📘 মুসলিমজাতি বিশ্বকে কী দিয়েছে > 📄 মাদরাসা বা বিদ্যালয়

📄 মাদরাসা বা বিদ্যালয়


হিজরি পঞ্চম শতাব্দী থেকে ইসলামি সভ্যতায় মাদরাসা পরিচিত হয়ে উঠেছিল। তার কারণ, মসজিদগুলোতে ইলমি হালকা অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছিল। প্রথম যে মসজিদটি মাদরাসায় রূপান্তরিত করা হয় তা হলো জামে আল-আযহার। ৩৭৮ হিজরিতে এটিকে মাদরাসা বা বিদ্যালয়ের রূপ দেওয়া হয়। পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত ইসলামি বিশ্বের শহরগুলো মাদরাসায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওয়াকফকৃত সম্পত্তির ওপর এ সকল মাদরাসার ভিত প্রতিষ্ঠিত হয়। ধনী নেতৃবৃন্দ, আলেম-উলামা, ব্যবসায়ী, আমির-উমারা ও বাদশাহ-উজিরদের ওয়াকফকৃত সম্পত্তিতে এসব মাদরাসা পরিচালিত হতো।

সত্যি বলতে, ইসলামি সভ্যতায় মাদরাসা এই সভ্যতার মতোই প্রাচীন। ইবনে কাসির ৩৮৩ হিজরি সালের ঘটনাবলি বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, উজির আবু নাসর সাবুর ইবনে আরদাশির (১০০) কারখে (১০১) একটি বাড়ি কিনলেন। বাড়িটির ইমারত নতুনভাবে সংস্কার করলেন। অসংখ্য বইপত্র এনে এতে জমা করলেন। তারপর বাড়িটি ফকিহদের জন্য ওয়াকফ করে দিলেন। বাড়িটির নাম রাখলেন দারুল ইলম। আমি ধারণা করি এটিই প্রথম মাদরাসা যা ফকিহদের জন্য ওয়াকফ করা হয়। এটি বাগদাদের নিজামিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠার বহু পূর্বের ঘটনা। (১০২)

মাদরাসা-প্রতিষ্ঠা ব্যাপকতা লাভ করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দামেশকে প্রথম মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয় ৩৯১ হিজরিতে। এটি নির্মাণ করেন শুজা উদ-দাওলা সাদির ইবনে আবদুল্লাহ (১০৩)। মাদরাসাটির নাম রাখা হয় আল-মাদরাসাতুস সাদিরিয়‍্যাহ (১০৪)। তারপর তাকে অনুসরণ করেন দামেশকের কারি রাশা ইবনে নাযিফ(১০৫)। তিনি প্রায় চারশর মতো রাশায়ি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মসজিদে যেসব ইলমি হালকা বসত সেগুলো থেকে বেরিয়ে ছাত্ররা এসব মাদরাসায় ভর্তি হয়। বিশেষ শাখার জ্ঞান অর্জনের জন্য তারা নির্ধারিত স্থান পায়। ফলে এখানে ছাত্রদের জন্য এবং শাইখ ও শিক্ষকদের জন্য সম্পত্তি ওয়াকফ করা হয়। তাদের সকলের জন্য জ্ঞানচর্চার অবারিত উপকরণ মেলে। (১০৬)

প্রথম দিকে এসব মাদরাসা ছিল পারিবারিক বা ব্যক্তিগত। তারপর খিলাফত ও সরকারি প্রতিষ্ঠান মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে। এ কাজটি শুরু হয় (সেলজুক সাম্রাজ্যের) প্রখ্যাত উজির নিজামুল মুলক আত-তুসির(১০৭) কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। তিনি তার শাসনকালে মাদরাসাগুলোকে সরকারীকরণ করেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানই মাদরাসার ব্যয়ভার বহন করতে শুরু করে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষক নিয়ে আসে।

তিনি বেশ কয়েকটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে ইসলামি সভ্যতার উৎকর্ষ সাধনে যে অবদান রেখেছেন তা তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ কর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং তা তাকে অমরত্ব দিয়েছে। তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং তার নামে এগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। যেমন আল-মাদারিসুন নিযামিয়্যাহ। এসব মাদরাসাকে ইসলামের ইতিহাসে প্রথম প্রকারের জ্ঞান-সংস্থা ও নিযামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিবেচনা করা হয়। এসব মাদরাসার ছাত্রদের জন্য শিক্ষা ও জীবনযাপনের সব রকমের উপকরণ সরবরাহ করা হতো। নিযামি মাদরাসাগুলো ছিল হাদিস ও ফিকহ পঠনপাঠনের জন্য বিশেষায়িত। এসব মাদরাসার ছাত্ররা খাবার ও আবাসন পেত, তাদের অনেককে মাসিক ভাতাও প্রদান করা হতো।

নিযামুল মুলকের উৎসাহ ও উদ্যম এবং বিভিন্ন অঞ্চলে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার ফলে যা ঘটল তা অভাবনীয়। ডজন ডজন মাদরাসায় ইরাক ও খোরাসান ভরে গেল। এমনকি এ ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে যে, ইরাক ও খোরাসানের প্রতিটি শহরে ও নগরে একটি করে মাদরাসা ছিল। নিযামুল মুলক শহরে তো বটেই, প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি যে অঞ্চলেই কোনো আলেম পেয়েছেন এবং তাকে জ্ঞান-বিদ্যায় দক্ষ ও অনন্য দেখেছেন, তার জন্য একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন। মাদরাসাটির জন্য সম্পত্তি ওয়াকফ করেছেন এবং গ্রন্থাগারও নির্মাণ করেছেন। এ সকল মাদরাসায় ছাত্ররা বিনা পয়সায় পড়াশোনা করত। তা ছাড়া দরিদ্র ছাত্রদেরকে তাদের জন্য গঠিত বিশেষ তহবিল/বরাদ্দ থেকে নির্ধারিত পরিমাণে ভাতা দেওয়া হতো। (১০৮)

নিযামুল মুলক যেসব মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাগদাদের আল-মাদরাসাতুন নিযামিয়্যাহ (নিযামিয়া মাদরাসা)। ৪৫৭ হিজরিতে মাদরাসাটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং তা শেষ হয় ৪৫৯ হিজরিতে। (১০৯) আব্বাসি খলিফা মাদরাসাটির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন এবং তিনি নিজে শিক্ষকমণ্ডলী নিযুক্ত করেন। নিযামিয়া মাদরাসায় হাদিস ও ফিকহ পড়ানো হতো, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েরও পাঠদান করা হতো। জ্ঞান ও চিন্তার জগতে যে-সকল মনীষী তখন উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করছিলেন তারা নিযামিয়া মাদরাসায় পাঠদান করেছেন। যেমন 'ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন'-এর লেখক হুজ্জাতুল ইসলাম আবু হামিদ আল-গাযালি। (১১০) এই সময়ে নিশাপুরের নিযামিয়া মাদরাসায় আরেকজন মনীষী পাঠদান করতেন, তিনি হলেন ইমামুল হারামাইন আবুল মাআলি আল-জুওয়াইনি(১১১)।(১১২)

বাগদাদ, ইস্পাহান, নিশাপুর ও মারভে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মাদরাসাগুলো সুন্নি মাযহাবের নীতিমালার সুরক্ষা ও দৃঢ়ীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং সে সময়ে যে নানা প্রকারের বিদআত ও বিকৃত মাযহাবের সয়লাব ঘটেছিল সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তুলেছিল। নিযামুল মুলক প্রতি বছর মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক, ফকিহ ও আলেমদের জন্য যে টাকা ব্যয় করতেন তার পরিমাণ ছিল তিন লাখ দিনার। সেলজুকি সুলতান জালালুদ দাওলা মালিক শাহ (ইবনে মুহাম্মাদ আলপ আরসালান) তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা আপনাকে এবং আপনার মাধ্যমে আমাকে যা দিয়েছেন তা আর কাউকে দেননি। আমরা কি তার বিনিময়ে আল্লাহর দ্বীনের ধারকবাহক ও তার কিতাবের হেফাজতকারীদের জন্য তিন লাখ দিনার ব্যয় করব না? (১১৩)

