📄 খলিফা উপাধি গ্রহণ
সুন্নী মতে রাষ্ট্রের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রধান-যাহার অধীনে পবিত্র মক্কা, মদীনা ও বায়তুল মুকাদ্দাস থাকে তাহাকে খলিফা বলা হয় । মক্কা, মদীনা ও বায়তুল মুকাদ্দাস নগরী বাগদাদের আব্বাসী খলিফার অধিকারে ছিল । প্রথম আব্দুর রহমান নিজেকে স্বাধীন বলিয়া ঘোষণা করেন ও স্বীয় নামে খোতবা প্রচলন করেন । দশম শতাব্দীতে আব্বাসীয় খলিফাগণ তাঁহাদের রাজনৈতিক ক্ষমতাই শুধু হারান না বরং ধর্মীয় ও নৈতিক সমর্থনও তাঁহাদের হ্রাস পায় । এই সুযোগে মাহদীয়ার ফাতেমী শাসক ৯০৯ খ্রীঃ নিজেকে খলিফা বলিয়া ঘোষণা করেন । আবদুর রহমান নিজের ক্ষমতাকে সুসংহত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করিয়া ৩১৬ হিঃ/ ৯২৯ খ্রীঃ তিনি নিজেকে খলিফা বলিয়া ঘোষণা করেন । তিনি "আমীরুল মোমেনীন" ও "আল-নাসির লিদিন আল্লাহ" খেতাব ধারণ করেন । ১৫ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ফাতেমী ও বাইজান্টাইন শাসকদের সহিত প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যে তৃতীয় আবদুর রহমান স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন করেন ।
টিকাঃ
১৫। এইচ. কে. শেরওয়ানী, মুসলিম কলোনিস, পৃঃ ১৫৫-৫৭।
📄 বিদেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ
খলিফা দেশের অভ্যন্তরে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন এবং সাম্রাজ্যের গৌরব বৃদ্ধির সাথে সাথে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ ও দূর-দূরান্তের দেশ হইতেও রাষ্ট্রদূতগণকে সাদরে গ্রহণ করা হয় । কনস্টান্টিনোপলের সম্রাট এবং জার্মানী ও ফ্রান্সের রাজাগণ তাঁহার সহিত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন ও রাষ্ট্রদূত প্রেরণ করেন । ১৬ ৩৩৬ হিঃ/৯৪৭-৮ খ্রীস্টাব্দে গ্রীক সম্রাট কনস্টান্টাইন কর্তৃক প্রেরিত রাষ্ট্রদূতকে তৃতীয় আবদুর রহমান আল-জাহরা প্রাসাদের বিরাট কক্ষে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন । ১৭
বাইজান্টাইন দূতের বিনিময়ে তৃতীয় আবদুর রহমান হিশাম বিন ফুলাইব গাছিক্ককে কনস্টান্টিনোপলে দূত হিসাবে প্রেরণ করেন । জার্মানীর মহান অটো খলিফার সহিত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন । খলিফার রাষ্ট্রদূত রেছেমুণ্ড যিনি ল্যাটিন ও আরবী উভয় ভাষায় পারদর্শী ছিলেন, তিনি জার্মানের মহান অটোর দরবারে রাবি ইবনে জাইদ নামে পরিচিত ছিলেন । খলিফার প্রাসাদ চিকিৎসক হাসদাই ইবনে শাপরুতকে জার্মান ও বাইজান্টাইন রাষ্ট্রদূতদ্বয়ের পরিচর্যায় নিয়োগ করা হয় ।
টিকাঃ
১৬। হোল, আন্দালুস, পৃঃ ৯১।
১৭। ঐ. পৃঃ ৭০।
📄 কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন
উৎপাদিত শস্যের অংশদানের ভিত্তিতে চাষাবাদ করিবার ব্যবস্থা চালু ছিল । ১৮ ইবনে বাশকুয়ালের বর্ণনা অনুসারে, তৃতীয় আবদুর রহমান তাহার নিজস্ব ব্যবহারের জন্য সরকারী সম্পত্তির আয় হইতে বৎসরে ৭৫০,০০০ হাজার দিনার গ্রহণ করিতেন । ১৯ ইবনে হাওকাল বলেন, ফলমূল এত সস্তায় বিক্রয় হইত যে প্রায় বিনা মূল্যে পাওয়া যাইতো বলা যাইতে পারে । ২০ উন্নতমানের কৃষি শস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে ও উদ্যান পরিচর্যায় নতুন নতুন কলা-কৌশল প্রবর্তন করা হয় । তাঁহার সময়ে স্পেন অতি উচ্চ প্রযুক্তির চাষাবাদ ও সমৃদ্ধ উৎপাদনশীল উদ্যান সামগ্রীর নজির স্থাপন করে । চিড়িয়াখানা ও উদ্ভিদ-উদ্যানের জন্য স্পেন দশম খ্রীস্টাব্দে খ্যাতি অর্জন করে । উদ্ভিদ সংরক্ষণের প্রচেষ্টাও পুরাদমে চলে । খাদ্য-সামগ্রীর প্রাচুর্য ও স্বল্পমূল্য থাকার ফলে মুসলিম স্পেনের জনসংখ্যা ৩০,০০০,০০০ লক্ষ ২১ বৃদ্ধি পায় । কর্ডোভার শহরতলী ও মুরসিয়া উদ্ভিদ ও গাছপালার জন্য প্রবাদে পরিণত হয় ।
টিকাঃ
১৮। ক্রেমারস্, ইবনে হাওকাল, পৃঃ ১০৮।
১৯। ক্রেমারস্, ইবনে হাওকল, পৃঃ ১১৪।
২০। ম্যাককেব, পৃঃ ৬৩।
২১। ম্যাককেব, পৃঃ ৬৩; কেমব্রীজ মেডিয়াভ্যাল হিস্ট্রি, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৪৩২।
📄 শিল্পকারখানা
কৃষির সহিত সমানতালে শিল্প কারখানারও উন্নতি বিধান করা হয় । ২২ কর্ডোভা, সেভিল ও অন্যান্য শহরে বিশেষ ধরনের সিল্ক, সুতী ও পশমী কাপড় তৈয়ারির মিল এবং চামড়া ও বিভিন্ন প্রকারের ধাতুর কারখানা গড়িয়া ওঠে । কর্ডোভা ছিল শিল্পকারখানা ও বাণিজ্য নগরী । আল মেরিয়ার নিকটবর্তী পেচিনা বন্দর মারফত বিদেশী বিলাস সামগ্রী স্পেনে আসিত । ২৩ স্পেনে প্রস্তুত দিবাজ নামীয় সিল্কের কাপড় রং ও সৌন্দর্যে বিশ্ববিখ্যাত ছিল । স্পেনে তৈয়ারী সিল্কের জিন পৃথিবীর অন্যত্র তৈয়ারী জিন হইতে উন্নত মানের ছিল । স্পেনের ধাতু শিল্পীগণ তরবারী, বর্ম, প্রদীপ ও লৌহের দরজা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে বিখ্যাত ছিল । চামড়াজাত দ্রব্য সামগ্রীও বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করে ।
টিকাঃ
২২। ক্রেমারস্, ইবনে হাওকাল, পৃঃ ১১৬।
২৩। ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ৪৪৬-রাজা খুজারশের নিকট কাসদাইয়ের পত্র। কারমলি কর্তৃক দাস খুজারস্ এন জি, সোসাইটি, পৃঃ ৩৭ ও টীকা-১।