📄 তৃতীয় আবদুর রহমান আল নাসির : সিংহাসনে আরোহণ
৯১২ খ্রীস্টাব্দে ২২ বৎসর বয়সে তৃতীয় আবদুর রহমান তাঁহার পিতামহ আবদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হন । পিতা মুহাম্মদ ও পিতৃব্য মুজাফফরকে সিংহাসন হইতে বঞ্চিত করিয়া তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেন । ওমর ইবনে হাফসুন ও অন্যান্য বিদ্রোহীদের সহিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় সিংহাসনের প্রকৃত উত্তরাধিকারী আবদুর রহমানের পিতা মুহাম্মদ কর্ডোভার কারাগারে বন্দী ছিলেন এবং আবদুল্লাহর ভ্রাতা মুতরিদ কর্তৃক বিষ প্রয়োগে নিহত হন । মুহাম্মদের পুত্র তৃতীয় আবদুর রহমান আমীর কর্তৃক উত্তরাধিকারী নিযুক্ত হওয়ায় সাধারণ জনগণ প্রশংসা করেন । ১ রাজসভাসদ ও জনগণ নতুন শাসকের মহানুভবতা ও যোগ্যতা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ ছিলেন । ফলে দেশের কোথায়ও বিরোধিতা দেখা দেয় নাই ।
আবদুর রহমান যখন সিংহাসনে আরোহণ করেন তখন অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক গোলযোগে দেশ পরিপূর্ণ ছিল । লিওনের খ্রীস্টান ও তিউনিসিয়ার ফাতেমীয়গণ ছিল তাঁহার শক্তিশালী শত্রু । আবদুর রহমান তাঁহার গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও চরিত্রবলে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও বৈদেশিক বৈরিতাকে দমন করিয়া আল আন্দালুসকে সুখ্যাতির চরম শিখরে লইয়া যান । প্রথম আবদুর রহমান ও তাঁহার পুত্র আবদুল্লাহর অনুসৃত নীতির বৈপরীত্য সরকারকে দুর্বল করিয়া ফেলে । ক্ষমতালোভী গভর্নরগণ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং জনগণকে পরস্পরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেন । দস্যুগণ পার্বত্য অঞ্চল হইতে আসিয়া দেশ লুণ্ঠন করিত । রাজক্ষমতা শুধু রাজধানীতেই কেন্দ্রীভূত হইয়া পড়ে । কৃষি উৎপাদন হ্রাস পায়, কলকারখানার উৎপাদন ব্যহত হয় এবং ব্যবসায় বাণিজ্যের অস্তিত্ব বিপন্ন হইয়া পড়ে । ২৯৭ হিঃ/ ৯০৯-১০ খ্রীস্টাব্দে জায়েনে ভীষণ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় । দুর্ভিক্ষ প্রপীড়িত জনগণ জীবন রক্ষার্থে উত্তর আফ্রিকায় পলাইয়া যায় । এই দুঃসময়ে তৃতীয় আবদুর রহমান দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন ।
তিনি তাঁহার পিতামহের গৃহীত অস্থায়ী নীতিকে পরিত্যাগ করেন । তিনি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অবলম্বন করেন । তাঁহার ক্ষমতাকে সুসংহত করিয়া তোলবার উদ্দেশ্যে বিদ্রোহীদের মূল উৎপাটন করেন । আরব অভিজাত শ্রেণীর ক্ষমতা ও প্রভাবকে খর্ব করেন এবং মুসলিম স্পেনের উত্তর ও দক্ষিণের সীমান্তকে সংরক্ষণ করেন ।
