📄 আলহানদেগার যুদ্ধ
৩২৭ হিঃ/ ৯৩৮-৯ খ্রীঃ গ্যালেসিয়ান, লিওনিজ, ও বাস্কগণ পুনরায় বিদ্রোহ ঘোষণা করে । খলিফার নেতৃত্বে তাহাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয় । একলক্ষ সৈন্য লইয়া গঠিত এই বাহিনীতে সাকালিবাহ নামে পরিচিত স্নাভগণ অন্তর্ভুক্ত ছিল । আরবগণ একজন স্লাভ জেনারেল নাজদাহ এর অধীনে যুদ্ধ করিতে অপমান বোধ করে । বংশ গৌরবে গর্বিত আরবগণ স্লাভ জেনারেলের নেতৃত্বে জয়ের পরিবর্তে পরাজয়কে গৌরবের বলিয়া মনে করিত । খলিফা লিওনের দিকে অগ্রসর হন এবং রাজকীয় বাহিনী আধুনিক ভাল্লাডালকের দক্ষিণে অবস্থিত সিমানকাসে কয়েকদিন যুদ্ধের পর পলায়ন করিতে শুরু করে এবং জামোরার চতুর্দিকে অবস্থানরত মুসলিম সেনার পশ্চাদভাগে রামিরো কর্তৃক খননকৃত খন্দকে পতিত হইয়া তাহাদের অনেকেই প্রাণ হারায় । দুর্গ অবরুদ্ধ হয় ।
এই দুর্গকে রক্ষার জন্য ইহার চারিদিকে প্রাচীর নির্মাণ ও গভীর পরীখা খনন করা হয় । পরীখা পর্যন্ত পৌছাইবার পূর্বে মুসলিম বাহিনীকে গ্যালেসীয় ও বাস্কদের সম্মিলিত বাহিনীর সহিত যুদ্ধে লিপ্ত হইতে হয় । এখানেই আরবগণ স্লাভদিগকে পরিত্যাগ করিয়া প্রত্যাবর্তনের পথে সর্বশান্ত ও ধ্বংস হইয়া যায় । লিওনিজরা তাহাদের পশ্চাদ্ধাবন করে । ফলে অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী বিশৃঙ্খলভাবে পলায়ন করিতে শুরু করে । পরিত্যক্ত স্লাভগণ পরিখার অভ্যন্তরভাগে প্রবেশ করিয়া সাহসিকতার সহিত মুশলধারে বর্ষিত তীর ও বর্শার মধ্যে যুদ্ধ করে এবং পরিখা অতিক্রম করিয়া খ্রীস্টানদের উপর ঝাঁপাইয়া পড়ে, তাহাদের অনেককে হত্যা করে । এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় তুরমেস নদীর তীরে সালামানকার দক্ষিণে অবস্থিত আল খন্দক নামক গ্রামের নিকট । স্লাভগণ সাহসিকতার সহিত যুদ্ধ করা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয় । ঊনপঞ্চাশ জন সঙ্গীসহ খলিফা আত্মরক্ষা করিতে সক্ষম হন । তৃতীয় আবদুর রহমান ইহাতে চরম আঘাত পান । রামিরো সালামানকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় খ্রীস্টানদিগকে পুনর্বাসিত করেন এবং ক্যাস্টিলীয় বিদ্রোহীদের দমন করিতে আত্মনিয়োগ করেন । এইরূপে লিওন ও আস্তুরিয়ার রাজা দ্বিতীয় রামিরো কর্তৃক মুসলিম সেনাবাহিনী দেশের উত্তরাংশে অগ্রসর হইতে বাধা প্রাপ্ত হয় । গৃহযুদ্ধের জন্য খ্রীস্টানগণ এই বিজয়ের ফল ভোগ করতে পারে না । যদিও তাহারা খলিফাকে ত্যক্ত-বিরুক্ত করিয়া চলিয়াছিল । বাদাজোজের গভর্নর আহম্মদ ইবনে ইয়ালা ৯৪০ খ্রীঃ লিওনিজদের অগ্রগমনে বাধা দান করেন । গ্যালেসিয়ান ও বাস্কদের শায়েস্তা করিবার জন্য খলিফা অপর একদল সেনা প্রেরণ করেন । ৯৪৪ ও ৯৪৭ খ্রীস্টাব্দে রাজকীয় বাহিনী ক্যাস্টিলিয়ান অঞ্চলে লুণ্ঠনের জন্য সহসা আক্রমণ করেন । ৯৫০ খ্রীস্টাব্দে দ্বিতীয় রামিরোর মৃত্যুর পর তৃতীয় আবদুর রহমান দেশের উত্তরাঞ্চলে তাঁহার প্রভাব ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করেন । লিওনের রাজা নাভাররের রানী ক্যাস্টাইল ও বার্সিলানোর কাউন্টগণ তাঁহার