📄 তুদমির ও মেরিদার বিদ্রোহ
তাঁহার রাজত্বের প্রথম দিকে শহরবাসীদের অসন্তুষ্টির জন্য বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় । ৯ ২০৭ হিঃ/ ৭২২ খ্রীঃ ইয়ামানী ও মুজারীগণ পুনরায় তুদমিরে গোত্রীয় গৃহযুদ্ধ শুরু করে । তুদমিরের রাজধানী লোরকা হইতে মুরসিয়ায় স্থানান্তরিত করা হয় । ৮২৮ খ্রীঃ সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় । ২১২ হিঃ/ ৮২৮ খ্রীঃ মেরিদার খ্রীস্টান ও ইহুদীগণ প্রাক্তন কর আদায়কারী মাহমুদ ইবনে আবদুল জব্বার ও সুলায়মান বিন মারতিনের নেতৃত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করে । ১০ লুইস বিদ্রোহীদের প্ররোচিত করেন । ১১ ৮২৮ খ্রীস্টাব্দে বিদ্রোহীরা কর আদায়কারীদের গৃহ লুণ্ঠন করে ও কতিপয় কর আদায়কারীকে হত্যা করে । রাজকীয় বাহিনী প্রত্যাহারের শর্তে মেরিদার বিদ্রোহীগণ আত্মসমর্পণ করে । আমীর নিজে অভিযান পরিচালনা ও শহর অবরোধ করিলে বিদ্রোহীগণ তাহাদের কার্য হইতে বিরত হয় । ১২ এই অভিযানে ৭,০০০ হাজার বিদ্রোহী নিহত হয় ।
টিকাঃ
৯। ইবনে ইজারী, বেয়ান, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৯৪।
১০। ই. জি. গমেজ, হিস্টোরিয়া ডি ইস্পানা, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১৩৯-৪১ দেখুন।
১১। ইস্পানা সাগরেদা, ১৩শ খণ্ড, পৃঃ ৪১৬ দেখুন।
১২। ডম বাকেটের সংগ্রহ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ ৩৭৯ রেনাউদ কর্তৃক উদ্ধৃত। (অনুবাদ এইচ. কে. শেরওয়ানী) মুসলিম কলোনিস, পৃঃ ১১৩-১১৪ দেখুন।
📄 টলেডোর বিদ্রোহ
মেরিদাতে শান্তি স্থাপনের পরপরই টলেডোতে সাংঘাতিক বিদ্রোহ দেখা দেয় । এই বিদ্রোহে অংশ গ্রহণ করে খ্রীস্টান, নব মুসলিম ও ইহুদীগণ । হাশিম নামে এক কর্মকার নব মুসলিম ছিলেন ইহার নেতা । ৮২৯ খ্রীঃ টলেডোতে প্রত্যাবর্তনের পর সে প্রতিশোধ হিসাবে আরব ও বার্বারদের গৃহ লুণ্ঠন করে । ইবনে ওয়াসিম সেনাবাহিনী লইয়া টলেডো অভিমুখে অগ্রসর হন । হাশিম পরাজিত ও নিহত হয় । ৮৩৪ খ্রীঃ যুবরাজ উমাইয়ার নেতৃত্বে টলেডোতে শান্তি আনিবার জন্য একদল সেনা প্রেরিত হয় কিন্তু এই অভিযান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় । শেষ পর্যন্ত ইহা ৮৩৭ খ্রীস্টাব্দের ১৬ই জুন ২২২ হিঃ ৯ই রজব যুবরাজ ওয়ালিদ বিন হাকামের প্রবল আক্রমণের পর তাঁহার অধিকারে আসে । রাজধানী দেশের মধ্যবর্তী স্থলে অবস্থিত হওয়ায় শাসকদের দুর্বলতা সত্ত্বেও বহিরআক্রমণের হাত হইতে রক্ষা পায় ।
📄 খ্রীস্টান নেতাদের আক্রমণ
