📄 আবদুল মুমিনের কৃতিত্ব
আবদুল মুমিন শুধু একজন বিখ্যাত যুদ্ধবিশারদ বিজয়ী বীরই ছিলেন না তিনি ছিলেন সুদক্ষ প্রশাসকও। তিনি প্রতিনিধি পরিষদ ও সাধারণ পরিষদকে একত্রিত করেন। পুরাতন বন্দরসমূহ পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করেন এবং নতুন নতুন বন্দর নির্মাণ করেন। মুসলিম বিশ্বের পণ্ডিতগণ তাহার প্রাসাদে সমবেত হন। তাহার সাম্রাজ্যের সর্বত্র শিল্প ও সাহিত্যের চরম উৎকর্ষ ও উন্নতি সাধিত হয়। প্রতিটি শহর ও নগরে স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে কেবল কিতাবী বিদ্যায় শিক্ষা দেওয়া হইত না বরঞ্চ শিল্প, হস্তশিল্প ও সামরিক বিদ্যাও শিক্ষা দেওয়া হইত। গৃহযুদ্ধ ও খ্রীস্টানদের আক্রমণ স্পেনের বৈষয়িক উন্নতির পথে বাঁধার সৃষ্টি করে।
📄 আবু ইয়াকুব ইউসুফ
মুমিনের মৃত্যুর পর তাহার পুত্র আবু ইয়াকুব ইউসুফ ১১৬৩ খ্রীঃ সিংহাসনে আরোহণ করেন। নতুন রাজা ছিলেন একজন বিখ্যাত সৈনিক ও খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ। তিনি বিশ হাজার সুদক্ষ সৈনিককে স্পেনে প্রেরণ করেন এবং নিজেও সেভিলে অবস্থান করেন। তিনি টলেডো পর্যন্ত বিস্তৃত তাগুস উপত্যকা ও আলকানতারার সীমান্ত ঘাঁটি অধিকার করেন। সেভিলে এক বৎসর অবস্থান কালে তিনি সুরম্য প্রাসাদ, মিনারযুক্ত মসজিদ ও অসংখ্য সেতু নির্মাণ করিয়া ইহাকে সুশোভিত করিতে চেষ্টা করেন। ৯ ১১৮৪ খ্রীস্টাব্দে তাহারা সামতারেন অবরোধ করেন। ইউসুফ সেখানে গুরুতর রূপে আহত হন এবং মুসলমানগণ খ্রীস্টানদের হস্তে চরমভাবে পরাজিত হন।
টিকাঃ
৯। এই মসজিদটি চার্চের পার্শ্বে নির্মিত হয়। মসজিদ নির্মাণের বহু পূর্বে চার্চটি নর্ম্যান কর্তৃক ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। খ্রীস্টানদের সেভিল বিজয়ের পর মসজিদটি ক্যাথেড্রালে পরিবর্তিত হয়।
📄 আবু ইউসুফ ইয়াকুব
স্লাভ পত্নীর গর্ভজাত আবু ইউসুফ ইয়াকুব ১১৮৪ খ্রীস্টাব্দে তাহার পিতা ইউসুফের স্থলাভিষিক্ত হন। ১০ ইয়াকুব 'আল মনসুর বিল্লাহ' উপাধি ধারণ করেন। তিনি তাহার রাজপরিবারের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন। তিনি ছিলেন দয়ালু সুবিচারক ও ধর্মপরায়ণ রাজা। ১১ সেভিলের জিরাল্ডা স্মৃতিস্তম্ভ তাঁহার শাসনকালের স্থাপত্য শিল্পের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি শিল্পকলা ও সাহিত্যের অনুরাগী পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাহার সময়কার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বিখ্যাত চিকিৎসক ইবনে জুহর ও ইবনে রুশদ। ইউরোপীয়গণ স্পেনীয় মুসলমানদের নিকট দর্শনে গভীর জ্ঞানলাভ করে। ১২ ১১৯৫ খ্রীঃ আলারকোসের যুদ্ধে খ্রীস্টানগণকে পরাজিত করেন। ১১৯৭ খ্রীষ্টাব্দে তিনি মরক্কোতে গমন করেন এবং তাহার দুই বৎসর পর তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন।
টিকাঃ
১০। মাররাকুশী, দ্যা কিতাব আল মুজিব, পৃঃ ১৮৯।
১১। হোল, আন্দালুস, পৃঃ ২৭।
১২। ইবনে আবিজার, প্রথম খণ্ড, পৃঃ ১৪৩, ১৫১-৫২; হিট্টি উদ্ধৃত করেন, হিস্ট্রি অব দ্যা আরবস-এর পৃঃ ৫৪৮, নোট ৬ এবং ৭।
📄 মুহাম্মদ আল নাসির বিন ইয়াকুব
১১৯৯ খ্রীস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব তাঁহার পিতার স্থলাভিষিক্ত হন ও 'আল নাসির লিদিনিল্লাহ' উপাধি ধারণ করেন। তাঁহার সময়কালে খ্রীস্টানগণ পুনরায় আন্দালুসিয়াতে লুটতরাজ করিতে শুরু করেন। ১২১২ খ্রীঃ লাস নাভাস ডে তোলোসার যুদ্ধে মুয়াহিদগণ বিভিন্ন খ্রীস্টান রাজার সম্মিলিত আক্রমণে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত হন। যুদ্ধের চরম পর্যায়ে মুহাম্মদ সেভিলে পলাইয়া যাইতে সক্ষম হন। ভগ্ন হৃদয়ে মুহাম্মদ মরক্কোতে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সেখানে ১২১৪ খ্রীস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।