📘 মুসলিমজাতি বিশ্বকে কী দিয়েছে > 📄 নৈতিকতা

📄 নৈতিকতা


বাস্তবিক অর্থেই নৈতিকতা ইসলামি সভ্যতার প্রাচীরস্বরূপ। নৈতিকতার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে ইসলামি সভ্যতা। মূল্যবোধ ও নৈতিকতার মূলনীতিগুলো জীবনের সব ধরনের ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্নমুখী তৎপরতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ব্যক্তির চালচলন, সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনীতিতে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিষ্টাচার ও নৈতিকতার পূর্ণতাদানের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করা হয়েছে। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إِنَّمَا بُعِثْتُ لأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ»
সচ্চরিত্রতা ও নৈতিকতার পূর্ণতাদানের জন্য আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে। (১৩২)
এই কয়েকটি শব্দ দ্বারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে নবীরূপে প্রেরণের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করেছেন। তাঁর অভিপ্রায় ছিল তাঁর উম্মত ও সকল মানুষের অন্তরে নৈতিকতার চেতনাকে বদ্ধমূল করে দেওয়া। তিনি চেয়েছিলেন মানবমণ্ডলী উত্তম চরিত্রের নীতির আলোকে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড আঞ্জাম দিক, কারণ, চারিত্রিক নীতির ঊর্ধ্বে আর কোনো নীতি নেই।
শাসন, জ্ঞান, বিধিবিধান, যুদ্ধ, শান্তি, অর্থনীতি, পরিবার.. অর্থাৎ ইসলামি সভ্যতার সব ক্ষেত্রে নৈতিক দিকগুলোকে আদর্শিক ও প্রায়োগিক দিক থেকে মান্য করা হয়। এই জায়গাটায় ইসলামি সভ্যতা এক অনন্য উচ্চতায় পৌছেছে যা আগে ও পরে আর কোনো সভ্যতার ভাগ্যে জোটেনি। নৈতিকতার ক্ষেত্রে ইসলামি সভ্যতার অনেক বিস্ময়কর নিদর্শন রয়েছে। এসব নিদর্শন ইসলামি সভ্যতাকে মানবজাতির জন্য অনন্য ও অবিমিশ্র সৌভাগ্যরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যদিও অন্যসব সভ্যতাও মানুষের সুখ-সৌভাগ্যের ঠিকাদারি নিয়েছে। (১৩৩)
গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এই যে, ইসলামি সভ্যতায় নৈতিকতার উৎস হলো ওহি (আল্লাহর প্রেরিত বাণী)। এ কারণে তা প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধ এবং স্থান ও কাল, লিঙ্গ ও গোত্র নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের জন্য উপযোগী উন্নত আদর্শ। কিন্তু তাত্ত্বিক নৈতিকতার উৎস ভিন্ন। তা হলো মানুষের সীমাবদ্ধ বিবেক ও বুদ্ধি অথবা যার ওপর সমাজের মানুষ ঐকমত্য পোষণ করে। একে প্রথা বলা হয়। তাই তো এক সমাজের তাত্ত্বিক নৈতিকতা আরেক সমাজ থেকে ভিন্ন এবং একেকজন চিন্তাবিদের কাছে একেক রকম।
ইসলামি নৈতিকতার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতার উৎস হলো আল্লাহর তত্ত্বাবধানের ব্যাপারে মানুষের অনুভূতি ও উপলব্ধি। তাত্ত্বিক নৈতিকতার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতার উৎস হলো কেবল বিবেক অথবা করণীয় সম্পর্কে উপলব্ধি অথবা রাষ্ট্রের অবশ্যপালনীয় আইন। এ নৈতিকতাই সভ্যতার চলমানতা ও স্থায়িত্বের রক্ষাকবচ বলে বিবেচিত হয় এবং একইসঙ্গে তা সভ্যতাকে বিকৃতি, হোঁচট ও অধঃপতন থেকে রক্ষা করে।
