📄 অন্য জাতি-গোষ্ঠীর প্রতি উদারপন্থা অবলম্বন
বিশ্বের যে-সকল জাতি-গোষ্ঠী ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হয়েছিল তারা ছিল মানবসভ্যতার সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ও উপাদান। একইভাবে অতীত যুগের জাতিগুলোর নির্মিত সভ্যতা-সংস্কৃতি ও তা থেকে উপকার লাভের ক্ষেত্রে মুসলিমদের উদারপন্থা গ্রহণও ছিল ইসলামি সভ্যতা ও তার বিপ্লবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ও সহায়ক।
মানবেতিহাসে প্রথমবারের মতো মুসলিমগণই অন্যান্য সভ্যতার প্রতি উদারপন্থা গ্রহণ এবং পূর্ববর্তী মানবমণ্ডলীর প্রচেষ্টাফল থেকে ঋণ গ্রহণের নীতিমালাগুলোর বাস্তবিক প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন এই উদারনীতির প্রবক্তা। এই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সংকীর্ণতামুক্ত, পক্ষপাতিত্বহীন। তিনি সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা.-কে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য হারিস ইবনে কালাদাহ আস-সাকাফির কাছে যেতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা ছিল কত চমৎকার! তিনি ছিলেন একজন মুশরিক ডাক্তার। এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো দোষ মনে করেননি। কারণ চিকিৎসা একটি জীবনমুখী জ্ঞান, যা গোটা মনুষ্যজাতির উত্তরাধিকার। সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার শুশ্রূষার জন্য এলেন। তিনি আমার বুকের ওপর তাঁর হাত রাখলেন। এমনকি আমার হৃৎপিণ্ডে তাঁর হাতের শীতলতা অনুভব করলাম। তারপর তিনি বললেন,
إِنَّكَ رَجُلٌ مَفْتُودُ ائْتِ الْحَارِثُ بْنَ كَلَدَةَ أَخَا ثَقِيفٍ فَإِنَّهُ رَجُلٌ يَتَطَبَّبُ فَلْيَأْخُذُ سَبْعَ تَمَرَاتٍ مِنْ عَجْوَةِ الْمَدِينَةِ فَلْيَجَأْهُنَّ بِنَوَاهُنَّ ثُمَّ لِيَلُدَكَ بِهِنَّ
তুমি হৃদ্রোগে আক্রান্ত। তুমি সাকিফ গোত্রের হারিস ইবনে কালাদাহর কাছে যাও। সে একজন চিকিৎসক। (পরে আবার বললেন,) সে যেন মদিনার সাতটি আজওয়া খেজুর বিচিসহ পিষে তোমার মুখের মধ্যে ঢেলে দেয়। (১০৭)
একইভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যায়দ ইবনে সাবিত রা.-কে সুরয়ানি ভাষা (Syriac language) শেখার জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা কত চমৎকার! তিনি ষাট দিনে সুরয়ানি ভাষা শিখেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি ফারসি ও রোমান (লাতিন) ভাষাও শিখেছিলেন।
এই ধারা পরবর্তী সময়ে মুসলিমদের ইতিহাসে স্পষ্টভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল। তাদের দায়িত্ব ছিল পৃথিবীর পূর্বে ও পশ্চিমে ইসলামের পয়গাম পৌছে দেওয়া। তাই তারা এই পয়গাম ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য জাযিরাতুল আরব থেকে বেরিয়ে বিপুল বিশ্বের অভিমুখে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের সাক্ষাৎ ও পরিচয় ঘটেছিল নতুন নতুন সভ্যতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে। তারা সেসব সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দেননি বা বিলোপ ঘটাননি। বরং সেগুলোর পাঠ গ্রহণ করেছিলেন