চিত্র নং-৬ আল-মাদরাসাতুল মুসতানসিরিয়‍্যাহ

হিজরি চতুর্থ ও খ্রিষ্টীয় দশম শতাব্দী থেকে ইসলামি সভ্যতায় মাদরাসার বিস্তৃতি ঘটে। তা প্রমাণ করে যে, সমাজের বিভিন্ন স্তরে জ্ঞানের আলো ছড়ানোর ক্ষেত্রে ইসলামি সভ্যতা কতটা অগ্রগামী। জ্ঞানের এমন বিস্তৃতির সঙ্গে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যসভ্যতা তখনও পরিচিত ছিল না। উল্লেখ্য সে সময়ে ইউরোপ জ্ঞানের যৎসামান্য অংশেরই অধিকারী ছিল। বরং সে সময় চার্চ জ্ঞানের সকল উপকরণ নিজেদের একচেটিয়া করে নিয়েছিল। তার পরিণাম ছিল এই যে, ইউরোপীয়রা যুগের পর যুগ অন্ধকার, অজ্ঞতা ও পশ্চাৎপদতায় কাটিয়েছে এবং বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বিরাজমান থেকেছে। বিশেষ করে জার্মান গোত্রগুলো একসময় রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং অন্যান্য সময় অন্যান্য গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। তা ছাড়া বর্ণপ্রথা একটি পবিত্র রূপ নিয়ে তখন ইউরোপে জেঁকে বসেছিল। তার ফলে ইউরোপীয় শিক্ষাব্যবস্থা অবজ্ঞা ও উপেক্ষার শিকার হয়েছে। (১১৪)

বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে, ইসলামি সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক অবক্ষয়ের দিনেও জ্ঞান-আন্দোলন প্রভাবিত হয়নি। বরং তার বিপরীত ঘটনা ঘটেছে। ৬৩১ হিজরিতে/১২৩৩ খ্রিষ্টাব্দে আল-মাদরাসাতুল মুসতানসিরিয়‍্যাহ প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সময় তাতাররা ইসলামি বিশ্বের পূর্বাঞ্চলকে তছনছ করে দিচ্ছিল। আব্বাসি খেলাফতকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিল। সবচেয়ে দুর্বল পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল আব্বাসি খেলাফত। তারপরও এই অবিনশ্বর মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়েছে।

ইবনে কাসির রহ. মাদরাসাটি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, মাদরাসাটি অভূতপূর্ব। এর আগে এমন মাদরাসা নির্মিত হয়নি। চার মাযহাবের প্রত্যেকটির জন্য ৬২ জন ফকিহ এবং চারজন সহকারী (পুনরাবৃত্তিকারী) আছেন। প্রত্যেক মাযহাবের একজন মুদাররিস, একজন শাইখুল হাদিস, দুইজন কারি এবং দশজন শ্রোতা আছেন। চিকিৎসা-বিশেষজ্ঞ আছেন একজন। চিকিৎসা-বিদ্যার চর্চায় ব্রত আছেন দশজন মুসলিম। তাদের জন্য মাদরাসাটি ওয়াকফ করা হয়। এতিমদের জন্য আছে একটি মক্তব। মাদরাসাটির সকলের জন্য রুটি, গোশত ও মিষ্টান্নের ব্যবস্থা আছে।
প্রত্যেকের জন্য পর্যাপ্ত খরচাদি নির্ধারিত রয়েছে। ৫ রজব বৃহস্পতিবার মাদরাসাটিতে দরস অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে খলিফা আল-মুসতানসির বিল্লাহ নিজেও উপস্থিত হন। তার রাজ্যের আমির-উমারা, উজিরবৃন্দ, বিচারকবৃন্দ, ফকিহগণ, সুফিগণ ও কবিরাও উপস্থিত হন। তাদের কেউই বাদ পড়েননি। মাদরাসায় বিশাল দস্তরখানে ভোজের আয়োজন করা হয়।
উপস্থিত সকলেই খাদ্য গ্রহণ করেন। বাগদাদের প্রত্যেক গলিতে বিশেষ ও সাধারণ সকল মানুষের ঘরে এই দস্তরখান থেকে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। মাদরাসার শিক্ষকদের, ফকিহদের ও সহকারীদের সবাইকে মূল্যবান বস্তু উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত ছিলেন তারাও মূল্যবান উপহার পান। দিনটি ছিল স্মরণীয়। কবিরা খলিফার প্রশস্তি ও স্তব বর্ণনা করে উৎকৃষ্ট মানের কবিতা আবৃত্তি করেন। ইবনুস সায়ি (১১৫) তার ইতিহাসগ্রন্থে এই ঘটনার বিস্তারিত ও মনোজ্ঞ বিবরণ দিয়েছেন। মাদরাসাটিতে শাফিয়ি মাযহাবের পাঠদানের জন্য নিযুক্ত করা হয় ইমাম মুহিউদ্দিন আবু আবদুল্লাহ ইবনে ফাদলানকে (১১৬), হানাফি মাযহাবের পাঠদানের জন্য নিযুক্ত করা হয় ইমাম আল্লামা রশিদুদ্দিন আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মাদ আল-ফারগানিকে (১১৭) এবং ইমাম মুহিউদ্দিন ইউসুফ ইবনে শাইখ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযিকে(১১৮) নিযুক্ত করা হয় হাম্বলি মাযহাবের পাঠদানের জন্য। সেদিন তার অনুপস্থিতিতে তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে দরস দান করেন তার পুত্র আবদুর রহমান (১১৯)। মুহিউদ্দিন ইউসুফ কোনো সম্রাটের কাছে পয়গাম পৌঁছানোর দায়িত্বে ছিলেন। মালিকি মাযহাবের পক্ষে দরস দান করেন আশ-শাইখ আস-সালেহ আবুল হাসান আল-মাগরিবি আল-মালিকি। তিনিও অন্যের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দরস দান করেন। মালিকি মাযহাবের দরস দানের জন্য অন্য একজন শাইখকে নিযুক্ত করা হয়। গ্রন্থাগারও ওয়াকফ করা হয়। এটির গ্রন্থ-সমৃদ্ধি অভূতপূর্ব, কপিগুলোও চমৎকার, ওয়াকফকৃত গ্রন্থাবলিও অসাধারণ। (১২০)

আইয়ুবীয় সাম্রাজ্যে এত বেশি মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে তা আমাদের মনোযোগ দাবি করে। এসব মাদরাসা-প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল শিয়া মতাদর্শের মূলোৎপাটন, যা আইয়ুবি শাসনের পূর্বে উবাইদিয়া রাজবংশের শাসনামল থেকে মিশরে শেকড় বিস্তার করে ছিল।
এ কারণে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ মিশরের সকল প্রান্তে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মাদরাসা-প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বারোপ করে। বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে, সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবি এসব মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করছিলেন মানুষের মধ্যে ন্যায় ও ইনসাফ এবং নিরাপত্তা বিস্তারের উদ্দেশ্যে। ইবনুল আসির(১২১) ৫৬৬ হিজরির ঘটনাবলির বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছেন, মিশরে দারুল মাউনা নামে একটি পুলিশ-কেন্দ্র ছিল। তারা যাকে চাইত তাকেই এতে বন্দি করে রাখত। সালাহুদ্দিন এটি গুঁড়িয়ে দেন এবং এটিকে শাফিয়ি মাযহাবের মাদ্রাসায় রূপান্তরিত করেন। এখানে যেসব জোরজুলুম ও অন্যায়-অবিচার হতো সেগুলোর অবসান ঘটান। (১২২)

ইসলামি মিশরের ইতিহাসে মাদরাসা-নির্মাণে যিনি প্রথম গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি হলেন সালাহুদ্দিন। তিনি আল-মাদরাসাতুস সালাহিয়্যা, আল-মাদরাসাতুন নাসিরিয়‍্যাহ ও আল-মাদরাসাতুল কামহিয়্যাহ (১২৩) প্রতিষ্ঠা করেন। (১২৪)