ইসলামি সভ্যতার ক্ষেত্রে নৈতিকতার প্রধান দিক হলো এর মানবিকতা। মানুষই ইসলামি সভ্যতায় মূল কেন্দ্রবিন্দু এবং মানবিক কল্যাণ ও সম্মান সুরক্ষায় দৃঢ় খুঁটি। কারণ, জীবন ও সভ্যতা বিনির্মাণের প্রেক্ষিতে মানুষকেই দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য করা হয়। পবিত্র কুরআনে মানুষের মর্যাদা ও সম্মানের ওপর গুরুত্বারোপ করে একের-পর-এক আয়াত এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
۞ وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا
আর নিঃসন্দেহে আমি আদমসন্তানদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি, স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি, তাদের আমি উত্তম রিযিক দান করেছি এবং আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের সবার ওপর আমি মানুষকেই শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। (১৩৪)
আল্লাহ তাআলা সকল মানুষকে সমানভাবে মর্যাদা দিয়েছেন। কারণ, সৃষ্টির পর থেকে নিয়ে এখনো পর্যন্ত মানুষের গঠন-উপাদান একই এবং মানুষের অন্যান্য পার্থক্য তার গঠন-উপাদানের কোনোকিছুকে পরিবর্তন করে না। প্রতিটি মানুষকে একই ‘মূল’ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে এই মর্যাদার ক্ষেত্রে বিশিষ্টতা দান করেছেন। এই বিশিষ্টতা ও মর্যাদা অন্য সৃষ্টিকুলের নেই। এই মর্যাদা আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য বিশেষ সুরক্ষা। এভাবে আল্লাহ তাআলা মানুষের জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেচনা, অভিপ্রায় ও স্বাধীনতার সুরক্ষা দিয়েছেন এবং ব্যক্তিসত্তা, সম্পদ ও সন্তানসন্ততির ক্ষেত্রে তার অধিকারেরও সুরক্ষা দিয়েছেন।
এ সকল বৈশিষ্ট্যের কারণে ইসলামি সভ্যতা অনন্য ও অসাধারণ। ইসলামি সভ্যতা বিশ্বজনীন এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার নিরঙ্কুশ একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা অবলম্বনও ইসলামি সভ্যতার অনন্যতাকে ফুটিয়ে তোলে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিবেচনায়ও ইসলামি সভ্যতা তুলনারহিত। এ সকল কারণে ইসলামি সভ্যতা কোনো জাতীয়তাবাদী সভ্যতা নয়, কোনো বর্ণবাদী সভ্যতা নয় এবং মানব-প্রকৃতির বিরুদ্ধও নয়।
যে-সকল বৈশিষ্ট্যে ইসলামি সভ্যতা বিশিষ্ট ও অনন্য তা সত্য-সরল দ্বীনে ইসলামের মূলনীতি থেকে স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতার চরিত্র লাভ করেছে। কারণ, ইসলামি সভ্যতা ইসলামের মূলনীতি থেকে উৎসারিত এবং তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ কারণে ইসলামি সভ্যতা এক স্বকীয় ও অনন্য মৌলবস্তুর রূপ পরিগ্রহ করেছে, যার পরিবর্তন ও রূপান্তর ঘটে না, যদিও কালের বিবর্তন সাধিত হয় এবং নতুন নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে।

টিকাঃ
১৩২. আল-হাকিম কর্তৃক আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত হাদিস, মুসতাদরাক, কিতাব তাওয়ারিখুল মুতাকাদ্দিমিন মিনাল আম্বিয়া ওয়াল-মুরসালিন এবং কিতাব: আয়াতু রাসুলিল্লাহিল লাতি হিয়া দালাইলুন নুবুওয়া, হাদিস নং ৪২২১। আল-হাকিম বলেছেন, হাদিসটি ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ, যদিও তিনি হাদিসটি সংকলন করেননি। যাহাবি তাকে সমর্থন করেছেন। বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা, হাদিস নং ২০৫৭১।
১৩৩. মুস্তাফা আস-সিবায়ি, মিন রাওয়ায়িয়ি হাদারাতিনা, পৃ. ৩৭।
১৩৪. সুরা বনি ইসরাইল: আয়াত ৭০।

