📄 আবদুর রহমান আমন্ত্রিত
স্পেনে যখন বদর আগমন করেন তখন সেখানকার রাজনৈতিক অবস্থা ছিল খুবই গোলযোগপূর্ণ এবং ঘোলাটে । তিনি এলভিরাতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী দামেস্ক প্রদেশের প্রধান আবদুল্লাহ বিন খালিদ এবং ওবায়দুল্লাহ বিন ওসমানের হাতে আবদুর রহমানের একটি চিঠি প্রদান করেন । উভয় নেতা ছিলেন হযরত ওসমানের মাওয়ালী । তাহারা এবং সেভিলের নিকট মুরাহর অধিবাসী আবুল সাববাহ বিন ইয়াহা আল ইয়াহ সুবির অধীন ইয়ামানীদের মন জয় করিয়া তাহাদের পক্ষে আনয়ন করে এবং মুজারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য তাহাদিগকে উত্তেজিত করে । তাহারা ইউসুফের দক্ষিণ হস্ত সুমায়েল বিন হাতিম বিন শিমারকে তাহাদের পক্ষে আনিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয় । দেশের উত্তরাংশে ইউসুফ এবং সুমায়েল যুদ্ধে ব্যস্ত ছিলেন জানিতে পারিয়া, ইয়ামানীরা সাহায্যের আশ্বাস প্রদান করিয়া উমাইয়াদের দ্বারা মুক্ত ব্যক্তিগণ বদরের সহিত আবু গালিব তাম্মাম এবং অন্য আরও দশজন গোত্রীয় প্রধানকে ইউসুফ সামরিক সাহায্যের জন্য যে টাকা পাঠাইয়াছিল তাহা প্রদান করিয়া আবদুর রহমানকে আনয়নের জন্য প্রেরণ করেন । ৪
স্পেনের দুই বিখ্যাত নেতা ওবায়দুল্লাহ বিন ওসমান এবং আবদুল্লাহ বিন খালিদ সমভিব্যাহারে আবদুর রহমান ১৩৮ হিঃ আখের ৭৫৫ খ্রীস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে আল মুনেকার বন্দরে অবতরণ করেন । ৫ আবদুর রহমান জেবিল নদীর তীরে ইজনাজার ও লোজার মধ্যবর্তী স্থলে অবস্থিত টোরোক্সের দুর্গের দিকে অগ্রসর হন । ৬ তাহাকে আন্তরিক ভাবে অভ্যর্থনা জানান হয় । তিনি ভবিষ্যতে অনিবার্য যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেন । যুদ্ধে অংশ গ্রহণেচ্ছু ব্যক্তিগণ দলে দলে তাহার সৈন্য বাহিনীতে যোগ দান করে । টোরোক্সে তাঁহার সেনা বাহিনীতে যে সব বিখ্যাত নেতাগণ যোগদান করিয়াছিলেন তাহাদের মধ্যে ছিলেন টোরোক্সের আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন বখত, সেভিলের আবু আবদাহ হাসান বিন মালিক কালবী, আবুল সাবাবাহ বিন ইয়াহা ইয়াহ সুবি ও আলকামাহ বিন গিয়াস লাখমী । ৭
দেশের সুদূর দক্ষিণাংশে যখন এই সমস্ত ঘটনা ঘটিতেছিল সেই মুহূর্তে ইউসুফ আমীর আল-আবদারী ও হুবাব আল জুহরীর নেতৃত্বাধীনে ছাগারের (আরাগোন) বিদ্রোহীদের দমনে ব্যস্ত ছিলেন । সারাগোসায় বার্বার বিদ্রোহের বিরুদ্ধে তাহার অভিযান সফল হইয়াছিল । তিনি তাহার অঙ্গীকার ভঙ্গ করিয়া হুবাব আল জুহরী ও আমীর এবং তাহার পুত্র ওহাব ও হুবাবসহ বহু ইয়ামানী ও কুরাইশ নেতাকে হত্যা করিয়াছিলেন । এবং সুমায়েলের প্ররোচনায় ইবনে শিহাবের উপর অত্যাচার করিয়াছিলেন । ৮ ইহার ফলে সেনাদের মধ্যে আস্থাহীনতা দেখা দেয় এবং তাঁহার বহু দৃঢ় সমর্থক তাহাকে ত্যাগ করিয়া যুবরাজ আবদুর রহমানের পক্ষে যোগদান করে । ৯ এই সময় কর্ডোভায় অবস্থানরত তাঁহার স্ত্রী উম্মে ওসমান তাহাকে আবদুর রহমানের আগমন সম্বন্ধে অবহিত করায়, তিনি দ্রুত রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেন । ১০ কিন্তু আবদুর রহমানকে আক্রমণের জন্য সেনাবাহিনীর তরফ হইতে কোন সমর্থন ও সাড়া পাওয়া যায় না । উপরন্তু বর্ষাকাল হওয়ায় সেনা পরিচালনায় অসুবিধা দেখা দেয় । ইহাতে উমাইয়া যুবরাজ সেনা সংগ্রহ ও তাহাদেরকে ট্রেনিং দিয়া গড়িয়া