আমির-উমারা, ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গ এবং ব্যবসায়ীরাও মাদরাসা-প্রতিষ্ঠায় প্রতিযোগিতা করতেন। মাদরাসাগুলো যাতে চালু থাকে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাত্ররা এসে অবৈতনিকভাবে পড়াশোনা করতে পারে তার জন্য সম্পত্তি ওয়াকফ করতেন। অসংখ্য মানুষ তাদের বাড়িকে মাদ্রাসায় রূপান্তরিত করেছিলেন। তারা তাদের সংগৃহীত গ্রন্থাবলি ও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়াকফও করেছিলেন। এ কারণে প্রাচ্যে মাদরাসার সংখ্যা এত পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছিল যে তা ছিল আশ্চর্যজনক ও হতবুদ্ধিকর। এমনকি আন্দালুসীয় পর্যটক ইবনে জুবায়ের প্রাচ্যে মাদরাসার আধিক্য ও মাদরাসার জন্য ওয়াকফকৃত সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয়ের প্রাচুর্য দেখে বিমূঢ় হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি পশ্চিমের লোকদেরকে জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রাচ্যে আগমনের আহ্বান জানান। এ ব্যাপারে তিনি যা বলেছেন, তাতে এ কথাও ছিল, প্রাচ্যের সব দেশেই শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচুর সম্পত্তি ওয়াকফ করা হয়। বিশেষ করে দামেশকে সবচেয়ে বেশি...। আমাদের পশ্চিমের (মাগরিবের) সন্তানদের মধ্যে যারা সফলকাম হতে চায় তারা যেন এসব দেশে ভ্রমণ করে। তারা তালিবুল ইলমদের জন্য সহায়ক বস্তুরাশির প্রাচুর্য এখানে পাবে। তার প্রথমটি হলো জ্ঞানচর্চার জন্য রুটিরুজির চিন্তামুক্ত হওয়া। (১২৫)

সুলতানগণ এবং আমির-উমারা যে মাদরাসা-নির্মাণ ও মাদরাসায় সাহায্য-সহযোগিতায় প্রতিযোগিতা করতেন তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে। গজনি ও ভারতবর্ষের অন্যান্য অংশের সুলতান ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মাসউদ নিজের জন্য কোনো ঘরও নির্মাণ করেননি, কিন্তু তিনি মাদরাসা-নির্মাণ ও সাহায্য-সহযোগিতায় সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। (১২৬)

ইসলামি সভ্যতায় নারীদেরও এই সভ্যতার ছেলে-মেয়েদের জন্য হিতকর মাদরাসা নির্মাণের অধিকার ছিল। সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবির বোন সাইয়িদা রাবিয়া খাতুন বিনতে আইয়ুব হাম্বলি মাযহাবের পাঠদানের জন্য দামেশকের কাসিয়ুন পাহাড়ের পাদদেশে আল-মাদরাসাতুস সাহিবিয়্যাহ (মাদরাসাতুস সাহিবাহ) প্রতিষ্ঠা করেছেন। (১২৭)

বাগদাদে অবস্থিত মাদরাসাগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে ইবনে জুবায়ের বলছেন, বাগদাদে প্রায় ত্রিশটি মাদরাসা রয়েছে। সবগুলোই বাগদাদের পূর্বাংশে। প্রত্যেকটি মাদরাসার নির্মাণশৈলীর কাছে সুরম্য অট্টালিকাও তুচ্ছ। এসব মাদরাসার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও বিখ্যাত হলো নিযামিয়া মাদরাসা। এটি নির্মাণ করেছেন নিযামুল মুলক। ৫০৪ হিজরিতে মাদরাসাটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই মাদরাসার জন্য ওয়াকফের পরিমাণ বিপুল, ভূসম্পত্তিও প্রচুর। ওয়াকফকৃত সম্পত্তি থেকে মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ফকিহদের ব্যয়নির্বাহ করা হয় এবং অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা হয়। (১২৮)

মিশরে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাগুলো সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন বিশ্বপর্যটক ইবনে বতুতা। তিনি বলছেন, মিশরে মাদরাসার সংখ্যা এত বেশি যে কেউ তার সংখ্যা সঠিকভাবে নিরূপণ করতে পারবে না। (১২৯) আল-মাকরিযি উল্লেখ করেছেন যে, মিশরে সত্তরটিরও বেশি মাদরাসা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। (১৩০)

সেই সময়ে ইসলামি বিশ্বে মাদরাসার অবস্থা কীরূপ ছিল তার বিবরণ পাওয়া যায় বুতরুস আল-বুস্তানি(১৩১) যে বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে তা থেকে। তাতে বলা হয়েছে, আরবদের মাদরাসাগুলো ছিল জ্ঞানে উজ্জ্বল, বাগদাদ থেকে কর্ডোভা পর্যন্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল সেগুলো। তাদের মহাবিদ্যালয় ছিল সতেরোটি। কর্ডোভার মহাবিদ্যালয়টি ছিল সবচেয়ে বিখ্যাত। বলা হয়ে থাকে, এই মহাবিদ্যালয়ে যে গ্রন্থাগার ছিল তাতে ৬ লাখ কপি বই ছিল। তারা রূপমূলতত্ত্ব (ইলমুস সারফ), ব্যাকরণ, ছন্দতত্ত্ব, ইতিহাস, ভূগোল, জ্যোতির্বিদ্যা, রসায়ন, গণিতশাস্ত্র, চিকিৎসাশাস্ত্র ইত্যাদি অধ্যয়ন করত। তাদের প্রত্যেক মসজিদের পাশে প্রাথমিক মাদরাসা ছিল। এতে তারা পাঠ ও হস্তলিপি শিক্ষা দিত। (১৩২)

এখানে আরও উল্লেখ্য যে, এসব মাদরাসায় পঠনপাঠন কেবল ধর্মীয় জ্ঞানে সীমাবদ্ধ ছিল না। ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি প্রকৃতিবিজ্ঞানও শিক্ষা দেওয়া হতো। যেমন প্রকৌশল, চিকিৎসা, গণিত ইত্যাদি। বরং কিছু কিছু মাদরাসা এসব প্রকৃতিবিজ্ঞান শিক্ষা দেওয়ায় বিশেষায়িত ছিল। প্রকৃতিবিজ্ঞানের জন্য কয়েকটি বিশেষ মাদরাসা ছিল। হাসপাতালগুলোতে তারা চিকিৎসাশাস্ত্র শেখাত। (১৩৩)

আন্দালুসে প্রাথমিক মাদরাসা ছিল অসংখ্য। তবে এসব মাদরাসায় শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক দেওয়ার রীতি ছিল। এ কারণে উমাইয়া খলিফা দ্বিতীয় হাকাম (মৃ. ৩৬৬ হি.) দরিদ্র মানুষের সন্তানদের বিনা পয়সায় শিক্ষাদানের জন্য সাতাশটি মাদরাসা বৃদ্ধি করেছিলেন। মেয়েরাও ছেলেদের মতো মাদরাসায় যেত, সমানভাবেই।

উচ্চশিক্ষার দায়িত্বে ছিলেন স্বতন্ত্র পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গ। তারা এসব মাদরাসায় বক্তৃতা দিতেন। কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুদণ্ডরূপে যে শিক্ষাকাঠামো রয়েছে তা আন্দালুসে উমাইয়া খেলাফতের সময় গঠিত হয়েছে। একইভাবে গ্রানাডা, তুলাইতালা (টলেডো), সেভিল, মুরসিয়া (Murcia), আলমেরিয়া, ভ্যালেন্সিয়া ও কাদিজে মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। (১৩৪)

মাগরিবের আমির-উমারা ও সুলতানগণ মাদরাসা-নির্মাণে গুরুত্ব দিয়েছেন। মুরাবিত রাজন্যবর্গ নগরীতে ও প্রত্যন্ত এলাকায় বিশেষ করে সুস অঞ্চলে (১৩৫) বহু মাদরাসা নির্মাণ করেছেন। এসব মাদরাসা বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী ও বিশেষজ্ঞ পণ্ডিতের জন্ম দিয়েছে। এমন জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তির সংখ্যা অনেক। তাদের জ্ঞান তাদেরকে ইসলামি বিশ্বের চিন্তাশীল মানুষদের কাতারে জায়গা করে দিয়েছে। সুস অঞ্চলে মাদরাসা ছিল প্রায় চারশ। মুহাম্মাদ আল-মুখতার আস-সুসি(১৩৬) তার রচিত গ্রন্থ 'সুস আল-আলিমা'-য় সুসের পঞ্চাশটি মাদরাসা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন (১৩৭) এবং 'মাদারিস সুস আল-আতিকা' গ্রন্থে আলোচনা করেছেন একটি মাদরাসা সম্পর্কে। (১৩৮)

