📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 পূর্ব স্পেনে বিদ্রোহ

📄 পূর্ব স্পেনে বিদ্রোহ


হিশাম যখন ভাইদের বিদ্রোহ দমনে ব্যস্ত সেই সময় দেশের পূর্বাংশে ইয়ামানীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করিতেছিল । ১৭২ হিঃ / ৭৮৮ খ্রীস্টাব্দে তরতোসাতে বিদ্রোহের পতাকা উত্তোলন করে এবং উমাইয়া ট্যাক্স আদায়কারী ইউসুফ কাইসীকে বিতাড়িত করে । প্রাচীন ভিজিগথ পরিবারের অন্তর্গত বানু কাসী গোত্রের জনৈক নব মুসলিম নেতা মুসা বিন ফরতুনিওর নেতৃত্বে মুদারীগণ একত্রিত হইয়া কর্ডোভার উমাইয়া শাসনের পক্ষ অবলম্বন করে এবং ইয়ামানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে । সাইদ পরাজিত ও নিহত হন । তরতোসা মুসার অধীনে আসে । হুসাইন বিন ইয়াহিয়া আল আনসারীর ভক্ত ও অনুচর মাওলা হাজদারের পতাকাতলে একত্রিত হয় । ইতিমধ্যে সুলায়মান বিন ইয়াকজানের পুত্র মাতরুহ বার্সেলোনায় বিদ্রোহ ঘোষণা করেন । বিদ্রোহীদের হস্তে মুসা পরাজিত হন । বিদ্রোহীরা তরতোসা, সারাগোসা বার্সিলোনা হুয়েস্কা ও তারাগোনা দখল করে । স্পেনে উমাইয়া সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব বিপন্ন হইয়া পড়ে । হিশাম এই বিদ্রোহকে দৃঢ়তার সহিত দমন করেন । ১৭৫ হিজরী ৭৯১ খ্রীস্টাব্দে তিনি ভ্যালেন্সিয়ার গভর্নর আবু ওসমান ওবায়দুল্লাহ বিন ওসমানকে বিরাট সৈন্য বাহিনীসহ বিদ্রোহীদের দমন করিবার জন্য প্রেরণ করেন । সারাগোসা অবরুদ্ধ হয় । মাতরুহ তাহার নিজের লোকের হস্তে নিহত হন । বিদ্রোহীরা পরাজিত ও বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়ে । মুসা বিন ফরতুনিও সারাগোসার গভর্নর নিযুক্ত হন । ৩

টিকাঃ
৩। ইবনুল আছির, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ ১০২, ১১০, ১১১, ১১৪।

📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 ফ্রান্স অভিযান

📄 ফ্রান্স অভিযান


হিশাম অভ্যন্তরীণ শান্তি স্থাপনের পর মুসলমানদের জন্য স্থায়ী অশান্তির কারণ দেশের উত্তরে বসবাসকারী খ্রীস্টান নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রবৃত্ত হন । ফ্রাঙ্করা সব সময় আক্রমণকে উৎসাহিত করিত । ১৭৬ হিঃ/৭৯২ খ্রীস্টাব্দে হিশাম ফ্রাঙ্কের দক্ষিণ প্রদেশসমূহে অভিযান চালাইবার জন্য আবু ওসমানের নেতৃত্বে সেনাদল প্রেরণ করেন । এই প্রদেশ সমূহের গভর্নর ছিল মুসলমানদের জাতশত্রু । দুই দলে বিভক্ত হইয়া সেনাদল অগ্রসর হয় । একদলের নেতৃত্ব প্রদান করেন আবদুল মালিক বিন আবদুল ওয়াহিদ । তিনি ৭৯২ খ্রীস্টাব্দে ছেরডাগ্নে দখল করেন । এবং নারবোনের সন্নিকটে ফ্রাঙ্কদের পরাজিত করেন । সেপ্টিমানিয়ায় বসবাসকারী মুসলমানদের রাজধানী নারবোনের পতনের ৩২ বৎসর পর মুসলমানরা পুনরায় ইহা দখল করেন । পর্বত শ্রেণীময় নয়নাভিরাম বিখ্যাত রাজধানী জিরোনাও মুসলমানরা অধিকার করিয়া নেন । মুসলমানদের প্রতিহত করিবার মত শক্তিশালী সেনাবাহিনী ছিল না খ্রীস্টানদের । এক দিকে জার্মানীতে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল চার্লেমাগ্নে অপরদিকে তাহার পুত্র লুইস আকিটেনের রাজা ইটালীতে ছিলেন যুদ্ধে ব্যস্ত । তুলসের ডিউক উইলিয়ামের নেতৃত্বাধীনে কৃষকরা মুসলমানদের অগ্রাভিযানে বাধা প্রদান করে । অরবিনা নদীর তীরে ভিলেডায়িগ্নে নামক জায়গায় যুদ্ধ হয় । এই যুদ্ধে তুলুসের ডিউক পরাজিত হন এবং সেপ্টিমানিয়াসহ বহু শহর মুসলমানদের অধিকারে আসে । আবদুল করিম বিন আবদুল ওয়াহিদের নেতৃত্বে চল্লিশ হাজার সৈন্যের অপর দল আস্তুরিয়া ও গ্যালেসিয়া আক্রমণ করে । আস্তুরিয়ার রাজা প্রথম বারমুডো ও তাহার ভাইপো দ্বিতীয় আলফন্সো মুসলমানদের বিরুদ্ধে আস্তুরিয়া ও গ্যালেসিয়ার সেনা বাহিনী পরিচালনা করেন । একাধিক যুদ্ধ হয় এবং যুদ্ধে বহুসংখ্যক খ্রীস্টান মৃত্যুবরণ করে । প্রথম বারমুডো ইউসুফ বিন বখতের নিকট এবং আলফন্সো আবদুল করিমের নিকট পরাজিত হয় । মুসলমানদের যুদ্ধ জয়ের সংবাদ যখন কর্ডোভায় পৌঁছে তখন রাজধানীর জনগণ আনন্দে উল্লসিত হইয়া উঠে । মুসলমানদের ফিরিবার পথে খ্রীস্টানরা তাহাদের আক্রমণ করে । এই আক্রমণে মুসলমানদের পরাজয় হয় এবং কতিপয় মুসলিম সেনাপতি নিহত হন । মুসলমানদিগকে পশ্চাদপসারণ করিতে হয় । ফলে দেশের উত্তরাংশে একটি খ্রীস্টান রাষ্ট্র জন্মলাভ করে । এই রাষ্ট্রটি স্পেনে মুসলিম শাসন আমলে বরাবর অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করিয়াছে । উত্তরাংশে প্রতিষ্ঠিত এই রাষ্ট্রটির বিস্তারিত আলোচনা পরে করা হইবে ।

📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 স্পেনে মালিকী মতবাদের প্রচলন

