল।

**যন্ত্রমানব!**

বিশ্ব তো এখন সেই যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে যে যুগকে বলা হচ্ছে যন্ত্রমানবের যুগ। গত কয়েক দশকে যন্ত্রমানবের প্রযুক্তি দ্রুত ও অভাবিত উন্নতি লাভ করার ফলে এ কথা বলা সম্ভব হচ্ছে। আমাদের ইসলামি জ্ঞান-উৎসগুলো ইঙ্গিত করে যে, যন্ত্রমানবের প্রযুক্তির সূচনা ঘটেছিল ইসলামি সভ্যতার যুগে।

যন্ত্রপ্রকৌশলী, বিজ্ঞানী বদিউযযামান আবুল ইয্য ইসমাইল ইবনে রাযায জাযারির হাতে যন্ত্রমানবের প্রযুক্তি সূচিত হয়েছিল। তিনি হিজরি ষষ্ঠ শতকে তার জীবৎকাল কাটিয়েছেন। তিনিই প্রথম যন্ত্রমানব উদ্ভাবন করেছিলেন, যা ঘরের মধ্যে সেবাদানে সক্রিয় ছিল। খলিফা তার কাছে এমন একটি যন্ত্র প্রস্তুত করে দেওয়ার আবেদন জানান, যার ফলে খলিফা যখনই নামাযের জন্য অজু করতে চাইবেন খাদেমদের প্রয়োজন পড়বে না, যন্ত্রই সেই প্রয়োজন পূরণ করবে। আল-জাযারি তার জন্য খাদেমের আকৃতিতে খাড়া একটি যন্ত্র তৈরি করে দিয়েছিলেন। যন্ত্রটির এক হাতে ছিল একটি পানির পাত্র, অপর হাতে ছিল একটি তোয়ালে। তার পাগড়ির ওপর দাঁড়ানো ছিল একটি চড়ুই। নামাযের সময় হলে পাখিটি কিচিরমিচির ডেকে উঠত। তারপর খাদেমটি তার মনিবের দিকে এগিয়ে আসত। পানির পাত্র থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি ঢেলে দিত। মনিব অজু শেষ করলে সে তোয়ালে এগিয়ে দিত। তারপর সে তার জায়গায় ফিরে যেত এবং চড়ুইটি গান গেয়ে উঠত!

**আল-কুরআনের ইলেক্ট্রনিক বাহক!**

এই আধুনিক কালে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরের লরেন্তিয়ান গ্রন্থাগারে উপকারী কলাকৌশল (প্রকৌশল)-বিষয়ক একটি পাণ্ডুলিপি আবিষ্কৃত হয়। পাণ্ডুলিপিটির শিরোনাম 'আল-আসরার ফি নাতায়িজিল আফকার'। স্প্যানিশ-আরবীয় যুগে রচিত হয়েছে এই পাণ্ডুলিপি। এতে ওয়াটারমিল (Watermill) ও ওয়াটার কম্প্রেসর (Water compressor)-সংশ্লিষ্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের (পার্টস) বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। যন্ত্রের বা মেকানিক্যাল মেশিনের ত্রিশটিরও বেশি প্রকারের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এই গ্রন্থে। রয়েছে অত্যন্ত উন্নত সূর্যঘড়ি নির্মাণের কলাকৌশল। ইউনিভার্সিটি অব বার্সেলোনার আরবীয় বিজ্ঞান-ইতিহাসের অধ্যাপক জুয়ান ভার্নেট গিনেস (Juan Vernet Ginés) বলেন, এটা আমি জোর দিয়ে বলতে পারি যে, ‘আল-আসরার ফি নাতায়িজিল আফকার’ গ্রন্থটি স্প্যানিশ-আরবীয় লেখক আহমাদ (অথবা মুহাম্মাদ) ইবনে খাল্ফ আল-মুরাদির রচনা। তিনি হিজরি পঞ্চম শতকে (খ্রিষ্টীয় একাদশ শতকে) তার জীবৎকাল অতিবাহিত করেছেন। তার উদ্দেশ্য ছিল যান্ত্রিক খেলনা প্রস্তুতকরণের কৌশল শিক্ষাদান। এসব খেলনার অধিকাংশই ছিল ব্যবহার-উপযোগী, যেমন সূর্যঘড়ি। ভার্নেট আরও জোরালোভাবে মন্তব্য করেন যে, এই গ্রন্থ এবং Schmelzer কর্তৃক ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান ভাষায় অনূদিত অপর একটি গ্রন্থের মধ্যে নিকট-সম্পর্ক রয়েছে। ভার্নেট নিশ্চিতভাবে এটাও জানিয়েছেন যে, ফরাসি নকশাবিদ ও স্থপতি Villard de Honnecourt-আরবীয় বিশ্বের প্রযুক্তি সম্পর্কে বিশেষভাবে জ্ঞাত ছিলেন, যিনি খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে তার জীবৎকাল অতিবাহিত করেছেন। আরবীয় প্রযুক্তি-বিজ্ঞান একটি স্থায়ী আন্দোলন জিইয়ে রেখেছে।