মুসলিম গোত্রগুলোই এসব মাদরাসার অর্থায়ন করত। তাদের ভূমিতে উৎপন্ন ফসলের এক দশমাংশের কিয়দংশ এসব মাদরাসার জন্য নির্ধারিত ছিল। মাদরাসার সুরক্ষা ও খরচাদির জন্য তারা মালিকানাধীন অনেক সম্পত্তি ওয়াকফও করে দিয়েছিল। মাদরাসার যাবতীয় ব্যয়ভার তারা বহন করত। সুস অঞ্চলের মুসলিম গোত্রগুলো পাহাড়ে ও সমতলভূমিতে মাদরাসা-নির্মাণের প্রতিযোগিতা করত। প্রত্যেক গোত্রেরই মাদরাসা থাকত একটি বা দুটি বা তিনটি। মুরাবিত রাজন্যবর্গের শাসনামলে যেসব মাদরাসা নির্মিত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো-ইতিপূর্বে যেগুলোর উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো ছাড়াও-'মাদারিসে সাবতা' (১৩৯)। এ ছাড়া তানজা (১৪০), আগমাত (১৪১), সিজিলমাসা (১৪২), তিলিমসান (১৪৩) ও মারাকেশে কয়েকটি বিখ্যাত মাদরাসা রয়েছে। এসব মাদরাসা কায়রাওয়ানের জ্ঞানসম্ভার এবং আন্দালুসের বিখ্যাত সংস্কৃতির আশ্রয়ে গড়ে উঠেছিল। বড় বড় মনীষীর জন্ম হয়েছে এসব মাদরাসা থেকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন কাজি ইয়ায (১৪৪) এবং আবুল ওয়ালিদ ইবনে রুশদ (১৪৫)। তিনি কিতাবুল মুকাদ্দিমাতিল আওয়ায়িলি লিল-মুদাওয়ানাতি, আল-বায়ান ওয়াত-তাহসিল ওয়াত-তাওজিহ ওয়াত-তালিল ও অন্যান্য মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন। (১৪৬)

যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা দরকার তা এই যে, প্রাচ্যের ও মাগরিবের (মরক্কোর) এসব শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত ভরণপোষণ পেত। খাদ্য, পানীয়, বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় অর্থ-সবই পেত তারা। এ কারণেই ইসলামি সভ্যতার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়-কেন্দ্রিক শহরের পরিচয় ঘটেছে পাশ্চাত্যের চেয়ে কয়েকশ বছর আগে। ৭২১ হিজরিতে মরক্কোয় মারিনীয় (১৪৭) সাম্রাজ্যের সুলতান আবু সাইদ উসমান ইবনে ইয়াকুব (মৃ. ৭৩১ হি.) (১৪৮) নতুন ফাসে (নিউ ফেজ) যে মাদরাসাটি রয়েছে তা নির্মাণের নির্দেশ দেন। একটি মজবুত ও সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়। কুরআন অধ্যয়নের জন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি করেন এবং শিক্ষকতার জন্য ফকিহদের নিযুক্ত করেন। তাদের জন্য মাসিক ভাতা, বেতন ও অন্যান্য খরচাদি নির্ধারণ করে দেন। মাদরাসাটির জন্য বাড়ি ও ভূসম্পত্তি ওয়াকফ করেন। শিক্ষার প্রতি অনুরাগ ও আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান লাভের আশাতেই তিনি এসব কাজ সম্পাদন করেন। (১৪৯)

মরক্কোর মারিনীয় যেসব সুলতান মাদরাসা-নির্মাণের ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন তাদের মধ্যে বিখ্যাত হলেন সুলতান আবু সাইদ। ৭২৩ হিজরির শাবান মাসের শুরুতে সুলতান আবু সাইদ ফাসে জামে আল-কারয়িয়িয়নের পাশে (উত্তরে) সবচেয়ে বড় মাদরাসাটি নির্মাণের নির্দেশ দেন। সেটি আজ মাদরাসাতুল আত্তারিন নামে পরিচিত। মাদরাসাটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শাইখ আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে কাসিম আল-মিযওয়ার এবং একদল ফকিহ ও কল্যাণকামী ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সুলতান আবু সাইদ নিজেও উপস্থিত থাকেন। মাদরাসাটির নির্মাণকাজ সুলতানের উপস্থিতিতেই শুরু হয়। নির্মাণকাজ শেষ হলে এই মাদরাসা মারিনীয় সাম্রাজ্যের আশ্চর্যজনক স্থাপত্যে পরিণত হয়। তার আগে কোনো সুলতান এমন মাদরাসা নির্মাণ করেননি। মাদরাসার প্রাঙ্গণে সেখানকার ঝরনা থেকে প্রবহমান পানি আনার জন্য নালা তৈরি করা হয়। শিক্ষার্থীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠানটি মুখরিত হয়ে ওঠে। সুলতান মাদরাসাটির জন্য একজন ইমাম, দুজন মুয়াজ্জিন ও একদল কর্মচারী নিয়োগ দেন। শিক্ষকতার জন্য ফকিহদের নিযুক্ত করেন। মাদরাসার প্রত্যেকের জন্য নির্ধারণ করেন পর্যাপ্তেরও বেশি ভাতা, বেতন ও খোরপোশ। কয়েকটি তালুক কিনে তা মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করেন এবং তা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যই। (১৫০)

অসংখ্য মাদরাসা নির্মিত হয়েছে বলে মামলুক শাসনামলের খ্যাতি রয়েছে। মামলুক আমির-উমারা ও সুলতানরা ধর্মীয় ও সাধারণ মাদরাসা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করেছেন এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ অট্টালিকা ও ভবন নির্মাণ করেছেন। এসব মাদরাসায় তারা শ্রেষ্ঠ ও বড় বড় আলেমদের নিযুক্ত করেছেন। শাইখ ইযযুদ্দিন আবদুল আযিয ইবনে আবদুস সালাম (১৫১) ৬৫০ হিজরিতে বাইনাল কাসরাইন (১৫২)-এ অবস্থিত আল-মাদরাসাতুস সালাহিয়্যায় পাঠদান করেছেন। (১৫৩) এই মাদরাসায় ৬৮০ হিজরিতে পাঠদান করেছেন তাকিউদ্দিন ইবনে বিন্ত আল-আ'আয(১৫৪)। ৭৭৯ হিজরিতে আল-মাদরাসাতুন নাসিরিয়‍্যায় পাঠদান করেছেন সিরাজুদ্দিন আল-বুলকিনি (১৫৫)। বিখ্যাত ঐতিহাসিক আবদুর রহমান ইবনে খালদুন ৭৮৬ হিজরিতে পাঠদান করেছেন আল-মাদরাসাতুল কামহিয়্যায় এবং মামলুক রাজবংশের ইতিহাসজুড়ে প্রখ্যাত আলেম-উলামা এসব মাদরাসায় পাঠদান করেছেন। (১৫৬)

আলেম-উলামা, ফকিহগণ, সাধারণ মানুষ এবং তাদের সঙ্গে সুলতানরাও কোনো মাদরাসা উদ্বোধনের সময় বড় ধরনের মাহফিল ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। ৬৬১ হিজরিতে আল-মালিক আয-যাহির বাইবার্স আল-মাদরাসাতুয যাহিরিয়‍্যাহ উদ্বোধন করেন। বাইনাল কাসরাইন-এ মাদরাসা-ভবনের নির্মাণকাজ সমাপ্ত হলে এখানে আলেম-উলামা সবাই সমবেত হন। কারিরা উপস্থিত হন এবং প্রত্যেক মাযহাবের অনুসারীরা তাদের জন্য নির্ধারিত হলঘরে বসেন। হানাফি মাযহাবের পাঠদানের সূচনা করেন মাজদুদ্দিন আবদুর রহমান ইবনুস সাহিব কামালুদ্দিন ইবনুল আদিম, শাফিয়ি মাযহাবের পাঠদানের সূচনা করেন শাইখ তাকিউদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনে রাযিন। কুরআনের দরসদানের সূচনা করার জন্য মনোনীত করা হয় ফকিহ কামালুদ্দিন আল-মাহাল্লিকে এবং হাদিসে নববির পাঠদানের সূচনা করার জন্য শাইখ শারফুদ্দিন আবদুল মুমিন ইবনে খাল্‌ল্ফ আল-দিময়াতিকে মনোনীত করা হয়। তারা সবাই দরসদান করেন। দস্তরখানা বিছানো হয়। জামালুদ্দিন আবুল হাসান আল-জাযযার (১৫৭) কবিতা আবৃত্তি করেন ...। আরও কয়েকজন কবি কবিতা পাঠ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সিরাজ আল-ওয়াররাক, শাইখ জামালুদ্দিন ইউসুফ ইবনুল খাশশাব। তাদের সবাইকে সম্মানসূচক পোশাক পরিধান করানো হয়। দিনটি ছিল স্মরণীয়। সুলতান এই মাদরাসাকে অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থের ভান্ডারে পরিণত করেন। মাদরাসার পাশেই এতিমদের জন্য একটি মক্তব নির্মাণ করেন। মক্তবের এতিম শিশুদের জন্য প্রতিদিন রুটি এবং প্রত্যেক শীতে ও গ্রীষ্মে পোশাক বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেন। (১৫৮)

