📄 এলভিরায় স্পেনীয়দের অভ্যুত্থান
স্পেন শিল্প ও বাণিজ্যে প্রভূত উন্নতি লাভ করে এবং সেখানে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব হয় । বিশেষ করিয়া এলভিরা ও সেভিলের নব মুসলিমদিগকে আরব অভিজাতবর্গ প্রভাবিত করে এবং তাহাদের সম্পদ ও ঐশ্বর্য তাহাদিগকে বিদ্বেষ-ভাবাপন্ন করিয়া তোলে । বহু আরব নেতাও আমীরের আনুগত্য প্রকাশে অস্বীকৃতি জানায় । আরব ব্যতীত বার্বার, নব মুসলিম, খ্রীস্টান এবং ইহুদীগণও আমীরের প্রতি বৈরীভাবাপন্ন ছিল । এই সমস্ত বিপরীত মুখী শক্তিকে কার্যকরীভাবে শাসন করা খুবই কঠিন ছিল । এক বা একাধিক দল একত্রিত হইয়া বিদ্রোহ ঘোষণা করিত । আব্দুল্লাহর শাসনের প্রথম দিকে আমীর ও আরবীয়দের বিরোধের সুযোগ লইয়া আরব অভিজাত সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে স্পেনীয়গণ বিদ্রোহী হইয়া ওঠে ও তাহাদিগকে এলভিরা হইতে বিতাড়িত করে ।
আরবগণ ইয়াহিয়া ইবনে সুকালাহর নেতৃত্বে গ্রানাডার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত গোয়ার দাহোরতোনার নিকটবর্তী মন্টেজিকারে সমবেত হয় । কিন্তু স্পেনীয়দের হস্তে তাহাদের নেতা ইয়াহিয়া নিহত হন । ইয়ামানী ও মুজারী মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও উত্তর গ্রানাডার অন্তর্গত মারাকেনার কাইসী গোত্রের সাওয়ারকে নতুন নেতা নির্বাচন করে । সাওয়ারের কনিষ্ঠ পুত্র স্পেনীয়দের হামলা হইতে মন্টেসাকরোকে রক্ষা করিতে গিয়া নিহত হন । কিন্তু সাওয়ার অতিদ্রুত মন্টেসাকরোকে পুনরুদ্ধার করেন । তিনি ৬,০০০ হাজার নব মুসলিম সেনার সমন্বয়ে গঠিত শহর রক্ষীদলকে অস্ত্রসজ্জিত করেন । এলভিরার গভর্নর জাদের নেতৃত্বে রাজকীয় বাহিনীর সহযোগিতায় স্পেনীয়গণ সাহসিকতার সহিত যুদ্ধ করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় । রেজিও, জায়েন এবং কালাতারাভার আরবগণের সহিত সাওয়ার চুক্তিবদ্ধ হন এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত দুর্গগুলি পুনর্নির্মাণ করেন ।
শত্রুদের ঐক্যবদ্ধ দেখিতে পাইয়া স্পেনীয়গণ আবদুল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে । তাহারা এলভিরার সরকারে সাওয়ারের অংশীদারিত্ব স্বীকার করিয়া তাহাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে । এইভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় । কিন্তু সাওয়ার, ওমর ইবনে হাফসুনের সহিত মিলিত হওয়ায় স্পেনীয়গণ পুনরায় অস্ত্রধারণ করে । সাওয়ার পরাজিত হন এবং পরিত্যক্ত দুর্গ আল হামাহতে আশ্রয় গ্রহণ করেন । রেজিও এবং জায়েন হইতে সেখানে সাহায্যকারী সৈন্য আগমন করে । ২,০০০ হাজার স্পেনীয় সৈন্য তাঁহাকে আক্রমণ করিতে অগ্রসর হয় কিন্তু তাহাদের আক্রমণ প্রতিহত করা হয় এবং বার হাজার সৈন্য নিহত হয় । পরাজিত স্পেনীয়গণ ওমর ইবনে হাফসুনের পতাকাতলে সমবেত হয় ।