আল-মুরাদির গ্রন্থে উন্নত প্রযুক্তির যেসব নমুনার চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে তার মধ্যে ‘হামিলুল মুসহাফ’ বা আল-কুরআনের বাহক আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সবচেয়ে বেশি। এটি কর্ডোভার জামে মসজিদে রয়েছে। কুরআনুল কারিমের একটি দুর্লভ কপি এতে বিদ্যমান। হাত দিয়ে ধরা ছাড়াই কপিটি হাতের নাগালে পাওয়া যায় এবং পাঠ করা যায়। কারণ যান্ত্রিক পদ্ধতিতে খুলে যায় কুরআন শরিফের হোল্ডার বা ধারকটি। কুরআন শরিফটি রয়েছে একটি বন্ধ সিন্দুকের মধ্যে একটি সচল তাকের ওপর, সিন্দুকটি রয়েছে মসজিদের উঁচু অংশে। সিন্দুকের চাবি ঘোরানো হলে তার দুটি দরজা সঙ্গে সঙ্গে ভেতর দিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায় এবং তাকটি নিজ থেকেই কুরআনের কপিটি বহন করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে উঠে যায়। একই সময়ে কুরআনের ধারকটি খুলে যায় এবং সিন্দুকের দরজা দুটি বন্ধ হয়ে যায়। সিন্দুকের তালায় নতুনভাবে চাবি ঢোকালে এবং বিপরীত দিকে ঘোরালে আগের ক্রিয়াগুলোই একের পর এক বিপরীতভাবে ঘটে। এসব ব্যাপার ঘটে এমন কলাকৌশল ও যন্ত্রের সাহায্যে যেগুলো চোখের আড়ালেই থেকে যায়।

মুসলিমরা এসব উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকে উপহার দিয়েছে এমন এমন যন্ত্র ও বস্তু যা তাদের সভ্যতার সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা এবং তাদের রুচির সূক্ষ্মতা ও উৎকৃষ্টতাই প্রমাণ করে।