অসংখ্য মামলুক আমির ছিল যারা তাদের বাড়ির পাশে মাদরাসা নির্মাণ করেছেন। মাদরাসার প্রতি ভালোবাসা এবং নিজের পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার আগ্রহ থেকেই তারা এ কাজটি করেছেন। ৭৩০ হিজরিতে আমির আলাউদ্দিন মুগলতাই আল-জামালি (১৫৯) তার বাড়ির পাশে একটি মাদরাসা নির্মাণ করেন। মাদরাসাটি কায়রোর দারব-মুলুখিয়ার কাছেই। তিনি এই মাদরাসার জন্য বহু সম্পত্তি ওয়াকফ করেন। (১৬০)

মামলুক শাসনামলে কিছু মাদরাসা পাঠদানের পাশাপাশি আরও একটি ভূমিকা পালন করত। এসব মাদরাসা বিচারালয় ও আদালত হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বড় বড় অপরাধের বিচার-মীমাংসা হতো। ইবনে সাবআ নামের এক লোক ছিল ভয়ংকর অপরাধী। তার বিচার হয়েছিল এমন একটি মাদরাসা-আদালতে। শাফিয়ি মাযহাবপন্থী ফকিহগণ তাকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তাকে বন্দি করেন। অন্যদিকে মালিকি মাযহাবপন্থী ফকিহগণ তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং হত্যা করার নির্দেশ দেন। বাইনাল কাসরাইন-এ অবস্থিত আল-মাদরাসাতুস সালাহিয়্যায় ৭৯১ হিজরিতে এই বিচারকার্য সম্পন্ন হয়।

পরীক্ষামূলক বিজ্ঞান (Experimental science) ও প্রায়োগিক বিজ্ঞানের (Applied Science) জন্য বিশেষায়িত কিছু মাদরাসাও ছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়নের জন্য কিছু বিশেষ মাদরাসা। যেমন দামেশকের আল-মাদরাসাতুয যাহিরিয়‍্যাহ আল-বারানিয়‍্যাহ। এই মাদরাসায় মুসলিমবিশ্বের প্রখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের সমাবেশ ঘটেছিল। ৭২৪ হিজরিতে সে যুগের বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী নাজমুদ্দিন আবদুর রহিম ইবনে আশ-শাহহাম আল-মাওসিলি (১৬১) অতিথি শিক্ষক হিসেবে আল-মাদরাসাতুয যাহিরিয়‍্যাহ আল-বারানিয়‍্যাহতে যোগদান করেন। তার আগে তিনি উজবেকের (উজবেকিস্তানের) বিভিন্ন দেশে কয়েক বছরব্যাপী ভ্রমণ করে চিকিৎসাশাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। (১৬২) দামেশকে আল-মাদরাসাতুদ দাখওয়ারিয়‍্যাহ প্রতিষ্ঠিত হয় জামে আল-উমায়ির প্রতিষ্ঠার পূর্বেই। এটি ছিল সিরিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত মাদরাসা ও চিকিৎসামহাবিদ্যালয়। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ৬২১ হিজরিতে। (১৬৩) মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন প্রখ্যাত শামীয় (সিরিয়ান) চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ আদ-দাখওয়ার আবদুর রহিম ইবনে আলি হামিদ(১৬৪)। তিনি ছিলেন এই মাদরাসার ওয়াকফকারী (মুতাওয়াল্লি) ও চিকিৎসা-বিভাগের প্রধান (শাইখুত তিব্ব)। বিখ্যাত চিকিৎসক ইবনে আবি উসাইবিআ(১৬৫) তার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি ছিলেন অনন্য ও যুগশ্রেষ্ঠ, সমকালে তার মতো কেউ ছিল না। তিনি ছিলেন চিকিৎসাশাস্ত্রের শীর্ষগুরু এবং তিনি এর উপযুক্তও ছিলেন। চিকিৎসা-গবেষণায় নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছেন। অবশেষে যুগশ্রেষ্ঠ চিকিৎসাবিদে পরিণত হয়েছেন এবং রাজাবাদশাদের কাছে মূল্যায়ন পেয়েছেন। (১৬৬)

মিশরে কিছু মাদরাসা ছিল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের। এগুলোতে বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগ ছিল। যেমন আল-মাদরাসাতুল মানসুরিয়‍্যাহ। কায়রোর বাইনাল কাসরাইনে এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মিশরের সুলতান আল-মানসুর সাইফুদ্দিন কালাউন আল-আলফি। তাতে ফিকহি মাযহাবভিত্তিক পাঠদানের আলাদা আলাদা বিভাগ ছিল। প্রত্যেক মাযহাবের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও নির্ধারিত স্থান ছিল। একইভাবে চিকিৎসাশাস্ত্রের পাঠদানের জন্য আলাদা বিভাগ ছিল। হাদিস বিভাগ ছিল, তাফসিরুল কুরআন বিভাগ ছিল। সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য শ্রেষ্ঠ ফকিহ ও পণ্ডিতগণ এসব বিভাগে পাঠদান করতেন। (১৬৭)

কতিপয় ঐতিহাসিক রচনায় প্রত্যেক শহরে অবস্থিত উপরিউক্ত মাদরাসাগুলোর হাল-হাকিকত বর্ণনার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন আবদুল কাদির ইবনে মুহাম্মাদ আন-নুয়াইমি আদ-দিমাশকি (মৃ. ৯২৭ হি.) (الدارس في تاريخ المدارس ) আদ-দারিস ফি তারিখিল মাদারিস নামে তার বিখ্যাত গ্রন্থটি রচনা করেছেন। এই গ্রন্থে নিম্নবর্ণিত অধ্যায়গুলো রয়েছে:
فصل : دور القرآن الكريم (অধ্যায়: কুরআন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ)
فصل : دور الحديث الشريف (অধ্যায়: হাদিস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ)
فصل : دور القرآن والحديث معا (অধ্যায়: কুরআন ও হাদিস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ)
فصل : مدارس الطب (অধ্যায়: চিকিৎসা-বিদ্যালয়সমূহ)
فصل : الخوانق (অধ্যায়: খানকা)
فصل : الرباطات (অধ্যায়: রাবাত বা সুফিগৃহসমূহ)
فصل : الزوايا (অধ্যায় : যাবিয়াসমূহ) (১৬৮)
فصل : الترب (অধ্যায়: কবরস্থানসমূহ)
فصل : المساجد والجوامع (অধ্যায় : ছোট মসজিদ ও জামে মসজিদসমূহ)

এসব অধ্যায় ছাড়া তিনি একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেছেন। তার বর্ণনাশৈলী এরূপ : প্রথমে তিনি মাদরাসা বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছেন, সেটির অবস্থান কোথায় তার যথার্থ বর্ণনা দিয়েছেন, তারপর প্রতিষ্ঠাতার সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখ করেছেন। মাদরাসার জন্য ওয়াকফকৃত সম্পত্তির সংখ্যা বর্ণনা করেছেন। তারপর লেখকের জীবদ্দশা পর্যন্ত মাদরাসায় যে-সকল শিক্ষক পাঠদান করেছেন তাদের নাম ও সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত উল্লেখ করেছেন। জ্ঞাতব্য যে, এই গ্রন্থে কেবল দামেশকের মাদরাসা ও মসজিদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, অন্যকোনো শহরের নয়।

