📄 প্রথম মুনজির : সিংহাসনে আরোহণ
প্রথম মুনজির তাঁহার পিতা মুহম্মাদের মৃত্যুর পর ২৭৩ হিঃ/৮৮৬ খ্রীঃ কর্ডোভার সিংহাসনে আরোহণ করেন । তিনি পিতার রাজত্বকালে বিভিন্ন যুদ্ধ পরিচালনায় বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দেন । কিন্তু উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বিরাট সাম্রাজ্য শাসন করার যোগ্যতা তাঁহার ছিল না ।
স্পেনের জনগণের অধিকাংশ ছিল আমীরের অবাধ্য । তাহারা আমীরের বিরুদ্ধে সর্বদা বিদ্রোহ করিতে তৎপর ছিল । কিছু স্বাধীন রাষ্ট্রও গঠিত হইয়াছিল । ফ্রাঙ্কগণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করিয়াছিল গথিক মার্চে । লিওনের বৃহত্তর অঞ্চল আরাগন ও ক্যাটালোনিয়া ছিল খ্রীস্টানদের হাতে । উত্তরাঞ্চলের দুর্গগুলি ছিল আমীরের শত্রুদের প্রভাবাধীন । স্পেনের দক্ষিণে ইবনে হাফসুন ছিল অপরাজিত এবং দেশের বৃহৎ অঞ্চল ছিল তাঁহার অধিকারে । আল মুনজির সর্বপ্রথম ওমর ইবনে হাফসুনের মিত্র ও সহযোগী আর্কিডোনার নেতা আইশুন নামক জনৈক নব-মুসলিম বিদ্রোহীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন । যুদ্ধে আইশুন ধৃত হইয়া নিহত হন । অতঃপর সিয়েররা ডে-পিরিয়েগোর বানু মাতরুহকে শায়েস্তা করিয়া ওমর ইবনে হাফসুনের সুরক্ষিত এলাকা বোবাষ্ট্রো দুর্গ অবরোধের জন্য তিনি অগ্রসর হন । নিজেকে সম্পূর্ণরূপে অবরোধ অবস্থায় দেখিয়া ওমর ইবনে হাফসুন কর দান, আত্মসমর্পণ ও আনুগত্যের ভান করেন । কিন্তু পরবর্তীতে ওমর পুনরায় বিদ্রোহ ঘোষণা করিয়া বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দেন । রাজকীয় সেনাবাহিনী রাজধানীতে প্রত্যাবর্তনকালে ওমর তাহাদের গতিরোধ করিয়া বহু সৈন্যকে হত্যা করেন । মুনজির প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য পুনরায় যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন এবং বোবাস্ট্রো দুর্গ অবরোধ করেন । কিন্তু তাঁহার ভ্রাতা আবদুল্লাহর প্ররোচনায় তাঁহার চিকিৎসক বিষ প্রয়োগে ৮৮৮ খ্রীঃ তাঁহাকে হত্যা করে । মুনজির মাত্র দুই বৎসর সাফল্যের সহিত রাজত্ব করেন ।
📄 দ্বিতীয় আবদুল্লাহ : সিংহাসনে আরোহণ
আল মুনজিরের কোন পুত্র সন্তান না থাকায় তাঁহার মৃত্যুর পর তাঁহার বিশ্বাসঘাতক ভ্রাতা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ইতিহাসের এক দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে স্পেনের সিংহাসনে আরোহণ করেন । তাঁহাকে স্পেনের আদি অধিবাসীগণই শুধু বিরোধিতা করে নাই আরব অভিজাত সম্প্রদায়ও গোলযোগের সুযোগ নেন । তাঁহারা অনেকেই স্বাধীনতা ঘোষণা করেন । সারাদেশে বিপ্লব ও বিদ্রোহ দেখা দেয় । সেভিল ও এলভিরায় নব-মুসলিম ও আরবদের মধ্যে দাঙ্গা হাঙ্গামা বাধে । ইয়ামানী ও মুজারীগণ পুরাতন গোত্রীয় কলহে লিপ্ত হয় ।