এবং উপকারিতা লাভ করেছেন। যা কল্যাণকর ছিল এবং তাদের সত্য দ্বীনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল তা গ্রহণ করেছিলেন। একটা সময় ছিল যখন গ্রিক সভ্যতা তার সন্তানদের ছাড়া অন্যকাউকে কিছু শিক্ষা দেয়নি এবং গ্রিক জ্ঞানী-মনীষী ছাড়া অন্যকারও থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি। পারসিক, ভারতীয় ও চৈনিক সভ্যতাও ছিল অনুরূপ। সম্ভবত কিছুকাল পর্যন্ত এসব সভ্যতার ক্ষেত্রে এই অবস্থা অবশিষ্ট ছিল। যেমন চৈনিক ও ভারতীয় সভ্যতা।
তবে মুসলিমগণ খুব দ্রুতই অন্যদের জ্ঞান ও চিন্তারাশি ভাষান্তরিত করার আন্দোলন সূচিত করেন। খালিদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মুআবিয়া আল-উমাবি (১০৮) ছিলেন এই আন্দোলনের অগ্রপথিক। তিনি গ্রিক জ্ঞান ও চিন্তা আরবি ভাষায় রূপান্তরিত করার কাজ শুরু করেন। এ সকল জ্ঞান ও তাদের বিকশিত ধারা থেকে উপকৃত হন। বিশেষ করে ওষুধশাস্ত্র, চিকিৎসাশাস্ত্র ও রসায়নশাস্ত্র-সংক্রান্ত সমীকরণের জ্ঞান লাভ করেন।
উমাইয়া খেলাফত স্থায়িত্ব লাভ করল। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করল। পারসিক ও রোমান রাজ্যগুলোর পতনের পর অনারবদের জ্ঞানের উত্তরাধিকার লাভ করল। তারপর মনোযোগ চিন্তার আন্দোলনের প্রতি নিবদ্ধ হলো। ফলে গ্রিক ও পারসিক সভ্যতাসহ পূর্ববর্তী সভ্যতাসমূহের বিপুল গ্রন্থ ও জ্ঞানভান্ডার আরবি ভাষায় রূপান্তরিত হলো। সভ্যতার প্রেক্ষিত বিবেচনায় তা ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কারণ তা বিশাল বাতায়ন খুলে দিয়েছিল, যার মধ্য দিয়ে আরব ও মুসলিম জ্ঞানানুরাগীগণ প্রথমবারের মতো বাইরের জগতের জ্ঞানবিজ্ঞানের দিকে চোখ মেলে তাকান।
ভাষান্তরিত জ্ঞানরাশির মধ্যে অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান বিশেষ সমাদর লাভ করে। এগুলোর শীর্ষস্থানে ছিল চিকিৎসাশাস্ত্র। এই যুগবিভাজনের আগে ইসলামি চিকিৎসাশাস্ত্র নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা ও ভেষজ ওষুধের ওপর নির্ভরশীল ছিল। যেমন সেঁক দেওয়া, রক্তমোক্ষণ (bloodletting) করা, শিঙা লাগানো, খতনা করা ও ছোট-বড় অস্ত্রোপচার করা। মুসলিম ও আরব চিকিৎসকগণ আলেকজান্দ্রিয়া মাদরাসা ও জুনদাইসাপুর (১০৯) মাদরাসার পাঠ্যসূচির সাহায্যে গ্রিক চিকিৎসাবিদ্যার সঙ্গে পরিচিত হলেন এবং এর ফলে চিকিৎসাশাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ আরবি ভাষায় রূপান্তরিত করার কাজে ব্রতী হলেন। (১১০) এই ক্ষেত্রে সে সময়ে তথা খলিফা মারওয়ান বিন হাকামের শাসনামলে (৬৪-৬৫ হিজরিতে) শ্রেষ্ঠ অনুবাদক ছিলেন মাসারজাওয়াইহ। (Masarjawaih)। তিনি ছিলেন ইহুদি ধর্মাবলম্বী এবং খলিফা মারওয়ান ইবনে হাকামের ব্যক্তিগত চিকিৎসক। তিনি আল-কুন্নাশ (الكناش) নামে একটি গ্রিক চিকিৎসা বিশ্বকোষ আরবি ভাষায় রূপান্তরিত করেছিলেন। (১১১)