বাস্তবিক অর্থেই নৈতিকতা ইসলামি সভ্যতার প্রাচীরস্বরূপ। নৈতিকতার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে ইসলামি সভ্যতা। মূল্যবোধ ও নৈতিকতার মূলনীতিগুলো জীবনের সব ধরনের ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্নমুখী তৎপরতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ব্যক্তির চালচলন, সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনীতিতে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিষ্টাচার ও নৈতিকতার পূর্ণতাদানের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করা হয়েছে। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إِنَّمَا بُعِثْتُ لأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ»
সচ্চরিত্রতা ও নৈতিকতার পূর্ণতাদানের জন্য আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে। (১৩২)
এই কয়েকটি শব্দ দ্বারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে নবীরূপে প্রেরণের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করেছেন। তাঁর অভিপ্রায় ছিল তাঁর উম্মত ও সকল মানুষের অন্তরে নৈতিকতার চেতনাকে বদ্ধমূল করে দেওয়া। তিনি চেয়েছিলেন মানবমণ্ডলী উত্তম চরিত্রের নীতির আলোকে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড আঞ্জাম দিক, কারণ, চারিত্রিক নীতির ঊর্ধ্বে আর কোনো নীতি নেই।
শাসন, জ্ঞান, বিধিবিধান, যুদ্ধ, শান্তি, অর্থনীতি, পরিবার.. অর্থাৎ ইসলামি সভ্যতার সব ক্ষেত্রে নৈতিক দিকগুলোকে আদর্শিক ও প্রায়োগিক দিক থেকে মান্য করা হয়। এই জায়গাটায় ইসলামি সভ্যতা এক অনন্য উচ্চতায় পৌছেছে যা আগে ও পরে আর কোনো সভ্যতার ভাগ্যে জোটেনি। নৈতিকতার ক্ষেত্রে ইসলামি সভ্যতার অনেক বিস্ময়কর নিদর্শন রয়েছে। এসব নিদর্শন ইসলামি সভ্যতাকে মানবজাতির জন্য অনন্য ও অবিমিশ্র সৌভাগ্যরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যদিও অন্যসব সভ্যতাও মানুষের সুখ-সৌভাগ্যের ঠিকাদারি নিয়েছে। (১৩৩)
গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এই যে, ইসলামি সভ্যতায় নৈতিকতার উৎস হলো ওহি (আল্লাহর প্রেরিত বাণী)। এ কারণে তা প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধ এবং স্থান ও কাল, লিঙ্গ ও গোত্র নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের জন্য উপযোগী উন্নত আদর্শ। কিন্তু তাত্ত্বিক নৈতিকতার উৎস ভিন্ন। তা হলো মানুষের সীমাবদ্ধ বিবেক ও বুদ্ধি অথবা যার ওপর সমাজের মানুষ ঐকমত্য পোষণ করে। একে প্রথা বলা হয়। তাই তো এক সমাজের তাত্ত্বিক নৈতিকতা আরেক সমাজ থেকে ভিন্ন এবং একেকজন চিন্তাবিদের কাছে একেক রকম।
ইসলামি নৈতিকতার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতার উৎস হলো আল্লাহর তত্ত্বাবধানের ব্যাপারে মানুষের অনুভূতি ও উপলব্ধি। তাত্ত্বিক নৈতিকতার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতার উৎস হলো কেবল বিবেক অথবা করণীয় সম্পর্কে উপলব্ধি অথবা রাষ্ট্রের অবশ্যপালনীয় আইন। এ নৈতিকতাই সভ্যতার চলমানতা ও স্থায়িত্বের রক্ষাকবচ বলে বিবেচিত হয় এবং একইসঙ্গে তা সভ্যতাকে বিকৃতি, হোঁচট ও অধঃপতন থেকে রক্ষা করে।