টিকাঃ
২৭. উমাইয়া মসজিদ, দামেশক গ্রেট মসজিদ নামেও পরিচিত।- অনুবাদক
২৮. অন্য বর্ণনামতে, এটি ছিল দামেশকের একটি ফটক। যা বাবে শারকি বা পূর্ব ফটক নামেও পরিচিত ছিল।- অনুবাদক
২৯. ইবনুস সাআতি : দিরদওয়ান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে রুস্তম, ফখরুদ্দিন আল- খুরাসানি, ইবনুস সাআতি (মৃ. ৬১৮ হি./১২২১ খ্রি.)। চিকিৎসক, দার্শনিক ও কবি। তার পিতা ছিলেন ঘড়িনির্মাণ-প্রকৌশলী। এ কারণেই তার নাম হয়েছিল আস-সাআতি (ঘড়ি-নির্মাতা)। তিনি দামেশকে জন্মগ্রহণ করেন এবং মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন, যাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, খ. ২১, পৃ. ৪৭১।
৩০. কক্ষের খিলানের মতো কাঠামোতে যেসব বৃত্তাকার ছোট খিলানকে দরজার রূপ দেওয়া হয়েছে।
৩১. ইবনে জুবায়ের, রিহলাতু ইবনে জুবায়ের, পৃ. ২৪০-২৪১।
৩২. প্রাগুক্ত।
৩৩. শার্লেমাইন বা শার্ল দা গ্রেট (Charlemagne): ৭৬৮ সাল থেকে ফরাসিদের রাজা এবং ৮০০ সাল থেকে তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রোমান সম্রাট ছিলেন। পশ্চিমা রোমান সাম্রাজ্যের পতনের তিন শতাব্দী পর, শার্লেমাইন ছিলেন পশ্চিম ইউরোপের প্রথম সম্রাট। তিনি ফরাসি সাম্রাজ্যকে অনেক বর্ধিত করে তার মধ্য এবং পশ্চিম ইউরোপের অধিকাংশ রাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করেন। রাজত্বকালে তিনি ইতালীয় সাম্রাজ্য দখল করেন এবং পোপ তৃতীয় লিয়ো ৮০০ খ্রি. ২৫ ডিসেম্বর রোম নগরে তাকে ইমপেরাতোর আউগুল্লুস হিসেবে অভিষিক্ত করেন। ৭৬৮ খ্রিষ্টাব্দে পেপিন দা শর্ট-এর মৃত্যুর পর শার্লেমাইন তার ভাই প্রথম কার্লোমানের সাথে ফরাসিদের রাজা হন। ৭৭১ সালে প্রথম কার্লোমানের আকস্মিক মৃত্যুর পর তিনি ফরাসি রাজ্যের (বর্তমান কালের বেলজিয়াম, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস এবং পশ্চিম জার্মানি) নিরঙ্কুশ আধিপত্য গ্রহণ করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত রাজত্ব করেন। সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তিনি রাজ্যকে সাম্রাজ্যে পরিণত করেন, যা ছিল পশ্চিম এবং মধ্য ইউরোপের অধিকাংশ এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। তার জন্ম ৭৪২ খ্রিষ্টাব্দে এবং মৃত্যু ৮১৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি।-অনুবাদক
৩৪. লুইস সিডিও তার Histoire des Arabes 1854, আরবি অনুবাদ: তারিখুল আরাবিল আম গ্রন্থে বিষয়টির সত্যতা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেখুন, মুহাম্মাদ কুরদ আলি, আল-ইসলাম ওয়াল-হাদারাতুল আরাবিয়্যা, খ. ১, পৃ. ২২৬।
৩৫. জাযারি: তার আল জামে বাইনাল ইলমি ওয়াল আমাল আল নাফি ফি সিনায়াতিল হিয়াল গ্রন্থ থেকে। ১৯৭৪ সালে গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেন এই নামে The Book of Knowledge of Ingenious Mechanical Devices. আধুনিক বিজ্ঞানের ইতিহাস-রচয়িতা গ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রচিত এটিই সবচেয়ে ব্যাখ্যামূলক ও বিবরণ-সংবলিত গ্রন্থ। মুসলিমদের এই ধরনের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এটিকে শিখর হিসেবে বিবেচনা করা যায়। দেখুন, ড. আহমাদ ফুয়াদ পাশা, আত-তুরাসুল ইলমিয়্যিল ইসলামিয়্যি.. শাইউন মিনাল মাযি আম যাদুন লিল-আতি, পৃ. ৩১।
৩৬. লরেন্তিয়ান গ্রন্থাগার (Biblioteca Medicea Laurenziana or BML) ইতালির ফ্লোরেন্সে অবস্থিত। এটি একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থাগার। এই গ্রন্থাগারে ১১ হাজারেরও বেশি পাণ্ডুলিপি ও ৪ হাজার প্রাচীন মুদ্রিত গ্রন্থ সংরক্ষিত রয়েছে। গ্রন্থাগারটি মেডিসি পোপ ক্লিমেন্ট সপ্তমের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়েছিল। স্থাপত্যশৈলীর জন্য গ্রন্থাগারটি অত্যন্ত বিখ্যাত। মহান শিল্পী মাইকেলেঞ্জেলো গ্রন্থাগারটির নকশা করেছিলেন।-অনুবাদক
৩৭. দেখুন, ড. আহমাদ ফুয়াদ পাশা, আত-তুরাসুল ইলমিয়্যিল ইসলামিয়্যি, পৃ. ৩৫-৩৬।
৩৮. জোয়ান ভার্নেট, আল-ইনজাযাতুল মিকানিকিয়্যা ফিল-গারবিল ইসলামি, মাজাল্লাতুল উলুমিল আমরিকিয়‍্যাহ, আরবি অনুবাদ, কুয়েত, অক্টোবর-নভেম্বর, ভলিউম ১০, ১৯৯৪ খ্রি.। প্রাগুক্ত উৎস থেকে উদ্ধৃত, পৃ. ৩৫।

