📘 মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পাঠ সমূহ > 📄 মৃত ব্যক্তির গোসলের বিবরণ

📄 মৃত ব্যক্তির গোসলের বিবরণ


চতুর্থত: মৃত ব্যক্তির গোসলের বিবরণ: মৃত ব্যক্তির লজ্জাস্থান (কাপড় দিয়ে) ঢেকে দিতে হবে। পরে (কাপড়) একটু উঁচু করবে এবং তার পেট নরম ভাবে চাপ দিবে। তারপর মৃত ব্যক্তিকে গোসল দানকারী তার নিজ হাতে নেকড়া বা অনুরূপ কিছু পেঁচাবে। অতপর তাকে এর দ্বারা পরিস্কার করবে। তারপর সলাতের অযুর ন্যায় অযু করাবে। তারপর মৃত ব্যক্তির মাথা ও দাঁড়ি পানি ও বরই পাতা বা অনুরূপ কিছু দিয়ে ধৌত করবে। তারপর তার ডান পার্শ্ব ধোবে। তারপর তার বাম. পার্শ্ব ধোবে। তারপর তাকে এ ভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার গোসল দিবে। (গোসলদাতা) প্রত্যেক বারই তার হাত তার পেটের উপর দিয়ে অতিক্রম করাবে। যদি কোন কিছু বের হয় তবে তা ধোয়ে নিবে। এবং বের হওয়ার স্থানটি তুলা বা অনুরুপ কিছু দিয়ে বন্ধ করে দিবে। আর যদি বন্ধ না হয় তবে পুড়ামাটি বা আধুনিক ডাক্তিারি উপকরণের মাধ্যমে বন্ধ করতে হবে। যেমন প্লাস্টার/ প্রলেপ বা অনরুপ কিছু। এবং পুনরায় অযু করাবে। আর যদি তিনবার ধৌত করার মাধ্যমে পরিস্কার না হয়, তবে পাঁচ বা সাতবার পর্যন্ত ধৌত করবে। তারপর কাড়প দ্বারা মোছে দিবে। অপ্রকাশ্য স্থানসমূহ ও সিজদার স্থানসমূহে সুগন্ধি লাগাবে। আর যদি সারা শরীরে সুগন্ধি লাগায় তবে তা আরো উত্তম হবে। আর ধূপ দ্বারা তার কাফনগুলো সুগন্ধি করে দিবে। আর যদি তার মোচ বা নখ লম্বা থাকে তবে তা কেটে দিবে। আর তা ছেড়ে দিলে বা না কাটলেও কোন অসুবিধা নাই। আর তার চুল আঁচড়াবে না। তার নাভীর নিচের চুল মুন্ডাবে না এবং খাৎনা করাবে না। কারণ এর উপর কোন দলীল নাই। মহিলা তার চুলকে তিনগুচ্ছ করা হবে এবং তা তার পিছনের দিকে ছেড়ে দেয়া হবে।

📘 মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পাঠ সমূহ > 📄 মৃত ব্যক্তিকে কাফন দেওয়া

