📘 মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পাঠ সমূহ > 📄 অযুর ফরযসমূহ

📄 অযুর ফরযসমূহ


ত্রয়োদশ পাঠ: অযুর ফরযসমূহঃ
অযুর ফরযসমূহ, আর তা হলো ছয়টিঃ
১। মুখ ধৌত করা। আর কুলি করা ও নাকে পানি দিয়ে নাক ঝারা মুখ ধৌত করার অন্তর্ভূক্ত। ২। কনুইদ্বয়সহ দু'হাত ধৌত করা। ৩। পুরা মাথা মাসেহ করা। কানদ্বয় মাসেহ করা মাথা মাসেহ করার অন্তর্ভূক্ত। ৪। (পায়ের) গিটদ্বয়সহ দু'পা ধৌত করা। ৫। ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। ৬। অযুর এক অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার আগেই অপর অঙ্গ ধৌত করা। মুখ, হাত, ও পা তিনবার ধৌত করা মুস্তাহাব। অনুরূপ কুলি করা ও নাকে পানি দিয়ে নাক ঝারা। আর এর মধ্যে ফরয শুধু একবার। তবে মাথা একবারের বেশি মাসেহ করা মুস্তাহাব নয়। যেমন এর উপর সহীহ হাদীছসমূহ প্রমাণ করেছে।

📘 মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পাঠ সমূহ > 📄 অযু ভঙ্গের কারণসমূহ

📄 অযু ভঙ্গের কারণসমূহ


চতুর্থতম পাঠ: অযু ভঙ্গের কারণসমূহ।
অযু ভঙ্গের কারণসমূহ, আর তা হলো ছয়টি:
১। পেশাব ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হওয়া। ২। শরীরের যে কোন স্থান হতে অধিকমাত্রায় অপবিত্র জিনিস বের হওয়া। ৩। ঘুম বা তা ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে বিবেক চলে যাওয়া। ৪। বিনা আবরণে পুরুষ বা মহিলার লজ্জাস্থান হাত দিয়ে স্পর্শ করা। ৫। উটের মাংস খাওয়া। ৬। ইসলাম হতে মুর্তাদ হওয়া। অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করা। আল্লাহ আমাদের ও মুসলিমদেরকে এটি হতে আশ্রয় দান করুন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : মৃতব্যক্তির গোসল দানের ব্যাপারে বিশুদ্ধ মত হলো যে এটিতে অযু ভাংবে না। আর এটিই অধিকাংশ বিদ্যানগণের মতামত বা কথা। কারণ এ ব্যাপারে কোন দলীল নাই। গোসল দানকারীর হাত যদি মৃতব্যক্তির লজ্জাস্থানে বিনা আবরণে লাগে তবে তার উপর অযু ওয়াজিব হবে। মৃতব্যক্তিকে গোসল দানকারীর উচিত যে সে মৃতব্যক্তির লজ্জাস্থান বিনা আবরণে স্পর্শ করবে না। অনুরূপ ভাবে আলিমদের দু'টি মতামতের বিশুদ্ধ মতে মহিলাকে যৌন উত্তেযনা অবস্থায় হোক আর যৌন উত্তেযনা ছাড়া হোক স্পর্শ করলে সাধারণভাবে অযু ভাংবে না, যদি তার কাছ থেকে কিছু না বের হয়। কারণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের কিছু স্ত্রীকে চুমু দিতেন তারপর সলাত আদায় করতেন আর অযু করতেন না। আর সূরা নিসা ও সূরা মায়িদার দু'আয়াতের আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার বাণী:
أَوْ لَا مَسْتُمُ النِّسَاءَ (سورة النساء : الآية : ٤٣) (وسورة المائدة : الآية : ٦)
অথবা তোমরা যদি মহিলাদের সাথে সহবাস করে থাকো। (সূরা নিসা : আয়াত : ৪৩ সূরা মায়িদা: আয়াত : ৬)
এখানে ফর্ম স্পর্শ দ্বারা জিমা' সহবাস উদ্দেশ্য আলিমদের দু'টি মতামতের বিশুদ্ধ মতে। আর এটি ইবনু আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহুমা এর এবং সালাফ ও খালাফ তথা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলিমদের এক দলের মত। আল্লাহই তাওফীক দাতা।