তোলার জন্য প্রচুর সময় পান । ইউসুফের সেনাবাহিনী টোরোক্সে আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে যদি যুদ্ধ করিত তাহা হইলে স্পেনের ইতিহাস হয়ত অন্য রকম ভাবে লিখিত হইত । নিজেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখিয়া ইউসুফ যুবরাজের সহিত বিরোধ মীমাংসা করিতে চেষ্টা করেন । বিরোধ মীমাংসায় উপনীত হওয়ার জন্য তিনি খালেদের হাতে সুললিত ভাষায় লিখিত ১১ একখানা চিঠি ও তাহার কন্যাসহ প্রচুর উপঢৌকন, দুইজন বিশেষ দূত, উবায়েদ বিন আলী এবং ইসা বিন আবদুর রহমানকে, যুবরাজের নিকট প্রেরণ করেন । কিন্তু সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয় । অস্ত্রধারণ ব্যতীত তাহার সম্মুখে তখন আর অন্য কোন পথ খোলা ছিল না । ইউসুফের দলত্যাগকারী সৈন্যদের যোগদানের ফলে আবদুর রহমানের সেনাবাহিনী বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় । কাইসী দলপতিগণ, জাবির ইবনে শিহাবের পুত্র ১২, যাহাকে সুমায়েল বাসকিউস এলাকায় প্রেরণ করিয়া হত্যা করিবার ষড়যন্ত্র করিয়াছিল এবং ইবনে শিহাবের সঙ্গী হুসাইন অল্পের জন্য মৃত্যুর হাত হইতে রক্ষা পান । এবং সম্প্রতি আফ্রিকা হইতে আগত বহু সংখ্যক অশ্বারোহী সৈন্য আবদুর রহমানের সঙ্গে যোগদান করে । ইহা জানিতে পারিয়া ইউসুফ তাহাকে বাধা প্রদান করিবার জন্য রাজধানী ত্যাগ করিয়া অগ্রসর হন । আবদুর রহমান ইউসুফের অনুপস্থিতির সুযোগ লইয়া কর্ডোভা দখল করিবার জন্য যাত্রা করেন ।
টিকাঃ
৪। নাফলুল-তিব, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৬৪; ইবনুল কুতাইবা, পৃঃ ২২-২৩।
৫। পারেজা ফিলিক্স এম, ইসলামোলোজিয়া, পৃঃ ১৬৫ দেখুন।
৬। ডজি, পৃঃ ১৭৬ ও টীকা-৩; আধুনিক টুরক্স নহে।
৭। আল-মাক্কারী, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৬৬।
৮। কূটনীতিকদের প্রধান দায়িত্ব ছিল ভদ্রোচিত ভাষায় পত্র বিনিময় এবং আরবি ভাষা ছাড়াও তাহাকে হিব্রু ও স্পেনিশ ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করিতে হইত। ইহা ছাড়া তাহাকে শিল্পকলা ও বিজ্ঞান বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হইতে হইত।
৯। ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ১৮১-৮৪, ১৯৪ দেখুন।
১০। ঐ, পৃঃ ১৮৫, রিয়াসত আলী, ১ম খণ্ড, পৃঃ ২১১ দেখুন।
১১। ইবনে কুতাইবা ইহাকে বাগিদা বলে উল্লেখ করেছেন (আল-মাক্কারী, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৬৯) এবং স্পেনিশে আলমাজারা।
১২। ইউসুফ জায়েনের সুজারে (Xodon) এবং স্যামুয়েল মেরিদাতে আত্মগোপন করেন (আল-মাক্কারী, পৃঃ ৭২)।
📄 আমীর আবদুর রহমান
আর্কিডোনায় ও সিদোনীয়ায় আবদুর রহমানকে জনগণ বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সহিত গ্রহণ করেন । আরকিডোনা ও সিদোনীয়ায় জর্দান এবং প্যালেস্টাইন অঞ্চলের সিরীয়রা বসবাস করিত । আবদুর রহমান ১৩৮ হিঃ ১লা শাওয়াল/৭৫৬ খ্রীঃ ৮ই মার্চ রাইউহর (রেজিওর) রাজধানী আরকিডোনায় প্রবেশ করেন । সেখানে তাহাকে আমীর বলিয়া ঘোষণা করা হয় । তাঁহার নামে খুতবা পাঠ করা হয় । রাইউহর গভর্নর ইসা বিন মাসাওয়ার জিদার বিন ওমর জনৈক কাইসী নেতা ও উপস্থিত জনগণ তাহার প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন । আবদুর রহমান ৪০০ মাওয়ালী ও তাহাদের অশ্বারোহী সৈন্য এবং রোণ্ডা জিলার বার্বার ও ইয়ামানীদের সঙ্গে লইয়া সেভিলে পৌঁছেন । সেখানে প্রধানত হিমসের আরবগণ বসবাস করিতেন । সিদোনীয়া ও রোণ্ডার গভর্নর গিয়াস বিন আল কামাহ আল লাখমী এবং ইব্রাহীম বিন শাজরাহ আবদুর রহমানের সহিত যোগদান করেন । এইরূপে রক্তপাতহীনভাবে যুবরাজ আবদুর রহমান ৭৫৬ খ্রীস্টাব্দের মার্চের মাঝামাঝি সময়ে স্পেনের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জেলাসমূহের শাসন ক্ষমতা দখল করেন ।