📄 মৃত ব্যক্তিকে কাফন দেওয়া


পঞ্চতম : মৃত ব্যক্তিকে কাফন দেয়া : পুরুষকে তিন সাদা কাপড়ে কাফন দেয়া উত্তম, যাতে জামা ও পাগড়ী থাকবে না। যেমন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কাফন দেয়া হয়েছিল। মৃত ব্যক্তিকে এর ভিতর পর্যায়ক্রমে রাখতে হবে। আর যদি মৃত ব্যক্তিকে জামা, লুঙ্গি ও লিফাফাতে কাফন দেয়া হয়, তবে তা কোন অসুবিধা নাই। আর মহিলাকে পাঁচ কাপড়ে কাফন দেয়া হবে। ১। চাদর ২। উড়না ৩। লুঙ্গি। দুই লিফাফা। আর এক হতে তিন কাপড়ে বালককে কাফন দেয়া হবে। আর এক জামা ও দুই লিফাফাতে বালিকাকে কাফন দেয়া হবে। মৃত ব্যক্তির সম্পূর্ণ শরীর আবৃত করে এমন কাপড় সকলের ব্যাপারেরই অত্যাবশ্যক। তবে যদি মৃত ব্যক্তি মুহরিম হয় তা হলে তাকে পানি ও ররই পাতা দিয়ে গোসল করাতে হবে। এবং তার চাদর ও লুঙ্গিতে বা এ ছাড়া অন্য কাপড়ে কাফন দেয়া হবে। এবং তার মাথা ও মুখ ঢাকা যাবে না এবং সুগন্ধিও লাগাবে না। কারণ তাকে কিয়ামতের দিন লাব্বাইক বলা অবস্থায় উঠানো হবে যেমন এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আর মুহরিম যদি মহিলা হয় তবে তাকে অন্যান্য মহিলার ন্যায় কাফন দেয়া হবে। তবে তাকে সুগন্ধি লাগানো যাবে না এবং নিকাব দ্বারা তার মুখ ঢাকা যাবে না। এবং মোজা দ্বারা তার হাতদ্বয় ঢাকা যাবে না। তবে পূর্বে বর্ণিত মহিলার কাফনের বিবরণ অনুপাতে তার হাতদ্বয় ও মুখ ঢেকে দিতে হবে।

📘 মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পাঠ সমূহ > 📄 গোসল, জানাযা ও দাফনের অগ্রাধিকার

📄 গোসল, জানাযা ও দাফনের অগ্রাধিকার


ষষ্ঠতম : মৃত ব্যক্তিকে গোসল, তার জানাযার সলাত ও দাফন করার সে বেশী উপযুক্ত যাকে মৃত ব্যক্তি এ ব্যাপারে অসিয়ত করে গেছে। তারপর তার বাপ। তারপর তার দাদা। তারপর পুরুষদের ব্যাপারে 'আসাবাদের তথা নিজ বংশের মধ্যে যে বেশী নিকটবর্তী তারপর যে বেশী নিকটবর্তী সে। আর মহিলাকে গোসল দেয়ার সে বেশী নিকটবর্তী, যাকে সে অসিয়ত করে গেছে। তারপর তার মা। তারপর তার দাদী। তারপর সে মহিলার মহিলাদের যে বেশী নিকটবর্তী তারপর যে বেশী নিকটবর্তী সে। আর শ্বামী - স্ত্রী একজন অপরজনকে গোসল করাবে। কারণ আবু বকর রাযিআল্লাহু আনহুকে তাঁর স্ত্রী গোসল করিয়েছিলেন। আর আলী রাযিআল্লাহু তাঁর স্ত্রী ফাতিমা রাযিআল্লাহু আনহাকে গোসল করিয়ে ছিলেন।

📘 মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পাঠ সমূহ > 📄 মৃত ব্যক্তির উপর জানাযার সলাতের বিবরণ

