📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 বানু কাসিদের স্বাধীনতা ঘোষণা

📄 বানু কাসিদের স্বাধীনতা ঘোষণা


নবম শতাব্দীর শেষ প্রান্তে কিছু সংখ্যক উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে। নবমুসলিম বার্বার ও খ্রীস্টানদের অসন্তুষ্টির সুযোগ লইয়া তাহারা স্বাধীন ও আধা-স্বাধীন রাষ্ট্র কায়েমের চেষ্টা করে। ক্যাটালোনিয়ার যুদ্ধ অব্যাহত থাকে এবং পূর্ববর্তী বৎসরের যুদ্ধবিজয়ী সীমান্তের গভর্নর দ্বিতীয় মুসা এবার আস্তুরিয়ানদের কঠিন চাপের সম্মুখীন হন। মুসা আমীরের ক্রোধে পতিত হন। তিনি আস্তুরিয়ান রাজার পক্ষ অবলম্বন করেন এবং নাভাররের কাউন্ট গার্সিয়ার সহিত তাহার কন্যার বিবাহ দেন। দক্ষিণ-পূর্ব স্পেনের ঘনবসতি পূর্ণ এলাকা খ্রীস্টানদের আক্রমণ হইতে রক্ষার জন্য মার্চগুলি উপকারে আসে, সীমান্ত প্রদেশের গভর্নরদের হস্তে সীমাহীন ক্ষমতা প্রদত্ত হয়। এই সমস্ত ক্ষমতা তাহারা স্বীয় স্বার্থে ব্যবহার করে। পুরাতন ভিজিগথিক পরিবারের বনু কাসি উত্তরে মার্চের আরাগোনে এক স্বাধীন রাষ্ট্র কায়েম করে। ইহার রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হয় সারাগোসায়। এই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জনৈক জাইয়াদ, ভিজিগথিক অভিজাত সম্প্রদায়ের পরবর্তী বংশধর। তিনি পূর্বে সারাগোসার গভর্নর ছিলেন। স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া তিনি বিদ্রোহীদের সহিত যোগদান করেন এবং ৮৪২ খ্রীঃ সারাগোসা অধিকার করেন। তিনি বহুবার রাজকীয় বাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করেন। তুদেলা, হুয়েস্কা এবং টলেডোর নেতাগণ দ্বিতীয় মুসা নামে পরিচিত বনু কাসির শাসক মুসা ইবনে মুসা ইবনে আল কাসীর নিকট আত্মসমর্পণ করে। মুসা যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন আমীরকে প্রতিহত করেন। তিনি সারাগোসা, তুদেলা এবং হুয়েস্কাকে প্রধান নগর রূপে আপার মার্চে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। উত্তর সীমান্তের অসন্তুষ্ট জনগণ দলে দলে তাহার সহিত যোগদান করে। গাসকোন ও নাভাররেগণও তাহাকে সমর্থন জানায়। নাভাররে ও পামপ্লোনার সহিত ইবনে কাসির রক্ত ও বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। নাভাররে ও পাম্পলোনা এলাকায় খ্রীস্টান রাজ্য প্রতিষ্ঠায় দ্বিতীয় মুসা সাহায্য করে। পরে তিনি ক্যাস্টাইল এবং বার্সিলানোর কাউন্টসদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং পীরেনীজ অতিক্রম করিয়া কেশহীন চার্লসকে শান্তিচুক্তি সম্পাদন ও কর প্রদানে বাধ্য করেন। ফ্রান্সের খ্রীস্টান ও স্পেনের মুসলমানগণ তাহার স্বাধীনতাকে স্বীকার করিয়া নেয়। তিনি নিজেকে স্পেনের তৃতীয় রাজা বলিয়া ঘোষণা করেন। ২ মুসার মৃত্যুর পর তাহার পুত্র লোপ টলেডোতে একজন সেনানায়ক রূপে নিযুক্ত হয়। ৮৬২ খ্রীস্টাব্দে প্রথম মুহাম্মদ সারাগোসা ও তুদেলা অধিকার করেন। দশ বৎসর পর মুসার তিন পুত্র পিতার হৃত গৌরবকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে এবং রাজকীয় সেনাকে পুনরায় বিতাড়িত করিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে। আলফন্সোর সাহায্যে তাহারা ৮৮৪ খ্রীস্টাব্দে আমীরের সারাগোসা দখলের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করিয়া দেয় এবং স্বাধীন সত্তা বজায় রাখে। এই এলাকায় আরব বংশোদ্ভূত লোকেরা গোলযোগের সৃষ্টি করে এবং স্বাধীনতা দাবী করে।