সার্বভৌমত্ব স্বীকার করেন । তাহারা বাৎসরিক কর দিতে সম্মত হন এবং মুসলিম সীমান্তে অবস্থিত তাহাদের শক্তিশালী দুর্গ পরিত্যাগ ও হস্তান্তর করেন । ক্যাস্টিলের সহিত সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে ডুয়েরো নদীর তীরে মেদিনাত আল সালিম রাজধানী করিয়া খলিফা অপর আর একটি সীমান্ত প্রদেশ গঠন করেন । এখন হইতে ক্যাস্টিলের বিরুদ্ধে দুর্গপ্রাচীর নির্মাণের দায়িত্ব বর্তায় মুসলমানদের উপর ।
দ্বিতীয় রামিরোর পুত্র ও উত্তরাধিকারী তৃতীয় অর্ডোনোর ৯৫৫ খ্রীস্টাব্দে শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পূর্ব পর্যন্ত খ্রীস্টানদের বিরুদ্ধে অভিযান চলে । খ্রীস্টানদের পক্ষে সুবিধাজনক শর্তে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয় । ফাতেমীয়দের সহিত যুদ্ধের জন্য তৃতীয় আবদুর রহমান দেশের উত্তরাংশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন । আটলান্টিকের তীরে অবস্থিত লেরিদা হইতে এবরো নদীর উৎপত্তি স্থল পর্যন্ত প্রলম্বিত মুসলিম সীমান্তে তাহার শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ।
📄 সাঞ্চো ও তুতাহর (থিওডা) কর্ডোভা আগমন
৯৫৫ খ্রীস্টাব্দের আগস্ট মাসে তৃতীয় অর্ডোনোর মৃত্যুর পর তাহার উত্তরাধিকারী স্থুলাকায় সাঞ্চো তাহার ভ্রাতা কর্তৃক সম্পাদিত চুক্তিসমূহ মানিতে অস্বীকার করেন । ৯৫৪ খ্রীঃ টলেডোতে নিযুক্ত গভর্নর আহম্মদ ইবনে ইয়ালা ৯৫৭ খ্রীঃ লিওনিজদের চরমভাবে পরাজিত করেন । ১০ লিওনিজরা ক্যাস্টিল অধিপতি ফারনান গঞ্জালেজের সহযোগিতায় পরাজিত সাঞ্চোকে অনতিবিলম্বে বিতাড়িত করে এবং সাঞ্চোর পিতৃব্য পুত্র চতুর্থ অর্ডোনোকে তাহার স্থলে নেতা নির্বাচিত করেন । নাভাররের বৃদ্ধা রাণীর প্রতিনিধির সহিত সাঞ্চো পাম্পলোনায় আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং তাহার প্রতিদ্বন্দ্বী পিতৃব্য পুত্র চতুর্থ অর্ডোনোর বিরুদ্ধে আবদুর রহমানের সাহায্য প্রার্থনা করেন । আলোচনা চলাকালীনই খলিফা তাহার ইহুদী চিকিৎসক হাসডাই এবনে শাপরুটকে সাঞ্চোর অতিরিক্ত স্থূলতার চিকিৎসার জন্য নিয়োগ করেন । হাসডাই ছিলেন কর্ডোভার আমদানী রফতানী শুল্ক বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল । সাঞ্চো ও তাহার পিতামহী তুতাহ স্বয়ং কর্ডোভা আগমন করেন এবং রাজকীয় সামরিক সাহায্যের বিনময়ে দশটি দুর্গ হস্তান্তরের অঙ্গীকার করেন । রাজকীয় বাহিনী সাঞ্চোর পক্ষে ৯৫৯ খ্রীঃ জামোরা ও পরবর্তী বৎসর অভিয়েডো দখল করেন । চতুর্থ অর্ডোনো বোরগোসে পলায়ন করেন ও ফার্ডিনান্ড ফারনান গঞ্জালেজ বন্দী হন । ৯৬০ খ্রীস্টাব্দের দিকে সাঞ্চো পুনরায় লিওন গ্যালেসিয়া ও নাভাররেতে আধিপত্য বিস্তার করেন সত্য কিন্তু খলিফার আধিপত্য স্বীকার করিয়া নেন । উমাইয়া শাসনের ধ্বংস সাধন ও মুসলিম সভ্যতার মূল উৎপাটনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত খ্রীস্টান আক্রমণকে প্রতিহত করা হয় । এক কথায় মুসলিম সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণ শেষ সীমায় পৌছে ও আইবেরিয় উপদ্বীপের বিজয় অভিযান সমাপ্ত হয় । এইরূপে সাম্রাজ্য বিস্তারের কার্য দশম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত চলে ।
