📄 তাশাহহুদের বিবরণ
নবম পাঠঃ তাশাহহুদের বিবারণ:
তাশাহহুদের বিবারণ, আর তা হলো
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ
وَبَرَكَاتُهُ، السَّلامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ
أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
(আত্তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি ওয়াস্ সালা-ওয়া-তু ওয়াত্ তাইয়্যিবা-তু, আস্সালা-মু আলাইকা আইয়্যু হান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ। আস্সালা-মু আলাইনা-ওয়া আ'লা-ইবাদিল্লা-হিস্ স- লিহীন। আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ)।
অর্থ: সকল মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদাত আল্লাহর জন্য। হে নাবী! তোমার উপর আল্লাহর রহমাত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ও আল্লাহর সকল সৎ ব্যক্তিদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। আমি আরোও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম' এর উপর সলাত পাঠ করবে এবং তাঁর জন্যে বরকতের দু'আ করবে :
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ
إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى
إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ.
(আল্লাহুম্মা সল্লি আ'লা মুহাম্মাদ, ওয়ালা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা সল্লাইতা আ'লা ইব্রাহীম, ওয়া আলা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ, ওয়া বারিক আ'লা মুহাম্মাদ, ওয়া-আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আ'লা ইব্রাহীম, ওয়া আলা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ)।
অর্থঃ “হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পরিবারের উপর রহমাত বর্ষণ কর, যেরূপ ইব্রাহীম (আলাইহিস্ সালাম) ও ইব্রাহীম (আলাইহিস্ সালাম) এর পরিবারের উপর রহমাত বর্ষণ করেছিলে। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পরিবারের উপর বরকত দান কর, যেরূপ ইব্রাহীম (আলাইহিস্ সালাম) ও ইব্রাহীম (আলাইহিস্ সালাম) এর পরিবারের উপর বরকত দান করেছিলে। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত”।
তারপর শেষ বৈঠকে আল্লাহর কাছে জাহান্নামের শাস্তি, কবরের শাস্তি, জীবন-মরণ ও মাসিহুদ্ দাজ্জালের ফিৎনা হতে আশ্রয় চাবে। মুখে বলবেঃ
اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ
الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ.
(আল্লাহুম্মা ইন্নী আ'উযুবিকা মিন আ'যাবে জাহান্নামা, ওয়া মিন আ'যাবিল ক্বাবরে, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল মামাতি, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ্ দাজ্জালি)।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জাহান্নামের শাস্তি, কবরের শাস্তি, জীবন-মরণ ও মাসিহুদ্ দাজ্জালের ফিৎনা হতে আশ্রয় চাইতেছি।
তারপর দু'আ হতে, বিশেষ করে সুন্নাতী দু'আ হতে সে যা চাবে তা বেছে নিয়ে তার দ্বারা দু'আ করবে। নিম্নের দু'আগুলো সুন্নাতী দু'আর অন্তর্ভূক্ত।
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
আল্লাহুম্মা আয়ি'ন্নী আ'লা যিক্রিকা ওয়া শুক্রিকা ওয়া হুসনি 'ইবাদাতিকা।
হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে তোমার যিক্র স্বরণ, শুক্র - কৃতজ্ঞতা ও তোমার ভাল ইবাদত করার তাওফীক দান কর।
اللهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي
مَغْفِرَةٌ مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
আল্লাহুম্মা ইন্নি যলামতু নাফসী যুলমান কাছিরা। ওয়া লা ইয়াগফিরুয যনূবা ইল্লা আনতা। ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন 'ইনদিকা ওয়ারহামনী। ইন্নাকা আনতাল গফুরুর রহীম
হে আল্লাহ আমি আমার আত্মার উপর অনেক বেশি যুলুম করেছি। আর তুমি ছাড়া কেউ পাপ মাফ কারী নাই। অতএব তুমি তোমার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার প্রতি দয়া কর। কারণ তুমি ক্ষমাকারী ও দয়ালু।