ইসলামি সভ্যতার ক্ষেত্রে নৈতিকতার প্রধান দিক হলো এর মানবিকতা। মানুষই ইসলামি সভ্যতায় মূল কেন্দ্রবিন্দু এবং মানবিক কল্যাণ ও সম্মান সুরক্ষায় দৃঢ় খুঁটি। কারণ, জীবন ও সভ্যতা বিনির্মাণের প্রেক্ষিতে মানুষকেই দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য করা হয়। পবিত্র কুরআনে মানুষের মর্যাদা ও সম্মানের ওপর গুরুত্বারোপ করে একের-পর-এক আয়াত এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
۞ وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا
আর নিঃসন্দেহে আমি আদমসন্তানদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি, স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি, তাদের আমি উত্তম রিযিক দান করেছি এবং আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের সবার ওপর আমি মানুষকেই শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। (১৩৪)
আল্লাহ তাআলা সকল মানুষকে সমানভাবে মর্যাদা দিয়েছেন। কারণ, সৃষ্টির পর থেকে নিয়ে এখনো পর্যন্ত মানুষের গঠন-উপাদান একই এবং মানুষের অন্যান্য পার্থক্য তার গঠন-উপাদানের কোনোকিছুকে পরিবর্তন করে না। প্রতিটি মানুষকে একই ‘মূল’ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে এই মর্যাদার ক্ষেত্রে বিশিষ্টতা দান করেছেন। এই বিশিষ্টতা ও মর্যাদা অন্য সৃষ্টিকুলের নেই। এই মর্যাদা আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য বিশেষ সুরক্ষা। এভাবে আল্লাহ তাআলা মানুষের জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেচনা, অভিপ্রায় ও স্বাধীনতার সুরক্ষা দিয়েছেন এবং ব্যক্তিসত্তা, সম্পদ ও সন্তানসন্ততির ক্ষেত্রে তার অধিকারেরও সুরক্ষা দিয়েছেন।
এ সকল বৈশিষ্ট্যের কারণে ইসলামি সভ্যতা অনন্য ও অসাধারণ। ইসলামি সভ্যতা বিশ্বজনীন এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার নিরঙ্কুশ একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা অবলম্বনও ইসলামি সভ্যতার অনন্যতাকে ফুটিয়ে তোলে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিবেচনায়ও ইসলামি সভ্যতা তুলনারহিত। এ সকল কারণে ইসলামি সভ্যতা কোনো জাতীয়তাবাদী সভ্যতা নয়, কোনো বর্ণবাদী সভ্যতা নয় এবং মানব-প্রকৃতির বিরুদ্ধও নয়।
যে-সকল বৈশিষ্ট্যে ইসলামি সভ্যতা বিশিষ্ট ও অনন্য তা সত্য-সরল দ্বীনে ইসলামের মূলনীতি থেকে স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতার চরিত্র লাভ করেছে। কারণ, ইসলামি সভ্যতা ইসলামের মূলনীতি থেকে উৎসারিত এবং তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ কারণে ইসলামি সভ্যতা এক স্বকীয় ও অনন্য মৌলবস্তুর রূপ পরিগ্রহ করেছে, যার পরিবর্তন ও রূপান্তর ঘটে না, যদিও কালের বিবর্তন সাধিত হয় এবং নতুন নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে।

টিকাঃ
১৩২. আল-হাকিম কর্তৃক আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত হাদিস, মুসতাদরাক, কিতাব তাওয়ারিখুল মুতাকাদ্দিমিন মিনাল আম্বিয়া ওয়াল-মুরসালিন এবং কিতাব: আয়াতু রাসুলিল্লাহিল লাতি হিয়া দালাইলুন নুবুওয়া, হাদিস নং ৪২২১। আল-হাকিম বলেছেন, হাদিসটি ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ, যদিও তিনি হাদিসটি সংকলন করেননি। যাহাবি তাকে সমর্থন করেছেন। বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা, হাদিস নং ২০৫৭১।
১৩৩. মুস্তাফা আস-সিবায়ি, মিন রাওয়ায়িয়ি হাদারাতিনা, পৃ. ৩৭।
১৩৪. সুরা বনি ইসরাইল: আয়াত ৭০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00