হেজাজ ও সিরিয়ার অধিবাসীগণ একে অপরের ঘোরতর শত্রু ছিল । আরব, নব মুসলিম, খ্রীস্টান ও বার্বারগণ স্পেনে বাস করিত । এই সমস্ত পরস্পর বিরোধী দলগুলি সর্বদা কর্ডোভার আমীরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করিত । ইহাদের নিয়ন্ত্রণে রাখিবার জন্য একজন দৃঢ়চেতা আমীরের প্রয়োজন ছিল । আব্দুল্লাহর ন্যায় দুর্বল ও ভীরু শাসক ইহা নিয়ন্ত্রণ করিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হন ।
📄 এলভিরায় স্পেনীয়দের অভ্যুত্থান
স্পেন শিল্প ও বাণিজ্যে প্রভূত উন্নতি লাভ করে এবং সেখানে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব হয় । বিশেষ করিয়া এলভিরা ও সেভিলের নব মুসলিমদিগকে আরব অভিজাতবর্গ প্রভাবিত করে এবং তাহাদের সম্পদ ও ঐশ্বর্য তাহাদিগকে বিদ্বেষ-ভাবাপন্ন করিয়া তোলে । বহু আরব নেতাও আমীরের আনুগত্য প্রকাশে অস্বীকৃতি জানায় । আরব ব্যতীত বার্বার, নব মুসলিম, খ্রীস্টান এবং ইহুদীগণও আমীরের প্রতি বৈরীভাবাপন্ন ছিল । এই সমস্ত বিপরীত মুখী শক্তিকে কার্যকরীভাবে শাসন করা খুবই কঠিন ছিল । এক বা একাধিক দল একত্রিত হইয়া বিদ্রোহ ঘোষণা করিত । আব্দুল্লাহর শাসনের প্রথম দিকে আমীর ও আরবীয়দের বিরোধের সুযোগ লইয়া আরব অভিজাত সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে স্পেনীয়গণ বিদ্রোহী হইয়া ওঠে ও তাহাদিগকে এলভিরা হইতে বিতাড়িত করে ।
আরবগণ ইয়াহিয়া ইবনে সুকালাহর নেতৃত্বে গ্রানাডার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত গোয়ার দাহোরতোনার নিকটবর্তী মন্টেজিকারে সমবেত হয় । কিন্তু স্পেনীয়দের হস্তে তাহাদের নেতা ইয়াহিয়া নিহত হন । ইয়ামানী ও মুজারী মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও উত্তর গ্রানাডার অন্তর্গত মারাকেনার কাইসী গোত্রের সাওয়ারকে নতুন নেতা নির্বাচন করে । সাওয়ারের কনিষ্ঠ পুত্র স্পেনীয়দের হামলা হইতে মন্টেসাকরোকে রক্ষা করিতে গিয়া নিহত হন । কিন্তু সাওয়ার অতিদ্রুত মন্টেসাকরোকে পুনরুদ্ধার করেন । তিনি ৬,০০০ হাজার নব মুসলিম সেনার সমন্বয়ে গঠিত শহর রক্ষীদলকে অস্ত্রসজ্জিত করেন । এলভিরার গভর্নর জাদের নেতৃত্বে রাজকীয় বাহিনীর সহযোগিতায় স্পেনীয়গণ সাহসিকতার সহিত যুদ্ধ করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় । রেজিও, জায়েন এবং কালাতারাভার আরবগণের সহিত সাওয়ার চুক্তিবদ্ধ হন এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত দুর্গগুলি পুনর্নির্মাণ করেন ।