তিনি এলভিরাতে রক্ষী বাহিনী পুনর্গঠিত করেন এবং সাওয়ারকে আক্রমণ করিয়া শোচনীয় রূপে পরাজিত হইয়া বোবাষ্ট্রোতে প্রত্যাবর্তন করিতে বাধ্য হন । তিনি সাহসী আরব কবি সাইদ ইবনে জুদিকে বন্দী করিয়া লইয়া আসেন । হাফস ইবনে আল মাররাকে এলভিরার প্রতিনিধি হিসাবে রাখিয়া আসেন । এলভিরার অধিবাসীগণ আত্মগোপন করিয়া থাকিয়া আকস্মিকভাবে সাওয়ারকে হত্যা করে । ওমর কর্তৃক মুক্তি প্রাপ্ত সাইদ ইবনে জুদিকে আরবরা তাহাদের নেতা নির্বাচিত করে । ওমর তাঁহার পূর্বের বন্দীকে দেখিয়া ভীত হইয়া ওঠেন এবং প্রথম যুদ্ধেই ক্ষণকালের মধ্যে পরাজয় বরণ করেন । কিন্তু আরবগণ স্পেনীয়দের উপর আরও সফলতা লাভ করিতে ব্যর্থ হন ।
যুবরাজ মুতাররিফ ৮৯৩ খ্রীস্টাব্দে এলভিরা আক্রমণ করেন । যুবরাজ দেখিতে পাইলেন এলভিরা প্রদেশের আরবগণ সাইদ ইবনে জুদি ও আল হামা মুহাম্মদ ইবনে আযহ আল হামাদানীর নেতৃত্বে দুই দলে বিভক্ত ১ । আল হামা ইবনে আযার সহযোগিতায় আরব নেতা আবু ওমর ওসমান ৮৯৭ খ্রীঃ ডিসেম্বর মাসে সাইদ ইবনে জুদিকে হত্যা করে ২ । সাইদ ৩ ও ইবনে আযার সমর্থকগণ কর্ডোভার শাসকের নিকট আত্মসমর্পণ করে কিন্তু আত্মকলহে লিপ্ত থাকার ফলে আরবরা দুর্বল হইয়া পড়ে ৪ । অন্যদের নিকট আমীর কর দাবী করেন । তাহাদের শহর ও দুর্গগুলি তিনি অধিকার করেন না কারণ তাহাদের জীবিকা নির্বাহের সম্পদ ছিল খুবই সামান্য ।
টিকাঃ
১। ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ৩৬৯ দেখুন।
২। ই. জি. গোমেজ, হিস্টোরিয়া ডি ইস্পানা, পৃঃ ২৩২।
৩। ঐ।
৪। হুবার্ট, এ্যারাবিক লিটারেচার, পৃঃ ২১৫; ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ৩৬৪।
📄 সেভিলে আরবদের অভ্যুত্থান
সেভিল উমাইয়া রাজধানীর অতি নিকটে অবস্থিত । সেভিলে বসবাসকারী দুই আরব পরিবার ও মুয়াল্লাদদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় । প্রথমোক্ত ব্যক্তিগণের সর্ববিষয়ে প্রাধান্য ছিল । কিন্তু পরবর্তীকালে এই দুই আরব পরিবারের মধ্যে শত্রুতা দেখা দেয় । উভয় পরিবারের মধ্যে যাহাকে আবদুল্লাহ স্বীকৃতি প্রদান করেন, সেই পরিবার সেভিলে আধা স্বাধীন রাষ্ট্র কায়েম করেন । সেভিল শহর ও ইহার জেলাগুলি যথাক্রমে একটি স্পেনীয় দল বানু আনজেলিনো এবং বিদ্রোহী আরব পরিবারসমূহ যেমন বানু হাজ্জাজ ও বানু খালদুনের দখলে থাকে । ইয়ামানী লক্ষ্মী গোত্রের অন্তর্ভুক্ত উম্যার চারিপুত্র সেভিল ও নিয়েবলার মধ্যবর্তী জিলা সেনেদের জায়গীর ভোগ দখলকারী উইতিজার প্রৌপুত্রী সারাহর বংশধরেরা ছিল । বানু হাজ্জাজ ও বানু খালদুন ইয়ামানের হাজরামাওত গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল । তাহাদের জমিদারী ছিল অক্সারাফে । বানু হাজ্জাজ ও বানু খালদুনরা ছিল কৃষিজীবী ও ব্যবসায়ী ।