টিকাঃ
১০। ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ৪২৭ ও ৪২৯।
📄 ফাতেমীয়দের সহিত যুদ্ধ
দেশের উত্তর অঞ্চলে যখন অভিযান চলিতেছিল সেই সময় তৃতীয় আবদুর রহমানকে উত্তর আফ্রিকার ফাতেমীয়দের মোকাবেলা করিতে হয় । ফাতেমীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ফলে স্পেন বিপদের সম্মুখীন হয় । ফাতেমীয়দের সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করিবার উদ্দেশ্যে ও মৌরিতানিয়াতে তাহাদের সাম্রাজ্য বিস্তারে বাঁধা প্রদানের জন্য তিনি দক্ষিণ উপকূলে দুর্গ নির্মাণ করেন এবং শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়িয়া তোলেন এবং পশ্চিম আফ্রিকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রসমূহকে বিদ্রোহে ইন্ধন যোগায় ।
ফাতেমীয় সামাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ওবায়দুল্লাহ আল মাহদী ওমর ইবনে হাফসুনের সহিত মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলেন । তিনি গোপনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য স্পেনে গুপ্তচর প্রেরণ করেন । সেভিলের বানু ইসহাক গোত্রের নেতা আহমদ ফাতেমীদের সমর্থনে স্পেনের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করে । ১১ মাহদীকে উত্তর আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তার করিতে দিলে স্পেনে তিনি বিপদাপন্ন হইবেন ভাবিয়া আবদুর রহমান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন । ৩১৯ হিঃ/ ৯৩১ খ্রীঃ সিউটা আধিকার করিয়া সেখানে প্রতিরক্ষা বাহিনী নিয়োগ করেন এবং আহমদ বিন মোহাম্মদ বিন ইলিয়াস ও ইউনুস বিন সাঈদ নামে দুইজন সেনাপতির অধীনে জিব্রাল্টায় নৌবাহিনী মোতায়েন করেন । আবদুর রহমান তাহার অনুগত প্রজাদের সাহায্যে উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা অধিকার করেন । আলজিরিয়া এবং ওরয়ানের বার্বারগণ তাহার আধিপত্য স্বীকার করিয়া নেয় । নুকুরের ক্ষুদ্র আরব শাসকসহ স্থানীয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যসমূহ যাহারা ফাতেমীদের আক্রমণ হইতে আত্মরক্ষা করিতেছিল, তাহাদিগকে তাহার সমর্থনে সমবেত করিতে সক্ষম হন । মাগরাওয়ার সাহায্যে উমাইয়া খলিফা তাহিরাত ব্যতীত মৌরিতানিয়ার সমগ্র ভূখণ্ড অধিকার করেন । পরে তৃতীয় আবদুর রহমান উত্তর স্পেনের খ্রীস্টানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত থাকাকালে ৯৫২ খ্রীঃ চতুর্থ ফাতেমী শাসক আল মুইজ সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং স্পেনীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদিগকে উত্তর আফ্রিকা হইতে বিতাড়িত করেন ।