আব্বাসি খিলাফতকালে, বিশেষ করে পঞ্চম খলিফা হারুনুর রশিদের শাসনামলে (১৭০-১৯৪ হিজরি) অনুবাদ-কর্মকাণ্ড বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তিনি বাইতুল হিকমাহ নামে একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিকট প্রাচ্য ও কনস্টান্টিনোপল থেকে আরবি ভাষায় অনূদিত গ্রন্থসমূহ দ্বারা তা সমৃদ্ধ করে তোলেন। সপ্তম আব্বাসি খলিফা মামুনও (১৯৮-২১৮ হিজরি) বাইতুল হিকমাহর ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বারোপ করেন এবং অনুবাদকদের ভাতা বাড়িয়ে দেন। তিনি বিভিন্ন শাখার জ্ঞানবিজ্ঞানের গ্রিক রচনাবলি যতদূর সম্ভব সংগ্রহ করার জন্য কনস্টান্টিনোপলে প্রতিনিধিদল পাঠাতে শুরু করেন। মুসলিম খলিফাগণ অন্যান্য রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যেসব চুক্তি করতেন তার অধিকাংশের ক্ষেত্রে এই শর্তারোপ করা হতো যে, মুসলিম জ্ঞানী-বিজ্ঞানীরা গির্জায় ও বাইজান্টাইনীয় প্রাসাদসমূহে যে-সকল গ্রন্থাগার রয়েছে সেগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সেখানে সংরক্ষিত গ্রন্থরাশির অনুবাদ করতে পারবেন। এমনকি মাঝে মাঝে খলিফাগণ গ্রন্থের দ্বারা বন্দি বিনিময়ও করতেন। (১১২)
ইবনে নাদিম (মৃ. ৯৯৫/৯৯৬) তার আল-ফিহরিসত গ্রন্থে অনুবাদক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, দার্শনিক, প্রকৌশলী ও জ্যোতির্বিদদের জন্য প্রায় সত্তরটি ভুক্তি রচনা করেছেন। তাদের জীবৎকালের বিস্তৃতি ছিল হিজরি তৃতীয় ও চতুর্থ শতক। যাদের অধিকাংশ ছিলেন সুরয়ানি অথবা পারসিক ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম। এটা এই উদ্যোগ ও তার প্রভাবের গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে, তা হলো ইসলামি জ্ঞান-সভ্যতা বিনির্মাণ ও সমৃদ্ধিকরণে অমুসলিমদের ব্যাপারে এবং ইসলামপূর্ব যুগের প্রাচীন সভ্যতা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে উদার ও উন্মুক্ত নীতি গ্রহণ।
এখানে উল্লেখ্য যে, অন্যদের প্রতি মুসলিমদের এই উদারনীতি অন্ধ বা অজ্ঞতাপূর্ণ ছিল না। সিংহভাগ ক্ষেত্রে তা ছিল মুসলিমদের মূল্যবোধ ও নীতিনৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তাদের সত্যধর্মের অনুকূল। গ্রিক সভ্যতার ক্ষেত্রে তারা উদারনীতি গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তারা তাদের আইনকানুন গ্রহণ করেননি এবং গ্রিক মহাকাব্য ইলিয়াডের অনুবাদ করেননি। উচ্চাঙ্গের পৌত্তলিক গ্রিক সাহিত্যেরও অনুবাদ করেননি। বরং তারা তথ্য-পুস্তক নথিভুক্তকরণের জ্ঞানলাভ এবং পদার্থবিজ্ঞানের অনুবাদকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। তারা পারসিক সভ্যতার প্রতি উদারনীতি গ্রহণ করেছেন, কিন্তু সযত্নে তাদের ধ্বংসাত্মক ধর্মাদর্শ এড়িয়ে গেছেন। তবে পারসিক সাহিত্য ও তাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জ্ঞান ঋণ করেছেন। তারা ভারতীয় সভ্যতার প্রতি উদারনীতি গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তাদের দর্শন ও ধর্মাদর্শকে পাশ কাটিয়ে গেছেন। তাদের গণিতশাস্ত্র ও জ্যোতির্বিদ্যা গ্রহণ করেছেন; তারা এ সকল জ্ঞানের সংরক্ষণ করেছেন, উন্নতি ও বিকাশ ঘটিয়েছেন এবং অনেককিছু সংযুক্ত করেছেন।
তা ছাড়া মুসলিমগণ অন্য সভ্যতা থেকে যা গ্রহণ করেছেন তা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও সৌন্দর্য বলে বিবেচিত হয়েছে। কেউ এটাকে দোষ বলে গণ্য করেনি। অর্থাৎ, এতে মুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ সাধিত হয়েছে এবং তাদের মন ও মগজ অন্যদের জ্ঞানবিজ্ঞান গ্রহণের জন্য উন্মুখ হয়েছে।