আবদুল্লাহর শাসনের প্রথম দিকে বানু খালদুনের নেতা ছিল বিখ্যাত সৈনিক কুরাইব । উমাইয়া সাম্রাজ্যের জাত শত্রু কুরাইব ইব্রাহিম ইবনে হাজ্জাজের অধীন বানু হাজ্জাজ, নিয়েবলা ও সিদনার ইয়ামানী নেতা এবং কারমোনার বার্বার নেতাদের লইয়া আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে দল গঠন করেন । তিনি আমীরের কম প্রভাবাধীন সেভিলের অধিবাসী অধ্যুসিত এলাকাসমূহ লুণ্ঠনের জন্য মেরিদা এবং মেদেলিনের নব মুসলিম বার্বারদের উৎসাহিত করেন । তাহারা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন ও তালিয়াতা দখল করেন । সেভিলের গভর্নর ৮৯১ খ্রীস্টাব্দে মেরিদার বার্বারদের দমন করিবার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হন । বার্বার ও তাঁহার মধ্যেকার পূর্ব ষড়যন্ত্র মোতাবেক কুরাইব গভর্নরকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য তাঁহার সহিত যোগদান করেন । গভর্নর পরাজিত হন এবং মেরিদার বার্বারগণ প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সামগ্রী লইয়া তালিয়াতায় প্রত্যাবর্তন করে ।
অকর্মণ্য ও অযোগ্য গভর্নরকে অপসারণ করা হয় । কিন্তু তাঁহার স্থলাভিষিক্ত উমাইয়া বিন আল গাফির আল-খালিদ সাহসী ও যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদিগকে দমন করিতে ব্যর্থ হন । তিনি মুহম্মাদ ইবনে গালিব নামক জনৈক নব মুসলিমকে এই শর্তে সেভিল ও এচিজার সীমান্তে অবস্থিত সিয়েতে টররেস নামক পল্লীর নিকট দুর্গ নির্মাণের ক্ষমতা প্রদান করেন যে, সে সন্ত্রাসবাদীদের দমনে রাখিবে । দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হইলেও ইহা খুবই ক্ষণস্থায়ী ছিল । এক রাত্রে বানু খালদুন গোত্রের জনৈক ব্যক্তি ইবনে গালিব কর্তৃক নিহত হয় । ইবনে গালিব তাঁহার ভ্রাতা উমাইয়া যুবরাজ মুহম্মাদকে উদ্ধার করিবার উদ্দেশ্যে রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করেন । জনতা আক্রান্ত, নিহত ও ছত্রভঙ্গ হইয়া যায় । ইবনে হাফসুন গালিবের হত্যাকারী জাদের মস্তক দাবি করেন । জাদ তাঁহার দুই ভ্রাতা হাশিম এবং আবদুল গাফির সহিত পলায়ন করেন । কিন্তু সিয়েতে ফিলা দুর্গের সন্নিকটে গালিবের ভ্রাতাদের হস্তে নিহত হন । উমাইয়া তাঁহার ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসাবে বানু খালদুন ও বানু হাজ্জাজ গোত্রদ্বয়কে স্পেনীয়দিগকে সম্পূর্ণ রূপে নির্মূল করিতে আদেশ দান করেন । ২০,০০০ হাজার লোক নিহত হয় এবং পলাইবার সময় বহুসংখ্যক লোক নদীতে ডুবিয়া মারা যায় ।
সেভিলে স্পেনীয়দের নির্মূল করিবার পর বানু খালদুন ও বানু হাজ্জাজ গোত্রদ্বয় প্রদেশের ভাগ্যবিধাতারূপে আবির্ভূত হন । নিঃসহায় ও নিরুপায় আমীরের প্রতিনিধি গভর্নর উমাইয়া তাঁহার দল ও কুরাইবের মধ্যে বিভেদের বীজ বপন করিতে চেষ্টা করিয়াও ব্যর্থ হন । ইয়ামানী ও বার্বার নেতাগণ সেভিলের ক্ষমতা গ্রহণ করেন । মুতাররিফ কুরাইবের চাচাত ভাই মাহদী কর্তৃক নিহত হন । বার্বার নেতাগণ গভর্নরকে কারারুদ্ধ করেন । ৮৯১ খ্রীস্টাব্দে সেভিলের অবস্থা ছিল এইরূপ । সেভিলে আরবগণ ও দেশের অন্যান্য স্থানে আফ্রিকান এবং স্পেনীয় নেতাগণ ছিল শক্তিশালী । গ্রানাডা ও এলভিরার দুর্গগুলি ছিল বার্বারদের অধিকারে । আলগারভ প্রদেশের সান্তামারিয়া, সেলভিস, বেজা, মেরটোলা এবং প্রিয়েগোর পার্বত্য অঞ্চলসমূহে নব মুসলিমদের একাধিপত্য ছিল ।
আবদুল্লাহর পুত্র যুবরাজ মুতাররিফ ৮৯৫ খ্রীস্টাব্দে সেভিল আক্রমণ করেন । মুতাররিফের আক্রমণ কুরাইব সফলতার সহিত প্রতিহত করেন । কুরাইব এবং ইব্রাহিম ইবনে হাজ্জাজ দুই নেতা সেভিলকে নিজেদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করিয়া নেন । কিন্তু শীঘ্রই তাহাদের পতন ঘটে এবং ৮৯৯ খ্রীস্টাব্দে কুরাইব নিহত হন । ইব্রাহিম বিন হাজ্জাজ আমীরের নিকট এই শর্তে আত্মসমর্পণ করেন যে কাসিমের সহিত তাঁহাকে সেভিলের গভর্নর নিযুক্ত করা হইবে । কয়েক মাস পরে কাসিমকে অপসারণ করা হয় । অতঃপর সে ওমর ইবনে হাফসুনের সহিত ৯০০ খ্রীস্টাব্দে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হয় । ইব্রাহিম কঠোর হস্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন । কর্ডোভার কবিগণ তাঁহার রাজসভায় জমায়েত হয় । আরব, নবমুসলিম এবং বার্বার নেতাগণ সরকারের বিরোধিতা করে । মেন্তেসা, মেদিনা, সিদনা, লোরকা এবং সারাগোসা আরব নেতাদের অধীনে ছিল । আলগাভ, বেজা, জায়েন, মুরসিয়া এবং অপর কিছু অংশ বার্বার ও নব মুসলিমদের দখলে ছিল ।
আবদুর রহমান ইবনে মারোয়ান আল জিল্লিকী নামক জনৈক নবমুসলিম নেতা গ্যালেসিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে লিওনের তৃতীয় আল ফন্সোর সাহায্যে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর বিস্তীর্ণ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন । ৯০১ খ্রীস্টাব্দে জনৈক ব্যক্তি অসন্তুষ্ট বার্বারদের সমর্থনে নিজেকে মাহদী বলিয়া দাবি করেন । তিনি তাহাদিগকে জামোরার বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দান করেন । কিন্তু লিওনের শাসনকর্তা কর্তৃক পরাজিত হন ফলে এই আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে । জবর দখল করা হইতে বিরত রাখে ।
📄 ওমর ইবনে হাফসুনের সহিত যুদ্ধ
উপরে উল্লিখিত বিদ্রোহসমূহের মধ্যে ওমর ইবনে হাফসুনের বিদ্রোহ ছিল মারাত্মক । তিনি রাজ্যের বিশৃঙ্খল অবস্থার সুযোগ গ্রহণ করিয়া সর্বত্র তাঁহার আধিপত্য বিস্তার করিতে চেষ্টা করেন । আবদুল্লাহ ৮৮৯ খ্রীস্টাব্দে তাঁহার বিরুদ্ধে চল্লিশ দিনের এক অভিযান চালাইয়া মাত্র কয়েকটি গ্রাম উদ্ধার করিয়া বহু কষ্টে রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেন । আমীর পুনরায় ওমরের বিরুদ্ধে সৈন্য বাহিনী লইয়া অগ্রসর হন এবং এই শর্তে চুক্তি সম্পাদিত হয় যে, আমীরের প্রতিনিধি হিসাবে সে তাহার দখলীকৃত এলাকা শাসন করিতে থাকিবে । কিন্তু ওমরের সমর্থকগণ এই শান্তি চুক্তিকে অপছন্দ করে এবং আলজেসিরার বার্বার নেতা আবু হারবকে আক্রমণ করে ও দুর্গগুলি দখল করিয়া নেয় । আবদুল্লাহ কঠিন চাপে পড়িয়া আরব নেতাদের দমনের জন্য ওমরের সাহায্য প্রার্থনা করেন । ইব্রাহিমের নেতৃত্বে ওমর রাজকীয় বাহিনীতে যোগদান করেন । তাঁহার এই যোগদানের পিছনে ছিল অন্য উদ্দেশ্য । তিনি জায়েনের ইবনে মুসতানাহর সহিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইয়া নিজের শক্তি বৃদ্ধি করেন এবং শেষ পর্যন্ত ইব্রাহিম ইবনে খামীর ও অন্যান্য রাজ কর্মচারীদের কারারুদ্ধ করেন ।
