📄 কনস্টান্টিনোপল ও নাভারের রাষ্ট্রদুতগণ
এশিয়া মাইনর দখলের পর আব্বাসীয়রা কনস্টান্টিনোপলের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হয় । ২০৮ হিঃ/ ৮২৩ খ্রীঃ বাইজান্টাইন সম্রাট মিকায়েল দ্বিতীয় উন্নত জাতের ঘোড়া ও মূল্যবান উপহারসহ কর্ডোভায় দূত প্রেরণ করেন । সম্রাট মিকায়েলের উত্তরাধিকারী এবং পুত্র থিওফিলান মূল্যবান উপহারসহ কর্ডোভায় এক দূত প্রেরণ করেন এবং আব্বাসীদের বিরুদ্ধে উমাইয়াদের সাহায্য প্রার্থনা করেন । ১৭ খলিফা ইহার পরিবর্তে ইয়াহিয়া বিন হাকাম আল গাজ্জালের নেতৃত্বে কনস্টান্টিনোপলে দূত প্রেরণ করেন । বাইজান্টাইনের সহিত সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়িয়া ওঠে । নাভাররের কাউন্ট স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং সম্পর্ক দৃঢ় করিবার উদ্দেশ্যে কর্ডোভায় দূত প্রেরণ করেন । দ্বিতীয় আবদুর রহমান মরক্কো হইতে তিউনিস পর্যন্ত বার্বার রাজ্য দখল করেন ।
টিকাঃ
১৭। এইচ. কে. শেরওয়ানী, মুসলিম কলোনিস, পৃঃ ১২০।
📄 নরম্যান আক্রমণ
নরম্যানরা (মাজুস) জার্মান বংশোদ্ভূত । তাহারা অর্ধশতাব্দী ধরিয়া সমুদ্র তীরবর্তী ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করিয়াছিল । ২২৯ হিঃ জুলহাজ/ ৮৪৪ খ্রীঃ আগস্ট মাসে তাহারা লুসিতানিয়ার উপকূল হইতে আটটি জাহাজ যোগে আক্রমণ করে । তাহারা গোয়াদালকুইভিরের দ্বীপসমূহ ও সেভিল নগরীর ধ্বংসসাধন ও অসংখ্য লোককে হত্যা করে । সেভিলের দক্ষিণে অবস্থিত তাবলাদায় মুসলমানদের হাতে এক হাজার নরম্যান নিহত ও চারশত বন্দী হয় । ১৮ অতঃপর আমীর মুসলিম নৌবাহিনী গঠনে আত্মনিয়োগ করেন । সেভিলে নৌঘাটি স্থাপিত হয় এবং উপকূলবর্তী শহরগুলিকে পরবর্তী আক্রমণ হইতে সুরক্ষিত করা হয় । সামুদ্রিক আক্রমণ হইতে উপকূলীয় এলাকাকে রক্ষার উদ্দেশ্যে ৮৪৪ খ্রীস্টাব্দের পর কিছু প্রহরী স্তম্ভ (Watch Tower) নির্মিত হয় ।
টিকাঃ
১৮। আল-দাবিব, পৃঃ ৪৮, টীকা-২; গায়ানগোস, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১১৪-১৫।
📄 কর্ডোভার গোঁড়া খ্রীস্টানগণ
ইউরোপীয় ঐতিহাসিকদের মতে, আবদুর রহমান ছিলেন জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সমর্থক । কর্ডোভার ধর্মোম্মাদ খ্রীস্টানগণ মুসলমানদিগকে অবজ্ঞা ও অবহেলা করিতে থাকে । ১৯ তাহারা ল্যাটিন ভাষায় লিখিত বিষয়ের প্রতি অনিচ্ছা ও অবজ্ঞা প্রকাশ করিত । ২০ আররীতে বাইবেল অনূদিত হয় । ২১ শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান খ্রীস্টানদের দ্বারা বিশেষ গোষ্ঠী গড়িয়া ওঠে এবং আরবী শব্দ মুস্তারিবের বিকল্প মুজারেব নামে অভিহিত হয় । ২২
