📄 মৃত্যের পরিবারের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করা
দশম : মৃত্যের পরিবারের জন্যে তার বাড়িতে উপস্থিত মানুষের জন্যে খাদ্য প্রস্তুত করা জায়েয নয়। (সম্মানিত সাহাবী জারীর বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালী (রাযিআল্লাহু আনহুর) বাণী থাকার কারণে: আমরা মৃত্যের পরিবারের কাছে একত্রিত হওয়া ও এবং দাফনের পর খাদ্য প্রস্তুত করাকে নিয়াহার (বিলাপের) অন্তর্ভূক্ত করতাম।) (এই হাদীসটি ইমাম আহমদ হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।) তবে মৃতের পরিবারের জন্যে বা তাদের মেহমানদের জন্যে খাদ্য প্রস্তুত করাতে কোন অসুবিধা নেই। এবং মৃত্যের আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের জন্যে মৃত্যের পরিবারের জন্যে খাদ্য প্রস্তুত করা মাশরূ' বা বৈধ।। কারণ রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে যখন জাফর বিন আবূ তালিব (রাযিআল্লাহু আনহু) এর শামে মৃত্যু হয়েছে এ সংবাদ পৌঁছে তখন তিনি স্বীয় পরিবারবর্গকে বললেন: “জাফর পরিবারের জন্য খাদ্য প্রস্তুত কর। আরো বললেন যে, তাদের উপর এমন বিপদ নেমে এসেছে যা তাদেরকে খাদ্য প্রস্তুত করা থেকে ব্যস্ত করে রেখেছে। মৃতের পরিবারের জন্যে যে খাদ্য পাঠানো হয়েছে তা খাওয়ার জন্য নিজেদের প্রতিবেশী বা অন্যদের আহবান করাতে কোন অসুবিধা নেই। এর জন্য কোন নির্দিষ্ট সময়-সীমা আছে বলে আমাদের জানা নেই।
📄 শোক প্রকাশ
একাদশ : কোন মহিলার জন্যে স্বামী ব্যতীত অপর কোন মৃতের উপর তিন দিনের বেশী শোক প্রকাশ করা জায়েয নয়। স্ত্রীর উপর নিজের স্বামীর মৃত্যুর উপর চারমাস দশ দিন শোক প্রকাশ ওয়াজিব। তবে গর্ভবর্তী মহিলার সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত শোক পালন করতে হবে। কারণ এ ব্যাপারে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ হাদীস প্রমাণিত হয়েছে।
কিন্তু পুরুষ তার জন্যে আত্মীয় বা অন্যদের কারোর মুত্যুর উপর শোক পালন করা জায়েয নয়।
📄 কবর জিয়ারত
দ্বাদশ: (দিন ও তারিখ নির্ধারন না করে) যে কোন সময়ের মধ্যে মৃত ব্যক্তিদের জন্যে দু'আ, তাদের উপর রহমত বর্ষণ, মৃত্যু ও তার পরের অবস্থার কথা স্বরণের লক্ষ্যে পুরুষদের জন্যে কবর জিয়ারত করা মাশরূ' বা বৈধ। কারণ (এ ব্যাপারে) নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী রয়েছেঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زُورُوا الْقُبُورَ فَإِنَّهَا
تُذَكِّرُكُمُ الْآخِرَةَ (خرجه الإمام مسلم في صحيحه)
আবূ হুরাইরা রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমরা কবর জিয়ারত কর, কারণ এটি তোমাদেরকে আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। (হাদীসটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন) রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীগণ যখন কবর যিয়ারত করতেন তখন তাঁদেরকে তিনি নিম্নের দু'আ বলতে শিক্ষা দিতেন।
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدَّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ
لاحِقُوْنَ، نَسْأَلُ اللهُ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيةَ، يَرْحَمُ اللَّهُ الْمُسْتَقْدِمِينَ وَالْمُسْتَأْخِرِينَ
উচ্চারণ : আস্সালামু আলাইকুম ইয়া আহ্লাদ্ দিয়ারি মিনাল মু'মিনীনা ওয়াল মুসলিমীন, ওয়া ইন্না ইনশা আল্লাহু বিকুম লাহিকুন। নাস্থলুল্লাহা লানা ওয়া লাকুমুল আফিয়াহ, ইয়ারহামুল্লাহুল মুস্ তাদ্দিমীনা ওয়াল মুস্তাখিরীন
অর্থ : তোমাদের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক হে কবরবাসী মু'মিন ও মুসলিমগণ, ইন্শা আল্লাহ আমরাও অবশ্যই তোমাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আমাদের এবং তোমাদের জন্যে আল্লাহর নিকট শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করতেছি। আল্লাহ অগ্রগামী ও পশ্চাতগামীদের প্রতি দয়া করুন।
মেয়ে লোকের জন্যে কবর জিয়ারত করা বৈধ নহে। করণ রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবর জিয়ারতকারীনী নারীদের অভিশাপ করেছেন। এতদ্ব্যতীত মেয়েদের কবর জিয়ারতে ফেতনা ও অধৈর্য সৃষ্টির ভয় রয়েছে। এইভাবে মেয়েদের পক্ষে কবর পর্যন্ত জানাযার অনুগমন করা বৈধ নহে। কেননা, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে এ থেকে নিষেধ করেছেন। তবে মসজিদে বা অন্য কোন স্থানে মৃতের উপর জানাযার নামায পড়া নারী পুরুষ সকলের জন্যে বৈধ।
(এ বইয়ে) যা একত্রিত করা সহজ হয়েছে এটি তার সর্বশেষ পাঠ।
আল্লাহ আমাদের নাবী মোহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের উপর সলাত ও সালাম বর্ষণ করুন।