📄 এসিজা, জায়েন ও এলভিরা প্রদেশের পতন
৯২৩ খ্রীস্টাব্দের এপ্রিল মাসে তৃতীয় আবদুর রহমান স্বয়ং উত্তরের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৈন্য পরিচালনা করেন । সফলতা ও বিফলতায় সৈন্যদের সহিত তাহার অংশ গ্রহণ সৈন্যদিগকে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করে । তাহাদের নৈতিক বল বৃদ্ধি পায় এবং প্রথম আক্রমণে এচিজা দুর্গ অধিকৃত ও ধূলিসাৎ হয় । দ্বিতীয় অভিযানে জায়েন এবং এলভিরার সরবরাহ বন্ধ হইয়া যায় । জায়েন প্রদেশের অন্তর্গত মন্টেলিওনের শক্তিশালী দুর্গ অবরোধ করিলে ইহার নেতা স্যামুয়েলের অন্তরঙ্গ বন্ধু সাইদ ইবনে হুজায়েল আত্মসমর্পণ করেন । কাজলোমার নেতা ইবনে আল শালিয়াহ, মেন্তেসার নেতা ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আত্মসমর্পণ করেন । পরে আবদুর রহমান এলভিরা প্রদেশের দিকে অগ্রসর হন এবং ফিনানাহ যাবার পথে কোনরূপ বাঁধার সম্মুখীন হন না, ফিনানাহ ওমর ইবনে হাফসুনের ভক্তদের দখলে ছিল । স্বল্প সময়ে উহার পতন ঘটে কিন্তু অচিরেই কঠিন বাঁধার সম্মুখীন হইতে হয় । জনসাধারণের জন্য পুরাপুরি ক্ষমা প্রদর্শন করা হয় । পরবর্তীকালে এলভিরা প্রদেশের বানু মুহাল্লাব গোত্রের বার্বারগণ আত্মসমর্পণ করে । জায়েন এবং এলভিরা প্রদেশের সীমান্তে অবস্থিত শক্তিশালী দুর্গ মন্টেরুবিও দখলে আসে এবং খ্রীস্টান দস্যুদের শক্তি খর্ব করা হয় । শক্তিশালী দুর্গসমূহের পতন ঘটে । দস্যু কবলিত সমস্ত এলাকা দখলে আসে এবং শান্তি স্থাপিত হয় । মন্টেরুবিওর পতনের পর পার্শ্ববর্তী এলাকার শহর ও দুর্গের নেতাগণ আবদুর রহমানের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করিয়া নেন । খ্রীস্টান দুর্গ জুভাইলস সহ অন্যান্য বহু গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ যেমন সালোব্রেনা, সানষ্টেভান, ডে গোরমাজ এবং বেনা ফোরাতা দখলে আসে । রাষ্ট্রের পরম শত্রুদের চরম শাস্তি বিধান করা হয় কিন্তু অন্যান্যদের মুক্তি প্রদান করা হয় । অভিজ্ঞ ও অনুগত সৈনিক কর্মকর্তাদের রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হয় ।
📄 তুদমিরের গুরুত্ব হ্রাস
দেশের দক্ষিণাংশে অধিকার প্রতিষ্ঠার পর আবদুর রহমান স্পেনের অন্যান্য অংশের প্রতি দৃষ্টি দেন । আহম্মদ বিন ইসহাকের নেতৃত্বে ৯২৮ খ্রীঃ রাজকীয় বাহিনী আলিকান্তের নেতা আরব শায়েখ আসলামীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে । তাহাকে বন্দী হিসাবে তাহার পরিবারের সদস্যদের সহিত কর্ডোভাতে আনা হয় । মেরিদা সান্তাব্রেরীয়া এবং বেজাও একই বৎসর আত্মসমর্পণ করে । আল গারভ প্রদেশের অন্তর্গত অক্সোনোবার নবমুসলিম নেতা খালাফ ইবনে বকর পরে আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য হন ।
📄 টলেডোর আত্মসমর্পণ
লোয়ার মার্চে বাদাজোজের শাসক ইবনে মারওয়ানের উত্তরাধিকারী কঠিন প্রতিরোধ গড়িয়া তোলেন এবং ৯৩০ খ্রীঃ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করেন নাই । টলেডো যদিও দীর্ঘ দিন ধরিয়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করিয়া আসিতেছিল, কিন্তু দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হয় । কারণ খলিফার নেতৃত্বাধীনে রাজকীয় বাহিনী দুই বৎসর কাল ইহা অবরোধ করিয়া রাখে । দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্যে খাদ্যশস্য গুদামজাত করা হয় এবং টলেডোবাসীদিগকে রেশনে পানি সরবরাহ করা হয় । অপর দিকে দীর্ঘদিন অবরোধ করিয়া রাখিবার জন্য তৃতীয় আবদুর রহমান টলেডোর পার্শ্ববর্তী এলাকায় পাহাড়ের উপরে আল-ফাতাহ নামে একটি নতুন শহর গড়িয়া তোলেন । লিওনের রাজা অর্ডোন ও জিল্লিকীয়ার খ্রীস্টান রাজা দ্বিতীয় রামিরো টলেডোর সাহায্যার্থে আগাইয়া আসেন । কিন্তু ৩২০ হিঃ/ ৯৩২ খ্রীঃ পরাজিত হন । মিডল মার্চের বিদ্রোহীদের জন্য টলেডো ছিল শক্তিশালী ঘাঁটি ।
আপার মার্চের তুজুবিদগণ শুরুতে আনুগত্যের ইচ্ছা প্রকাশ করেন । সারাগোসার লর্ড ৯৩৭ খ্রীঃ লিওনের খ্রীস্টান শাসকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন । অবরোধ করা হইলে বাধ্য হইয়া সারাগোসা আত্মসমর্পণ করে । এইরূপে আরব, বার্বার ও স্পেনীয়গণ পরাজিত হইয়া স্বেচ্ছাচারী সরকারের নিকট আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য হয় । চাতুর্য, দয়াহীন কঠোরতা এবং অদম্য মনোবল সুদৃঢ় প্রত্যয় ও ঐকান্তিক নিষ্ঠার কারণে খলিফা মুসলিম স্পেনে সার্বিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করিতে সক্ষম হন এবং তাঁহার বহুশত্রু কর্তৃক তিনি প্রশংসিত ও সম্মানিত হন ।
📄 বৈদেশিক নীতি
অভ্যন্তরীণ শান্তি প্রতিষ্ঠার পর তৃতীয় আবদুর রহমান শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন । দুইটি উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করিয়া তাঁহার পররাষ্ট্রনীতি গৃহীত হয় । দেশের উত্তরাংশের খ্রীস্টান নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও সেখানে তাহার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা । দ্বিতীয়ত উত্তর আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরে ফাতেমীয়দের প্রভাব ও প্রতিপত্তির বিরোধীতা করা ।