তবে যহর, আসর, মাগরিব ও 'ইশার সলাতে প্রথম বৈঠকের মাঝে শাহাদাইনের পর তৃতীয় রাকা'আতের জন্যে দাঁড়াবে। কেউ যদি এতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করে তবে তা তার জন্যে উত্তম হবে। এ ব্যাপারে ব্যাপক অর্থবোধক হাদীছসমূহ থাকার কারণে। তরপর তৃতীয় রাকা'আতের জন্যে দাঁড়াবে।
📄 সলাতের সুন্নাতসমূহ
দশম পাঠ: সলাতের সুন্নাতসমূহঃ
সলাতের সুন্নাতসমূহ: আর তা হলোঃ
১। প্রারম্ভিক দু'আ (ছানা) পাঠ করা।
২। ডান হাতকে বাম হাতের উপর করে দাঁড়া অবস্থায় রুকুর পূর্বে ও পরে বুকের উপর রাখা।
৩। দু'হাতের আঙ্গুল মিলিত ও খাড়া অবস্থায় কাধ বা দু'কানের লতি পর্যন্ত উত্তলন করা তাকবীরাতুল ইহরামের সময়, রুকু' করার সময়, রুকু'হতে উঠার সময় ও প্রথম বৈঠক হতে তৃতীয় রাকা'আতের জন্যে দাঁড়ানের সময়।
৪। রুকু' ও সিজাদার তাসবীহ একের অধিক পাঠ করা।
৫। দু'সিজদার মাঝে মাগফিরাতের দু'আ একবারে অধিক পাঠ করা।
৬। রুকু'তে মাথাকে পিঠের বরাবর রাখা।
৭। সিজদা রত অবস্থায় বাহুদ্বয়কে পার্শদ্বয় হতে, পেটকে উরুদ্বয় হতে, ও উরুদ্বয়কে নলিদ্বয় হতে দূরে রাখা।
৮। সিজদার সময় জমিন হতে হস্তদ্বয়কে উচু রাখা।
৯। প্রথম বৈঠকে ও দুই সিজাদার মাঝে ডান পা খাড়া রেখে বাম পা বিছিয়ে তার উপর মুসল্লির বসা।
১০। তিন ও চার রাক'আত বিশিষ্ট সলাতের শেষ বৈঠকে তাওরক করা। আর তা হলো: মুসল্লির বাম পাকে ডান পায়ের নলির নিচে করে তার ডান পাকে খাড়া রেখে তার নিতম্বের উপর বসা।
১১। প্রথম ও দ্বিতীয় বৈঠকে বসা হতে তাশাহহুদ শেষ হওয়া পর্যন্ত শাহাদত আঙ্গুলের দ্বারা ইঙ্গিত করা ও দু'আর সময় নড়ানো।
১২। প্রথম বৈঠকে মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও সাল্লামের পরিবারের উপর এবং ইব্রাহীম ও ইব্রাহীম আলাইহিস সলাতু ওয়াস সালামের পরিবারের উপর সলাত ও বরকত বর্ষণ করা।
১৩। শেষ বৈঠকে দু'আ করা।
১৪। ফজরের সলাতে, জুমু'আর সলাতে, দুই ঈদের সলাতে, বৃষ্টি প্রর্থনার সলাতে এবং মাগরিব ও এশার সলাতের প্রথম দু' রাক'আতে উচ্চস্বরে কিরাত পড়া।
১৫। জহর, আসর, মাগরিবের তৃতীয় রাক'আতে এবং এশার সলাতের শেষ দুই রাক'আতে আস্তে কিরাত পড়া।
১৬। কুরআন হতে সূরা ফাতিহার অতিরিক্ত পাঠ করা। সলাতের যে সুন্নাতগুলো আমরা উল্লেখ করেছি তা ছাড়া তার ব্যাপারে বর্ণিত আরো সুন্নাতগুলো প্রতি লক্ষ্য রাখা। যেমন: ইমাম, মুক্তাদী ও একা একা সলাত আদায়কারীর রুকু' হতে উঠে রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু এর অতিরিক্ত পাঠ করা। এটি সুন্নাত।
আরো তার (সলাতের সুন্নাতের) অন্তর্ভূক্ত হলো: রুকু'র সময় হস্ত দ্বয়ের অঙ্গুলিগুলো প্রসারিত অবস্থায় হাটুদ্বয়ের উপর রাখা।
📄 সলাত-নামায বাতিল (নষ্ট) কারী বিষয় সমূহ
একাদশ পাঠ: সলাত - নামায বাতিল (নষ্ট) কারী বিষয় সমূহ : সলাত বাতিলকারী, আর তা হলো আটটি :
১। সলাতের - নামাযের মাসলাহাতের (কল্যাণ মূলক) বহির্ভূত এমন বিষয়ে স্বরণ ও জানা থাকা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত কথা বলা। তবে ভূলকারী ও মুর্খ ব্যাক্তি তার সলাত এর দ্বারা বাতিল হবে না। ২। নামাযে হাঁসা। ৩। (ইচ্ছাকৃত) খাওয়া বা ভক্ষণ করা। ৪। পান করা। ৫। লজ্জাস্থান প্রকাশ হওয়া। ৬। সলাতে ধারাবাহিকভাবে অনেক বেশী অনর্থক কাজ করা। (আর অধিক কাজের পরিমাণ নির্ণয় করার মানদন্ড হল: নামাযির দিকে দৃষ্টি পাত কারীর নিকট মনে হবে যে, সে নামাযের মাঝে নয়।) ৭। ক্বিবলা দিক থেকে ডান বা বাম দিকে অনেক বেশি ফিরে যাওয়া। ৮। অযু ভেঙ্গে যাওয়া।
📄 অযুর শর্তসমূহ
দ্বাদশ পাঠ: অযুর শর্তসমূহঃ
অযুর শর্তসমূহ, আর তা হলো দশটি :
১। ইসলাম বা মুসলিম হওয়া। ২। বিবেক বা বিবেকবান হওয়া। ৩। ভাল - মন্দের পার্থক্য করা বা পার্থক্যকারী হওয়া। ৪। নিইয়াত করা। ৫। নিইয়াতের হুকুম সঙ্গে রাখা এর অর্থ হলো পবিত্রতা অর্জন পরিপূর্ণ হওয়ার আগনাগাদ অযু ভঙ্গের নিইয়াত না করা। ৬। অযু ওয়াজিব করে এমন কারণ বন্ধ করা। ৭। অযুর আগে পানি বা ঢিলা ব্যবহার করা। ৮। পানি পবিত্র ও বৈধ হওয়া। ৯। পানি চামড়ায় পৌছতে দেয় না এমন জিনিস দূর করা। ১০। যার অযু সব সময় চলে যায় তার জন্যে সলাতের সময় হওয়া।