সত্যিকার সীমান্ত বলিতে আন্দালুসের উত্তরে কিছু ছিল না । আবদুর রহমানের শাসনের প্রথম দিকে লিওনের নেতা দ্বিতীয় আলফন্সো মদিনাত আল সালিম (মেদিনা সেলী) এবং আরাগোনা আকস্মিকভাবে আক্রমণ করে । গথিক মার্চের কাউন্ট বরেল মুসলিম রাজ্য আক্রমণ করে ৮২৩ ও ৮২৬ খ্রীঃ । খ্রীস্টানগণ সম্পূর্ণ রূপে পরাভূত হয় এবং তাহাদের দুর্গশহর লিওন হয় লুষ্ঠিত । ১৩
৮৩৮ খ্রীস্টাব্দে মুসলিম সেনাদের অভিযানের ফলে আস্তুরিয়া, গ্যালেসিয়া, আলেভা এবং ক্যাস্টাইল আক্রান্ত হয় । পাম্পলোনা পুনর্দখল করা হয় । বার্সিলোনা ও গ্যালেসিয়া মুসলমানদের অধিকারে আসে । ১৪ ৮৩৯ খ্রীস্টাব্দে রাজা লুইস মেদিনাসেলী আক্রমণ করেন কিন্তু প্রচুর ক্ষতিসহ পশ্চাদপসারণ করিতে বাধ্য হন । ১৫ লুইসের মৃত্যুর পর তাঁহার পুত্রগণ লানগুয়েডক অধিকারের জন্য যুদ্ধ করেন । এই পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করিয়া মুসলমানগণ রোন নদীর মোহনা দিয়া প্রভেন্সে প্রবেশ করে । ১৬ ৮০ খ্রীস্টাব্দের জুন মাসে দ্বিতীয় আবদুর রহমান স্বয়ং গ্যালেসিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন । পর পর দুই বার আস্তুরিয়াসের শাসনকর্তা আলফন্সোর উত্তরাধিকারী এবং পুত্র রামিরোর বিরুদ্ধে ৮৪৬ খ্রীঃ অন্য দুইটি অভিযান পরিচালিত হয় ।
টিকাঃ
১৩। এইচ. কে. শেরওয়ানী, মুসলিম কলোনিস, পৃঃ ১১৫।
১৪। ডম বাকেটের সংগ্রহ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ ৩০৮, মুসলিম কলোনিস, পৃঃ ১১৬।
১৫। মাক্কারী, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১৬১।
১৬। মুসলিম কলোনিস, পৃঃ ১১৮।
📄 কনস্টান্টিনোপল ও নাভারের রাষ্ট্রদুতগণ
এশিয়া মাইনর দখলের পর আব্বাসীয়রা কনস্টান্টিনোপলের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হয় । ২০৮ হিঃ/ ৮২৩ খ্রীঃ বাইজান্টাইন সম্রাট মিকায়েল দ্বিতীয় উন্নত জাতের ঘোড়া ও মূল্যবান উপহারসহ কর্ডোভায় দূত প্রেরণ করেন । সম্রাট মিকায়েলের উত্তরাধিকারী এবং পুত্র থিওফিলান মূল্যবান উপহারসহ কর্ডোভায় এক দূত প্রেরণ করেন এবং আব্বাসীদের বিরুদ্ধে উমাইয়াদের সাহায্য প্রার্থনা করেন । ১৭ খলিফা ইহার পরিবর্তে ইয়াহিয়া বিন হাকাম আল গাজ্জালের নেতৃত্বে কনস্টান্টিনোপলে দূত প্রেরণ করেন । বাইজান্টাইনের সহিত সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়িয়া ওঠে । নাভাররের কাউন্ট স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং সম্পর্ক দৃঢ় করিবার উদ্দেশ্যে কর্ডোভায় দূত প্রেরণ করেন । দ্বিতীয় আবদুর রহমান মরক্কো হইতে তিউনিস পর্যন্ত বার্বার রাজ্য দখল করেন ।
টিকাঃ
১৭। এইচ. কে. শেরওয়ানী, মুসলিম কলোনিস, পৃঃ ১২০।