তিনি আলেকজান্দ্রিয়া যাইবার পথে আবদুর রহমানের বাণিজ্যপোত, মাহদীয়ায় গমনকারী একটি সিসিলিয় বাণিজ্যজাহাজের গতিরোধ করে । মুইজ সিসিলির গভর্নরকে আন্দালুসীয়ার উপকূলভাগ আক্রমণ করিবার আদেশ করেন । এবং গভর্নর আদেশ পালন করেন । তিনি আলমেরিয়া বিধ্বস্ত করিয়া কিছু সংখ্যক বন্দী লইয়া সিসিলি প্রত্যাবর্তন করেন । আবদুর রহমান তাহার প্রতিনিধি এডমিরাল গালিবকে উত্তর আফ্রিকার উপকূল ভাগে লুণ্ঠন ও ধ্বংসাত্মক কার্য পরিচালনার জন্য প্রেরণ করেন । আহমদ বিন ইয়ালার নেতৃত্বাধীনে অপর একটি অভিযানে প্রেরিত হয় । এই অভিযানে উত্তর আফ্রিকার উপকূলের অন্তর্গত কালাব্রিয়ার নিকট অবস্থিত মারছা আল-খারাজ-এ অগ্নি সংযোগ এবং সুসা ও তাবারকাহ পল্লীসমূহের ধ্বংস সাধন করা হয় । ৯৫৯ খ্রীঃ ফাতেমী সেনাপতি জাওহারের আক্রমণের পর আফ্রিকায় তৃতীয় আবদুর রহমানের অধিকারে শুধু তাঞ্জিয়ার ও সিউটা অবশিষ্ট থাকে ।
টিকাঃ
১১। গায়ানগোস, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১৪৬।
📄 কৃতিত্ব ও অবদান
তৃতীয় আবদুর রহমানের দীর্ঘ রাজত্বকাল মুসলিম স্পেনের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় । স্পেনের উমাইয়া শাসকের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক । তাঁহার দীর্ঘদিনের সফল শাসনে দেশ এবং জাতির উন্নতি সাধিত হয় । আরব ও বার্বার অভিজাত সম্প্রদায়ের ক্ষমতা খর্ব করা হয় এবং দেশ ও নগরসমূহে সুদক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা কায়েম করেন । ১২ চুক্তির শর্তসমূহ নিষ্ঠার সহিত পালন করা হয় । ১৩
বার্বার খ্রীস্টান এবং স্লাভদের সমন্বয়ে গঠিত ১৩,৭৫০ জন নিয়মিত সৈন্য বাহিনীকে আবদুর রহমান ভরণপোষণ করিতেন । খলিফা প্রশাসন ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষার্থে স্লাভ ও মুক্তব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করিয়াছিলেন । বদর ইবনে আহমদ ৯২১ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত তৃতীয় আবদুর রহমানের দক্ষিণ হস্ত ছিলেন । তৃতীয় আবদুর রহমান পূর্ববর্তী শাসকদের নির্ধারিত সমস্ত বেআইনী কর মওকুফ করেন । সেনাবাহিনী ও পণ্য সামগ্রীর দ্রুত গমনাগমনের জন্য আবদুর রহমান পুরাতন রাস্তাগুলিকে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাই করেন না বরং দেশের সর্বত্র নতুন নতুন রাস্তাও নির্মাণ করেন । পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য রাজপথের মাঝে মাঝে চকিদারের ব্যবস্থা ছিল । সরকারি গৃহ নির্মাণ ও মেরামতে প্রচুর টাকা ব্যয় হইত । ১৪ দেশের সর্বত্র পয়ঃপ্রণালী, সেতু ও দুর্গ নির্মিত হয় । সর্বসাধারণের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, পথিকের জন্য বিশ্রামাগার ও এতিমদের জন্য এতিমখানা নির্মিত হয় । এইরূপে স্পেন পশ্চিম ইউরোপে সভ্যতার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয় ।
টিকাঃ
১২। এস. এম. ইমামউদ্দিন, সাম অ্যাস্পেক্টস অব দ্যা সোশিও ইকনোমিক এ্যান্ড কালচারাল হিস্ট্রি অব মুসলিম স্পেন, লেডেন, ১৯৬৫, পৃঃ ৫৪।
১৩। ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ৪৪৫।
১৪। ইবনে ইজারী, বাইয়ান, পৃঃ ২১২/৩২৭; লেভি প্রভেঙ্কাল, লা ইস্পানা, পৃঃ ৪৫-৪৭. ও লাজাসিওন, পৃঃ ৩৩-৩৪।