মানবসভ্যতায় অবদানের বিষয়টি যাদের দ্বারা শুরু হয় তাদের দ্বারা শেষ হয় না; একজন শুরু করে, চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় অন্যরা। তারপর নতুন নতুন জিনিসের উদ্ভাবন ঘটে এবং পূর্ববর্তী সভ্যতায় শুরু হওয়া অগ্রযাত্রা পূর্ণতা পায়। যা আমরা আগামী অধ্যায়গুলোতে দেখতে পাব ইনশাআল্লাহ।
টিকাঃ
১০৭. হাদিসটি থেকে প্রথমত এটা প্রমাণিত হয় যে, রোগের চিকিৎসা করা বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। যদিও সে অমুসলিম হয়। কারণ, হারিস ইবনে কালাদাহ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন কি না তা নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা নেই। দ্বিতীয়ত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দান করে নিজেই তার ওষুধ নির্ণয় করেছেন। আর অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায় যে, এটাও এক প্রকারের মহৌষধ। তবে পদ্ধতিগতভাবে প্রস্তুত করা চিকিৎসকের কাজ।-অনুবাদক সুনানে আবু দাউদ, কিতাব চিকিৎসা, বাব তামারাতুল আজওয়া: ৩৮৭৫। ইবনে হাজার আসকালানি হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। হেদায়াতুর রুওয়াত, খ. ৪, পৃ. ১৫৯। আবদুল হক আল-ইলবিলি আল-আহকামুস সুগরা গ্রন্থের ভূমিকাতে এ দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, হাদিসটির সনদ সহিহ। আল-আহকামুস সুগরা, পৃ. ৮৩৭।
১০৮. খালিদ ইবনে ইয়াযিদ: আবু হাশিম খালিদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান আল-উমাবি আল-কুরাশি। জ্ঞানশাস্ত্রের ক্ষেত্রে কুরাইশ বংশের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী ছিলেন। তার ওষুধ ও কিমিয়া প্রস্তুতপ্রণালি-সংক্রান্ত বক্তব্য ও মতামত গুরুত্ব বহন করে। তিনি ৯০ হিজরিতে (৭০৮ খ্রিষ্টাব্দে) দামেশকে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন, সাফাদি, আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত, খ. ১৩, পৃ. ১৬৪-১৬৬।
১০৯. খুরাসানের একটি শহর।
১১০. আলি ইবনে আবদুল্লাহ দাফফা, রুউওয়াদু ইলমিত তিব্ব ফিল-হাদারাতিল আরাবিয়্যাতি ওয়াল-ইসলামিয়্যা, পৃ. ৬৮।
১১১. তিনি এটিকে সুরয়ানি ভাষা থেকে রূপান্তরিত করেছিলেন। দেখুন, ইবনে আবি উসাইবিআ, উত্তুন সালাম কি তারাকাতিল আতিব্বা, খ. ১, পৃ. ১৬৩; শামসুদ্দিন আশ-শাহারযুরি, তারীখুল হুকামা, পৃ. ৮০।
১১২. এসিও তাব মির্ধারিসত, পৃ. ২৪৩। মুহাম্মাদ সাদিক আফিফি, তাতাওউরুল ফিকরিল ইলমি ইনদা মুসলিমিন।
১১৩. সুগম্মাদ ইবনে ইসহাক আল-বাগদাদি, মৃ. ৪৩৮ হিজরি/১০৪৭ খ্রিষ্টাব্দ। তথ্য-সংগ্রাহক সাহিত্যিক শিয়া ও মুতাজিলা মতাদর্শী। দেখুন, ইবনে হাজার আসকালানি, লিসানুল মিযান, খ. ৩, পৃ. ৭৭; খাইরুদ্দিন আয-নিরিকলি, আল-আ'লাম, খ. ৬, পৃ. ২৯। এনসিক্লোপেডিয়াবাদী নাদিম তার উপাধি, তার পিতার নয়। তাই তাকে ইবনে নাদিম না বলে নাসির এলাইয়া সংগাতো। এ বিষয়ে জানতে দেখুন, শাইখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রহ.-এর বারাকাতুল লিসানুল মিযান। খ. ৯ পৃ. ২১৪। সম্পাদক