📄 মৃত ব্যক্তির উপর জানাযার সলাতের বিবরণ


সপ্তমত : মৃত ব্যক্তির উপর জানাযার সলাতের বিবরণঃ
জানাযার সলাতে চার তাকবীর দিবে। প্রথম তাকবীরের পর সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। আর যদি এর সাথে ছোট একটি সূরা বা এক বা দু আয়াত পাঠ করে তবে তা ভাল হবে। কারণ, এ ব্যাপারে ইবনু আব্বাস (রাজিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে ছহীহ হাদীস বর্ণিত আছে। এরপর দ্বিতীয় তাকবীর দিবে এবং নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর তাশাহুদে যে সলাত (দরূদ) পাঠ করা হয় সে সলাত পাঠ বা বর্ষণ করবে। তারপর তৃতীয় তাকবীর দিয়ে নিম্নের দু'আ পাঠ করবে।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا ، وَمَيِّتِنَا، وَشَاهِدِنَا، وَغَائِبِنَا، وَصَغِيْرِنَا وَ كَبِيْرِنَا، وَذَكَرِنَا
وَأُنْثَانَا اللهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى
الإيمان - اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ، وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ ، وَوَسِعْ مُدْخَلَهُ
وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرْدِ ، وَنَقِهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنْقَى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ
الدَّنَسِ ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ وَأَهْلاً خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ ، وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ
وَ أَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ - وَأَعِذْهُ مِنَ عَذَابِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ وَأَفْصِحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ
وَنَوِّرُ لَهُ فِيْهِ اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ وَلَا تُضِلْنَا بَعْدَه .
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগফিরলী হাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গাইবিনা ওয়া সগিরিনা ওয়া কাবিরিনা ওয়া যাকারিনা ওয়া উনছা-না। আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহু মিন্না ফা আহয়্যিহী 'আলাল ইসলাম, ওয়া মান তাওয়াফ্ফ্ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফ্ফাহু 'আলাল ঈমান। আল্লাহুম্মাগফিরলাহু ওয়ারহামহু, ওয়া আফিহি, ওয়া আ'ফু আনহু ওয়া আকরিম নুযুলাহু ওয়া ওয়াছি' মুদখালাহু, ওয়া আগছিলহু বিলমা-ঈ ওয়াস্ সালজি ওয়াল বারদি। ওয়া নাক্কিহি মিনাল খাতায়া কামা য়ূনাক্কাস্ সাওবুল আবইয়াযু মিনাদ্দানাছি, ওয়া আবদিলহু দারান খাইরাম্ মিন্ দারিহী ওয়া আহলান খাইরাম্ মিন আহলিহী, ওয়া যাওজান খায়রাম মিন্ যাওজিহি, ওয়া আদখিলহুল জান্নাতা, ওয়া আইযহু মিন আযাবিল ক্বাবরি (ওয়া আযাবিন্নারি), ওয়া আফসিহ লাহু ফি ক্বাবরিহি ওয়া নাওয়ীর লাহু ফিহি, আল্লাহুম্মা লা তাহরিম না আজরাহু ওয়া লা তুযিল্লানা বা'দাহু।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত, ও অনুপস্থিত, ছোট, ও বড়, নর ও নারীদিগকে ক্ষমা কর। হে আল্লাহ ! আমাদের মাঝে যাদের তুমি জীবিত রেখেছো তাদেরকে ইসলামের উপর জীবিত রাখো, আর যাদেরকে মৃত্যু দান করো তাদেরকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান কর। হে আল্লাহ! তুমি এই মৃত্যু ব্যক্তিকে ক্ষমা কর তার উপর রহম কর তাকে পূর্ণ নিরাপত্তায় রাখো, তাকে মার্জনা কর, মর্যাদার সাথে তার আতিথেয়তা করো। তার বাসস্থানটি প্রশস্থ করে দাও, তুমি