📘 মুসলিমজাতি বিশ্বকে কী দিয়েছে > 📄 শিল্প-সামগ্রীর সৃজনশীলতা

📄 শিল্প-সামগ্রীর সৃজনশীলতা


নান্দনিকতার ক্ষেত্রে শিল্পসামগ্রীর মূল্য তেমন কোনো প্রভাব রাখে না। কারণ এখানে সামগ্রীটির যে সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা রয়েছে তারই আলোচনা হয়, তার মূল্যের নয়। অকিঞ্চিৎকর সামগ্রীর মধ্যেও সৌন্দর্যের এমন নমুনা পাওয়া যায় যা জনজীবনের সবচেয়ে সূক্ষ্ম বিষয়কে ফুটিয়ে তোলে, তাদের শৈল্পিক নির্মাতাদের জ্ঞানজগৎকে মূল্যায়ন এবং তাদের উদ্ভাবক ও সংগ্রাহকদের প্রয়োজন অনুধাবনে সাহায্য করে।

গুস্তাভ লি বোঁ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, আরবদের মধ্যে সব জায়গাতেই শিল্পকলার বিস্তৃতি ঘটেছিল। আরবরা যেসব বস্তু প্রস্তুত করেছে, চমৎকারিত্ব ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের আদলে সেগুলোকে গড়েছে। যা থেকে প্রমাণিত হয় যে, তাদের সামান্যতম নির্মাণও শৈল্পিক রুচির পরিচয় বহন করে।

ইসলামি শিল্পকলায় শোভা ও অলংকারের অশেষ আঙ্গিক ও রীতি সব স্থানেই পাওয়া যায়, তা কেবল কুরআনুল কারিমের পৃষ্ঠাগুলোতে অলংকৃত লিপির অনন্য উদাহরণগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়। গল্প-সংকলন বা কবিতা- সংকলনের যেসব কপি খলিফাদের বা আমিরদের উপহার দেওয়া হতো অনুরূপ আঙ্গিকে অলংকারে শোভিত থাকত। উৎকর্ষপূর্ণ ও শিখরস্পর্শী অলংকরণশিল্পের অস্তিত্ব কেবল মসজিদে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা পান্থশালা, মাদরাসা ও আবাসগৃহেও তার উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছে।

একইভাবে সংখ্যাহীন শৈল্পিক আঙ্গিক কেবল মসজিদে কুরআন শরিফের কপি রাখার তেপায়াকে আচ্ছাদিতকরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং একজন মুসলিম যেসব পাত্র থেকে খাদ্য গ্রহণ করত তাতেও পাওয়া যেত। পাওয়া যেত সৈনিকের বর্মে, তার তরবারিতে এবং মাথা ঢাকার রুমালেও। অলংকরণগুলো হতো একই পদ্ধতি মেনে। এ কারণে এটাই সবচেয়ে সংগত যে আমরা ইসলামি শিল্পকে একটি অনন্য ও অসাধারণ প্রকরণ হিসেবে বিবেচনা করব। সকল শোভামণ্ডিত বস্তু ও নান্দনিক সামগ্রীর ক্ষেত্রে যেরূপ ব্যবহারের জন্য এগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে তা থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়েও এ কথা বলা যায়।

ইসলামি শিল্পসামগ্রীতে, সেগুলোর গুরুত্ব যত কমই হোক না কেন, নান্দনিকতার বিস্তার একটি বিষয়, ইসলামি সভ্যতার মর্যাদা প্রকাশে এর আলাদা প্রদর্শনীর প্রয়োজন নেই।

নান্দনিকতার সূচনা ঘটেছে ইসলামের শুরুর যুগেই। বর্ণিত হয়েছে যে, ওহুদ যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু দুজানাকে যে তরবারিটি দিয়েছিলেন তার একপাশে খচিত ছিল নিম্নরূপ পঙ্ক্তি:

في الجبن عار وفي الإقبال مكرمة والمرء بالجبن لا ينجو من القدر
ভীরুতায় রয়েছে কলঙ্ক, এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই রয়েছে সম্মান। মানুষ ভীরুতা অবলম্বন করে তার ভাগ্যলিপি থেকে মুক্তি পায় না।