তিনি তাহার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন । তিনি দৃঢ়তার সহিত ঘোষণা করেন যে শত্রুদের কর হইতে তাহাদের দুর্গ ও সুরক্ষিত স্থানসমূহ বেশি মূল্যবান । মনে হইয়াছিল, গোত্রীয় নেতাগণ তাহার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হইতে পারে । কিন্তু ইহা বাস্তবে সম্ভব হয় নাই । ক্রমে ক্রমে দেশের পরিবর্তন সাধিত হয় । আরব অভিজাত শ্রেণী সাইদ ইবনে জুদি, কুরাইব ইবনে খালদুন ও ইব্রাহিম ইবনে হাজ্জাজ সহ তাহাদের বহু নেতাকে হারান । ইবনে হাফসুনের ন্যায় বহু বিদ্রোহী তাঁহার সময় জীবিত ছিল কিন্তু অতি বৃদ্ধ হইয়া পড়ায় তাহারা কোন প্রকার কার্যকরী বিরোধিতা করিতে পারেন নাই । জনগণ গৃহযুদ্ধ ও অরাজকতায় অতিষ্ঠ হইয়া বিদ্রোহী নেতাদের সমর্থন দানে বিরত থাকে এবং শান্তির জন্য উদগ্রীব হইয়া ওঠে । আবদুর রহমান সেই আকাঙ্ক্ষিত শান্তির কথা দৃঢ়তার সহিত ঘোষণা করেন ।
নতুন শাসক হৃত প্রদেশগুলিকে পুনরুদ্ধার করেন এবং চতুর্দিকে তাহার বিজয় কেতন উড়িতে থাকে । তৃতীয় আবদুর রহমান সৈনিকদের সহিত যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত থাকিতেন ফলে সৈনিকদের মনোবল বৃদ্ধি পাইত ও তাহারা সাহসিকতার সহিত যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করিত ।
টিকাঃ
১। রাফায়েল আলতামিরা, দ্যা ওয়েস্টার্ন খেলাফত ইন দ্যা কেমব্রীজ মেডিয়াভ্যাল হিস্ট্রি, ৩য় খণ্ড, কেমব্রীজ, ১৯২২, পৃঃ ৪২০।
📄 সেভিলের বানু হাজ্জাজদের আত্মসমর্পণ
গৃহযুদ্ধ সেভিলের বানু হাজ্জাজের ক্ষমতাকে খর্ব করিয়া দিয়াছিল । আবদুর রহমান ও তাহার ভ্রাতা মুহাম্মদ সেভিল এবং কারমোনায় যথাক্রমে তাহাদের পিতা ইব্রাহিম ইবনে হাজ্জাজের স্থলাভিষিক্ত হন । ৯১৩ খ্রীস্টাব্দে আবদুর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁহার কনিষ্ঠ ভ্রাতা মুহাম্মদ সেভিল দখলের চেষ্টা করেন কিন্তু তাহার পিতৃব্যপুত্র আহম্মদ ইবনে মুসলিমাহ তদস্থলে নেতা নির্বাচিত হন । মুহাম্মদ কর্ডোভায় পলাইয়া যান এবং আহম্মদ ইবনে মুসলিমাহর বিরুদ্ধে সাহায্য প্রার্থনা করেন । তিনি সেনা বিভাগে সেচ্ছাসেবক হিসাবে যোগদান করেন । সেভিল অবরোধ করা হয় । নিঃসহায় আহম্মদ ইবনে মুসলিমাহ ওমর ইবনে হাফসুনের সহযোগিতায় গোয়াদালকুইভির নদীর দক্ষিণ তীরে রাজকীয় বাহিনীর মুকাবিলা করেন এবং সম্পর্ণরূপে পরাজিত হন । অতঃপর আহম্মদ বিন মুসলিমাহ তৃতীয় আবদুর রহমানের প্রধান মন্ত্রী বদরের সহিত যোগাযোগ করিয়া ৯১৩ খ্রীস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে সম্মানজনক শর্তে আত্মসমর্পণ করেন । মুহাম্মদ হতাশ হইয়া কারমোনা পলাইয়া যান । আমীরের দূত কাসিম বিন ওয়ালিদ আত্মসমর্পণ করাইবার উদ্দেশ্যে তাহার পশ্চাদ্ধাবন করেন । ৯১৪ খ্রীস্টাব্দের এপ্রিল মাসে তৃতীয় আবদুর রহমান তাঁহাকে হাজীব কবির বা "শ্রেষ্ঠ উজিরে আজম" উপাধি দান করিয়া সম্মানিত করেন । এইরূপে কারমোনা তাহার অধিকারে আসে ।
📄 ওমর ইবনে হাফসুনের সহিত যুদ্ধ
৯১৩ খ্রীস্টাব্দের শেষ পর্যায়ে সেভিলের আরব শাসক পরিবারের জায়গা দখল করে একজন বিশ্বস্ত গভর্নর । ইহাতে ইবনে হাফসুন বেশ দুর্বল হইয়া পড়ে । দক্ষিণ স্পেনের খ্রীস্টানগণ এবং অন্যান্য যাহারা মুসলমান শাসনের বিরোধী ছিল ওমর ইবনে হাফসুন তাহাদের নিকট স্বাধিকার ও স্বাধীনতার বীরপুরুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন । দক্ষিণ স্পেনের অধিকাংশ নবমুসলিম ও খ্রীস্টান অধিবাসী তাহার চতুষ্পার্শ্বে সমবেত হয় । ইতিমধ্যে তৃতীয় আবদুর রহমান সিংহাসনে আরোহণ করেন । তাহারা আমীরের শাসন পদ্ধতিকে সমর্থন করে । কারণ নতুন আমীর শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আগ্রহী ছিলেন । যাহা পূর্বেকার আমীরগণ যথা—প্রথম মুহাম্মদ, মুনজির ও আবদুল্লার শাসন আমলে প্রতিষ্ঠিত হয় নাই । দীর্ঘকালের গৃহযুদ্ধ ও অরাজকতায় জনগণ অতিষ্ঠ হইয়া উঠিয়াছিল । তাহারা শান্তির জন্য ছিল উদগ্রীব । অপর দিকে ওমর স্পেনের গভর্নর নিযুক্ত হইবার জন্য আব্বাসীয়দের সঙ্গে যোগযোগ স্থাপন করেন কিন্তু তাঁহার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয় । ওমর ইবনে হাফসুন নিজে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য ফাতেমীয় খলিফা ওবায়দুল্লাহ আল শিয়াইর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করিয়া নেন । কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হয় না । ৬ রেজিত্তর পর্বত্য অঞ্চল হইতে সৈন্য সংগ্রহের সংখ্যা কম হওয়ায় ওমর ইবনে হাফসুন বার্বার অর্থলোভীদের তাঁহার সেনা বিভাগে বেতনভুক সৈন্য হিসাবে ভর্তি করেন । বার্বারগণ ছিল খুবই লোভী ও ভীরু । যদিও এই বিরোধ জাতীয় চরিত্র হারাইয়া ফেলে এবং ধর্মীয় রূপ ধারণ করে । ইবনে ইজারীর মতে, ওমর তাঁহার শক্তিশালী মিত্র ইবনে মাস্তানাহ ৮৯৯ খ্রীস্টাব্দে খ্রীস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন । এ সম্পর্কে পূর্বে আংশিক আলোচনা করা হইয়াছে । খ্রীস্টান ধর্ম গ্রহণের পর তিনি বহু গীর্জা নির্মাণ করেন । নব মুসলিমদের তুলনায় ধর্মত্যাগের পর ওমর ইবনে