টিকাঃ
২. পারেজা, ইসলামোলোজিয়া, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১৬৭।

📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 ইবনে মারোয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণা

📄 ইবনে মারোয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণা


মেরিদার অধিবাসিগণ সারাগোসার পদাঙ্ক অনুসরণ করিয়া ৮৬৮ খ্রীঃ নাগাদ আবদুর রহমান ইবনে মারোয়ান বিন ইউনুস আল জিল্লিকী নামে জনৈক নব মুসলিমের নেতৃত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। দ্বিতীয় আবদুর রহমানের শাসন আমলে তাহার পিতা মারোয়ান বিন ইউনুস লোয়ার মার্চে মেরিদার গভর্নর ছিলেন। রাজকীয় বাহিনীর আক্রমণের মুখে মেরিদাবাসিগণ অবশ্য আত্মসমর্পণ করে এবং তাহাদের নেতাকে আমীরের দেহরক্ষীদের ক্যাপ্টেন নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু ৮৭৫ খ্রীঃ প্রধানমন্ত্রী হাশিম বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক অপমানিত হইয়া সে মেরিদার দক্ষিণ পূর্বে ২০ কিলোমিটার (১২২ মাইল) দূরে অবস্থিত আলাঞ্জেতে এবং তৎপর গোয়া-দিয়ানার উপত্যকা বাদাজোজে পলাইয়া যায়। ইহা সে দুর্গ দ্বারা সুরক্ষিত করিয়াছিল। সে অপর বিদ্রোহী আদুন আল সুরুনবাকীর সহিত যোগ দিয়া মেরিদা ও অন্যান্য জায়গার নব মুসলিমদের মধ্য হইতে বহুসংখ্যক সেনা সংগ্রহ করে এবং সারা এলাকা ব্যাপী ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সে তৃতীয় আল ফন্সোর সহযোগিতায় হাশিমের নেতৃত্বে তাহার বিরুদ্ধে প্রেরিত সেনা বাহিনীকে পরাজিত করে। উমাইয়া সেনাপতি পরাজিত হইয়া বন্দী অবস্থায় লিওনের শাসকের নিকট প্রেরিত হন। একলক্ষ দিনার মুক্তিপণের বিনিময়ে তিনি দুই বৎসর পর মুক্তি লাভ করেন। ইতিমধ্যে ইবনে মারোয়ান সেভিল ও নিয়েবলার জেলাসমূহের ধ্বংস সাধন করে। বার বার তাহার বিরুদ্ধে রাজকীয় বাহিনী প্রেরণ করিয়াও তাহাকে দমন করা সম্ভব হয় না। এই এলাকায় শান্তি স্থাপনের জন্য আমীর বাদাজোজ ও মেরিদাতে তাহার শাসন স্বীকার করিয়া নেন। ৩২০ হিঃ/ ৯৩২ খ্রীঃ পর্যন্ত ইহা সম্পূর্ণভাবে পুনর্দখল করিতে পারেন নাই। ৩ এইরূপে মুয়াল্লাদ নবমুসলিম বংশোদ্ভূত ইবনে জিল্লিকী ও তাহার পুত্র মেরিদাকে রাজধানী করিয়া প্রায় পঞ্চান্ন বৎসর নিম্ন মার্চ শাসন করেন।

টিকাঃ
৩. ইবনে ইজারী, বেয়ান, পৃঃ ১১১-১১২।

📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 নরম্যান আক্রমণ

📄 নরম্যান আক্রমণ


৮৫৯ খ্রীষ্টাব্দে নরম্যানগণ সাতটি জাহাজ লইয়া পুনরায় স্পেনের উপকূল ভাগ আক্রমণ করে এবং মালাগা ও অন্যান্য উপকূলীয় শহরের ক্ষতি সাধন করে। কিন্তু এবার তাহারা বিশেষ সুবিধা করিতে পারে না। দ্বিতীয় আবদুর রহমান প্রথম ও দ্বিতীয় আক্রমণের মধ্যবর্তী সময়ে উপকূলীয় শহরগুলিকে সুরক্ষিত করিয়া নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করিয়া গড়িয়া তোলেন। ফলে নরম্যান আক্রমণকে অতি সহজে প্রতিহত করা সম্ভব হয়। গ্যালেসিয়া আক্রমণের জন্য কর্ডোভার জনগণের পক্ষে সেনাবাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করা হয়। আটলান্টিকের উপকূল হইতে গ্যালেসিয়া আক্রমণের উদ্দেশ্যে গোয়াদালকুইভির নদীর নিম্নাংশে আবদুল হামিদ ইবনে মাগিসের পরিচালনায় একটি নৌবহর যাত্রা শুরু করে। কিন্তু ইহা যখন আটলান্টিকের তীরে পৌঁছে সেই সময় ঝড়ে পতিত হয় এবং সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়ে। দুইটির বেশি নৌযান একত্র হইতে অসমর্থ হয় এবং মহাবিপদের মধ্যে নৌঘাটিতে ফিরিয়া আসে। এই ব্যর্থতা পরবর্তীকালে দশম শতাব্দীতে সমুদ্র পথে গ্যালেসিয়া আক্রমণ হইতে মুসলমানদের বিরত করিতে পারে নাই।

📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 ওমর ইবনে হাফসুন

📄 ওমর ইবনে হাফসুন


মুহাম্মদের শাসন আমলে স্পেনের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে আন্দালুসিয়াতে ওমর ইবনে হাফসুন এক মারাত্মক বিদ্রোহ ঘোষণা করে। রোন্দা ও মালাগার মধ্যবর্তী পার্বত্য অঞ্চল সম্পূর্ণরূপে তাহার দখলে ছিল। সামান্য সময়ের যুদ্ধ বিরতি ব্যতীত কর্ডোভার তিন জন আমীর ও একজন খলিফার সহিত তিনি যুদ্ধ চালাইয়া যান। ৮৬০ খ্রীস্টাব্দে তিনি রোন্দার নিকটবর্তী হিসন আনটে জন্মগ্রহণ করেন। তাহার পিতা হাফস বিন ওমর বিন জাফর আল ইসলামী ছিলেন ভিজিগথ জমিদার। মালগার উত্তর-পূর্বে তিনি বাস করিতেন। আল হাকামের রাজত্বকালে হাফস রোন্দা ত্যাগ করে এবং মালাগার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত রোন্দার অন্তর্গত ইজনাটের নিকটবর্তী একটি গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। সেখানে তিনি খ্রীস্টান ধর্ম ত্যাগ করিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ব্যবসা করিয়া তিনি প্রচুর সম্পদের মালিক হন এবং হাফসুন নামে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত বংশীয় লোক কিন্তু তাহার পুত্র ওমর ছিলেন উগ্র মেজাজী ও দস্যু-প্রকৃতির।

ওমর একবার জনৈক স্থানীয় সরকারি কর্মচারীকে হত্যা করিয়া তাহার পিতার সহিত বোবাষ্ট্র পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত সেরানীয়া ডে রোন্ডাতে পলায়ন করে। এবং তাহার ঘৃণ্য পথ পরিত্যাগ করিতে অস্বীকৃতি জানায়। অতঃপর তাহার পিতা প্রাদেশিক গভর্নরের জারীকৃত পরোয়ানার বিরুদ্ধে তাহাকে সতর্ক করিয়া দিলে ওমর উত্তর আফ্রিকায় পলায়ন করে এবং তাহিরাতের এক দর্জীর গৃহে আশ্রয় গ্রহণ করে। দর্জীর সহিত তাহার পিতার পরিচয় ছিল কিন্তু ওমরের চরিত্র সম্পর্কে তিনি কিছু জানিতেন না। সেখানে জনৈক প্রতিবেশী তাহাকে চিনিতে পারে। সে তাহাকে আরবদের বিরুদ্ধে আন্দালুসীয়দের নেতৃত্ব দানের জন্য স্পেন যাত্রার পরামর্শ দেয়। উমাইয়া প্রতিনিধি তাহিরাতের যুবরাজ কর্তৃক ধৃত হইয়া প্রথম মুহাম্মদের হস্তে হস্তান্তরিত হইবার ভয়ে সে আফ্রিকা হইতে পলায়ন করিয়া ৮৮০ খ্রীস্টাব্দে স্পেনে উপস্থিত হয়। তাহার চাচা মুজাবিরের সহযোগিতায় চল্লিশ জন ডাকাতের একটি দল গঠন করিয়া বোবাষ্ট্র পর্বতে অবস্থিত পুরাতন রোমান দুর্গে বসবাস করিতে শুরু করে। বর্তমানে এই দুইটি এলাকা ক্যাস্টিলোন নামে পরিচিত। এলভিরার পর্বতবাসীদের সমর্থনে তিনি মুজারাব ও নবমুসলিমদের নেতৃত্ব দান করেন। তিনি মুজারাব ও নব মুসলিমদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় আমীর প্রথম মুহাম্মদ, আল মুনজির ও আবদুল্লাহ এবং খলিফা তৃতীয় আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখেন। ইবনে হাফসুন তাহার স্বার্থ সিদ্ধির পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারী কোন আদর্শের তোয়াক্কা করিতেন না।

