📄 শিল্পকারখানা
কৃষির সহিত সমানতালে শিল্প কারখানারও উন্নতি বিধান করা হয় । ২২ কর্ডোভা, সেভিল ও অন্যান্য শহরে বিশেষ ধরনের সিল্ক, সুতী ও পশমী কাপড় তৈয়ারির মিল এবং চামড়া ও বিভিন্ন প্রকারের ধাতুর কারখানা গড়িয়া ওঠে । কর্ডোভা ছিল শিল্পকারখানা ও বাণিজ্য নগরী । আল মেরিয়ার নিকটবর্তী পেচিনা বন্দর মারফত বিদেশী বিলাস সামগ্রী স্পেনে আসিত । ২৩ স্পেনে প্রস্তুত দিবাজ নামীয় সিল্কের কাপড় রং ও সৌন্দর্যে বিশ্ববিখ্যাত ছিল । স্পেনে তৈয়ারী সিল্কের জিন পৃথিবীর অন্যত্র তৈয়ারী জিন হইতে উন্নত মানের ছিল । স্পেনের ধাতু শিল্পীগণ তরবারী, বর্ম, প্রদীপ ও লৌহের দরজা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে বিখ্যাত ছিল । চামড়াজাত দ্রব্য সামগ্রীও বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করে ।
টিকাঃ
২২। ক্রেমারস্, ইবনে হাওকাল, পৃঃ ১১৬।
২৩। ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ৪৪৬-রাজা খুজারশের নিকট কাসদাইয়ের পত্র। কারমলি কর্তৃক দাস খুজারস্ এন জি, সোসাইটি, পৃঃ ৩৭ ও টীকা-১।
📄 ব্যবসা বাণিজ্য
দামেস্ক এবং বাগদাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বেশির ভাগ উট বাহিত ছিল । কিন্তু কর্ডোভার ব্যবসা-বাণিজ্য চলিত বাণিজ্যিক জাহাজের মাধ্যমে । ২৪ স্পেনের সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্যের দিনে ইহার বাণিজ্য জাহাজের সংখ্যা ছিল এক হাজারের বেশি । ২৫ বিভিন্ন জাতির অবিমিশ্র ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরব সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে প্রচার এবং প্রসারে সাহায্য করে ।
জাতীয় আয় বৃদ্ধির ফলে জনসাধারণের জীবনের মানও বৃদ্ধি পায় । কর আদায়ের সুবিধার্থে ইবনে সাঈদের মতে, রাজস্বের মূল উৎস ছিল ভূমিরাজস্ব, যাকাত, জিজিয়া ও বাজারটোল । কর্ডোভার কেন্দ্রীয় খাজাঞ্চীখানা সারাদেশের খাজাঞ্চী খানাগুলি নিয়ন্ত্রণ করিত । তৃতীয় আবদুর রহমান সিংহাসনে আরোহণের পর বেআইনী কর সমূহের বিলোপ সাধন করেন ।
টিকাঃ
২৪। ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ৪৪৫; ক্রেমারস্ পৃঃ ১১৪।
২৫। কর্ডোভার বিখ্যাত চিকিৎসক আবু আব্দুল্লাহ আল-আসকালাবীর মতো গ্রীক ভাষাবিদ স্পেনে দুর্লভ ছিল।
📄 শিক্ষা ও সংস্কৃতি
তৃতীয় আবদুর রহমান সাহিত্য চর্চা ও বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা করিতেন । ২৬ তিনি রাজকোষের এক তৃতীয়াংশ প্রতি বৎসর শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নতি সাধনের জন্য ব্যয় করিতেন । ২৭ তাঁহার সময়ে দার্শনিক ইবনে মাসাররাহ, ঐতিহাসিক ইবনুল আহমার, চিকিৎসক আরিব বিন সাইদ এবং ইয়াহিয়া বিন ইসহাকের ন্যায় পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গের আবির্ভাব ঘটে । ২৮ খলিফার দরবারে ইহুদী পণ্ডিত হাসদাই ইবনে শাপরুতের ন্যায় ব্যক্তিত্ব উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন । কর্ডোভার লাইব্রেরি মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠ লাইব্রেরি রূপে গড়িয়া ওঠে ।
কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণা ভিত্তিক শিক্ষা ৯৫০ খ্রীঃ স্পেনে প্রচলন করা হয় । ইবনে আবদ রাবিহী খলিফার জনৈক রাজকবি তাহার সংগীত শ্রবণে বিমুগ্ধ হইয়া কর্ডোভার খ্যাতি ও সুনাম অর্জনে সহায়তা করেন । মুকাদ্দাম ইবনে মুয়াফা দশম হিজরীর প্রথম দিকে কর্ডোভার নিকটবর্তী কাবরাতে বসবাস করিতেন । স্পেনের কিছু সংখ্যক গদ্য লেখক প্রাচ্যের ছন্দবদ্ধ লেখার রীতিকে তাহাদের রচনায় গ্রহণ করিয়া সাহিত্যে এক নতুন লেখন-রীতির প্রবর্তন করেন ।
টিকাঃ
২৬। এম. আসিব-পালা শিওস, ওবরাস ইসকোজিডাস (ইবনে মাসারাহ ওয়াই শু এসকুয়েলা) ১ম খণ্ড, মাদ্রিদ ১৯৪৬, পৃঃ ১-২১৬।
২৭। এস. এম. ইমামউদ্দিন, সাম অ্যাসপেক্টস অব দ্যা সোশিও-ইকনোমিক এ্যান্ড কালচারাল হিস্ট্রি অব মুসলিম স্পেন, লেডেন, ১৯৬৫, পৃঃ ১৮৬।
২৮। গায়ানগোস, ১ম খণ্ড, পৃঃ ২৩৪, আজহার, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২৬৯; ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ৪৪৬।
📄 আল জাহরা প্রাসাদ ও কর্ডোভা মিনার
সরকারি ইমারত ব্যতীত সুন্দর ও মনোহর অট্টালিকা নির্মাণে খলিফার ছিল অসীম আগ্রহ । ২৯ বহু প্রশংসিত আলজাহরা প্রাসাদ ৯৩৬ খ্রীস্টাব্দের নভেম্বর মাসে খলিফার প্রিয়তমা উপপত্নী সুন্দরী শ্রেষ্ঠা আলজাহরার স্মরণে নির্মিত হয় । ৩০ নগরীকে সুরক্ষিত করিবার উদ্দেশ্যে প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত করা হইয়াছিল । আল জাহরা প্রাসাদে ৪৩১৬টি থাম্বা ছিল । ৩১ কারিগরী নৈপুণ্যের জীবন্ত নিদর্শন চমৎকার আকৃতির ঝর্ণা দরবার কক্ষে স্থাপিত হয় । ৩২
কর্ডোভা নগরী পাঁচটি বৃহৎ জেলায় বিভক্ত ছিল । নগরীর রাস্তা ও উদ্যানে পানি সরবরাহের জন্য শীশার পাইপ ব্যবহৃত হইত । কর্ডোভাতে বসবাসকারী নাগরিকদের মধ্যে ছিল বিভিন্ন জাতির ও ধর্মের লোক । ৩৩ কর্ডোভা মসজিদের উত্তর দিকে এক সুদৃশ্য মীনার নির্মিত হয় । বর্গাকৃতির সুউচ্চ মিনারটি স্থাপত্য শিল্পের সর্বোকৃষ্ট নিদর্শন । খলিফা মসজিদের মিনার নির্মাণে এবং মসজিদের কারুকার্যে ২৬,৫৩০ দিনার ব্যয় করেন ।
টিকাঃ
২৯। ইবনে ইজারী, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২৪৬।
৩০। উপপত্নী ও স্নাত নারীদের প্রতি তাহাদের প্রভুদের হৃদয়ের আকর্ষণ সম্পর্কিত কুফী অক্ষরে লিখিত কিছু সমাধিস্তম্ভ কর্দোভায় আবিষ্কৃত হইয়াছে।
৩১। ১০১৩ খ্রীঃ ইহা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বর্তমানে স্পেনিশ সরকারের অধীন ইহা পুনরুদ্ধার প্রাপ্ত হইতেছে।
৩২। গুরুনে বাউম, মেডিয়াভ্যাল ইসলাম, পৃঃ ৫৭।
৩৩। রোমান স্লাভদের ন্যায় উমাইয়া স্লাভ ও খোঁজাগণ স্পেনে বিশেষ পদ লাভ করে এবং সরকারের উপর প্রভাব বিস্তার করে। তাহারা সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিল। সেনাবাহিনী হেরেম ও কৃষিক্ষেত্রে নিয়োজিত স্লাভদের উপর আমীর ও খলিফা একান্তভাবে নির্ভরশীল হইয়া পড়েন।