শত্রুদের ঐক্যবদ্ধ দেখিতে পাইয়া স্পেনীয়গণ আবদুল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে । তাহারা এলভিরার সরকারে সাওয়ারের অংশীদারিত্ব স্বীকার করিয়া তাহাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে । এইভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় । কিন্তু সাওয়ার, ওমর ইবনে হাফসুনের সহিত মিলিত হওয়ায় স্পেনীয়গণ পুনরায় অস্ত্রধারণ করে । সাওয়ার পরাজিত হন এবং পরিত্যক্ত দুর্গ আল হামাহতে আশ্রয় গ্রহণ করেন । রেজিও এবং জায়েন হইতে সেখানে সাহায্যকারী সৈন্য আগমন করে । ২,০০০ হাজার স্পেনীয় সৈন্য তাঁহাকে আক্রমণ করিতে অগ্রসর হয় কিন্তু তাহাদের আক্রমণ প্রতিহত করা হয় এবং বার হাজার সৈন্য নিহত হয় । পরাজিত স্পেনীয়গণ ওমর ইবনে হাফসুনের পতাকাতলে সমবেত হয় ।
তিনি এলভিরাতে রক্ষী বাহিনী পুনর্গঠিত করেন এবং সাওয়ারকে আক্রমণ করিয়া শোচনীয় রূপে পরাজিত হইয়া বোবাষ্ট্রোতে প্রত্যাবর্তন করিতে বাধ্য হন । তিনি সাহসী আরব কবি সাইদ ইবনে জুদিকে বন্দী করিয়া লইয়া আসেন । হাফস ইবনে আল মাররাকে এলভিরার প্রতিনিধি হিসাবে রাখিয়া আসেন । এলভিরার অধিবাসীগণ আত্মগোপন করিয়া থাকিয়া আকস্মিকভাবে সাওয়ারকে হত্যা করে । ওমর কর্তৃক মুক্তি প্রাপ্ত সাইদ ইবনে জুদিকে আরবরা তাহাদের নেতা নির্বাচিত করে । ওমর তাঁহার পূর্বের বন্দীকে দেখিয়া ভীত হইয়া ওঠেন এবং প্রথম যুদ্ধেই ক্ষণকালের মধ্যে পরাজয় বরণ করেন । কিন্তু আরবগণ স্পেনীয়দের উপর আরও সফলতা লাভ করিতে ব্যর্থ হন ।
যুবরাজ মুতাররিফ ৮৯৩ খ্রীস্টাব্দে এলভিরা আক্রমণ করেন । যুবরাজ দেখিতে পাইলেন এলভিরা প্রদেশের আরবগণ সাইদ ইবনে জুদি ও আল হামা মুহাম্মদ ইবনে আযহ আল হামাদানীর নেতৃত্বে দুই দলে বিভক্ত ১ । আল হামা ইবনে আযার সহযোগিতায় আরব নেতা আবু ওমর ওসমান ৮৯৭ খ্রীঃ ডিসেম্বর মাসে সাইদ ইবনে জুদিকে হত্যা করে ২ । সাইদ ৩ ও ইবনে আযার সমর্থকগণ কর্ডোভার শাসকের নিকট আত্মসমর্পণ করে কিন্তু আত্মকলহে লিপ্ত থাকার ফলে আরবরা দুর্বল হইয়া পড়ে ৪ । অন্যদের নিকট আমীর কর দাবী করেন । তাহাদের শহর ও দুর্গগুলি তিনি অধিকার করেন না কারণ তাহাদের জীবিকা নির্বাহের সম্পদ ছিল খুবই সামান্য ।
টিকাঃ
১। ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ৩৬৯ দেখুন।
২। ই. জি. গোমেজ, হিস্টোরিয়া ডি ইস্পানা, পৃঃ ২৩২।
৩। ঐ।
৪। হুবার্ট, এ্যারাবিক লিটারেচার, পৃঃ ২১৫; ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ৩৬৪।
📄 সেভিলে আরবদের অভ্যুত্থান
সেভিল উমাইয়া রাজধানীর অতি নিকটে অবস্থিত । সেভিলে বসবাসকারী দুই আরব পরিবার ও মুয়াল্লাদদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় । প্রথমোক্ত ব্যক্তিগণের সর্ববিষয়ে প্রাধান্য ছিল । কিন্তু পরবর্তীকালে এই দুই আরব পরিবারের মধ্যে শত্রুতা দেখা দেয় । উভয় পরিবারের মধ্যে যাহাকে আবদুল্লাহ স্বীকৃতি প্রদান করেন, সেই পরিবার সেভিলে আধা স্বাধীন রাষ্ট্র কায়েম করেন । সেভিল শহর ও ইহার জেলাগুলি যথাক্রমে একটি স্পেনীয় দল বানু আনজেলিনো এবং বিদ্রোহী আরব পরিবারসমূহ যেমন বানু হাজ্জাজ ও বানু খালদুনের দখলে