তাহার বিরুদ্ধে প্রেরিত প্রথম মুহাম্মদের রাজকীয় বাহিনী দুইবার পরাজিত হয়। মুহাম্মদের প্রধান মন্ত্রী হাশিম তাহাকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ রূপে পরাজিত করেন। ওমরের বীরত্বে মুগ্ধ হইয়া প্রধানমন্ত্রী হাশিম তাহাকে ৮৮৩ খ্রীঃ সেনা বিভাগের চাকুরীতে নিয়োগ করেন। একাধিক যুদ্ধে বিশেষ করিয়া পোনছেরভো-এর যুদ্ধে সে কৃতিত্বের পরিচয় দান করে। বনু কাসি নেতা লোপ-পুত্র মুহাম্মদ এবং আস্তুরিয়ানদের বিরুদ্ধে ইবনে হাফসুন সাহসিকতার সহিত যুদ্ধ করেন। নগরীর ক্ষমতাশালী ব্যক্তি মুহাম্মদ বিন ওয়ালিদ ইবনে ঘানিম প্রধান মন্ত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বীর নিকট অত্যন্ত বিরাগভাজন ছিলেন। ফলে ঘানিম সৈন্যদের জন্য নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করিয়া ওমরকে অপমানিত করেন। সে ইবনে ঘানিমের বিরুদ্ধে হাশিমের নিকট নালিশ করে কিন্তু কোন প্রতিকার না হওয়ায় রাগান্বিত হইয়া ৮৮৪ খ্রীঃ সে প্রথম মুহাম্মদের সেনাবাহিনী ত্যাগ করিয়া চলিয়া যায় এবং বোবাষ্ট্র পর্বতের দস্যুদলের সহিত তাহার ভাগ্যকে আবার বিজড়িত করে। সেখানে রাজধানী স্থাপন করিয়া মুহাম্মদের শাসনের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করেন এবং আরবদের গোলামী হইতে নবমুসলিমদের মুক্তি, দারিদ্র্য, শোষণ ও অবিচারের প্রতিকার বিধানের শপথ গ্রহণ করেন। বিরাট সংখ্যক ভাগ্যান্বেষী অসিয়া তাহার সহিত যোগদান করে। এই পার্বত্য অঞ্চলে তিনি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র কায়েম করিয়া শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু পার্শ্ববর্তী জায়েন ও ইজনাজারের মুসলমান অমুসলমান উভয় সম্প্রদায়কে হত্যা ও তাহাদের ধন সম্পদ লুণ্ঠন করে। জাইদ ইবনে কাসিমের নেতৃত্বে বিদ্রোহ দমনের জন্য আমীর সেনা বাহিনী প্রেরণ করেন। ওমর রাজকীয় বাহিনীর মোকাবেলা করিতে সাহস না পাওয়ায় ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাহাকে ক্ষমা প্রদর্শন করা হয় কিন্তু পরবর্তী সময়ে সে বিশ্বাসঘাতকতা করিয়া জায়েদকে হত্যা করে এবং মুসলিম বাহিনীকে আক্রমণ করে। প্রথম মুহাম্মদ এই খবরে ক্রোধান্বিত ও ক্ষিপ্ত হইয়া ওঠে এবং ৮৮৬ খ্রীঃ জুন মাসে ওমরকে সমুচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য মুনজিরকে ৪ ৫ ৬ আদেশ করেন। তিনি কর্ডোভা ও সেভিলের গভর্নরদ্বয়কে বিদ্রোহ দমনে যুবরাজকে সাহায্য করিতে নির্দেশ দেন। ওমরের মিত্র ও সহযোগী অপর বিদ্রোহী আলহামা দুর্গের প্রধান, আবদুল মালিক রাজকীয় বাহিনীর মোকাবেলা করিলেও যুদ্ধে নিহত হয়। কর্ডোভায় আমীরের নিকট তাহার মস্তক প্রেরিত হয়। ওমর তাহার সাহায্যার্থে আগমন করলে গুরুতর ভাবে আহত হন ও পলায়ন করেন। ওমরের সৌভাগ্য যে পিতার মৃত্যু সংবাদ পাইয়া মুনজির অবরোধ প্রত্যাহার করিয়া রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেন।

টিকাঃ
৪. হোল, আন্দালুস, পৃঃ ১৬১।
৫. ইবনুল খাতিব, আমল, পৃঃ ২৪; ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ২৯৯।
৬. আল-মাক্কারী, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১২৮; ই. জি. গমেজ, হিস্টোরিয়া ডি-ইস্পানা, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১৮৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px