কবিতা হলো সেই জাদু যার জন্য আরবেরা সবসময় ছিল উল্লসিত ও পাগলপারা।

এরপর থেকেই ইসলামি শিল্পসামগ্রীর উৎকর্ষ সাধিত হতে থাকে এবং অবশেষে নান্দনিকতার এক আশ্চর্যজনক পর্যায়ে পৌঁছায়। একইসঙ্গে ইসলামি রাজ্যগুলোতে তার সাংস্কৃতিক বিস্তৃতিও ঘটে।

গুস্তাভ লি বোঁ তো ইসলামি শিল্পকলাকে পর্যবেক্ষণ করে বিস্ময়বিহ্বল হয়ে পড়েছেন; তিনি শিল্পকৌশল, অলংকরণ ও নকশাখচিত করা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, কোনো কোনো বিষয় তাদের এতটাই আয়ত্তে এসেছিল এবং তারা এতটা দক্ষ হয়ে উঠেছিল যে আমাদের এ যুগেও সেই পর্যায়ে পৌঁছা অসম্ভব মনে হয়।

যাবতীয় ইসলামি শিল্পসামগ্রীই মহৎ শিল্পকর্মে রূপান্তরিত হয়েছে : তরবারি, বর্ম, বর্শা, কিরিচ, খঞ্জর, শিরস্ত্রাণ, চিঠি আদান-প্রদানের নল বা বেলন; গৃহের তৈজসপত্র ও সাজসরঞ্জাম, যেমন: চেয়ার, টেবিল, অলংকারের বাক্স, বিভিন্ন জিনিস সংরক্ষণের সিন্দুক, খাবারের পাত্র ও থালা, জগ, পানপাত্র ও কাপ, চীনামাটির বাসনকোসন, দোয়াত এবং দরজা ও জানালা, কাপড়, পোশাক-পরিচ্ছদ, বিছানা-বালিশ, ঘোড়ার জিন, মসজিদের বাতি, মিম্বার, মোমদানি, দাঁড়িপাল্লা, চাবি, তালা, দরজার চৌকাঠ, কুঠার, লেখার যন্ত্রপাতি, চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, এমনকি হুক্কাও। এগুলো তো বটেই, এ ছাড়াও এমনকিছু শিল্পসামগ্রী রয়েছে যেগুলোর মধ্যে খচিত নকশা ও অলংকরণই মৌলিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। যেমন: কানের দুল, গলার হার, হাতের আংটি, পাগড়ির প্রান্ত, নূপুর ইত্যাদি। এগুলো ছাড়াও রয়েছে অলংকরণের আরও বিভিন্ন উপকরণ।

উইল ডুরান্ট সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আরবরা তাদের পূর্ববর্তীদের যেসব শিল্পের আয়ত্তীকরণ করেছে, তা তারা যথার্থভাবে আয়ত্তীকরণ করেছে, অনুকৃতি বা নকল করা নয়। আয়ত্তীকরণের মধ্য দিয়ে তারা নতুন নতুন ও মৌলিক বহু কিছু উদ্ভাবন করেছে। তিনি বলছেন, বরং তাদের শিল্পকলায় বিভিন্ন কাঠামো ও আকৃতির মধ্যে সৃজনশীল ও উজ্জ্বল সমন্বয় ঘটেছে। মুসলিমরা অন্যান্য জাতি থেকে যা-কিছু গ্রহণ করেছে তাতে এর মর্যাদা হ্রাস পায় না। যে ইসলামি শিল্পকলা ছড়িয়ে পড়েছে আন্দালুসের আল-হামরা প্রাসাদ থেকে ভারতের তাজমহল পর্যন্ত তা অতিক্রম করেছে স্থানের ও কালের সকল সীমা। উপাদান ও জাতির মধ্যে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে গিয়ে তা মূলত কৌতুক করেছে এবং এক অনন্য শৈলীর জন্ম দিয়েছে। কিন্তু সেই শৈলীর বিভিন্ন প্রকরণ রয়েছে। ইসলামি শিল্পকলা মানবাত্মাকে প্রকাশ করেছে অফুরন্ত সৌষ্ঠব ও রুচিবোধের মধ্য দিয়ে, যাকে ওই সময় পর্যন্ত কোনোকিছু ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।