থাকে । ইয়ামানী লক্ষ্মী গোত্রের অন্তর্ভুক্ত উম্যার চারিপুত্র সেভিল ও নিয়েবলার মধ্যবর্তী জিলা সেনেদের জায়গীর ভোগ দখলকারী উইতিজার প্রৌপুত্রী সারাহর বংশধরেরা ছিল । বানু হাজ্জাজ ও বানু খালদুন ইয়ামানের হাজরামাওত গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল । তাহাদের জমিদারী ছিল অক্সারাফে । বানু হাজ্জাজ ও বানু খালদুনরা ছিল কৃষিজীবী ও ব্যবসায়ী ।
আবদুল্লাহর শাসনের প্রথম দিকে বানু খালদুনের নেতা ছিল বিখ্যাত সৈনিক কুরাইব । উমাইয়া সাম্রাজ্যের জাত শত্রু কুরাইব ইব্রাহিম ইবনে হাজ্জাজের অধীন বানু হাজ্জাজ, নিয়েবলা ও সিদনার ইয়ামানী নেতা এবং কারমোনার বার্বার নেতাদের লইয়া আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে দল গঠন করেন । তিনি আমীরের কম প্রভাবাধীন সেভিলের অধিবাসী অধ্যুসিত এলাকাসমূহ লুণ্ঠনের জন্য মেরিদা এবং মেদেলিনের নব মুসলিম বার্বারদের উৎসাহিত করেন । তাহারা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন ও তালিয়াতা দখল করেন । সেভিলের গভর্নর ৮৯১ খ্রীস্টাব্দে মেরিদার বার্বারদের দমন করিবার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হন । বার্বার ও তাঁহার মধ্যেকার পূর্ব ষড়যন্ত্র মোতাবেক কুরাইব গভর্নরকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য তাঁহার সহিত যোগদান করেন । গভর্নর পরাজিত হন এবং মেরিদার বার্বারগণ প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সামগ্রী লইয়া তালিয়াতায় প্রত্যাবর্তন করে ।
অকর্মণ্য ও অযোগ্য গভর্নরকে অপসারণ করা হয় । কিন্তু তাঁহার স্থলাভিষিক্ত উমাইয়া বিন আল গাফির আল-খালিদ সাহসী ও যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদিগকে দমন করিতে ব্যর্থ হন । তিনি মুহম্মাদ ইবনে গালিব নামক জনৈক নব মুসলিমকে এই শর্তে সেভিল ও এচিজার সীমান্তে অবস্থিত সিয়েতে টররেস নামক পল্লীর নিকট দুর্গ নির্মাণের ক্ষমতা প্রদান করেন যে, সে সন্ত্রাসবাদীদের দমনে রাখিবে । দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হইলেও ইহা খুবই ক্ষণস্থায়ী ছিল । এক রাত্রে বানু খালদুন গোত্রের জনৈক ব্যক্তি ইবনে গালিব কর্তৃক নিহত হয় । ইবনে গালিব তাঁহার ভ্রাতা উমাইয়া যুবরাজ মুহম্মাদকে উদ্ধার করিবার উদ্দেশ্যে রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করেন । জনতা আক্রান্ত, নিহত ও ছত্রভঙ্গ হইয়া যায় । ইবনে হাফসুন গালিবের হত্যাকারী জাদের মস্তক দাবি করেন । জাদ তাঁহার দুই ভ্রাতা হাশিম এবং আবদুল গাফির সহিত পলায়ন করেন । কিন্তু সিয়েতে ফিলা দুর্গের সন্নিকটে গালিবের ভ্রাতাদের হস্তে নিহত হন । উমাইয়া তাঁহার ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসাবে বানু খালদুন ও বানু হাজ্জাজ গোত্রদ্বয়কে স্পেনীয়দিগকে সম্পূর্ণ রূপে নির্মূল করিতে আদেশ দান করেন । ২০,০০০ হাজার লোক নিহত হয় এবং পলাইবার সময় বহুসংখ্যক লোক নদীতে ডুবিয়া মারা যায় ।