বিশ্বের যে-সকল জাতি-গোষ্ঠী ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হয়েছিল তারা ছিল মানবসভ্যতার সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ও উপাদান। একইভাবে অতীত যুগের জাতিগুলোর নির্মিত সভ্যতা-সংস্কৃতি ও তা থেকে উপকার লাভের ক্ষেত্রে মুসলিমদের উদারপন্থা গ্রহণও ছিল ইসলামি সভ্যতা ও তার বিপ্লবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ও সহায়ক।
মানবেতিহাসে প্রথমবারের মতো মুসলিমগণই অন্যান্য সভ্যতার প্রতি উদারপন্থা গ্রহণ এবং পূর্ববর্তী মানবমণ্ডলীর প্রচেষ্টাফল থেকে ঋণ গ্রহণের নীতিমালাগুলোর বাস্তবিক প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন এই উদারনীতির প্রবক্তা। এই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সংকীর্ণতামুক্ত, পক্ষপাতিত্বহীন। তিনি সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা.-কে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য হারিস ইবনে কালাদাহ আস-সাকাফির কাছে যেতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা ছিল কত চমৎকার! তিনি ছিলেন একজন মুশরিক ডাক্তার। এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো দোষ মনে করেননি। কারণ চিকিৎসা একটি জীবনমুখী জ্ঞান, যা গোটা মনুষ্যজাতির উত্তরাধিকার। সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার শুশ্রূষার জন্য এলেন। তিনি আমার বুকের ওপর তাঁর হাত রাখলেন। এমনকি আমার হৃৎপিণ্ডে তাঁর হাতের শীতলতা অনুভব করলাম। তারপর তিনি বললেন,
إِنَّكَ رَجُلٌ مَفْتُودُ ائْتِ الْحَارِثُ بْنَ كَلَدَةَ أَخَا ثَقِيفٍ فَإِنَّهُ رَجُلٌ يَتَطَبَّبُ فَلْيَأْخُذُ سَبْعَ تَمَرَاتٍ مِنْ عَجْوَةِ الْمَدِينَةِ فَلْيَجَأْهُنَّ بِنَوَاهُنَّ ثُمَّ لِيَلُدَكَ بِهِنَّ
তুমি হৃদ্রোগে আক্রান্ত। তুমি সাকিফ গোত্রের হারিস ইবনে কালাদাহর কাছে যাও। সে একজন চিকিৎসক। (পরে আবার বললেন,) সে যেন মদিনার সাতটি আজওয়া খেজুর বিচিসহ পিষে তোমার মুখের মধ্যে ঢেলে দেয়। (১০৭)
একইভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যায়দ ইবনে সাবিত রা.-কে সুরয়ানি ভাষা (Syriac language) শেখার জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা কত চমৎকার! তিনি ষাট দিনে সুরয়ানি ভাষা শিখেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি ফারসি ও রোমান (লাতিন) ভাষাও শিখেছিলেন।
এই ধারা পরবর্তী সময়ে মুসলিমদের ইতিহাসে স্পষ্টভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল। তাদের দায়িত্ব ছিল পৃথিবীর পূর্বে ও পশ্চিমে ইসলামের পয়গাম পৌছে দেওয়া। তাই তারা এই পয়গাম ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য জাযিরাতুল আরব থেকে বেরিয়ে বিপুল বিশ্বের অভিমুখে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের সাক্ষাৎ ও পরিচয় ঘটেছিল নতুন নতুন সভ্যতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে। তারা সেসব সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দেননি বা বিলোপ ঘটাননি। বরং সেগুলোর পাঠ গ্রহণ করেছিলেন এবং উপকারিতা লাভ করেছেন। যা কল্যাণকর ছিল এবং তাদের সত্য দ্বীনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল তা গ্রহণ করেছিলেন। একটা সময় ছিল যখন গ্রিক সভ্যতা তার সন্তানদের ছাড়া অন্যকাউকে কিছু শিক্ষা দেয়নি এবং গ্রিক জ্ঞানী-মনীষী ছাড়া অন্যকারও থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি। পারসিক, ভারতীয় ও চৈনিক সভ্যতাও ছিল অনুরূপ। সম্ভবত কিছুকাল পর্যন্ত এসব সভ্যতার ক্ষেত্রে এই অবস্থা অবশিষ্ট ছিল। যেমন চৈনিক ও ভারতীয় সভ্যতা।
তবে মুসলিমগণ খুব দ্রুতই অন্যদের জ্ঞান ও চিন্তারাশি ভাষান্তরিত করার আন্দোলন সূচিত করেন। খালিদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মুআবিয়া আল-উমাবি (১০৮) ছিলেন এই আন্দোলনের অগ্রপথিক। তিনি গ্রিক জ্ঞান ও চিন্তা আরবি ভাষায় রূপান্তরিত করার কাজ শুরু করেন। এ সকল জ্ঞান ও তাদের বিকশিত ধারা থেকে উপকৃত হন। বিশেষ করে ওষুধশাস্ত্র, চিকিৎসাশাস্ত্র ও রসায়নশাস্ত্র-সংক্রান্ত সমীকরণের জ্ঞান লাভ করেন।
উমাইয়া খেলাফত স্থায়িত্ব লাভ করল। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করল। পারসিক ও রোমান রাজ্যগুলোর পতনের পর অনারবদের জ্ঞানের উত্তরাধিকার লাভ করল। তারপর মনোযোগ চিন্তার আন্দোলনের প্রতি নিবদ্ধ হলো। ফলে গ্রিক ও পারসিক সভ্যতাসহ পূর্ববর্তী সভ্যতাসমূহের বিপুল গ্রন্থ ও জ্ঞানভান্ডার আরবি ভাষায় রূপান্তরিত হলো। সভ্যতার প্রেক্ষিত বিবেচনায় তা ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কারণ তা বিশাল বাতায়ন খুলে দিয়েছিল, যার মধ্য দিয়ে আরব ও মুসলিম জ্ঞানানুরাগীগণ প্রথমবারের মতো বাইরের জগতের জ্ঞানবিজ্ঞানের দিকে চোখ মেলে তাকান।
ভাষান্তরিত জ্ঞানরাশির মধ্যে অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান বিশেষ সমাদর লাভ করে। এগুলোর শীর্ষস্থানে ছিল চিকিৎসাশাস্ত্র। এই যুগবিভাজনের আগে ইসলামি চিকিৎসাশাস্ত্র নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা ও ভেষজ ওষুধের ওপর নির্ভরশীল ছিল। যেমন সেঁক দেওয়া, রক্তমোক্ষণ (bloodletting) করা, শিঙা লাগানো, খতনা করা ও ছোট-বড় অস্ত্রোপচার করা। মুসলিম ও আরব চিকিৎসকগণ আলেকজান্দ্রিয়া মাদরাসা ও জুনদাইসাপুর (১০৯) মাদরাসার পাঠ্যসূচির সাহায্যে গ্রিক চিকিৎসাবিদ্যার সঙ্গে পরিচিত হলেন এবং এর ফলে চিকিৎসাশাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ আরবি ভাষায় রূপান্তরিত করার কাজে ব্রতী হলেন। (১১০) এই ক্ষেত্রে সে সময়ে তথা খলিফা মারওয়ান বিন হাকামের শাসনামলে (৬৪-৬৫ হিজরিতে) শ্রেষ্ঠ অনুবাদক ছিলেন মাসারজাওয়াইহ। (Masarjawaih)। তিনি ছিলেন ইহুদি ধর্মাবলম্বী এবং খলিফা মারওয়ান ইবনে হাকামের ব্যক্তিগত চিকিৎসক। তিনি আল-কুন্নাশ (الكناش) নামে একটি গ্রিক চিকিৎসা বিশ্বকোষ আরবি ভাষায় রূপান্তরিত করেছিলেন। (১১১)
