📘 মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পাঠ সমূহ > 📄 সলাতের শর্তসমূহ

📄 সলাতের শর্তসমূহ


ষষ্ঠ পাঠ: সলাতের শর্তসমূহ: সলাতের শর্তসমূহ আর তা হলো নয়টি ১। ইসলাম-মুসলিম হওয়া। ২। জ্ঞানবান হওয়া। ৩। ভাল- মন্দ পার্থক্যের জ্ঞান থাকা। ৪। হদছ (তথা অপবিত্রতা) দূর করা, আর ইহা-নাপাকি হতে অযু গোসল করে পবিত্র হওয়াকে বুঝায়। ৫। মুসল্লির কাপড়, শরীর ও নামায পড়ার স্থান হতে নাপাকি দূর করা। ৬। সতর ঢাকা, পুরুষের সতর নাভী হতে হাঁটু পর্যন্ত। আর মহিলা তার সম্পূর্ণ শরীরই নামাযে সতর, তার মুখ ও হাতের তালুদ্বয় ছাড়া। ৭। নামাযের সময় উপস্থিত হওয়া। ৮। কিল্লা মুখী হওয়া। ৯। নিয়াত করা, নিয়াত পড়া নয়।

📘 মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পাঠ সমূহ > 📄 সলাতের রুকনসমূহ

📄 সলাতের রুকনসমূহ


সপ্তম পাঠ: সলাতের রুকনসমূহঃ
সলাতের রুকনসমূহ, আর তা হলো চৌদ্দটিঃ
১। সামর্থ্য থাকলে দাঁড়ানো। ২। তাব্বীরে তাহরীমাহ। ৩। সূরা ফাতিহা পাঠ করা। ৪। রুকু' করা। ৫। রুকু' হতে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ানো। ৬। সাত অঙ্গের উপর সিজদা করা। ৭। সিজদা হতে উঠা। ৮। দুই সিজদার মাঝে বসা। ৯। শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ পড়া। ১০। তাশাহ্হুদ কালে বসা। ১১। নামাযের এই রুক্স গুলো সম্পাদনে স্থিরতা বজায় রাখা। ১২। এই রুক্স গুলো ধারাবাহিক ভাবে আদায় করা। ১৩। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরুদ পাঠ করা। ১৪। ডানে ও বামে দুই দিকে সালাম প্রদান করা বা সালাম ফিরানো।

📘 মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পাঠ সমূহ > 📄 সলাতের ওয়াজিবসমূহ

📄 সলাতের ওয়াজিবসমূহ


অষ্টম পাঠ: সলাতের ওয়াজিবসমূহঃ
সলাতের ওয়াজিবসমূহ আর তা হলো আটটি :
১। তাব্বীরে তাহরীমার তাব্বীর ছাড়া নামাযে অন্যান্য তাব্বীর সমূহ।
২। سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ )সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা) বলা। আর ইহা ইমাম ও একাকী নামায আদায় কারীর জন্য ওয়াজিব। তবে মুক্তাদী ইহা পাঠ করবে না।
৩। ইমাম, মুক্তাদী ও একাকী নামায আদায় কারী সকলের উপর رَبَّا وَلَكَ الْحَمْدُ )রাব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ) সকলের জন্যে বলা ওয়াজিব।
৪। রুকুতে سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ )সুবহা-না রাব্বিয়াল আজীম) বলা।
৫। সিজ‌দায় سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى। (সুবহা-না রাব্বিয়াল আ'লা) বলা।

📘 মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পাঠ সমূহ > 📄 তাশাহহুদের বিবরণ