📄 স্পেনে মালিকী মতবাদের প্রচলন


হিশাম ছিলেন ধর্মভীরু । তাহার পিতার ন্যায় তিনিও ফুকাহাদের (ধর্মগুরু) দ্বারা প্রভাবান্বিত হইয়াছিলেন । বাল্যকাল হইতে হিশামের মধ্যে এক প্রকার মানবিক দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয় । তাহার সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী ছিল যে, তাহার শাসনকালের স্থায়ীত্ব হবে আট বৎসর । এই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হয় । আমীর এই ভবিষ্যদ্বাণীর দ্বারা বিরাট ভাবে প্রভাবিত হইয়াছিলেন । সাম্রাজ্যকে সম্প্রসারিত ও সুসংহত করিবার পরিবর্তে তিনি তাহার কর্মপ্রেরণা ও কর্মক্ষমতাকে মৃত্যু পরবর্তী জীবনের নিরাপত্তায় নিয়োগ করেন । ইহকালের পরিবর্তে পরকালের মঙ্গলে তিনি গুরুত্ব প্রদান করেন । উমাইয়া শাসকদের মধ্যে তাহাকে দ্বিতীয় ওমর ইবনে আবদুল আজিজের সঙ্গে তুলনা করা যায় । তিনি ছিলেন চার মুজাহাবের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ইমাম মালিক ইবনে আনাসের ভক্ত ও শিষ্য । ইমাম মালিকের জন্ম হয় ৭১৫ খ্রীষ্টাব্দে মদীনায় । আলীর শিক্ষার দাবীদার মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহর প্রতি সমর্থনের দরুন আব্বাসীয় খলিফা জাফর আল মনসুর তাহাকে ঘৃণা ও অবজ্ঞা করিতেন । হিশাম তাহাকে স্পেনে আগমন ও বসতি স্থাপনের অনুরোধ জ্ঞাপন করেন । আব্বাসী অত্যাচার সত্ত্বেও ইমাম এই প্রস্তাবে রাজী হইলেন না । মদীনাতে ইমাম মালিকের সহচর্যে যাইয়া ধর্মতত্ত্বে গভীর জ্ঞান লাভ করার পর ইমামের মতবাদকে স্পেনে প্রচার করিবার জন্য হিশাম ছাত্রদিগকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করিতেন । স্পেনে ইমামের শিষ্যদের মধ্যে ইয়াহিয়া বিন ইয়াহিয়া ও ইসা বিন দিনারের নাম উল্লেখযোগ্য । বিশেষ করিয়া ইমাম মালিক নিজে ইয়াহিয়া বিন ইয়াহিয়াকে "স্পেনের জ্ঞানী লোক" বলিয়া অভিহিত করেন । ইমাম তাঁহার স্পেনের শিষ্যদের মাধ্যমে হিশামের ধর্মানুরাগ ও সৎ চরিত্রের খবর অবগত হইয়া ঘোষণা করেন যে একমাত্র হিশামই সিংহাসনের উপযুক্ত । হিশাম তাহার সাম্রাজ্যে মালিকী মতবাদ প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন । রাষ্ট্রীয় কার্যে মালিকী মতবাদ অনুসরণ করা হইত । ইহার পূর্বে এখানে আল আওজায়ী সুন্নী মুজাহাবের মতবাদ প্রচলিত ছিল । ইমাম মালিক বিন আনাস কর্তৃক প্রচারিত মতবাদ আওজায়ী প্রচারিত মতবাদ হইতে কিছুটা উন্নত ও ভিন্নতর ছিল । হিশাম বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারী পদে অগ্রাধিকার প্রদান করিতেন ইমাম মালিকের শিষ্যদের । আবু আবদুল্লাহ জাইয়াদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে জাইয়াদ আল-লাখমী, শাবাতুন নামে অধিক পরিচিত (মৃঃ ২০৪ হিঃ/৮১৯ খ্রীঃ) এবং বার্বার ফিকাহবিদ ইয়াহিয়া বিন ইয়াহিয়া আল লাইসী মদীনা হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া ইমাম মালিকের মতবাদকে তাহাদের লেখনী ও বক্তৃতার মাধ্যমে প্রচার করেন । মুসলিম আইনের গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য সর্বপ্রথম গ্রন্থ 'কিতাব আল মুয়াত্তা' প্রণয়ন করেন ইমাম মালিক । এই গ্রন্থের অনুলিপি স্পেনে প্রচারিত হয় ব্যাপকভাবে । মালিকী মতবাদে বিশ্বাসী ধর্ম বেত্তাগণ শুধু উচ্চ রাজপদেই আসীন ছিলেন না, তাহারা আমীরের সামান্যতম ইসলামী আদর্শ বিরোধী ব্যবহারের দরুন ভৎসনা করিতেন । ফলে আমীরকে ক্ষমা প্রার্থনা করিতে হইত । হিশাম ফিকাহ শাস্ত্রবিদদের প্রতি অগাথ বিশ্বাস স্থাপন করিতেন । তাহাদের আচরণ হইতে ইহা পরিষ্কারভাবে অনুধাবন করা যায় যে তাহাদের উদ্দেশ্য ছিল ধর্মের ছদ্মবেশে রাজনীতি করা । আমীর যদিও খ্রীস্টানদের প্রতি অসহিষ্ণু ছিলেন না কিন্তু প্রথম হিশামের উপর ধর্মবেত্তাদের প্রভাবের দরুন খ্রীস্টানদিগকে তিনি দূরে রাখিতেন । স্বাভাবিক সহনশীলতা প্রদর্শন করলে হয়তো খ্রীস্টানরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করত—যেমন হইয়াছিল পূর্ববর্তী শাসকদের আমলে ।

📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 চরিত্র ও কৃতিত্ব

📄 চরিত্র ও কৃতিত্ব


প্রথম আবদুর রহমান স্পেনে উমাইয়া সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন । কিন্তু ইহাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করিবার দায়িত্ব অর্পিত হয় তাহার উত্তরাধিকারদের ওপর । হিশামের শাসনকাল যদিও বিরাট কোন সামরিক অভিযান অথবা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক উন্নতি সাধনের জন্য উল্লেখযোগ্য ছিল না, তথাপিও তিনি এই নতুন প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রকে বিপদের হাত হইতে রক্ষা করিতে সমর্থ হন । তিনি প্রথম বারমুডো ও দ্বিতীয় আলফন্সোর নেতৃত্বে আস্তুরিয়াদের প্রচণ্ড আক্রমণকে প্রতিরোধ ও প্রতিহত করেন । তিনি দক্ষিণ ফ্রান্সে অভিযান প্রেরণ করেন এবং তাঁহাকে গতিচ্যুত করার জন্য সচেষ্ট বিদ্রোহী নেতাদের প্রচেষ্টাকে তিনি বার বার ব্যর্থ করিয়া দেন । বিদ্রোহীরা সংখ্যায় ছিল অধিক । ফলে তাহাকে এই সমস্ত বিদ্রোহীদের দমন করিবার কাজে অধিকাংশ সময় ব্যস্ত থাকিতে হয় । তিনি তাহার তিন পুত্র উমায়াদ আল মালিক, মুয়াবিয়া এবং হাকামের সহযোগিতায় এই সমস্ত বিদ্রোহীদের দমন করিতে সমর্থ হন । আবদুল মালিক এবং আবদুল করিম নামে আবদুল ওয়াহিদ মুগিছের দুই প্রৌ-পুত্র এই বিদ্রোহ দমনে তাহাকে সাহায্য করেন । তিনি তাহার শাসনের শেষ দিকে যে শান্তিপূর্ণ স্বল্প সময় পান তাহা রাষ্ট্রের প্রশাসন যন্ত্র এবং সামাজিক জীবনের উন্নয়ন ও কল্যাণ সাধনে নিয়োজিত করেন । তিনি তাহার পিতার উজির ও প্রশাসনিক কর্মচারীদের নিজ নিজ পদে বহাল রাখেন কিন্তু দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে অপ্রয়োজনীয় আইন পরিবর্তন করেন । মাক্কারী বলেন, "দুর্নীতি পরায়ণ ও অসৎ কর্মচারীদের তিনি বরখাস্ত করেন এবং কখনও তাহাদিগকে পুনর্নিয়োগ করেন নাই ।" ৪ তিনি বেআইনী কর আদায় নিষিদ্ধ করেন এবং যাকাত ও ছাদকা আদায়ের আদেশ দেন । সুশিক্ষিত ব্যক্তিদের তিনি বিচারক নিযুক্ত করেন । কর্ডোভার প্রধান বিচারপতি মুসাব বিন ইমরান তাহার বিচার বুদ্ধি ও বিচক্ষণতা এবং হিশামের সেক্রেটারী মুহাম্মদ বিন বশির আল মাদিরী তাহার ধর্মপরায়ণতা, অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গভীর জ্ঞানের জন্য সুপরিচিত ছিলেন । হিশামের অনুসৃত নীতির ফলে দেশের ব্যবসা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নতি সাধিত হয় । আমীর রাজপথ নির্মাণ এবং গোয়াদালকুইভির নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণ করেন । তিনি একটি সুন্দর ঝর্ণা প্রস্তুত করেন যাহা রাজধানীর শ্রীবৃদ্ধি করে । হিশাম নতুন নতুন প্রাসাদ নির্মাণ ও পুরাতন সরকারী অট্টালিকাসমূহের মেরামতে বিশেষভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন । কর্ডোভার জামে মসজিদ নির্মাণের কার্য সমাপ্ত করেন—যাহা তাহার পিতা নির্মাণ করিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন । ইহা দৈর্ঘ্যে ছিল ৬০০ ফুট এবং প্রস্থে ছিল ২৫০ ফুট । ইহা তৈয়ার করিতে ব্যয় হইয়াছিল এক লক্ষ ৬০ হাজার দিনার । এই মসজিদ তৈয়ারীর এগার শত বৎসর পরেও ইহার সৌন্দর্য ও আকর্ষণ এতটুকুও ক্ষুণ্ণ হয় নাই । ইহা ব্যতীত তিনি আরও অনেক মসজিদ নির্মাণ করেন । ৫ দামেস্কের ওমর বিন আবদুল আজিজের ন্যায় তিনিও তাহার সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশে গুপ্তচর প্রেরণ করিয়া তাহার প্রজাদের অবস্থা এবং সরকারী কর্মচারী ও গভর্নরদের যোগ্যতা সম্বন্ধে নির্ভরযোগ্য খবর সংগ্রহ করিতেন এবং নিশ্চিত হইতেন । জনসাধারণের অবস্থা অবগত হইবার জন্য তিনি নিজে রাত্রিতে ছদ্ম বেশে কর্ডোভার রাজপথে ভ্রমণে বাহির হইতেন । আমীরের অমায়িক ব্যবহারে মুগ্ধ হইয়া মুসায়াব প্রধান বিচারকের পদ গ্রহণ করিতে সম্মত হন । তিনি ছিলেন আরবী কবিতার ভক্ত এবং নিজে ছিলেন একজন কবি । তাহার দরবারের বিখ্যাত কবি ছিলেন আমর ইবনে আলী গাফফার । পণ্ডিত ব্যক্তিদের মধ্যে যাহাদের তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করিতেন তাহারা হইলেন ইসা বিন দিনার, আবদুল মালিক বিন হাবিব, ইয়াহিয়া বিন ইয়াহিয়া, সাইদ বিন হাসান এবং ইবনে আবু হিন্দ । ৬ হিশাম তাহার পিতার ন্যায় নিজেকে আমীর বলিয়া দাবী করিতেন । যতদূর জানা যায় তিনি মুদ্রা ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন সাধন করেন নাই । তিনি ছিলেন নিয়মানুবর্তী ও সুন্দর স্বভাবের অধিকারী । হিশাম ছিলেন একজন ধার্মিক বাদশাহ । রাজপরিবারের সাদা পোষাক তিনি পরিধান করিতেন । আইনবিদদের নিকট তিনি ছিলেন খুবই জনপ্রিয় । তিনি ছিলেন ন্যায়বান ও দয়ালু । দরিদ্রদের জন্য তাহার দ্বার ছিল অবারিত । ৭ তাহার চরিত্র ও ব্যবহারকে ওমর বিন আবদুল আজিজের সহিত যথার্থই তুলনা করা যায় । জাইয়াদ বিন আবদুর রহমান লাখমীর নিকট তাহার ধর্মানুরাগের কথা শুনিয়া ইমাম মালিক বিন আনাস ৮ এতই মুগ্ধ হন যে তিনি হিশামের সহিত হজ্জব্রত পালনের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন । ৯

টিকাঃ
৪। নাফলুল-তিব, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১৫৮; মাজমুয়া আখবার, আন্দালুস, পৃঃ ১২১।
৫। ঐ, পৃঃ ১৫৮; রিয়াসত আলী, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৩৫৩।
৬। রিয়াসত আলী, দ্যা তারিখ-ই-আন্দালুস, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৩৫৩।
৭। মাজমুয়া, পৃঃ ১২০-১২১।
৮। ইবনুল আছির, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১০২; নাফলুল-তিব, পৃঃ ১৫৮।
৯। আল-আন্দালুস, পৃঃ ৪৩; নাফলুল তিব, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১৫৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px