আব্বাসি খিলাফতকালে, বিশেষ করে পঞ্চম খলিফা হারুনুর রশিদের শাসনামলে (১৭০-১৯৪ হিজরি) অনুবাদ-কর্মকাণ্ড বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তিনি বাইতুল হিকমাহ নামে একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিকট প্রাচ্য ও কনস্টান্টিনোপল থেকে আরবি ভাষায় অনূদিত গ্রন্থসমূহ দ্বারা তা সমৃদ্ধ করে তোলেন। সপ্তম আব্বাসি খলিফা মামুনও (১৯৮-২১৮ হিজরি) বাইতুল হিকমাহর ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বারোপ করেন এবং অনুবাদকদের ভাতা বাড়িয়ে দেন। তিনি বিভিন্ন শাখার জ্ঞানবিজ্ঞানের গ্রিক রচনাবলি যতদূর সম্ভব সংগ্রহ করার জন্য কনস্টান্টিনোপলে প্রতিনিধিদল পাঠাতে শুরু করেন। মুসলিম খলিফাগণ অন্যান্য রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যেসব চুক্তি করতেন তার অধিকাংশের ক্ষেত্রে এই শর্তারোপ করা হতো যে, মুসলিম জ্ঞানী-বিজ্ঞানীরা গির্জায় ও বাইজান্টাইনীয় প্রাসাদসমূহে যে-সকল গ্রন্থাগার রয়েছে সেগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সেখানে সংরক্ষিত গ্রন্থরাশির অনুবাদ করতে পারবেন। এমনকি মাঝে মাঝে খলিফাগণ গ্রন্থের দ্বারা বন্দি বিনিময়ও করতেন। (১১২)
ইবনে নাদিম (মৃ. ৯৯৫/৯৯৬) তার আল-ফিহরিসত গ্রন্থে অনুবাদক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, দার্শনিক, প্রকৌশলী ও জ্যোতির্বিদদের জন্য প্রায় সত্তরটি ভুক্তি রচনা করেছেন। তাদের জীবৎকালের বিস্তৃতি ছিল হিজরি তৃতীয় ও চতুর্থ শতক। যাদের অধিকাংশ ছিলেন সুরয়ানি অথবা পারসিক ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম। এটা এই উদ্যোগ ও তার প্রভাবের গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে, তা হলো ইসলামি জ্ঞান-সভ্যতা বিনির্মাণ ও সমৃদ্ধিকরণে অমুসলিমদের ব্যাপারে এবং ইসলামপূর্ব যুগের প্রাচীন সভ্যতা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে উদার ও উন্মুক্ত নীতি গ্রহণ।
এখানে উল্লেখ্য যে, অন্যদের প্রতি মুসলিমদের এই উদারনীতি অন্ধ বা অজ্ঞতাপূর্ণ ছিল না। সিংহভাগ ক্ষেত্রে তা ছিল মুসলিমদের মূল্যবোধ ও নীতিনৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তাদের সত্যধর্মের অনুকূল। গ্রিক সভ্যতার ক্ষেত্রে তারা উদারনীতি গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তারা তাদের আইনকানুন গ্রহণ করেননি এবং গ্রিক মহাকাব্য ইলিয়াডের অনুবাদ করেননি। উচ্চাঙ্গের পৌত্তলিক গ্রিক সাহিত্যেরও অনুবাদ করেননি। বরং তারা তথ্য-পুস্তক নথিভুক্তকরণের জ্ঞানলাভ এবং পদার্থবিজ্ঞানের অনুবাদকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। তারা পারসিক সভ্যতার প্রতি উদারনীতি গ্রহণ করেছেন, কিন্তু সযত্নে তাদের ধ্বংসাত্মক ধর্মাদর্শ এড়িয়ে গেছেন। তবে পারসিক সাহিত্য ও তাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জ্ঞান ঋণ করেছেন। তারা ভারতীয় সভ্যতার প্রতি উদারনীতি গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তাদের দর্শন ও ধর্মাদর্শকে পাশ কাটিয়ে গেছেন। তাদের গণিতশাস্ত্র ও জ্যোতির্বিদ্যা গ্রহণ করেছেন; তারা এ সকল জ্ঞানের সংরক্ষণ করেছেন, উন্নতি ও বিকাশ ঘটিয়েছেন এবং অনেককিছু সংযুক্ত করেছেন।
তা ছাড়া মুসলিমগণ অন্য সভ্যতা থেকে যা গ্রহণ করেছেন তা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও সৌন্দর্য বলে বিবেচিত হয়েছে। কেউ এটাকে দোষ বলে গণ্য করেনি। অর্থাৎ, এতে মুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ সাধিত হয়েছে এবং তাদের মন ও মগজ অন্যদের জ্ঞানবিজ্ঞান গ্রহণের জন্য উন্মুখ হয়েছে।