আল-মাকরিযিও তার রচিত বিখ্যাত বিশ্বকোষ আল-মাওয়ায়িয ওয়াল- ইতিবারি বিযিকরিল খুতাতি ওয়াল-আসার-এ মাদরাসার অনুরূপ বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জ্ঞানপিপাসুদের জন্য এক বিরাট কীর্তি রেখে গেছেন। আইয়ুবি শাসনামল ও মামলুকি শাসনামলে কায়রোতে যত মাদরাসা ছিল তার সবগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। (১৬৯)

মুসলিমরা ইসলামি সমাজের সর্বস্তরে মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছেন। এটা থেকে প্রমাণিত হয় যে, এই সভ্যতা জ্ঞানকে যাবতীয় প্রগতি ও উন্নতির ভিত্তি বলে স্থির করেছে এবং ধনী ও দরিদ্র, বড় ও ছোট, পুরুষ ও নারী সকলের মধ্যে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের সামনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ফলে ইসলামি সভ্যতা কয়েক শতাব্দীব্যাপী জ্ঞানগত উৎকর্ষের চূড়ায় অবস্থান করেছে।

টিকাঃ
১০০. সাবুর ইবনে আরদাশির : আবু নাসর সাবুর ইবনে আরদাশির (মৃ. ৪১৬) বাহাউদ দাওলা আবু নাসর ইবনে আদুদ দাওলার উজির (মন্ত্রী) ছিলেন। শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীদের অন্যতম ছিলেন। সাবুর ছিলেন দুঃসাহসী, তাকে দেখলেই সবার সমীহ জাগত। ছিলেন বদান্য ও সৌজন্যশীল এবং প্রশংসাভাজন। বাগদাদে দারুল ইলম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেখুন, যাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, খ. ১৭, পৃ. ৩৮৭; ইবনে খাল্লিকান, ওয়াফায়াতুল আ'য়ান, খ. ২, পৃ. ৩৫৪।
১০১. বাগদাদের পশ্চিম অর্ধাংশের ঐতিহাসিক নাম কারখ।
১০২. ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, খ. ১১, পৃ. ৩১২।
১০৩. সাদির ইবনে আবদুল্লাহ: আল-মাদরাসাতুস সাদিরিয়্যাহর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দামেশকের জামে উমাবির (উমাবি জামে মসজিদের) পশ্চিম ফটকের সামনে বাবুল বারিদে ৪৯১ হিজরিতে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। দেখুন, ইবনে আসাকির, তারিখে দিমাশক, খ. ৫২, পৃ. ৪৬।
১০৪. আবদুল কাদির আন-নাইমি, আদ-দারিস ফি তারিখিল মাদারিস, খ. ১, পৃ. ৪১৩।
১০৫. রাশা ইবনে নাযিফ: আবুল হাসান রাশা ইবনে নাযিফ ইবনে মাশাআল্লাহ আদ-দিমাশকি (৩৭০-৪৪৪ হি./৯৮০-১০৫২ খ্রি.)। কারি ও প্রখ্যাত আলেম। তিনি সিরিয়ার মাআররায় জন্মগ্রহণ করেন এবং শিক্ষা অর্জন করেন সিরিয়া, মিশর ও ইরাকে। দামেশকেই জীবন অতিবাহিত করেন। দেখুন, যিরিকলি, আল-আ'লাম, খ. ৩, পৃ. ২১।
১০৬. আরিফ আবদুল গনি, নুযুমুত তালিম ইনদাল মুসলিমিন, পৃ. ৮৯।
১০৭. নিযামুল মুলক আত-তুসি: আবু আলি আল-হাসান ইবনে আলি আত-তুসি, উপাধি, নিযামুল মুলক (৪০৮-৪৮৫ হি./১০১৮-১০৯২ খ্রি.)। তুসের নুকান এলাকায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে নিযুক্ত হন। সুলতান মুহাম্মাদ আলপ আরসালানের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটে এবং তিনি তাকে উজির নিযুক্ত করেন। বাগদাদের সবচেয়ে বড় মাদরাসা এবং অন্যান্য মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। দেখুন, যাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, খ. ১৯, পৃ. ৯৪; ইবনে খাল্লিকান, ওয়াফায়াতুল আ'য়ান, খ. ২, পৃ. ২০২।
১০৮. মুস্তাফা আস-সিবায়ি, মিন রাওয়ায়িয়ি হাদারাতিনা, পৃ. ১০৩-১০৪।
১০৯. ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, খ. ১২, পৃ. ৯২।
১১০. প্রাগুক্ত, খ. ১২, পৃ. ১৬৯।
১১১. আবুল মাআলি আল-জুওয়াইনি : আবদুল মালিক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আল-জুওয়াইনি (৪১৯-৪৭৮ হি./১০২৮-১০৮৫ খ্রি.)। উপাধি, ইমামুল হারামাইন, ফাখরুল ইসলাম। ইমামদের ইমাম। শাফিয়ি মাযহাবপন্থী বিখ্যাত ফকিহ। ইমাম গাযালির উস্তাদ। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: নিহায়াতুল মাতলাব ফি দিরায়াতিল মাযহাব। দেখুন, তাকিউদ্দিন আস-সিরফিনি রচিত আল-মুনতাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লি-তারিখি নিসাবুর, খ. ১, পৃ. ৩৬১।
১১২. ইবনুল জাওযি, আল-মুনতাযাম, খ. ৯, পৃ. ১৬৭।
১১৩. আবদুল হাদি মুহাম্মাদ রেজা, নিযামুল মুলক, পৃ. ৬৫১।
১১৪. জোহান হুইজিঙ্গা, The Waning of the Middle Ages (১৯২৪), আরবি অনুবাদ, اضمحلال العصور الوسطى , পৃ. ১৭৫।
১১৫. ইবনুস সায়ি: আবু তালিব আলি ইবনে আনজাব ইবনে উসমান ইবনে আবদুল্লাহ (৫৯৩-৬৭৪ হি./১১৯৭-১২৭৫ খ্রি.)। বিখ্যাত ইতিহাসলেখক। বাগদাদে জন্ম ও মৃত্যু। আল-মাদরাসাতুল মুসতানসিরিয়্যাহর গ্রন্থাগারের জিম্মাদার ছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো পঁচিশ খণ্ডে রচিত আল-জামিউল মুখতাছার ফি উনওয়ানিত তাওয়ারিখি ওয়া উয়ুনিস সিয়ার। দেখুন, যিরিকলি, আল-আ'লাম, খ. ৪, পৃ. ২৬৫।
১১৬. ইবনে ফাদলান: মুহিউদ্দিন আবু আবদুল্লাহ ইবনে ফাদলান আল-বাগদাদি আশ-শাফিয়ি (মৃ. ৬৩১ হি./১২৩৩ খ্রি.)। আল-মাদরাসাতুল মুসতানসিরিয়্যাহর শিক্ষক, প্রধান বিচারক। শাফিয়ি মাযহাবের উঁচু স্তরের আলেম। খোরাসান ভ্রমণ করেছেন এবং সেখানকার আলেমদের সঙ্গে আলোচনা-পর্যালোচনায় অংশ নিয়েছেন। দেখুন, সাফাদি, আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফায়াত, খ. ৫, পৃ. ১৩২।
১১৭. আল-ফারগানি: উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হুসাইন ইবনে আবু উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবু নাসর আল-আন্দাকানি ৬৩২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন, ইবনে আবুল ওয়াফা আল-কুরাশি, আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যা ফি তবাকাতিল হানাফিয়্যা, খ. ২, পৃ. ৬৬২-৬৬৩।