ইউলোজিয়াস ফ্লোরার নিকট একটি পত্র লিখেন । ফ্লোরার সহিত সাক্ষাতের পর ইউলোজিয়াস ধর্ম বিদ্বেষী আন্দোলন পূর্ণদ্যোমে আরম্ভ করেন । দ্বিতীয় আবদুর রহমান তাঁহার সাম্রাজ্যের ধর্মীয় নেতাদের এক সভা আহবান করেন । এই সভায় বিশপ হযরত মুহাম্মদ (দঃ)-এর উপর অভিশাপের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ আরোপ ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করিয়া আদেশ জারী করেন । ২৩ ফ্লোরা পারফেকটাস এবং ইউলোজিয়াসের ন্যায় কর্ডোভার খ্রীস্টান যাজকগণ ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার দিতে থাকে । ইউলোজিয়াস ও ইসহাকের ভগ্নি ফ্লোরা এবং মেরীসহ কতিপয় ব্যক্তিকে ৮৫০ খ্রীস্টাব্দে মৃত্যু দণ্ডে দণ্ডিত করা হয় । এই আন্দোলনের ফলে বহু সংখ্যক মুজারেব স্বধর্মীয়দের কার্যকলাপে জড়িত থাকার সন্দেহ হইতে বাঁচিবার উদ্দেশ্যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে । ২৪ নবম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে স্পেনে নব মুসলিমদের সংখ্যা বেশি বৃদ্ধি পায় ।
টিকাঃ
১৯। গ্রনেবাউম, জি. ই. ভন, সম্পাদিত ইউনিটি এ্যান্ড ভ্যারাইটি ইন মুসলিম সিভিলাইজেশন, শিকাগো, ১৯৫৫, পৃঃ ২০৭।
২০। আরনল্ড, প্রিচিং অব ইসলাম, পৃঃ ১৩৭, ওয়াট. পৃঃ ৫৭, ৭২।
২১। হোল, আন্দালুস, পৃঃ ৩১।
২২। টলেডোর মোজারেবগণ ৬ষ্ঠ আল-ফন্সো কর্তৃক ১০৮৫ খ্রীঃ টলেডো বিজিত হওয়ার পর বহুদিন পর্যন্ত আরবি অক্ষরে স্পেনিশ লিখিত।
২৩। হোল, পৃঃ ৪৯।
২৪। এইচ. কে. শেরওয়ানী, মুসলিম কলোনিস, পৃঃ ১২৩; হেইনস্, সি আর, খ্রীস্টানিটি-এ্যান্ড ইসলাম ইন স্পেন, লন্ডন, ১৮৮৯।
📄 চরিত্র ও কৃতিত্ব
দ্বিতীয় আবদুর রহমানের রাজত্ব কালে উমাইয়া সাম্রাজ্য দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় । তাঁহার উজির ও প্রশাসনিক কর্মচারীদের মধ্যে ইসা বিন শহিদ, আবদুর রহমান বিন রুস্তম, ইউসুফ বিন বখত এবং মুহাম্মদ বিন সালাম উজির নিযুক্ত হইয়াছিলেন । ২৫ কর আদায়ের সুবিধার্থে ইবনে সাঈদের মতে, কর ছয় লক্ষ দিনার হইতে দশ লক্ষ দিনারে বৃদ্ধি করা হয় । ২৬ খলিফা কর্ডোভার জামে মসজিদকে আকারে বড় করেন । ২৭
বিজ্ঞানের উপর লিখিত গ্রীক ও ফার্সী ভাষার গ্রন্থগুলির আরবী অনুবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আব্বাস ইবনে নাসীহ মেসোপটেমীয়ার লাইব্রেরিগুলি তন্ন তন্ন করিয়া অনুসন্ধান করেন । ২৮ তাঁহার শাসনকালে কর্ডোভার লাইব্রেরি মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠ লাইব্রেরি রূপে গড়িয়া ওঠে । আমীর কর্ডোভায় একটি অনুবাদ সংসদ স্থাপন করেন । ২৯ খলিফা জাঁকজমকপূর্ণ রাজকীয় জীবন যাপন ও আনন্দোৎসবে প্রমত্ত হইয়া দিন কাটাইতেন । ৩০ প্রথম আবদুর রহমান যে সংস্কৃতি চালু করিয়াছিলেন দ্বিতীয় আবদুর রহমানের সময় উহা চরম উৎকর্ষ সাধিত হয় । ৩১
টিকাঃ
২৫। লেভি প্রভেঙ্কাল, লা-ইস্পানা, পৃঃ ৩৪ দেখুন।
২৬। ইফতিতাহ আল-আন্দালুস পৃঃ ৬৮-৬৯।
২৭। আল-মাক্কারী, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১২৪।
২৮। ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ২৬০।
২৯। ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ২৬০।
৩০। আল-মাক্কারী, ১ম খন্ড, পৃঃ ১৬২; ইবনুল কুতাইবা, পৃঃ ৫৮, ইবনুল আছির, ৭ম খণ্ড, পৃঃ ৪৬।
৩১। লেভি প্রভেঙ্কাল, লা-ইস্পানা, পৃঃ ১৯।