মানবসভ্যতায় অবদানের বিষয়টি যাদের দ্বারা শুরু হয় তাদের দ্বারা শেষ হয় না; একজন শুরু করে, চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় অন্যরা। তারপর নতুন নতুন জিনিসের উদ্ভাবন ঘটে এবং পূর্ববর্তী সভ্যতায় শুরু হওয়া অগ্রযাত্রা পূর্ণতা পায়। যা আমরা আগামী অধ্যায়গুলোতে দেখতে পাব ইনশাআল্লাহ।
টিকাঃ
১০৭. হাদিসটি থেকে প্রথমত এটা প্রমাণিত হয় যে, রোগের চিকিৎসা করা বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। যদিও সে অমুসলিম হয়। কারণ, হারিস ইবনে কালাদাহ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন কি না তা নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা নেই। দ্বিতীয়ত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দান করে নিজেই তার ওষুধ নির্ণয় করেছেন। আর অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায় যে, এটাও এক প্রকারের মহৌষধ। তবে পদ্ধতিগতভাবে প্রস্তুত করা চিকিৎসকের কাজ।-অনুবাদক সুনানে আবু দাউদ, কিতাব চিকিৎসা, বাব তামারাতুল আজওয়া: ৩৮৭৫। ইবনে হাজার আসকালানি হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। হেদায়াতুর রুওয়াত, খ. ৪, পৃ. ১৫৯। আবদুল হক আল-ইলবিলি আল-আহকামুস সুগরা গ্রন্থের ভূমিকাতে এ দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, হাদিসটির সনদ সহিহ। আল-আহকামুস সুগরা, পৃ. ৮৩৭।
১০৮. খালিদ ইবনে ইয়াযিদ: আবু হাশিম খালিদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান আল-উমাবি আল-কুরাশি। জ্ঞানশাস্ত্রের ক্ষেত্রে কুরাইশ বংশের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী ছিলেন। তার ওষুধ ও কিমিয়া প্রস্তুতপ্রণালি-সংক্রান্ত বক্তব্য ও মতামত গুরুত্ব বহন করে। তিনি ৯০ হিজরিতে (৭০৮ খ্রিষ্টাব্দে) দামেশকে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন, সাফাদি, আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত, খ. ১৩, পৃ. ১৬৪-১৬৬।
১০৯. খুরাসানের একটি শহর।
১১০. আলি ইবনে আবদুল্লাহ দাফফা, রুউওয়াদু ইলমিত তিব্ব ফিল-হাদারাতিল আরাবিয়্যাতি ওয়াল-ইসলামিয়্যা, পৃ. ৬৮।
১১১. তিনি এটিকে সুরয়ানি ভাষা থেকে রূপান্তরিত করেছিলেন। দেখুন, ইবনে আবি উসাইবিআ, উত্তুন সালাম কি তারাকাতিল আতিব্বা, খ. ১, পৃ. ১৬৩; শামসুদ্দিন আশ-শাহারযুরি, তারীখুল হুকামা, পৃ. ৮০।
১১২. এসিও তাব মির্ধারিসত, পৃ. ২৪৩। মুহাম্মাদ সাদিক আফিফি, তাতাওউরুল ফিকরিল ইলমি ইনদা মুসলিমিন।
১১৩. সুগম্মাদ ইবনে ইসহাক আল-বাগদাদি, মৃ. ৪৩৮ হিজরি/১০৪৭ খ্রিষ্টাব্দ। তথ্য-সংগ্রাহক সাহিত্যিক শিয়া ও মুতাজিলা মতাদর্শী। দেখুন, ইবনে হাজার আসকালানি, লিসানুল মিযান, খ. ৩, পৃ. ৭৭; খাইরুদ্দিন আয-নিরিকলি, আল-আ'লাম, খ. ৬, পৃ. ২৯। এনসিক্লোপেডিয়াবাদী নাদিম তার উপাধি, তার পিতার নয়। তাই তাকে ইবনে নাদিম না বলে নাসির এলাইয়া সংগাতো। এ বিষয়ে জানতে দেখুন, শাইখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রহ.-এর বারাকাতুল লিসানুল মিযান। খ. ৯ পৃ. ২১৪। সম্পাদক