📄 তাশাহহুদের বিবরণ


নবম পাঠঃ তাশাহহুদের বিবারণ:
তাশাহহুদের বিবারণ, আর তা হলো
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ
وَبَرَكَاتُهُ، السَّلامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ
أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
(আত্তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি ওয়াস্ সালা-ওয়া-তু ওয়াত্ তাইয়্যিবা-তু, আস্সালা-মু আলাইকা আইয়্যু হান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ। আস্সালা-মু আলাইনা-ওয়া আ'লা-ইবাদিল্লা-হিস্ স- লিহীন। আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ)।
অর্থ: সকল মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদাত আল্লাহর জন্য। হে নাবী! তোমার উপর আল্লাহর রহমাত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ও আল্লাহর সকল সৎ ব্যক্তিদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। আমি আরোও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম' এর উপর সলাত পাঠ করবে এবং তাঁর জন্যে বরকতের দু'আ করবে :
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ
إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى
إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ.
(আল্লাহুম্মা সল্লি আ'লা মুহাম্মাদ, ওয়ালা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা সল্লাইতা আ'লা ইব্রাহীম, ওয়া আলা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ, ওয়া বারিক আ'লা মুহাম্মাদ, ওয়া-আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আ'লা ইব্রাহীম, ওয়া আলা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ)।
অর্থঃ “হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পরিবারের উপর রহমাত বর্ষণ কর, যেরূপ ইব্রাহীম (আলাইহিস্ সালাম) ও ইব্রাহীম (আলাইহিস্ সালাম) এর পরিবারের উপর রহমাত বর্ষণ করেছিলে। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পরিবারের উপর বরকত দান কর, যেরূপ ইব্রাহীম (আলাইহিস্ সালাম) ও ইব্রাহীম (আলাইহিস্ সালাম) এর পরিবারের উপর বরকত দান করেছিলে। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত”।
তারপর শেষ বৈঠকে আল্লাহর কাছে জাহান্নামের শাস্তি, কবরের শাস্তি, জীবন-মরণ ও মাসিহুদ্ দাজ্জালের ফিৎনা হতে আশ্রয় চাবে। মুখে বলবেঃ
اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ
الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ.
(আল্লাহুম্মা ইন্নী আ'উযুবিকা মিন আ'যাবে জাহান্নামা, ওয়া মিন আ'যাবিল ক্বাবরে, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল মামাতি, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ্ দাজ্জালি)।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জাহান্নামের শাস্তি, কবরের শাস্তি, জীবন-মরণ ও মাসিহুদ্ দাজ্জালের ফিৎনা হতে আশ্রয় চাইতেছি।
তারপর দু'আ হতে, বিশেষ করে সুন্নাতী দু'আ হতে সে যা চাবে তা বেছে নিয়ে তার দ্বারা দু'আ করবে। নিম্নের দু'আগুলো সুন্নাতী দু'আর অন্তর্ভূক্ত।
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
আল্লাহুম্মা আয়ি'ন্নী আ'লা যিক্রিকা ওয়া শুক্রিকা ওয়া হুসনি 'ইবাদাতিকা।
হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে তোমার যিক্র স্বরণ, শুক্র - কৃতজ্ঞতা ও তোমার ভাল ইবাদত করার তাওফীক দান কর।
اللهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي
مَغْفِرَةٌ مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
আল্লাহুম্মা ইন্নি যলামতু নাফসী যুলমান কাছিরা। ওয়া লা ইয়াগফিরুয যনূবা ইল্লা আনতা। ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন 'ইনদিকা ওয়ারহামনী। ইন্নাকা আনতাল গফুরুর রহীম
হে আল্লাহ আমি আমার আত্মার উপর অনেক বেশি যুলুম করেছি। আর তুমি ছাড়া কেউ পাপ মাফ কারী নাই। অতএব তুমি তোমার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার প্রতি দয়া কর। কারণ তুমি ক্ষমাকারী ও দয়ালু।
তবে যহর, আসর, মাগরিব ও 'ইশার সলাতে প্রথম বৈঠকের মাঝে শাহাদাইনের পর তৃতীয় রাকা'আতের জন্যে দাঁড়াবে। কেউ যদি এতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করে তবে তা তার জন্যে উত্তম হবে। এ ব্যাপারে ব্যাপক অর্থবোধক হাদীছসমূহ থাকার কারণে। তরপর তৃতীয় রাকা'আতের জন্যে দাঁড়াবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00