📄 ইয়াহিয়া বিন আল-মামুন বিন ইসমাইল
ইসমাইলের পুত্র ইয়াহিয়া 'আল-মামুন' উপাধি ধারণ পূর্বক তাঁহার স্থলাভিষিক্ত হন। তাঁহার বংশের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বিখ্যাত এবং তিনি সুদীর্ঘ বত্রিশ বৎসর (১০৪৩-১০৭৫ খ্রীঃ) সাফল্যের সহিত রাজ্য শাসন করেন। মামুন খ্রীস্টানদিগকে সেনাবাহিনীতে গ্রহণ করিয়া প্রতিবেশী মুসলিম রাজ্য দখল করেন। তিনি বাদাজোজের আফতাসিদ শাসক মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-মুজাফফরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং মুরসিয়া ও অন্যান্য পাশ্ববর্তী দেশসমূহ অধিকার করেন। মুতামিদ এই বিভ্রান্তিকর অবস্থার সুযোগ লইয়া কর্ডোভা আক্রমণ করেন এবং ইবনে উক্কাশাকে হত্যা করিয়া শহর অধিকার করেন। মামুনের রাজত্বকালে দেশের মধ্যে শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করে।
টিকাঃ
১১। ঐ, পৃঃ ৭৮. ও টীকা-২।
📄 ইয়াহিয়া আল কাদির
"আল কাদির" উপাধি ধারণ করিয়া মামুনের প্রৌপুত্র দুর্বল ইয়াহিয়া মামুনের পরে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁহার দুর্বলতার কারণেই রাজ্যের ধ্বংস সাধিত হয়। তিনি নিজে ষষ্ঠ আলফন্সোর সহিত মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ হন। খ্রীস্টানদিগকে অর্থ দেওয়ার জন্য তিনি তাঁহার গরীব প্রজাদের নিকট হইতে অধিক পরিমাণে কর আদায় করিতে শুরু করেন। অসহায় কাদির ষষ্ঠ আলফন্সোর সাহায্য প্রার্থনা করেন। তিনি ১০৮৫ খ্রীঃ টলেডো অধিকার করেন। টলেডো পতনের ফলে দেশের দক্ষিণাংশে মুসলমানগণ অরক্ষিত বোধ করে। এখান হইতে খ্রীস্টান শাসকগণ দেশের দক্ষিণাংশে মুসলিম এলাকায় অভিযান চালাইয়া ত্রাসের রাজ্য কায়েম করে।
টিকাঃ
১১। ঐ, পৃঃ ৭৮. ও টীকা-২।
📄 সেভিলের বানু আব্বাস রাজবংশ
কর্ডোভার উমাইয়া খিলাফতের পতনের পর যে সমস্ত রাজবংশের উদ্ভব হয় তাহাদের মধ্যে আরব বংশোদ্ভূত সেভিলের রাজবংশের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আব্বাসীগণ আল-হীরার পুরাতন লাখমী রাজবংশের অন্তর্গত বলিয়া দাবী করিত। তাহাদের পূর্বপুরুষ বালজ ইবনে বিশরের সহিত স্পেনে আগমন করেন।
টিকাঃ
১২। আল-বোরনোজ, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৩৩, ১২০, ৩৩৯ দেখুন।
📄 প্রথম আবুল কাসেম মুহাম্মদ
প্রথম আবুল কাসেম মুহাম্মদ (১০২৩ খ্রীঃ) এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। আবুল কাসেম ছিলেন একজন সুদক্ষ সৈনিক ও বিজ্ঞ বিচারক। তিনি সেভিলের কাজি ছিলেন। তিনি একটি জনপ্রিয় সরকার গঠন করেন। ১০৩৫ খ্রীঃ নভেম্বর মাসে মালাগার ইয়াহিয়াকে আক্রমণ করিয়া পরাজিত ও হত্যা করেন এবং কারমোনা অধিকার করেন। ১০৪২ খ্রীস্টাব্দে প্রথম আবুল কাসেম মুহাম্মদ বিশ বৎসর রাজ্য শাসনের পর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সেভিলে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে লাঞ্ছিত ও অবহেলিত আরবগণ আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল।
টিকাঃ
১৩। শান্তা মারিয়া আলগার্ব এখন ফারো নামে পরিচিত।