📄 বাদিস
ক্ষুদ্র শাসককর্তাদের মধ্যে বাদিস ও আল মুতাদিদ ছিলেন বিশেষ বিখ্যাত। বাদিস রক্তে বার্বার ও জন্মগতভাবে স্পেনীয় ছিলেন। বাদিস ১০৩৮ খ্রীঃ তাঁহার পিতা হাব্বুসের উত্তরাধিকারী নিযুক্ত হন। তাঁহার দীর্ঘ ও সফল শাসন স্থায়ী হয় পঁয়ত্রিশ বৎসর (১০৩৮-১০৭৩ খ্রীঃ)। গ্রানাডা ও আলমেরিয়ার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিদ্যমান ছিল। ১০৩৮ খ্রীঃ আলপুয়েন্তের গিরিসংকটে আলমেরিয়ার শাসক জুহায়ের নিহত হন। বাদিস ভ্যালেন্সিয়া ও সেভিলে সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেন ও তাহাদের কিছু এলাকা দখল করেন। তিনি তাঁহার রাজধানীকে সুন্দর ও সম্প্রসারণ করেন এবং আলকাজারের ধ্বংসাবশেষের উপর তিনি বিখ্যাত দারদিক আল রিহ প্রাসাদ নির্মাণ করেন। সালুকা নামে পর্বতটিকে বাদিস সুরক্ষিত করেন। পরবর্তীকালে সেখানে আলহামরা প্রাসাদ নির্মিত হয়।
টিকাঃ
৭। এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১২৩১।
📄 বাদিসের উত্তরাধিকারীগণ
১০৭৩ খ্রীস্টাব্দে বাদিসের মৃত্যু হয়। তিনি তামিম ও আব্দুল্লাহ নামে দুই প্রৌ-পুত্রকে যথাক্রমে মালাগা ও গ্রানাডা শাসনের জন্য রাখিয়া যান। ১০৮৬ খ্রীস্টাব্দে জাল্লাকার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তাম্মিম ও আব্দুল্লাহ তাঁহাদের সৈন্য লইয়া যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। মুসলিম রাজাদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ও অকর্মণ্য ছিলেন আব্দুল্লাহ। ১০৯০ খ্রীস্টাব্দে ইউসুফ বিন তাশুফিন স্পেনে আগমন করিয়া গ্রানাডা অবরোধ করেন। আব্দুল্লাহ ও তাম্মিমকে বন্দী করিয়া মরক্কোর আগামতে লইয়া যাওয়া হয়। আব্দুল্লাহ ছিলেন একজন সুন্দর হস্তলিপিকার এবং তিনি কোরান শরীফ নকল করিয়া উহাকে সুসজ্জিত করেন।
টিকাঃ
৮। প্রিটো ওয়াই ভাইভস্, লস রিইয়েচ, পৃঃ ২১, ২৮: আল-আন্দালুস, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৯৪১. পৃঃ ১৮: আল-বোরনোজ, লা ইস্পানা মুসালমানা, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৪৪-৫৩।
৯। প্রিটো, ঐ পৃঃ ৪৫-৫০; আল-বোরনোজ, ঐ, পৃঃ ৯৫।
📄 আলমেরিয়া, মুরসিয়া, দেনিয়া ও বেলীয়ারিক দ্বীপের ক্ষুদ্র স্লাভ শাসকগণ
দেশের দক্ষিণাংশের বার্বারদের ন্যায় দক্ষিণ-পূর্ব অংশে ও বেলিয়ারিক দ্বীপসমূহে স্লাভগণ স্বাধীন ক্ষুদ্র রাজ্য কায়েম করে। শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে তাহারা উন্নতির চরমে পৌছে। স্লাভ শাসকগণ অধিকাংশ সময় নিজেদের কর্মদ্যোগ ও সামরিক শক্তিকে খ্রীস্টান শাসকদের সহযোগিতায় নিজ সম্প্রদায় ও প্রতিবেশীদের ধ্বংস করিবার কাজে ব্যয় করেন। শাসক হিসাবে স্লাভগণ খুবই দুর্বল ছিলেন। আলমেরিয়া, মুরসিয়া ও ভ্যালেন্সিয়া তাঁহাদের রাজ্যের অংশ হইলেও ইহা কখনও বিরাট সাম্রাজ্যের রূপ পরিগ্রহ করে নাই।
📄 সারাগোসার বানুহুদ
উমাইয়া সাম্রাজ্য পতনের সময় মুহাম্মদ হাশিমের জনৈক পৌত্র মুতরিক আপার মার্চ শাসন করিতেন। তাঁহার পুত্র মুনজির নিজেকে স্বাধীন বলিয়া ঘোষণা করেন এবং ১০২৩ খ্রীঃ পর্যন্ত সফলতার সহিত রাজ্য শাসন করেন। আবু আইয়ুব বিন মুহাম্মদ বিন হুদা সুলায়মান সারাগোসার শাসন ক্ষমতা দখল করিয়াছিলেন, তিনি 'আল মুস্তাইন' উপাধি ধারণ করেন এবং একটি রাজবংশের প্রতিষ্ঠা হয়। তাঁহার বংশের মধ্যে আহাম্মদ আল মুক্তাদির আল-দৌলা ছিলেন একজন সুযোগ্য শাসক, তিনি দার-আল সরুর (আনন্দ ভবন) সহ বহু সরকারি ইমারত নির্মাণ করেন। তাঁহার শাসন আমলে শিল্পকলা ও স্থাপত্য বিদ্যার প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। অদ্যাবধি বিদ্যমান সারাগোসায় আল-জাফরিয়া প্রাসাদসহ বহু অট্টালিকা নির্মিত হয়। আল-জাফরিয়া প্রাসাদ প্রচুর সুখ্যাতি অর্জন করে।