📄 মৃত ব্যক্তির দাফনের বিবরণ
অষ্টমত: মৃত ব্যক্তির দাফনের বিবরণ:
মাশরূ' বা বৈধ হলো কবরকে একজন পুরুষের মধ্যভাগ পরিমাণ গভীর করা এবং তাতে কেবলার দিক থেকে লাহাদ (বগলী কবর) থাকা। মৃতকে তার ডান পার্শ্বের উপর কাত করে লাহাদে রাখা। এবং কাফনের গিঁঠ বা বন্ধন খুলে দেয়া। তবে কাপড় না খুলা বরং কাপড় সহ ছেড়ে রাখা। মৃত ব্যক্তির মুখ না খুলা সে পুরুষ হোক আর নারী হোক। এরপর এর উপর ইট খাড়া করে রেখে তা কাদা মাটি দিয়ে লেপে দেয়া, যাতে ইটগুলো স্থির থাকে এবং মৃত ব্যক্তিকে মাটি থেকে রক্ষা করে। আর যদি ইট সংগ্রহ করা সহজ না হয়, তাহলে অন্য কিছু যেমন, তক্তা, পাথর অথবা কাঠ খাড়া করে রাখা যাতে মাটি থেকে তাকে রক্ষা করতে পারে। তারপর এর উপর মাটি দেয়া হবে এবং মাটি দেয়ার সময় নিম্নের দু'আটি বলা মুস্তাহাব বা সুন্নাত।
بِسْمِ اللهِ وَعَلَى مِلَّةِ رَسُولِ اللهِ.
উচ্ছারণঃ (বিস্মিল্লাহি ওয়া 'আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ)
(আল্লাহর নামে এবং রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)র মিল্লাতের (দীনের) উপর রাখলাম) এবং কবর এক বিঘত পরিমাণ উচু করা হবে এবং এর উপর সহজ হলে কঙ্কর রাখবে ও পানি ছিটিয়ে দিবে। মৃতের দাফনকারীদের জন্যে কবরের পার্শ্বে দাড়ানো ও তার জন্যে দু'আ করা বৈধ। কারণ নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন দাফন কাজ শেষ করতেন তখন তিনি কবরের পার্শ্বে দাড়াতেন এবং বলতেন: তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা কর এবং ঈমানের উপর ছাবেত থাকার জন্যে দু'আ কর কারণ এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে।
📄 দাফনের পর নামায
নবমমত : দাফনের পূর্বে যে মৃত্যের উপর নামায পড়ে নাই সে দাফনের পর নামায পড়তে পারে। কারণ নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা করেছেন। তবে এই নামায একমাস সময়ের মধ্যে হতে হবে, এর বেশী হলে কবরের উপর নামায পড়া বৈধ হবে না। কারণ দাফনের একমাস পর নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন মৃতের উপর নামায় পড়েছেন এমন কোন হাদীস পাওয়া যায় নাই।
📄 মৃত্যের পরিবারের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করা
দশম : মৃত্যের পরিবারের জন্যে তার বাড়িতে উপস্থিত মানুষের জন্যে খাদ্য প্রস্তুত করা জায়েয নয়। (সম্মানিত সাহাবী জারীর বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালী (রাযিআল্লাহু আনহুর) বাণী থাকার কারণে: আমরা মৃত্যের পরিবারের কাছে একত্রিত হওয়া ও এবং দাফনের পর খাদ্য প্রস্তুত করাকে নিয়াহার (বিলাপের) অন্তর্ভূক্ত করতাম।) (এই হাদীসটি ইমাম আহমদ হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।) তবে মৃতের পরিবারের জন্যে বা তাদের মেহমানদের জন্যে খাদ্য প্রস্তুত করাতে কোন অসুবিধা নেই। এবং মৃত্যের আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের জন্যে মৃত্যের পরিবারের জন্যে খাদ্য প্রস্তুত করা মাশরূ' বা বৈধ।। কারণ রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে যখন জাফর বিন আবূ তালিব (রাযিআল্লাহু আনহু) এর শামে মৃত্যু হয়েছে এ সংবাদ পৌঁছে তখন তিনি স্বীয় পরিবারবর্গকে বললেন: “জাফর পরিবারের জন্য খাদ্য প্রস্তুত কর। আরো বললেন যে, তাদের উপর এমন বিপদ নেমে এসেছে যা তাদেরকে খাদ্য প্রস্তুত করা থেকে ব্যস্ত করে রেখেছে। মৃতের পরিবারের জন্যে যে খাদ্য পাঠানো হয়েছে তা খাওয়ার জন্য নিজেদের প্রতিবেশী বা অন্যদের আহবান করাতে কোন অসুবিধা নেই। এর জন্য কোন নির্দিষ্ট সময়-সীমা আছে বলে আমাদের জানা নেই।
📄 শোক প্রকাশ
একাদশ : কোন মহিলার জন্যে স্বামী ব্যতীত অপর কোন মৃতের উপর তিন দিনের বেশী শোক প্রকাশ করা জায়েয নয়। স্ত্রীর উপর নিজের স্বামীর মৃত্যুর উপর চারমাস দশ দিন শোক প্রকাশ ওয়াজিব। তবে গর্ভবর্তী মহিলার সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত শোক পালন করতে হবে। কারণ এ ব্যাপারে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ হাদীস প্রমাণিত হয়েছে।
কিন্তু পুরুষ তার জন্যে আত্মীয় বা অন্যদের কারোর মুত্যুর উপর শোক পালন করা জায়েয নয়।