তাকে ধৌত করে দাও, পানি, বরফ ও শিশির দিয়ে, তুমি তাকে গুনাহ হতে এমনভাবে পরিস্কার করো যেমন সাদা কাপড় ধৌত করে ময়লা বিমুক্ত করা হয়। তার এই (দুনিয়ার) বাসস্থানের বদলে উত্তম বাসস্থান প্রদান কর, তার এই পরিবার হতে উত্তম পরিবার দান করো, তার এই স্ত্রী হতে উত্তম স্ত্রী দান কর, তুমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও, আর তাকে কবরের আযাব এবং জাহান্নামের আযাব হতে বাঁচাও। তার কবর প্রশস্ত করে দাও এবং জাহান্নামের আযাব হতে বাঁচাও। তার কবর প্রশস্ত করে দাও এবং তার জন্য ইহা আলোকময় করে দাও। হে আল্লাহ! আমাদেরকে তার সওয়াব হতে বঞ্চিত করোনা এবং তার মৃত্যুর পর আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করো না।
অতঃপর চতুর্থ তাকবীর দিয়ে ডান দিকে এক সালামের মাধ্যমে সলাত শেষ করবে।
জানাযার সলাতে প্রত্যেক তাকবীরের সাথে হাত উঠানো মুস্তাহাব। যদি মৃত ব্যক্তি পুরুষ হয় তাহলে... اَللهُمَّ اغْفِرْ لَهُ এর পরিবর্তে اللهم غْفِرْلَهَا। অর্থাৎ আরবী স্ত্রীলিঙ্গের সর্বনাম যোগ করে পড়তে হয়। আর যদি মৃত্যের সংখ্যা দুই হয় তাহলে اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُمَا ..الخ এবং এর বেশী হলে اَللهُمَّ اغْفِرْ لَهُمْ .. إلخ অর্থাৎ সংখ্যা হিসেবে সর্বনাম ব্যবহার করবে।
মৃত যদি শিশু হয় তাহলে উপরোক্ত মাগফিরাতের দু'আর পরিবর্তে নিম্নের দু'আ পাঠ করবে।
اللهُمَّ اجْعَلْهُ فَرْطًا وَذُخْرًا لِوَالِدَيْهِ . وَشَفِيعًا مُجَابًا . اللَّهُمَّ ثَقَّلْ بِهِ مَوَازِينَهُمَا
وَأَعْظِمْ بِهِ أَجُورَهُمَا وَالْحِقْهُ بِصَالِحِ الْمُؤْمِنِينَ وَاجْعَلْهُ فِي كَفَالَةِ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ
السَّلَامُ . وَقِهِ بِرَحْمَتِكَ عَذَابَ الْجَحِيمِ.
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাজ্ 'আলহু ফারাতান ওয়া জুখরান লিওয়ালিদাইহি, ওয়া শাফীআন মুাবা। আল্লাহুম্মা ছাক্কিলবিহী মাওয়াযীনাহুমা- ওয়া আ'যিম বিহী উজু-রাহুমা-, ওয়া আলহিকুহু বিসা- লিহিল মু'মিনীন ওয়া আজ'আলহু ফী কাফা- লাতি ইব্রাহীমা আলাইহিস সালাম, ওয়াক্বিহী বিরাহমাতিকা আযাবাল জাহীম।
অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি এই বাচ্চাকে তার পিতা-মাতার জন্যে ফারত্ব তথা অগ্রীম দূত ও যুখর তথা সংরক্ষিত প্রতিদান বানাও। এবং তাকে গৃহীত সুপারিশকারী বানাও। হে আল্লাহ! তুমি এই (বাচ্চার) দ্বারা তার পিতা-মাতার সওয়াবের ওজন আরো ভারী কর এবং এর দ্বারা তাদের প্রতিদানকে আরো মহান কর। আর তাকে সৎ মু'মিনদের অন্তর্ভূক্ত কর এবং ইব্রাহীম (আলাইহিস সালামের) রক্ষণাবেক্ষণের অন্ত র্ভূক্ত কর। একে তোমার রহমতের দ্বারা জাহান্নামের আযাব হতে বাঁচাও।
সুন্নাত হলো ইমাম মৃত পুরুষের মাথা বরাবর দাড়াবে এবং স্ত্রীলোক হলে তার দেহের মধ্যমাংশে বরাবর দাঁড়াবে।
মৃতের সংখ্যা একাধিক হলে পুরুষের মৃতদেহ ইমামের নিকটবর্তী থাকবে এবং স্ত্রীলোকের মৃতদেহ কিবলার নিকটবর্তী থাকবে। তাদের সাথে বালক-বালিকা হলে পুরুষের পর স্ত্রীলোকের আগে বালক স্থান পাবে, তারপর স্ত্রীলোক এবং সর্বশেষে বালিকার স্থান হবে। বালকের মাথা পুরুষের মাথা বরাবর এবং স্ত্রীলোকের মধ্যমাংশ পুরুষের মাথা বরাবর রাখা হবে। এইভাবে বালিকার মাথা স্ত্রীলোকের মাথা বরাবর এবং বালিকার মধ্যমাংশ পুরুষের মাথা বরাবর রাখা হবে। সব মুছাল্লীগণ ইমামের পিছনে দাঁড়াবে। তবে যদি কোন লোক ইমামের পিছনে দাঁড়াবার স্থান না পায় তাহলে সে ইমামের ডান পার্শ্বে দাঁড়াবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00