📘 মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পাঠ সমূহ > 📄 প্রত্যেক মুসলিমের জন্যে ইসলামী চরিত্রে অলঙ্কৃত হওয়া আবশ্যক

📄 প্রত্যেক মুসলিমের জন্যে ইসলামী চরিত্রে অলঙ্কৃত হওয়া আবশ্যক


পঞ্চদশ পাঠ: প্রত্যেক মুসলিমের জন্যে ইসলামী চরিত্রে অলঙ্কৃত হওয়া আবশ্যক।
১। সর্বদাই সত্য বলা। ২। আমানাতদার হওয়া।
৩। পবিত্রতা, নির্দোষ, চারিত্রিক নিষ্কলুষতা, ও সংযমতার গুণ অর্জন করা।৪। লজ্জা করা, লজ্জাবোধতার গুণ থাকা ইসলামী চরিত্রের অন্যতম একটি চরিত্র। ৫। সাহসী হওয়া বীরত্ব পূর্ণ হওয়া। ৬। দানশীলতা, উদারতা। ৮। ওয়াদা - প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা। ৯। আল্লাহর হারামকৃত সকল বিধি-বিধান ও সকল বস্তু হতে সম্পূর্ণ দূরে থাকা। ১০। প্রতিবেশীদের সাথে ভাল ব্যবহার করা। ১১। অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে সামর্থ অনুপাতে সাহায্য করা। এ ছাড়া আরো ইসলামী চরিত্র যার বৈধতার উপর কুরআন বা সহীহ হাদীছ প্রমাণ করেছে।

📘 মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পাঠ সমূহ > 📄 ইসলামী আদব-কাইদা-শিষ্টাচার গ্রহণ করা

📄 ইসলামী আদব-কাইদা-শিষ্টাচার গ্রহণ করা


ষষ্ঠদশ পাঠ : ইসলামী আদব-কাইদা-শিষ্টাচার গ্রহণ করা।
ইসলামিক শিষ্টাচারে শিষ্টাচারিত হওয়া, আর তা হলো নিম্নরূপঃ
১। (মুসলিমদের) পরস্পরে সালাম বিনিময় করা। ২। হাঁসৌজ্জল থাকা। ৩। ডান হাতে খাওয়া ও ডান হাতে পান করা। ৪। প্রত্যেক কাজের শুরুতে বিস্মিল্লাহ বলা। ৫। (প্রত্যেক কাজ) শেষে আল হামদু লিল্লাহ / সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যে বলা। ৬। হাঁচির পর আল হামদু লিল্লাহ বলা। ৭। হাঁচিদাতা হাঁচি দেয়ার পর আল হামদুলিল্লাহ বললে তার উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা। ৮। রোগীদর্শন করা। ৯। সলাত ও দাফনের জন্যে লাশের অনুসরণ করা। ১০। মাসজিদ বা বাড়িতে প্রবেশ, তা হতে বের হওয়া ও সফরের সময়ে, পিতা- মাতা, আত্মীয়- স্বজন, প্রতিবেশি, বড় ও ছোটদের সাথে ইসলামি আদবের পাবন্ধ হওয়া। ১১। নবশিশুর প্রতি অভিনন্দন জানানো। ১২। বিবাহে বরকতের দু'আ করা। ১৩। বিপদে সান্ত্বনাদান করা। এ ছাড়া আরো অন্যান্য ইসলামী আদব - কাইদা (যেমন) পোশাক পরিধান করাতে, তা খোলার সময়ে ও জুতা পরিধান করার সময় লক্ষ্য রাখা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00