📄 আলমেরিয়া, মুরসিয়া, দেনিয়া ও বেলীয়ারিক দ্বীপের ক্ষুদ্র স্লাভ শাসকগণ
দেশের দক্ষিণাংশের বার্বারদের ন্যায় দক্ষিণ-পূর্ব অংশে ও বেলিয়ারিক দ্বীপসমূহে স্লাভগণ স্বাধীন ক্ষুদ্র রাজ্য কায়েম করে। শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে তাহারা উন্নতির চরমে পৌছে। স্লাভ শাসকগণ অধিকাংশ সময় নিজেদের কর্মদ্যোগ ও সামরিক শক্তিকে খ্রীস্টান শাসকদের সহযোগিতায় নিজ সম্প্রদায় ও প্রতিবেশীদের ধ্বংস করিবার কাজে ব্যয় করেন। শাসক হিসাবে স্লাভগণ খুবই দুর্বল ছিলেন। আলমেরিয়া, মুরসিয়া ও ভ্যালেন্সিয়া তাঁহাদের রাজ্যের অংশ হইলেও ইহা কখনও বিরাট সাম্রাজ্যের রূপ পরিগ্রহ করে নাই।
📄 সারাগোসার বানুহুদ
উমাইয়া সাম্রাজ্য পতনের সময় মুহাম্মদ হাশিমের জনৈক পৌত্র মুতরিক আপার মার্চ শাসন করিতেন। তাঁহার পুত্র মুনজির নিজেকে স্বাধীন বলিয়া ঘোষণা করেন এবং ১০২৩ খ্রীঃ পর্যন্ত সফলতার সহিত রাজ্য শাসন করেন। আবু আইয়ুব বিন মুহাম্মদ বিন হুদা সুলায়মান সারাগোসার শাসন ক্ষমতা দখল করিয়াছিলেন, তিনি 'আল মুস্তাইন' উপাধি ধারণ করেন এবং একটি রাজবংশের প্রতিষ্ঠা হয়। তাঁহার বংশের মধ্যে আহাম্মদ আল মুক্তাদির আল-দৌলা ছিলেন একজন সুযোগ্য শাসক, তিনি দার-আল সরুর (আনন্দ ভবন) সহ বহু সরকারি ইমারত নির্মাণ করেন। তাঁহার শাসন আমলে শিল্পকলা ও স্থাপত্য বিদ্যার প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। অদ্যাবধি বিদ্যমান সারাগোসায় আল-জাফরিয়া প্রাসাদসহ বহু অট্টালিকা নির্মিত হয়। আল-জাফরিয়া প্রাসাদ প্রচুর সুখ্যাতি অর্জন করে।
📄 টলেডোর বানু জুন্নুন রাজবংশ
বানু জুনুন বার্বারদের হাওয়ারা শাখার অন্তর্গত। তাহারা টলেডো ক্যাস্টাইলের খ্রীস্টানদের দ্বারা অধিকৃত হওয়ার সময় পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশ বৎসর শাসন করেন। উমাইয়াদের পতনের পর টলেডোর অধিবাসীগণ বানু জনুনকে তাহাদের শাসন করিবার জন্য আহবান জানান। ইসমাইল টলেডো দখল করেন এবং 'আল জাফীর' উপাধি ধারণ করেন। তিনি ১০৪৩/৪ খ্রীস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
টিকাঃ
১০। প্রিটো, পৃঃ ৫১-৫৫।
📄 ইয়াহিয়া বিন আল-মামুন বিন ইসমাইল
ইসমাইলের পুত্র ইয়াহিয়া 'আল-মামুন' উপাধি ধারণ পূর্বক তাঁহার স্থলাভিষিক্ত হন। তাঁহার বংশের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বিখ্যাত এবং তিনি সুদীর্ঘ বত্রিশ বৎসর (১০৪৩-১০৭৫ খ্রীঃ) সাফল্যের সহিত রাজ্য শাসন করেন। মামুন খ্রীস্টানদিগকে সেনাবাহিনীতে গ্রহণ করিয়া প্রতিবেশী মুসলিম রাজ্য দখল করেন। তিনি বাদাজোজের আফতাসিদ শাসক মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-মুজাফফরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং মুরসিয়া ও অন্যান্য পাশ্ববর্তী দেশসমূহ অধিকার করেন। মুতামিদ এই বিভ্রান্তিকর অবস্থার সুযোগ লইয়া কর্ডোভা আক্রমণ করেন এবং ইবনে উক্কাশাকে হত্যা করিয়া শহর অধিকার করেন। মামুনের রাজত্বকালে দেশের মধ্যে শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করে।
টিকাঃ
১১। ঐ, পৃঃ ৭৮. ও টীকা-২।