📄 অভিভাবকত্ব হইতে দ্বিতীয় হিশামের মুক্তি
ওয়াদিহর নেতৃত্বে স্লাভগণ মাহদীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় ও মাহদীকে হত্যা করে এবং খলিফা দ্বিতীয় হিশামকে তাঁহার হাজীবের অভিভাবকত্ব হইতে মুক্ত করে । ৪০০ হিঃ জুলহাজ/১০১০ খ্রীঃ জুন মাসে দ্বিতীয় হিশাম দ্বিতীয় বারের মত খলিফা ঘোষিত হন । হিশামের প্রথম কাজ ছিল তাঁহার প্রধান মন্ত্রী রূপে ওয়াদিহকে নিয়োগ ও বার্বারদের সহিত শান্তি চুক্তি সম্পাদন করা । ৩
টিকাঃ
৩. এন্টনিও প্রিটো ওয়াই ভাইভস্, ঐ. পৃঃ ১৬।
📄 দ্বিতীয় দফা সুলায়মান শাসক নিযুক্ত
১০১২ খ্রীঃ বার্বারগণ কর্ডোভা লুণ্ঠন করে এবং কর্ডোভাবাসিদিগকে দ্বিতীয় বারের মত সুলায়মানকে খলিফা হিসাবে গ্রহণ করিতে বাধ্য করে । স্লাভগণ বার্বারদের অনুসরণ করিয়া কর্ডোভায় প্রবেশ করে এবং ধ্বংসযজ্ঞে লিপ্ত হয় । হিশাম এশিয়ায় পলাইয়া যায় অথবা বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে মৃত্যুবরণ করে । তাঁহার জীবন অবসানের সঙ্গে সঙ্গে উমাইয়া শাসনের শেষ গৌরবের পরিসমাপ্তি ঘটে । ১০১৩ খ্রীঃ কর্ডোভার কাজি ইবনে জাকওয়ান বার্বারদের নিকট শহর সমর্পণ করেন ।
📄 আলী বিন হাম্মুদ
সুলায়মান বার্বারদিগকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীপদে নিয়োগ করেন । কর্ডোভাবাসিরা তাঁহার শাসনে অতিষ্ঠ হইয়া সিউটার গভর্নর আলী বিন হাম্মুদকে সিংহাসন দখল করিবার উদ্দেশ্যে আহ্বান জানায় । আলী বিন হাম্মুদ ৪০৫ হিঃ/১০১৫ খ্রীঃ সুলায়মানকে হত্যা করিয়া সিংহাসনে আরোহণ করেন । ক্ষমতা গ্রহণের অল্পদিনের মধ্যে তিনি নিহত হন । তাঁহার ভ্রাতা কাসিম সিংহাসনে আরোহণ করেন কিন্তু তিনি ছিলেন খুবই দুর্বল প্রকৃতির এবং ১০১৮ খ্রীঃ কর্ডোভা হইতে বিতাড়িত হন ।
📄 তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম আবদুর রহমান
এই বিশৃঙ্খলার সময়ে কর্ডোভা সর্বপ্রকার বর্বরতা ও অত্যাচারের শিকারে পরিণত হয় । ১০১৮ খ্রীঃ কর্ডোভা নগরীর সুধীবৃন্দ আবদুর রহমান আল মুর্তজাকে খলিফা নির্বাচিত করেন । তিনি 'আল মুর্তজা' উপাধি ধারণ করেন । তিনি গ্রানাডার শাসকের সহিত যুদ্ধ চলাকালে নিহত হন । ৪১৪ হিঃ/ ১০২৩ খ্রীস্টাব্দে চতুর্থ আবদুর রহমান আল মুস্তাজহিরকে খলিফা হিসাবে নির্বাচন করা হয় । তিনি আলী বিন হাজমকে তাঁহার প্রধান মন্ত্রী নিয়োগ করেন । ১০২৩ খ্রীস্টাব্দের শেষভাগে পঞ্চম আবদুর রহমান বার্বারদের একটি ব্যাটেলিয়ান কর্ডোভায় প্রবেশ করালে রাজকীয় দেহরক্ষী বাহিনী বিদ্রোহীদের সহিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় । পঞ্চম আবদুর রহমান ১০২৪ খ্রীস্টাব্দের ১৮ই জানুয়ারি নিহত হন ।