'আতলাসুল হাদারাতিল ইসলামিয়্যা' গ্রন্থের প্রণেতাদ্বয় (ড. ইসমাইল রাযি ফারুকি ও ড. লুইস লামিয়া ফারুকি) মনে করেন, ইসলামি অলংকরণ তার অশেষ প্রকরণ ও রীতির মধ্য দিয়ে একটি বিষয় প্রকাশ করার ক্ষেত্রে যত্নশীল থেকেছে, তা হলো একত্ববাদ বা তাওহিদ। সবকিছুতে ইসলামি অলংকরণের বিস্তৃতি ইসলামি চিন্তাকেই প্রতিফলিত করেছে। একজন মুসলিমের প্রতিটি উদ্যোগ ও কর্ম হবে আবশ্যিকভাবে ইসলামি চিন্তাধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটাই ইসলামি চিন্তার দাবি।

এ কারণেই উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যখন মুসলিম শিল্পী লেখালেখির সরঞ্জামাদি রাখার কাঠের একটি সাধারণ বাক্স অলংকরণ করেন, তা তিনি অলংকৃত করেন হাতির দাঁত, ঝিনুক ও রঞ্জিত কাঠের টুকরো দিয়ে; ফলে কাঠের মূল কাঠামোটি কেবল যে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে তা নয়, অপরিচিতও হয়ে ওঠে। ফলে বোঝাই যায় না এটি কি ওক কাঠ, না সেগুন, না মেহগনি।

বড় বড় প্রাসাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যেখানে নির্মাণের মূল উপাদানগুলো অলংকরণ-স্তরের নিচে পুরোপুরিই ঢাকা পড়ে গেছে। যে চিন্তা মৌলিক উপাদানরাশির বস্তুগত মূল্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করে না তা-ই এখানে সৌন্দর্যকে বস্তুগত মূল্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করার মধ্য দিয়ে মূর্ত হয়ে উঠেছে; এটাই সাধারণ ইসলামি চিন্তার নির্যাস, যে চিন্তা বস্তুগত মূল্যের ক্ষেত্রে বিমুখ। এই চিন্তার ফলে সৌন্দর্য তার ঔজ্জ্বল্য ও চাকচিক্য ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে সাধারণ ও বস্তুগত দিক থেকে নগণ্যমূল্য জিনিসের মধ্যেও। এ সবকিছু প্রথমত নান্দনিকতা ও সৌন্দর্যকে তার মূল্য দিয়েছে এবং সবচেয়ে বড় মূল্য দিয়েছে মানবের অস্তিত্বকে।

এই যে দৃষ্টিভঙ্গি—যা ইসলামের শিল্পদর্শনকে মূর্ত করে তোলে তা নিজেই একটি বড় অবদান, দীর্ঘ সময় নিয়ে তার সামনে দাঁড়ানো উচিত। ইসলামি ভাবপ্রবণতাকে কাঠামোবদ্ধ রূপদান এবং প্রকৃতি ও স্রষ্টা, জীবন ও বিশ্বের জন্য মানবিক বোধ নির্মাণে তা কী গভীর অবদান রেখেছে তা পুঙ্খানুরূপে যাচাই করা উচিত।

নিচের চিত্রগুলো থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, ইসলামি শিল্পসামগ্রীতে—তার মূল্য যত কমই হোক না কেন—সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা ছিল একটি মৌলিক উপাদান এবং তার উপস্থিতি সব ধরনের সামগ্রীতেই ছিল।

টিকাঃ
৩৯. গুস্তাভ লি বোঁ, হাদারাতুল আরাব, পৃ. ৫০৭।
৪০. ড. ইসমাইল রাযি ফারুকি ও ড. লুইস লামিয়া ফারুকি, আতলাসুল হাদারাতিল ইসলামিয়্যা, পৃ. ৫৩৯।
৪১. ফারুকি, আস-সিরাতুল হালাবিয়্যাহ, খ. ২, পৃ. ৪৯৭।
৪২. গুস্তাভ লি বোঁ, হাদারাতুল আরাব, পৃ. ৫১১।
৪৩. উইল ডুরান্ট, The Story of Civilization, আরবি অনুবাদ: কিসসাতুল হাদারাহ থেকে উদ্ধৃত, খ. ১৩, পৃ. ২৪০।
৪৪. গ্রন্থটির মূল নাম The Cultural Atlas of Islam। আরবি অনুবাদ: ড. আবদুল ওয়াহিদ লু'লু। -অনুবাদক
৪৫. ড. ইসমাইল রাযি ফারুকি ও ড. লুইস লামিয়া ফারুকি, আতলাসুল হাদারাতিল ইসলামিয়্যা, পৃ. ৫৪০ ও তার পরবর্তী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00