সেভিলে স্পেনীয়দের নির্মূল করিবার পর বানু খালদুন ও বানু হাজ্জাজ গোত্রদ্বয় প্রদেশের ভাগ্যবিধাতারূপে আবির্ভূত হন । নিঃসহায় ও নিরুপায় আমীরের প্রতিনিধি গভর্নর উমাইয়া তাঁহার দল ও কুরাইবের মধ্যে বিভেদের বীজ বপন করিতে চেষ্টা করিয়াও ব্যর্থ হন । ইয়ামানী ও বার্বার নেতাগণ সেভিলের ক্ষমতা গ্রহণ করেন । মুতাররিফ কুরাইবের চাচাত ভাই মাহদী কর্তৃক নিহত হন । বার্বার নেতাগণ গভর্নরকে কারারুদ্ধ করেন । ৮৯১ খ্রীস্টাব্দে সেভিলের অবস্থা ছিল এইরূপ । সেভিলে আরবগণ ও দেশের অন্যান্য স্থানে আফ্রিকান এবং স্পেনীয় নেতাগণ ছিল শক্তিশালী । গ্রানাডা ও এলভিরার দুর্গগুলি ছিল বার্বারদের অধিকারে । আলগারভ প্রদেশের সান্তামারিয়া, সেলভিস, বেজা, মেরটোলা এবং প্রিয়েগোর পার্বত্য অঞ্চলসমূহে নব মুসলিমদের একাধিপত্য ছিল ।
আবদুল্লাহর পুত্র যুবরাজ মুতাররিফ ৮৯৫ খ্রীস্টাব্দে সেভিল আক্রমণ করেন । মুতাররিফের আক্রমণ কুরাইব সফলতার সহিত প্রতিহত করেন । কুরাইব এবং ইব্রাহিম ইবনে হাজ্জাজ দুই নেতা সেভিলকে নিজেদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করিয়া নেন । কিন্তু শীঘ্রই তাহাদের পতন ঘটে এবং ৮৯৯ খ্রীস্টাব্দে কুরাইব নিহত হন । ইব্রাহিম বিন হাজ্জাজ আমীরের নিকট এই শর্তে আত্মসমর্পণ করেন যে কাসিমের সহিত তাঁহাকে সেভিলের গভর্নর নিযুক্ত করা হইবে । কয়েক মাস পরে কাসিমকে অপসারণ করা হয় । অতঃপর সে ওমর ইবনে হাফসুনের সহিত ৯০০ খ্রীস্টাব্দে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হয় । ইব্রাহিম কঠোর হস্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন । কর্ডোভার কবিগণ তাঁহার রাজসভায় জমায়েত হয় । আরব, নবমুসলিম এবং বার্বার নেতাগণ সরকারের বিরোধিতা করে । মেন্তেসা, মেদিনা, সিদনা, লোরকা এবং সারাগোসা আরব নেতাদের অধীনে ছিল । আলগাভ, বেজা, জায়েন, মুরসিয়া এবং অপর কিছু অংশ বার্বার ও নব মুসলিমদের দখলে ছিল ।
আবদুর রহমান ইবনে মারোয়ান আল জিল্লিকী নামক জনৈক নবমুসলিম নেতা গ্যালেসিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে লিওনের তৃতীয় আল ফন্সোর সাহায্যে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর বিস্তীর্ণ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন । ৯০১ খ্রীস্টাব্দে জনৈক ব্যক্তি অসন্তুষ্ট বার্বারদের সমর্থনে নিজেকে মাহদী বলিয়া দাবি করেন । তিনি তাহাদিগকে জামোরার বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দান করেন । কিন্তু লিওনের শাসনকর্তা কর্তৃক পরাজিত হন ফলে এই আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে । জবর দখল করা হইতে বিরত রাখে ।