১১৮. ইউসুফ আল-জাওযি: মুহিউদ্দিন ইউসুফ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আলি ইবনুল জাওযি আল-কুরাশি আল-বাগদাদি (৫৮০-৬৫৬ হি./১১৮৫-১২৫৮ খ্রি.)। 'আস-সাহিব ইবনুল জাওযি' নামে পরিচিত। আল্লামা আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযি নামে পরিচিত। তার পিতা ও অন্যদের কাছে জ্ঞান অর্জন করেছেন। বাগদাদের অন্যায়-প্রতিরোধ প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়াকফ-পরিদর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন। তাতার ঘাতকরা তাকে হত্যা করে। তাদের প্রতিহত করতে গিয়ে তিনি ও তার তিন পুত্র শহিদ হন। দেখুন, যিরিকলি, আল-আ'লাম, খ. ৮, পৃ. ২৩৬।
১১৯. আবদুর রহমান ইবনে ইউসুফ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আলি ইবনুল জাওযি। তার পিতার সঙ্গে শহিদ হন। বাগদাদে হালাকুখানের অনুপ্রবেশের সময় (৬৫৬ হি./১২৫৮ খ্রি.) নিহত হন। তিনি তখন মাত্র পঞ্চাশ পেরিয়েছেন। তার একটি কাব্যসংকলন আছে। দেখুন, উমর রেজা কাহহালা, মুজামুল মুআল্লিফিন, খ. ৫, পৃ. ২০০।
১২০. ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, খ. ১৩, পৃ. ১৩৯-১৪০।
১২১. ইবনুল আসির, আবুল হাসান আলি ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল কারিম আল-জাযারি (৫৫৫-৬৩০ হি./১১৬০-১২৩৩ খ্রি.)। বিখ্যাত ও বিদগ্ধ ঐতিহাসিক। জাযিরা ইবনে উমরে জন্মগ্রহণ করেন এবং মসুলে মৃত্যুবরণ করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : التاريخ الباهر في الكامل في التاريخ , اللباب في تهذيب الأنساب أسد الغابة في معرفة الصحابة والدولة الأتابكية আলামিন নুবালা, খ. ২২, পৃ. ৩৫৪-৩৫৬।
১২২. ইবনুল আসির, আল-কামিল ফিত-তারিখ, খ. ১০, পৃ. ৩১-৩২।
১২৩. আল-মাদরাসাতুল কামহিয়্যাহ নামকরণের কারণ হলো এই মাদরাসায় নিযুক্ত ফকিহদের জন্য গমের (কামহ) চাষ করা হতো। মাদরাসাটির জন্য মধ্য মিশরের ফাইয়ুম এলাকায় এক বিশাল ভূমি ওয়াকফ করেছিলেন সালাহুদ্দিন। এখানে গমের চাষ হতো। দেখুন, ইবনে ওয়াসিল, মুফাররিজ আল-কুরুব, খ. ১, পৃ. ১৯৭-১৯৮।
১২৪. মাকরিযি, আল-মাওয়ায়িয ওয়াল-ইতিবারী বিযিকরিল খুতাতি ওয়াল-আসার, খ. ৫, পৃ. ১৩৭।
১২৫. ইবনে জুবায়ের: রিহলাহ ইবনে জুবায়ের, পৃ. ২৫৮।
১২৬. ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, খ. ১২, পৃ. ১৫৭।
১২৭. প্রাগুক্ত, খ. ১২, পৃ. ৩১৭।
১২৮. ইবনে জুবায়ের, রিহলাহ ইবনে জুবায়ের, পৃ. ২০৫।
১২৯. রিহলাহ ইবনে বতুতা, পৃ. ২০।
১৩০. মাকরিযি, আল-মাওয়ায়িয ওয়াল-ইতিবারি বিযিকরিল খুতাতি ওয়াল-আসার, খ. ২, পৃ. ৩৬২-৪০০।
১৩১. বুতরুস আল-বুস্তানি (১৮১৯-১৮৮৩ খ্রি.): বুতরুস ইবনে পল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কারাম আল-বুস্তানি। বিভিন্ন শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তিনি লেবাননের খারুব প্রদেশের দিব্বিয়ায় একটি ম্যারোনাইট খ্রিষ্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দেখুন, উমর রেজা কাহহালা, মুজামুল মুআল্লিফিন, খ. ৩, পৃ. ৪৮।
১৩২. বুস আল-বুস্তানি, দাইরাতুল মাআরিফ, খ. ৬, পৃ. ১৬১-১৬২; আবদুল্লাহ মাশুখি, মাওকিফুল ইসলাম ওয়াল-কানিসাহ মিনাল ইলম, পৃ. ৫৯ থেকে উদ্ধৃত।
১৩৩. প্রাগুক্ত।
১৩৪. উইল ডুরান্ট, কিসসাতুল হাদারাহ, খ. ১৩, পৃ. ৩০৬।
১৩৫. Souss-Massa-Drâa.
১৩৬. আল-মুখতার আস-সুসি: মুহাম্মাদ আল-মুখতার ইবনে আলি ইবনে আহমাদ আল-ইলগি আস-সুসি (১৩১৮-১৩৮৩ হি./১৯০০-১৯৬৩ খ্রি.) ছিলেন ইতিহাসবিদ, ফকিহ, আদিব। তিনি মুখে মুখে কবিতা বলতেন। ওয়াজির আত-তাজ হিসেবে পরিচিত। তার আরও কয়েকটি গ্রন্থ: رجال العلوم العربية في سوس ، خلال جزولة في أربعة أجزاء المعسول في عشرين جزءا
দেখুন, যিরিকলি, আল-আ'লাম, খ. ৭, পৃ. ৯৩।
১৩৭. মুহাম্মাদ আল-মুখতার আস-সুসি, সুস আল-আলিমা, পৃ. ১৫৪-১৬৭।
১৩৮. মুহাম্মাদ আল-মুখতার আস-সুসি, মাদারিস সুস আল-আতিকা, পৃ. ৯৩-১৩৪।
১৩৯. সাবতা: Ceuta, Spain.
১৪০. তানজা: Tangier, Morocco.
১৪১. আগমাত: Aghmat, Morocco.
১৪২. সিজিলমাসা: Sijilmassa, Morocco.
১৪৩. তিলিমসান: Tlemcen, Algeria.
১৪৪. কাজি ইয়ায: আবুল ফযল ইয়ায ইবনে মুসা ইবনে ইয়ায আল-ইয়াহসুবি আস-সাবতি (৪৭৬-৫৪৪ হি./১০৮৩-১১৪৯ খ্রি.)। হাদিস, ইলমুল হাদিস, ব্যাকরণ, ভাষা, আরবদের কথা, ইতিহাস ও বংশতালিকাবিদ্যা ইত্যাদিতে তার যুগের ইমাম ছিলেন। তার জন্ম সাবতায় এবং তিনি এখানকার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তারপর তিনি গ্রানাডার বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন। মারাকেশে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন, ইবনে খাল্লিকান, ওয়াফায়াতুল আয়ান, খ. ৩, পৃ. ৪৮৩-৪৮৫।
১৪৫. ইবনে রুশদ: আবুল ওয়ালিদ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আহমাদ ইবনে রুশদ আল-কুরতুবি (৫২০-৫৯৫ হি./১১২৬-১১৯৮ খ্রি.)। ইবনে রুশদ আল-হাফেয (নাতি ইবনে রুশদ) নামে বিখ্যাত। তিনি দার্শনিক ইবনে রুশদের নাতি। কাজি ইয়াযের শিক্ষক। কর্ডোভায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং কর্ডোভার প্রধান বিচারক ছিলেন। দেখুন, যাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, খ. ২১, পৃ. ৩০৭-৩০৯; ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি, শাযারাতুয যাহাব ফি আখবারি মান যাহাব, খ. ৪, পৃ. ৩৬৭।
১৪৬. হাসান আস-সায়িহ, আল-হাদারাতুল মাগরিবিয়্যা, খ. ২, পৃ. ৬৪।
১৪৭. المرينيون / The Marinid Sultanate.
১৪৮. আবু সাইদ উসমান ইবনে ইয়াকুব ইবনে আবদুল হক (৬৭৫-৭৩১ হি./১২৭৫-১৩৩১ খ্রি.) ছিলেন মরক্কোর দশম মারিনীয় সুলতান। তিনি একুশ বছর চারমাস রাজত্ব পরিচালনা করেন। তিনি ১৩২৩-২৫ খ্রিষ্টাব্দে মাদরাসাতুল আত্তারিন নির্মাণ করেন। এটি মরক্কোয় নির্মিত অন্যতম সুন্দর মাদরাসা। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে খালিদ আন-নাসিরি, আল-ইসতেকসা লি-আখবারি দুওয়ালিল মাগরিবিল আকসা, খ. ৩, পৃ. ১০৩-১১৬; ইসমাইল ইবনুল আহমার, রাওযাতুন নিসরিন فی দাওলাতি বানি মারিন, পৃ. ২৩-২৪।
