📄 তুদমিরের গুরুত্ব হ্রাস
দেশের দক্ষিণাংশে অধিকার প্রতিষ্ঠার পর আবদুর রহমান স্পেনের অন্যান্য অংশের প্রতি দৃষ্টি দেন । আহম্মদ বিন ইসহাকের নেতৃত্বে ৯২৮ খ্রীঃ রাজকীয় বাহিনী আলিকান্তের নেতা আরব শায়েখ আসলামীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে । তাহাকে বন্দী হিসাবে তাহার পরিবারের সদস্যদের সহিত কর্ডোভাতে আনা হয় । মেরিদা সান্তাব্রেরীয়া এবং বেজাও একই বৎসর আত্মসমর্পণ করে । আল গারভ প্রদেশের অন্তর্গত অক্সোনোবার নবমুসলিম নেতা খালাফ ইবনে বকর পরে আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য হন ।
📄 টলেডোর আত্মসমর্পণ
লোয়ার মার্চে বাদাজোজের শাসক ইবনে মারওয়ানের উত্তরাধিকারী কঠিন প্রতিরোধ গড়িয়া তোলেন এবং ৯৩০ খ্রীঃ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করেন নাই । টলেডো যদিও দীর্ঘ দিন ধরিয়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করিয়া আসিতেছিল, কিন্তু দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হয় । কারণ খলিফার নেতৃত্বাধীনে রাজকীয় বাহিনী দুই বৎসর কাল ইহা অবরোধ করিয়া রাখে । দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্যে খাদ্যশস্য গুদামজাত করা হয় এবং টলেডোবাসীদিগকে রেশনে পানি সরবরাহ করা হয় । অপর দিকে দীর্ঘদিন অবরোধ করিয়া রাখিবার জন্য তৃতীয় আবদুর রহমান টলেডোর পার্শ্ববর্তী এলাকায় পাহাড়ের উপরে আল-ফাতাহ নামে একটি নতুন শহর গড়িয়া তোলেন । লিওনের রাজা অর্ডোন ও জিল্লিকীয়ার খ্রীস্টান রাজা দ্বিতীয় রামিরো টলেডোর সাহায্যার্থে আগাইয়া আসেন । কিন্তু ৩২০ হিঃ/ ৯৩২ খ্রীঃ পরাজিত হন । মিডল মার্চের বিদ্রোহীদের জন্য টলেডো ছিল শক্তিশালী ঘাঁটি ।
আপার মার্চের তুজুবিদগণ শুরুতে আনুগত্যের ইচ্ছা প্রকাশ করেন । সারাগোসার লর্ড ৯৩৭ খ্রীঃ লিওনের খ্রীস্টান শাসকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন । অবরোধ করা হইলে বাধ্য হইয়া সারাগোসা আত্মসমর্পণ করে । এইরূপে আরব, বার্বার ও স্পেনীয়গণ পরাজিত হইয়া স্বেচ্ছাচারী সরকারের নিকট আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য হয় । চাতুর্য, দয়াহীন কঠোরতা এবং অদম্য মনোবল সুদৃঢ় প্রত্যয় ও ঐকান্তিক নিষ্ঠার কারণে খলিফা মুসলিম স্পেনে সার্বিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করিতে সক্ষম হন এবং তাঁহার বহুশত্রু কর্তৃক তিনি প্রশংসিত ও সম্মানিত হন ।
📄 বৈদেশিক নীতি
অভ্যন্তরীণ শান্তি প্রতিষ্ঠার পর তৃতীয় আবদুর রহমান শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন । দুইটি উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করিয়া তাঁহার পররাষ্ট্রনীতি গৃহীত হয় । দেশের উত্তরাংশের খ্রীস্টান নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও সেখানে তাহার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা । দ্বিতীয়ত উত্তর আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরে ফাতেমীয়দের প্রভাব ও প্রতিপত্তির বিরোধীতা করা ।
📄 দেশের উত্তরাংশে খ্রীস্টান আক্রমণ
প্রথম আলফন্সোর সময় হইতে খ্রীস্টান যুবরাজগণ স্পেনের মুসলিম অধ্যুসিত এলাকায় বিশেষ অগ্রসর হইতে পারে নাই । আবদুল্লাহর শাসন আমলে কতিপয় বিদ্রোহের দরুন দেশ দুর্বল হইয়া পড়ে । কিন্তু দেশের উত্তরাংশে অবস্থিত খ্রীস্টান নেতাগণ এই সুযোগ গ্রহণ করা হইতে বিরত থাকেন । উপরোন্তু তাঁহারা মুসলমানদের সম্মুখে বাঁধা স্বরূপ সীমান্তে অবস্থিত কয়েকটি দুর্গ অধিকার করিতে সমর্থ হন । খলিফা শুধু অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহই দমন করেন নাই বরং বাহিরের শত্রুকেও মুকাবিলা করেন । দেশের উত্তরাংশে খ্রীস্টানগণ যথা- বাস্ক, আরাগণ ও ক্যাস্টিলিয়ানগণ অপরাজিত থাকিয়া যায় । তাহারা ছিল ধর্মোন্মত্ত অসহিষ্ণু এবং মুসলিম স্পেনের সভ্যতার ধ্বংস সাধনকারী । ৯১৪ খ্রীঃ লিওনের অধিবাসীগণ অর্ডোনোর নেতৃত্বাধীনে মেরিদা প্রদেশের ক্ষতি সাধন করে । তাহারা ছিল মুসলমানদের চিরশত্রু । যখনই তাহারা কোন মুসলিম শহরকে দখল করিত তখনই শহরের অধিবাসীদের হত্যা করিত । তাহারা আলাঞ্জের অধিবাসীদের উপর চরম অত্যাচার করে এবং তালাভেরার শহরতলীকে ভস্মীভূত করে । কিন্তু সেই সময়কার খ্রীস্টান শাসকগণ তাহাদের পূর্ববর্তীদের তুলনায় দুর্বল ছিল । কারণ কারোলিঞ্জিয়ান সাম্রাজ্যের পতনের পর তাহারা স্পেনের বাহির হইতে কোন প্রকার সামরিক সাহায্য হইতে বঞ্চিত হয় ।
গৃহে শান্তি প্রতিষ্ঠার পর আবদুর রহমান দেশের উত্তরাংশে বসবাসকারী মুসলিম প্রজাদের রক্ষার্থে খ্রীস্টানদের কঠোর শাস্তি বিধানের জন্য আবি আবদাহর পুত্র আহম্মাদকে ৯১৬ এবং পুনরায় ৯১৭ খ্রীঃ প্রেরণ করেন । দ্বিতীয়বার যখন আহাম্মদ কাষ্ট্রো মারোসের শক্তিশালী দুর্গকে প্রচণ্ডভাবে আক্রমণের প্রস্তুতি লইতেছিলেন সেই সময় লিওনের দ্বিতীয় অর্ডোনো তাঁহার সাহায্যার্থে অগ্রসর হন । আহাম্মদের আধা বার্বার ও আধা স্পেনীয় সেনাবাহিনী লিওনীদের প্রচণ্ড আক্রমণ প্রতিহত করিতে ব্যর্থ হয় । মুসলিম সেনাপতি নিহত হন এবং সৈন্যগণ বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়ে । ৯১৮ খ্রীস্টাব্দে তাঁহার মিত্র নাভাররের সাঞ্চোর সহযোগিতায় অর্ডোনো তুদেলা, নাজেরা, ও ভালতিয়েরার ধ্বংস সাধন করেন ।