📄 চরিত্র ও কৃতিত্ব
প্রথম আবদুর রহমান ৫৯ বৎসর বয়সে ১৭৩ হিঃ/ ৭৮৮ খ্রীঃ রবিউল আওয়াল মাসে পরলোক গমন করেন । তিনি তাহার ৩২ বৎসরের শাসন আমলে বার্বার ইয়ামানী ও ফিহরীদের বৈরিতার মোকাবিলা করিয়াছেন । যে বিশেষ পন্থায় আবদুর রহমান রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং জনগণের হৃদয় জয় করিয়া নিজের পক্ষে আনয়ন করেন তাহা সকলের প্রশংসা পাইবার যোগ্য । তিনি ছিলেন জ্ঞানী, বিচক্ষণ ও কৃতবিদ্য এবং সংস্কৃতিমনা শাসক । ৩৫ তাহার সেনাপতিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন বদর, তাম্মাম বিন আল কামাহ, হাবিব বিন আবদুল মালিক আল কারশী এবং আছিম বিন মুসলিম ছাকাফী । অনেক সময় আমীর নিজেই সৈন্য পরিচালনা করিতেন । ৭৭৩ খ্রীস্টাব্দে তিনি খলিফা মনসুরের নামে খুতবা পাঠ বন্ধ করেন এবং নিজে 'আমীরুল মুসলিমীন' খেতাব ধারণ করেন । ৩৬
আমীর তাহার রাজ্যকে ছয়টি প্রদেশে বিভক্ত করেন । তাহার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাম্মাম বিন আলকামাহ । ৩৭ উমাইয়া বিন জাইয়াদ ছিলেন তাঁহার প্রাসাদের সচিব । ৩৮ প্রধান বিচারপতি পদে ইয়াজিদ আল ইয়াকুবি বহাল ছিলেন । ৩৯ তাহার পরে শায়েক মাসার বিন ইমরান উক্ত পদে অধিষ্ঠিত হন । ৪০ সচিবালয় অবস্থিত ছিল বাবুল সুদ্দার নিকট আল কাইজারে । ৪১ আমীর প্রায়ই তাহার প্রজাদের অভাব অভিযোগ ও কর্মচারীদের আচরণ সম্বন্ধে খবর সংগ্রহের জন্যে ভ্রমণে বাহির হইতেন । প্রথম আবদুর রহমান তাহার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কৃত্রিম জল প্রণালী নির্মাণ করান কর্ডোভা নগরে । ৪২ তিনি সিরিয়া ইরাক মিশর ও প্রাচ্যের অন্যান্য দেশ হইতে সব রকমের ফল ও ফুলের বীজ সংগ্রহের জন্য লোক প্রেরণ করেন । ৪৩ দামেস্ক হইতে প্রচারিত মুদ্রার ন্যায় মুদ্রা তৈয়ার করিবার জন্য কর্ডোভাতে তিনি একটি টাকশাল নির্মাণ করেন । ৪৪ তিনি মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম ও সৌন্দর্যে অদ্বিতীয় কর্ডোভার জামে মসজিদ তৈয়ার করিতে ব্যয় করেন ৮০,০০০ হাজার দিনার । ১৭০ হিজরীতে ৭৫০ খ্রীস্টাব্দে ১২ মাসে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয় । মসজিদের পার্শ্বে একটি মাদ্রাসা নির্মিত হয় যাহা পরবর্তীকালে কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয় । আমীর নিজে একজন সুসাহিত্যিক ছিলেন । তাঁহার প্রভাবে ও আগ্রহে সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রেও নব তৎপরতা ও উদ্যোম দেখা দেয় । হিশাম বিন আব্দুল্লাহ ও তাহার ভ্রাতাগণ তাঁহার দরবারের বিখ্যাত সুধী ছিলেন ।
টিকাঃ
৩৫। ইবনুল কুতাইবা, পৃঃ ৩৪, ৩৫, ৩৬।
৩৬। ইবনুল খাতিব, খেলাফত-ই-মুয়াহিদীন, পৃঃ ১৩-১৪ দেখুন।
৩৭। মেনেন্দেজ পিদাল, হিস্টোরিয়া ডি ইস্পানা, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৫৬৯-৫৭০।
৩৮। গায়ানগোস, ১ম খণ্ড পৃঃ ৮৬।
৩৯। ইবনুল আছির, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ৩৭৯; ইবনে খালদুন, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ৪২১।
৪০। গায়ানগোস, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৮৬।
৪১। নাফলুল-তিব, ১ম খণ্ড, পৃঃ ২১৭-২১৮, রিবেরা আলজুকসানী মূল পৃঃ ৩৩, অনুবাদ পৃঃ ৪১।
৪২। আমীরাত শাসনামলের কোন মুদ্রা আমাদের হস্তগত হয় নাই।
৪৩। ইবনুল আছির, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ ৭৬; নাফলুল তিব ২য় খণ্ড, পৃঃ ৬৯।
৪৪। ঐ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ ৭৭, ঐ, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৬৯, ৭৬।