হাফসুন স্যামুয়েল নাম গ্রহণ করেন । ফলে তাহার সমর্থকদের মধ্যে জাতিগত বিরোধ মাথাচাড়া দিয়া ওঠে । ভূমিদাস ও দাসদের বংশধরগণ গথিক শাসকদের দুর্ব্যবহারের কথা স্মরণ করিয়া পুনরায় খ্রীস্টান ধর্মের প্রভাবকে সহজে গ্রহণ করিতে পারে নাই । কারণ তাহাদের সন্দেহ হয় যে মুসলমান শাসন আমলে তাহারা যে সমস্ত সুযোগ সুবিধা ভোগ করিত তাহা হইতে বঞ্চিত হইবে । স্যামুয়েলের দাবী অগ্রাহ্য করিয়া তাহারা তাহার বিরুদ্ধে চলিয়া যায় । স্যামুয়েল এখন শুধু খ্রীস্টান সমর্থক ও আফ্রিকান বেতনভুক্ত সৈনিকদের উপর আস্থা স্থাপন করিলেন । খ্রীস্টান এবং মুসলমান একে অপরকে সন্দেহ ও অবজ্ঞার চোখে দেখিতে শুরু করে ।
স্যামুয়েলের খ্রীস্টান ধর্ম গ্রহণের এক বৎসর পূর্বে নব মুসলিমদের নেতা ইবনে আল শালিয়াহ জায়েন প্রদেশের শক্তিশালী দুর্গ কাজলোনা পুনরায় দখল করেন । ইবনে শালিয়াহ দুর্গরক্ষাকারী সমস্ত খ্রীস্টান সৈনিককে অস্ত্রের মুখে আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য করেন । স্যামুয়েলের কিছু সংখ্যক সমর্থক বিশেষ করিয়া নব মুসলিমগণ যাহারা যুদ্ধ বিগ্রহের দরুন এবং নেতাদের দ্বিধাদ্বন্দময় নীতির ফলে পরিশ্রান্ত ও বিরক্ত হইয়া উঠিয়াছিল তাহারা সুশাসক ও সহিষ্ণু তৃতীয় আবদুর রহমানের পক্ষ অবলম্বন করে । গোয়াদালকুইভিরের দক্ষিণ তীরে স্যামুয়েলের পরাজয়ের পর তৃতীয় আবদুর রহমান রেজিও আক্রমণ করেন । প্রতি পদক্ষেপে তিনি স্যামুয়েলের সমর্থকদের চরম বিরোধিতার সম্মুখীন হন । তাহারা সেনাবাহিনীর পশ্চাদভাগ ও অগ্রগামী সৈন্যের বেশ কিছু সংখ্যক সেনাকে নিহত ও কারারুদ্ধ করেন । তথাপি আমীর স্যামুয়েলের আশ্রয়স্থল টোলোক্সে পৌঁছেন । টোলোক্সে স্যামুয়েল রাজকীয় বাহিনীকে বাধা প্রদান করেন কিন্তু তাহার পুত্র আবদুর রহমানের নিকট দুর্গ হস্তান্তর করেন । ইতিমধ্যে উত্তর আফ্রিকা হইতে তাহার জাহাজ রসদ লইয়া যাত্রা শুরু করে এবং পথিমধ্যে রাজকীয় রণতরী দ্বারা আক্রান্ত হয় । ৯১৭ খ্রীঃ স্যামুয়েল মৃত্যুবরণ করেন । ৭ ইবনে ইজারী বলেন, "এই বৎসর ওমর ইবনে হাফসুন মারা যান। তিনি ছিলেন অবিশ্বাসীদের অবলম্বন, ধোঁকাবাজদের নেতা, গৃহযুদ্ধে ইন্ধন দাতা। ঘৃণা, বিদ্বেষ ও ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি কারীদের লালন কর্তা।"