১৪৯. আবুল আব্বাস আন-নাসিরি, আল-ইসতেকসা লি-আখবারি দুওয়ালিল মাগরিবিল আকসা, খ. ৩, পৃ. ১১১-১১২।
১৫০. প্রাগুক্ত, খ. ৩, পৃ. ১১২।
১৫১. আল-ইয ইবনে আবদুস সালাম: আবদুল আযিয ইবনে আবদুস সালাম আদ-দিমাশকি (৫৭৭-৬৬০ হি./১১৮১-১২৬২ খ্রি.)। তার লকব বা উপাধি হলো ইযযুদ্দিন। তিনি সুলতানুল উলামা (আলেমদের সম্রাট) হিসেবে পরিচিত। শাফিয়ি মাযহাবপন্থী ফকিহ, মুজতাহিদ পর্যায়ের আলেম। দামেশকে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই বেড়ে উঠেছেন। মিশরের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: আত-তাফসিরুল কাবির। দেখুন, যিরিকলি, আল-আ'লাম, খ. ৪, পৃ. ২১।
১৫২. এটি ফাতেমীয় রাজবংশের শাসনামলের দুটি প্রাসাদের মধ্যবর্তী এলাকা বা ময়দান বা সড়ক। ময়দানের পুব পাশের বড় প্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন খলিফা আল-মুইয লি-দ্বীনিল্লাহ এবং পশ্চিম পাশের ছোট প্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন আল-মুইয লি-দ্বীনিল্লাহর পুত্র খলিফা আল-আযিয বিল্লাহ। এই ময়দানে দশ হাজার সৈন্য কুচকাওয়াজ করতে পারত।-অনুবাদক।
১৫৩. মাকরিযি, আস-সুলুক লি-মারিফাতি দুওয়ালিল মুলুক, খ. ৫, পৃ. ৪৮৫।
১৫৪. তাকিউদ্দিন ইবনে বিন্ত আল-আ'আয: মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব ইবনে খাল্‌ল্ফ আল-আলায়ি (মৃ. ৬৯৫ হি./১২৯৬ খ্রি.), কাজি শিহাবুদ্দিন ইবনে কাজি আলাউদ্দিন ইবনে কাজিউল কুযাত তাজুদ্দিন, ইবনে বিন্ত আল-আ'আয আল-মিশরি আশ-শাফিয়ি নামে পরিচিত। দেখুন, আল-ফাসি, যাইলুত তাকলিদ ফি রুওয়াতিস সুনান ওয়াল আসানিদ, খ. ১, পৃ. ৫২।
১৫৫. সিরাজুদ্দিন আল-বুলকিনি : আবু হাম্স উমর ইবনে রাসলান ইবনে নাসির ইবনে সালিহ আল-কিনানি (৭২৪-৮০৫ হি./১৩২৪-১৪০৩ খ্রি.)। মুজতাহিদ, হাফেযে হাদিস, শাফিয়ি মাযহাবের শীর্ষস্থানীয় আলেম। মিশরের পশ্চিমাঞ্চল বুলকিনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং কায়রোতে শিক্ষাগ্রহণ করেন। ৭৬৯ হিজরিতে শামের (সিরিয়ার) বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। জামে ইবনে তুলুন ও আল-মাদরাসাতুয যাহিরিয়্যাতে তাফসিরের পাঠদান করেন। তার রচিত কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে। তিনি কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন, যিরিকলি, আল-আ'লাম, খ. ৫, পৃ. ৪৬।
১৫৬. মাকরিযি, আস-সুলুক লি-মারিফাতি দুওয়ালিল মুলুক, খ. ৪, পৃ. ৩৪৭: খ. ৫, পৃ. ১৬৩।
১৫৭. আল-জাযযার : ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল আযিম ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মাদ (৬০১-৬৭৯ হি./১২০৪-১২৮০ খ্রি.)। মিশরের প্রখ্যাত কবি। দেখুন, যিরিকলি, আল-আ'লাম, খ. ৮, পৃ. ১৫৩।
১৫৮. মাকরিযি, আস-সুলুক লি-মারিফাতি দুওয়ালিল মুলুক, খ. ২, পৃ. ৩।
১৫৯. মুগলতাই: আবু আবদুল্লাহ আলাউদ্দিন মুগলতাই ইবনে কালিজ ইবনে আবদুল্লাহ আল-মিসরি আল-হানাফি (৬৮৯-৭৬২ হি./১২৯০-১৩৬১ খ্রি.)। তুর্কি বংশোদ্ভূত আরব। হাফেযে হাদিস, মুহাদ্দিস, ইতিহাসবিদ, বংশতালিকাবিশেষজ্ঞ। হানাফি মাযহাবের শীর্ষস্থানীয় আলেম। মিশরের আল-মাদরাসাতুল মুযাফফারিয়্যায় হাদিসের দরসদান করেন। তিনি শাস্ত্রীয় সমালোচক ছিলেন। বহু মুহাদ্দিস ও ভাষাবিদের বিপক্ষে তার সমালোচনামূলক বক্তব্য রয়েছে। একশরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। উল্লেখযোগ্য হলো বিশ খণ্ডে মুদ্রিত সহিহুল বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ। দেখুন, যিরিকলি, আল-আ'লাম, খ. ৭, পৃ. ২৭৫।
১৬০. মাকরিযি, আস-সুলুক লি-মারিফাতি দুওয়ালিল মুলুক, খ. ৩, পৃ. ১৩৩।
১৬১. আবদুর রহিম ইবনে আশ-শাহহাম আল-মাওসিলি : নাজমুদ্দিন ইবনে আশ-শাহহাম আশ-শাফিয়ি (৬৫৩-৭৩০ হি.) প্রাথমিক জীবনে ফিকহে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। ৭২৪ হিজরিতে দামেশকে আসেন। খানকাহ আল-কাসরাইনের প্রধান শাইখরূপে বরিত হন। শাফিয়ি মাযহাবের স্বনামধন্য ফকিহ ছিলেন। ছিলেন চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ। দেখুন, ইবনে হাজার আসকালানি, الدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنةখ. ৩, পৃ. ১৫০।
১৬২. আবদুল কাদির আন-নুয়াইমি, আদ-দারিস ফি তারিখিল মাদারিস, খ. ১, পৃ. ২৬১।
১৬৩. অন্যদিকে জামে আল-উমায়ির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয় ৭১৫ হিজরিতে।
১৬৪. মুহাযযাবুদ্দিন আদ-দাখওয়ার : আবদুর রহিম ইবনে আলি ইবনে হামিদ আদ-দাখওয়ার (৫৬৫-৬২৮ হি./১১৭০-১২৩০ খ্রি.)। দামেশকে জন্মগ্রহণ করেন ও বেড়ে ওঠেন। আইয়ুবীয় সুলতান আল-মালিক আল-আদিলের সঙ্গে দেখা করেন। তার চিকিৎসা-বিষয়ক গ্রন্থ الجنينة )The Embryo( ও مختصر الحاوي للرازي দেখুন, যিরিকলি, আল-আ'লাম, খ. ৩, পৃ. ৩৪৭।
১৬৫. ইবনে আবি উসাইবিআ: আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনুল কাসিম ইবনে খলিফা (৫৯৬-৬৬৮ হি./১২০০-১২৭০ খ্রি.)। চিকিৎসক, ইতিহাসবিদ। উয়ুনুল আনবা ফি তাবাকাতিল আতিব্বা গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি সিরিয়ার সারখাদে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন, মুহাম্মাদ আল-খলিলি, উদাউল আতিব্বা, খ. ১, পৃ. ৫২।
১৬৬. ইবনে আবি উসাইবিআ, উয়ুনুল আনবা ফি তাবাকাতিল আতিব্বা, খ. ৪, পৃ. ৩১৮।
১৬৭. মাকরিযি, আল-মাওয়ায়িয ওয়াল-ইতিবারি বিযিকরিল খুতাতি ওয়াল-আসার, খ. ৩, পৃ. ৪৮০।
১৬৮. الزاوية এর বহুবচন الزوايا। এখানে এর অর্থ জামে মসজিদ নয় এমন ছোট মসজিদ, যাতে মিম্বার নেই। অথবা, সুফি ও আবেদদের আশ্রয়স্থল। এগুলোতে জ্ঞানের চর্চা হতো।
১৬৯. ড. ফাতহিয়্যাহ আন-নাবরাবি, তারিখুন নুযুমি ওয়াল হাদারাতিল ইসলামিয়্যা, পৃ. ২২৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00