কর্ডোভার খ্রীস্টানদের সমর্থনে ওমর দেশের উত্তরাংশে প্রভাব বিস্তার করেন এবং রাজধানী পর্যন্ত অগ্রসর হন । ওমর, এচিজা এবং পোলে দখল করিয়া নেন । আরবদের মধ্যেও তাঁহার ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য ৮৯০ খ্রীস্টাব্দে বোবাষ্ট্রোতে তাঁহার ক্ষমতা লাভের দশ বৎসর পর উত্তর আফ্রিকার আব্বাসীয় গভর্নর ইবনে আগলাবের মাধ্যমে আব্বাসীয় খলিফা মুতাদিদ বিল্লাহর তরফ হইতে অভিষেক প্রার্থনা করেন । ১০ খ্রীস্টাব্দে মরক্কোর ফাতেমীয়দের সহিত মৈত্রী সম্পর্ক গড়িয়া তোলেন ৫ । দীর্ঘকালব্যাপী তাঁহার বিদ্রোহ স্পেনে উমাইয়া শাসনের দুর্বলতার পরিষ্কার প্রমাণ দেয় ।
টিকাঃ
৫। ওয়াট, পৃঃ ৪৪।
📄 পোলের যুদ্ধ
আবদুল্লাহর আর্থিক অবস্থা খুবই সঙ্গীন হইয়া ওঠে । রাজকোষ শূন্য হইয়া পড়ে ফলে সেনাদের বেতন দেওয়া সম্ভব হয় না । দেশকে পুনরায় একত্রিকরণে আমীরের নীতি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় । সুবিধাজনক শর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উদ্ধত ওমর প্রত্যাখান করেন । অনন্যোপায় আমীর সাহস সঞ্চার করিয়া শক্তিশালী শত্রুকে আক্রমণ করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন । তাঁহার সেনাপতি আবদুল মালিক বিন উমাইয়াহ ৪,০০০ হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং ১০,০০০ হাজার নতুন সংগৃহীত সৈন্যকে লইয়া পোলের দিকে অগ্রসর হন । ওমর ৩০,০০০ হাজার সুদক্ষ সৈন্যের এক বাহিনী লইয়া দুর্গ হইতে দেড় ক্রোশ দূরে নদীর তীরে শিবির স্থাপন করেন । ১২ই মুহররম শুক্রবার ২৭৮ হিঃ/১৬ এপ্রিল ৮৯১ খ্রীস্টাব্দে যুদ্ধ শুরু হয় ।
উমাইয়াহ সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়া সত্ত্বেও আবদুল্লাহ নিজে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন নাই । আমীরের সেনাবাহিনী পূর্ণ শক্তি ও সাহসিকতার সহিত যুদ্ধ করে । অপরদিকে প্রাণপণ চেষ্টা করিয়াও ওমর পরাজিত হন । কিছু সংখ্যক সৈন্য লইয়া ওমর পোলে দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করেন । আরবদের পশ্চাদ্ধাবনের তীব্রতায় বাকি অংশ এচিজার দিকে পলাইয়া যায় । বিপদের পূর্বলক্ষণ দেখিয়া ইবনে হাফসুন ও ইবনে মস্তানাহ পোলে এবং আর্কিডোনা দুর্গ ত্যাগ করিয়া বার্বারদের পশ্চাৎ অপসারণ করেন । আবদুল্লাহ প্রচুর যুদ্ধ সামগ্রী ও ধন সম্পদসহ পোলে দুর্গ অধিকার এবং এচিজা অবরোধ করিলে অতিসহজে উহার পতন ঘটে । অতঃপর তিনি বোবাষ্ট্রো অভিমুখে যাত্রা করেন । বোবাষ্ট্রো অবরোধ করা হয় । কিন্তু অপরাজিত থাকে । পরিশ্রান্ত সেনাবাহিনী আর্কিডোনা ও এলভিরার মধ্য দিয়া কর্ডোভা প্রত্যাবর্তন কালে জায়েনে আত্মসমর্পণ করে ।