ওমর ছিলেন একজন সুযোগ্য ব্যক্তি এবং দক্ষ সৈনিক । তিনি বিশ বৎসর ব্যাপী একে একে চারজন আমীরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন । তিনি ছিলেন একজন বীর, যদিও বিশ্বাসঘাতক ও আত্মকেন্দ্রিক । খৃস্টধর্ম গ্রহণই ছিল তাহার পতনের কারণ । যদি তিনি ইসলাম ধর্মে স্থির থাকিতেন তাহা হইলে খ্রীস্টানগণও তাহাকে কর্ডোভার শাসকের বিরুদ্ধে সাহায্য করিতেন এবং নব মুসলিমগণ তাহাকে পরিত্যাগ করিত না এবং তাহাকে দমনের জন্য আমীরের পক্ষ অবলম্বন করিত না এবং হয়তো তিনি রাজ্য প্রতিষ্ঠায় কৃতকার্য হইতেন । ফলে স্পেনের ইতিহাস হয়তো অন্য রকম ভাবে লিখিত হইতো ।
টিকাঃ
৬। এস. এম. ইমামউদ্দিন, 'ফারমিং এ্যান্ড স্টোরিং ইন মুসলিম স্পেন আন্ডার দ্যা উমাইয়াদস্ (ইসলামিক কালচার, হায়দারাবাদ, (ইন্ডিয়া) ১৯৫৯, পৃঃ ২২৮-২৩১ দেখুন।
৭। কেমব্রীজ মেডিয়াভ্যাল হিস্ট্রি, ৩য় খণ্ড, ১৯২২, পৃঃ ৪২১।
📄 ওমর ইবনে হাফসুনের পুত্রের আত্মসমর্পণ
স্যামুয়েলের চার পুত্র ছিল । জাফর, সুলায়মান, আবদুর রহমান এবং হাফস্ । ৮ জাফর স্যামুয়েলের স্থলাভিষিক্ত হন । তিনি স্বাধীনতা রক্ষা করিতে ব্যর্থ হন । ৯১৯ খ্রীঃ তিনি তৃতীয় আবদুর রহমানকে বাৎসরিক কর দিতে সম্মত হন । তিনি পুনরায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিয়া তাঁহার ক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও তাহার পিতার স্পেনীয় মুসলমান সমর্থকদের তাহার পিছনে সমবেত করিবার চেষ্টা করেন । কিন্তু এই নীতি তাঁহার জন্য আত্মঘাতী বলিয়া প্রমাণিত হয় । তৃতীয় আবদুর রহমান ইতিমধ্যে স্পেনীয় মুসলমানদের আকাঙ্ক্ষিত শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন । পরবর্তীরা দুরভিসন্ধির শিকারে পরিণত হইতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন । ৯ অপর দিকে খ্রীস্টান সৈনিকগণ তাহাদের ভন্ডামী ও কপটতাপূর্ণ কার্যের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায় এবং ৯২০ খ্রীঃ বিদ্রোহী হইয়া তাহাকে হত্যা করে । সুলায়মান তাঁহার ভ্রাতা জাফরের স্থলাভিষিক্ত হন । তিনি শান্তি রক্ষা করিতে ব্যর্থ হন এবং রাজকীয় বাহিনীর সহিত যুদ্ধ করিতে করিতে ৯২৭ খ্রীঃ ফেব্রুয়ারি মাসে মারা যান । তাঁহার ভ্রাতা হাফস তাঁহার স্থলাভিষিক্ত হন । বোবাস্ট্রো দুর্গ শেষবারের মত ৯২৭ খ্রীঃ জুন মাসে কর্ডোভান সৈন্য দ্বারা আক্রান্ত হয় । দীর্ঘ ছয় মাসের প্রতিরোধের পর হাফস আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য হন । তাহাকে কারারুদ্ধ করা হয় । পরবর্তী কালে মুক্তি লাভ করিয়া সেনা বাহিনীর চাকুরী গ্রহণ করেন । এইরূপে তৃতীয় আবদুর রহমানের হস্তে শক্তিশালী দুর্গের পতন ঘটে যাহা একাধারে কর্ডোভার চার জন শাসকের আক্রমণকে প্রতিহত করিয়া প্রায় অর্ধ শতাব্দী ব্যাপী টিকিয়া ছিল ।
টিকাঃ
৮। কেমব্রীজ মেডিয়াভ্যাল হিস্ট্রি, ৩য় খণ্ড, ১৯২২, পৃঃ ৪২১।
৯। ঐ, পৃঃ ৪২১-২২।