📄 ছোট শিরক
২। ছোট শিরক : কুরআন বা হাদীছের দলীলের দ্বারা যার নাম শিরক প্রমাণিত হয়েছে। তবে তা বড় শিরকের অন্তর্ভূক্ত নয়।
যেমন: কিছু কর্মের মাঝে রিয়া বা লোক দেখানো কাজ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করা, মা শাআল্লাহ ওয়া শা ফুলান (অর্থ যা আল্লাহ চেয়েছেন এবং অমুক ব্যক্তি চেয়েছেন) বলা এবং এর মত আরো কিছু কাজ ও কথা। কারণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
أَخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشَّرْكُ الْأَصْغَرُ قَالُوا وَمَا الشَّرْكُ الْأَصْغَرُ يَا
رَسُولَ اللَّهِ قَالَ الرِّيَاءُ (رواه الإمام أحمد)
আমি তোমাদের উপর যে সকল জিনিসের ভয় করি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী ভয়ানক হচ্ছে আশ্ শিরকুল আসগার তথা ছোট শিরক। তাঁকে আশ্ শিরকুল আসগার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তরে বললেনঃ (ছোট শিরক হচ্ছে) রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত। (হাদীছটি ইমাম আহমাদ, ত্ববরানী ও বাইহাকী মাহমূদ বিন লাবীদ আল আনসারী রাযিআল্লাহু আনহু হতে হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।) এবং ত্ববরানী মাহমূদ বিন লাবীদ সে রাফি'বিন খাদীজ হতে সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে একাধিক হাসান সুত্রে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।
তিনি আরো বলেছেন:
مَنْ حَلَفَ بِشَيْءٍ دُونَ اللَّهِ فَقَدْ أَشْرَكَ
যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর শপথ করলো সে (আল্লাহর সাথে) শিরক করলো। ইমাম আহমাদ 'উমার বিন আল খাত্তাব রাযিআল্লাহু আনহু হতে সহীহ সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। আর আবূ দাউদ ও তিরমিযী আবদুল্লাহ বিন 'উমার এর হাদীছ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে সহীহ সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন নিশ্চয় তিনি বলেছেন:
مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ كَفَرَ أَوْ أَشْرَكَ
যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করলো, সে কুফরী বা শিরক করলো।
لَا تَقُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ فُلَانٌ وَلَكِنْ قُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شَاءَ فُلَانٌ
তোমরা আল্লাহ এবং অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছেন' এ কথা বলো না। বরং তোমরা বলো, 'আল্লাহ যা চেয়েছেন অতঃপর অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছেন। হুযাইফাহ বিন আল ইয়ামান রাযিআল্লাহু আনহু হতে আবূ দাউদ হাদীছটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।
এ প্রকার শিরক মুর্তাদ তথা ধর্মত্যাগী হয়ে যাওয়াকে অপরিহার্য করে না এবং জাহান্নামে চিরস্থায়ীভাবে বসবাস করাকে ওয়াজিব করে না, তবে এটি অত্যাবশ্যকীয় তাওহীদের পূর্ণতার পরিপন্থি।
📄 লুক্কায়িত/অন্তর্নিহিত শিরক
তৃতীয় প্রকার : আর তা হলো অন্তর্নিহিত শিরক। এর প্রমাণ হলো: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী:
أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِمَا هُوَ أَخْوَفُ عَلَيْكُمْ عِنْدِي مِنْ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ قَالَ قُلْنَا
بَلَى فَقَالَ الشَّرْكُ الْخَفِيُّ أَنْ يَقُومَ الرَّجُلُ يُصَلِّي فَيُزَيِّنُ صَلَاتَهُ لِمَا يَرَى مِنْ نَظَرِ
رَجُلٍ إِلَيْهِ.
আমি কি তোমাদেরকে এমন বিষয়ের সংবাদ দেব না? যে বিষয়টি আমার কাছে তোমাদের উপর আল মসীহুদ্ দাজ্জালের' চেয়েও ভয়ানক ? সাহাবায়ে কেরাম বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তা হচ্ছে 'আশ্ শিরকুল খফী' বা লুক্কায়িত শিরক। আর তা হলো: এক ব্যক্তি দাঁড়ায়, নামায় আদায় করে অতঃপর তার নামাযকে খুব সুন্দরভাবে আদায় করে এ জন্যে যে, সে তার দিকে এক ব্যক্তির দৃষ্টিকে লক্ষ্য করছে। (হাদীছটি ইমাম আহমাদ আবূ সাঈদ খদ্রী রাযিআল্লাহু আনহু হতে তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)
শিরককে শুধু দু'ভাগে ভাগ করাও ঠিক আছে। ১। বড় শিরক। ২। ছোট শিরক। তবে অন্তর্নিহিত শিরক সেটা বড় - ছোট উভয়কেই শামিল করে। আর তা বড় শিরকে হয়ে থাকে। যেমন: মুনাফিকদের শিরক। কারণ তারা তাদের বাতিল 'আকীদাকে গোপন করে। আর লোককে দেখানের জন্যে ইসলামকে প্রকাশ করে। নিজেদের প্রাণের উপর আশঙ্কা করে। আর তা ছোট শিরকেও হয়ে থাকে। যেমন: রিয়া বা লোক দেখানো আমল বা কাজ। যেমন পূর্বে বর্ণিত মাহমূদ বিন লাবীদ আল আনসারীর হাদীছ ও উল্লেখিত আবূ সাঈদ খুদরীর হাদীছ। আল্লাহই তাওফীক দাতা।