📄 মুসলিম মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া
তৃতীয়ত: মুসলিম মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়া আবশ্যক। তবে শহীদ ব্যক্তি যে ধর্মীয় যুদ্ধে মৃত্যু বরণ করেছে তাকে গোসল দিতে হবে না এবং তার উপর জানাযার সলাত পড়তে হবে না বরং তাকে তার পরিহিত কাপড়েই দাফন করতে হবে। কারণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উহুদের শহীদরে গোসল দেন নাই এবং তাদের উপর জানাযার সলাত আদায় করেন নাই।
📄 মৃত ব্যক্তির গোসলের বিবরণ
চতুর্থত: মৃত ব্যক্তির গোসলের বিবরণ: মৃত ব্যক্তির লজ্জাস্থান (কাপড় দিয়ে) ঢেকে দিতে হবে। পরে (কাপড়) একটু উঁচু করবে এবং তার পেট নরম ভাবে চাপ দিবে। তারপর মৃত ব্যক্তিকে গোসল দানকারী তার নিজ হাতে নেকড়া বা অনুরূপ কিছু পেঁচাবে। অতপর তাকে এর দ্বারা পরিস্কার করবে। তারপর সলাতের অযুর ন্যায় অযু করাবে। তারপর মৃত ব্যক্তির মাথা ও দাঁড়ি পানি ও বরই পাতা বা অনুরূপ কিছু দিয়ে ধৌত করবে। তারপর তার ডান পার্শ্ব ধোবে। তারপর তার বাম. পার্শ্ব ধোবে। তারপর তাকে এ ভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার গোসল দিবে। (গোসলদাতা) প্রত্যেক বারই তার হাত তার পেটের উপর দিয়ে অতিক্রম করাবে। যদি কোন কিছু বের হয় তবে তা ধোয়ে নিবে। এবং বের হওয়ার স্থানটি তুলা বা অনুরুপ কিছু দিয়ে বন্ধ করে দিবে। আর যদি বন্ধ না হয় তবে পুড়ামাটি বা আধুনিক ডাক্তিারি উপকরণের মাধ্যমে বন্ধ করতে হবে। যেমন প্লাস্টার/ প্রলেপ বা অনরুপ কিছু। এবং পুনরায় অযু করাবে। আর যদি তিনবার ধৌত করার মাধ্যমে পরিস্কার না হয়, তবে পাঁচ বা সাতবার পর্যন্ত ধৌত করবে। তারপর কাড়প দ্বারা মোছে দিবে। অপ্রকাশ্য স্থানসমূহ ও সিজদার স্থানসমূহে সুগন্ধি লাগাবে। আর যদি সারা শরীরে সুগন্ধি লাগায় তবে তা আরো উত্তম হবে। আর ধূপ দ্বারা তার কাফনগুলো সুগন্ধি করে দিবে। আর যদি তার মোচ বা নখ লম্বা থাকে তবে তা কেটে দিবে। আর তা ছেড়ে দিলে বা না কাটলেও কোন অসুবিধা নাই। আর তার চুল আঁচড়াবে না। তার নাভীর নিচের চুল মুন্ডাবে না এবং খাৎনা করাবে না। কারণ এর উপর কোন দলীল নাই। মহিলা তার চুলকে তিনগুচ্ছ করা হবে এবং তা তার পিছনের দিকে ছেড়ে দেয়া হবে।
📄 মৃত ব্যক্তিকে কাফন দেওয়া
পঞ্চতম : মৃত ব্যক্তিকে কাফন দেয়া : পুরুষকে তিন সাদা কাপড়ে কাফন দেয়া উত্তম, যাতে জামা ও পাগড়ী থাকবে না। যেমন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কাফন দেয়া হয়েছিল। মৃত ব্যক্তিকে এর ভিতর পর্যায়ক্রমে রাখতে হবে। আর যদি মৃত ব্যক্তিকে জামা, লুঙ্গি ও লিফাফাতে কাফন দেয়া হয়, তবে তা কোন অসুবিধা নাই। আর মহিলাকে পাঁচ কাপড়ে কাফন দেয়া হবে। ১। চাদর ২। উড়না ৩। লুঙ্গি। দুই লিফাফা। আর এক হতে তিন কাপড়ে বালককে কাফন দেয়া হবে। আর এক জামা ও দুই লিফাফাতে বালিকাকে কাফন দেয়া হবে। মৃত ব্যক্তির সম্পূর্ণ শরীর আবৃত করে এমন কাপড় সকলের ব্যাপারেরই অত্যাবশ্যক। তবে যদি মৃত ব্যক্তি মুহরিম হয় তা হলে তাকে পানি ও ররই পাতা দিয়ে গোসল করাতে হবে। এবং তার চাদর ও লুঙ্গিতে বা এ ছাড়া অন্য কাপড়ে কাফন দেয়া হবে। এবং তার মাথা ও মুখ ঢাকা যাবে না এবং সুগন্ধিও লাগাবে না। কারণ তাকে কিয়ামতের দিন লাব্বাইক বলা অবস্থায় উঠানো হবে যেমন এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আর মুহরিম যদি মহিলা হয় তবে তাকে অন্যান্য মহিলার ন্যায় কাফন দেয়া হবে। তবে তাকে সুগন্ধি লাগানো যাবে না এবং নিকাব দ্বারা তার মুখ ঢাকা যাবে না। এবং মোজা দ্বারা তার হাতদ্বয় ঢাকা যাবে না। তবে পূর্বে বর্ণিত মহিলার কাফনের বিবরণ অনুপাতে তার হাতদ্বয় ও মুখ ঢেকে দিতে হবে।
📄 গোসল, জানাযা ও দাফনের অগ্রাধিকার
ষষ্ঠতম : মৃত ব্যক্তিকে গোসল, তার জানাযার সলাত ও দাফন করার সে বেশী উপযুক্ত যাকে মৃত ব্যক্তি এ ব্যাপারে অসিয়ত করে গেছে। তারপর তার বাপ। তারপর তার দাদা। তারপর পুরুষদের ব্যাপারে 'আসাবাদের তথা নিজ বংশের মধ্যে যে বেশী নিকটবর্তী তারপর যে বেশী নিকটবর্তী সে। আর মহিলাকে গোসল দেয়ার সে বেশী নিকটবর্তী, যাকে সে অসিয়ত করে গেছে। তারপর তার মা। তারপর তার দাদী। তারপর সে মহিলার মহিলাদের যে বেশী নিকটবর্তী তারপর যে বেশী নিকটবর্তী সে। আর শ্বামী - স্ত্রী একজন অপরজনকে গোসল করাবে। কারণ আবু বকর রাযিআল্লাহু আনহুকে তাঁর স্ত্রী গোসল করিয়েছিলেন। আর আলী রাযিআল্লাহু তাঁর স্ত্রী ফাতিমা রাযিআল্লাহু আনহাকে গোসল করিয়ে ছিলেন।