📄 অযুর শর্তসমূহ
দ্বাদশ পাঠ: অযুর শর্তসমূহঃ
অযুর শর্তসমূহ, আর তা হলো দশটি :
১। ইসলাম বা মুসলিম হওয়া। ২। বিবেক বা বিবেকবান হওয়া। ৩। ভাল - মন্দের পার্থক্য করা বা পার্থক্যকারী হওয়া। ৪। নিইয়াত করা। ৫। নিইয়াতের হুকুম সঙ্গে রাখা এর অর্থ হলো পবিত্রতা অর্জন পরিপূর্ণ হওয়ার আগনাগাদ অযু ভঙ্গের নিইয়াত না করা। ৬। অযু ওয়াজিব করে এমন কারণ বন্ধ করা। ৭। অযুর আগে পানি বা ঢিলা ব্যবহার করা। ৮। পানি পবিত্র ও বৈধ হওয়া। ৯। পানি চামড়ায় পৌছতে দেয় না এমন জিনিস দূর করা। ১০। যার অযু সব সময় চলে যায় তার জন্যে সলাতের সময় হওয়া।
📄 অযুর ফরযসমূহ
ত্রয়োদশ পাঠ: অযুর ফরযসমূহঃ
অযুর ফরযসমূহ, আর তা হলো ছয়টিঃ
১। মুখ ধৌত করা। আর কুলি করা ও নাকে পানি দিয়ে নাক ঝারা মুখ ধৌত করার অন্তর্ভূক্ত। ২। কনুইদ্বয়সহ দু'হাত ধৌত করা। ৩। পুরা মাথা মাসেহ করা। কানদ্বয় মাসেহ করা মাথা মাসেহ করার অন্তর্ভূক্ত। ৪। (পায়ের) গিটদ্বয়সহ দু'পা ধৌত করা। ৫। ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। ৬। অযুর এক অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার আগেই অপর অঙ্গ ধৌত করা। মুখ, হাত, ও পা তিনবার ধৌত করা মুস্তাহাব। অনুরূপ কুলি করা ও নাকে পানি দিয়ে নাক ঝারা। আর এর মধ্যে ফরয শুধু একবার। তবে মাথা একবারের বেশি মাসেহ করা মুস্তাহাব নয়। যেমন এর উপর সহীহ হাদীছসমূহ প্রমাণ করেছে।
📄 অযু ভঙ্গের কারণসমূহ
চতুর্থতম পাঠ: অযু ভঙ্গের কারণসমূহ।
অযু ভঙ্গের কারণসমূহ, আর তা হলো ছয়টি:
১। পেশাব ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হওয়া। ২। শরীরের যে কোন স্থান হতে অধিকমাত্রায় অপবিত্র জিনিস বের হওয়া। ৩। ঘুম বা তা ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে বিবেক চলে যাওয়া। ৪। বিনা আবরণে পুরুষ বা মহিলার লজ্জাস্থান হাত দিয়ে স্পর্শ করা। ৫। উটের মাংস খাওয়া। ৬। ইসলাম হতে মুর্তাদ হওয়া। অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করা। আল্লাহ আমাদের ও মুসলিমদেরকে এটি হতে আশ্রয় দান করুন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : মৃতব্যক্তির গোসল দানের ব্যাপারে বিশুদ্ধ মত হলো যে এটিতে অযু ভাংবে না। আর এটিই অধিকাংশ বিদ্যানগণের মতামত বা কথা। কারণ এ ব্যাপারে কোন দলীল নাই। গোসল দানকারীর হাত যদি মৃতব্যক্তির লজ্জাস্থানে বিনা আবরণে লাগে তবে তার উপর অযু ওয়াজিব হবে। মৃতব্যক্তিকে গোসল দানকারীর উচিত যে সে মৃতব্যক্তির লজ্জাস্থান বিনা আবরণে স্পর্শ করবে না। অনুরূপ ভাবে আলিমদের দু'টি মতামতের বিশুদ্ধ মতে মহিলাকে যৌন উত্তেযনা অবস্থায় হোক আর যৌন উত্তেযনা ছাড়া হোক স্পর্শ করলে সাধারণভাবে অযু ভাংবে না, যদি তার কাছ থেকে কিছু না বের হয়। কারণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের কিছু স্ত্রীকে চুমু দিতেন তারপর সলাত আদায় করতেন আর অযু করতেন না। আর সূরা নিসা ও সূরা মায়িদার দু'আয়াতের আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার বাণী:
أَوْ لَا مَسْتُمُ النِّسَاءَ (سورة النساء : الآية : ٤٣) (وسورة المائدة : الآية : ٦)
অথবা তোমরা যদি মহিলাদের সাথে সহবাস করে থাকো। (সূরা নিসা : আয়াত : ৪৩ সূরা মায়িদা: আয়াত : ৬)
এখানে ফর্ম স্পর্শ দ্বারা জিমা' সহবাস উদ্দেশ্য আলিমদের দু'টি মতামতের বিশুদ্ধ মতে। আর এটি ইবনু আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহুমা এর এবং সালাফ ও খালাফ তথা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলিমদের এক দলের মত। আল্লাহই তাওফীক দাতা।
📄 প্রত্যেক মুসলিমের জন্যে ইসলামী চরিত্রে অলঙ্কৃত হওয়া আবশ্যক
পঞ্চদশ পাঠ: প্রত্যেক মুসলিমের জন্যে ইসলামী চরিত্রে অলঙ্কৃত হওয়া আবশ্যক।
১। সর্বদাই সত্য বলা। ২। আমানাতদার হওয়া।
৩। পবিত্রতা, নির্দোষ, চারিত্রিক নিষ্কলুষতা, ও সংযমতার গুণ অর্জন করা।৪। লজ্জা করা, লজ্জাবোধতার গুণ থাকা ইসলামী চরিত্রের অন্যতম একটি চরিত্র। ৫। সাহসী হওয়া বীরত্ব পূর্ণ হওয়া। ৬। দানশীলতা, উদারতা। ৮। ওয়াদা - প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা। ৯। আল্লাহর হারামকৃত সকল বিধি-বিধান ও সকল বস্তু হতে সম্পূর্ণ দূরে থাকা। ১০। প্রতিবেশীদের সাথে ভাল ব্যবহার করা। ১১। অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে সামর্থ অনুপাতে সাহায্য করা। এ ছাড়া আরো ইসলামী চরিত্র যার বৈধতার উপর কুরআন বা সহীহ হাদীছ প্রমাণ করেছে।