📄 মুসারাহর যুদ্ধ
টলেডো এবং মুরসিয়া প্রদেশের দুর্ধর্ষ সৈন্য সংগ্রহ করিয়া ইউসুফ যুবরাজের গতিকে প্রতিহত করিবার জন্য গোয়াদালকুইভির নদীর ডান পাশ দিয়া কর্ডোভা হইতে সেভিলের দিকে অগ্রসর হন কিন্তু যুবরাজ ইতিমধ্যে উক্ত স্থান ত্যাগ করিয়া একই নদীর বাম পাশ দিয়া কর্ডোভা অভিমুখে যাত্রা করেন । ছয় বৎসর যাবত দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত কর্ডোভা লুণ্ঠন করিবার জন্য আবদুর রহমান হুমকি দিলেন ।
আবদুর রহমানের সেনাবাহিনী ইউসুফের সেনাবাহিনীর ন্যায় প্রয়োজনীয় রসদের স্বল্পতায় ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় । কর্ডোভা অবরোধের খবর পাইয়া ইউসুফ বিচলিত হইয়া পড়েন এবং তিনি সেভিল হইতে বিরাট সেনাবাহিনী লইয়া রাজধানীর দিকে দ্রুত অগ্রসর হন । আবদুর রহমান তাঁহার কিছু সংখ্যক সহচরকে কর্ডোভা অবরোধের জন্য রাখিয়া নিজে ১০,০০০ হাজার সৈন্যকে সঙ্গে লইয়া শত্রুর মোকাবিলা করিবার জন্য মুসারাহতে রওয়ানা হন । ১৩ গোয়াদালকুইভির নদী মুসারাহ ও পশ্চিমে কর্ডোভার মধ্য দিয়া প্রবাহিত । গোয়াদালকুইভির নদী তুসিনার নিকট দিয়া পারাপার হইবার জন্য পায়ে হাঁটা রাস্তা ছিল । কিন্তু পানি ছিল অধিক । ইউসুফের পূর্বে প্রেরিত শান্তি প্রস্তাব গ্রহণের ভান করিয়া আবদুর রহমান মুসারাহর নিকট নদী অতিক্রম করিতে সমর্থ হন এবং ১৩৮ হিঃ জিলহজ্জ শুক্রবার ৭৫৬ খ্রীস্টাব্দের ১৪ই মে ইউসুফের সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করেন । এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয় । আবদুর রহমানের অশ্বারোহী সেনাবাহিনীর তীব্র আক্রমণে ইউসুফের সেনাবাহিনী ছত্রভঙ্গ হইয়া পলায়ন করে । ইউসুফের অশ্বারোহী সৈন্য দ্বারা তাহার স্বীয় পলায়নপর বিশৃঙ্খল সেনাদল পদদলিত হয় । এই ছিল মুসারাহর যুদ্ধ, যাহা পরবর্তী বহু বছরের জন্য স্পেনের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে ।
ইউসুফ টলেডোতে পলাইয়া যান এবং সুমায়েল আশ্রয় গ্রহণ করে জায়েনে । ১৪ ইউসুফের পুত্র আবদুল্লাহ এবং সুমায়েলের পুত্র জাওশান যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয় । প্রথম আবদুর রহমান বহু সৈন্যকে বন্দী করেন । তিনি পরের দিন ১০ই জিলহজ্জ (১৩৮ হিঃ) কর্ডোভা দখল করেন এবং নিজে জুমার নামাজে ইমামতি করেন । ১৫ যাহারা আত্মসমর্পণ করিয়াছিল তাহাদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন করা হয় । পরাজিত গভর্নরের হেরেমকে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় । ইউসুফের কন্যা আবদুর রহমানকে হুলাল অথবা হোরা নামে তাহার এক যুবতী দাসীকে উপহার হিসাবে প্রদান করেন । এই দাসী-হোরার গর্ভেই পরবর্তীকালে হিশামের জন্ম হয় । যদিও আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুরের নামে খুতবা পাঠ করা হইত তথাপি আবদুর রহমান নিজেকে স্পেনের আইনসম্মত শাসক বলিয়া নিজেকে দাবী করিতেন ।
টিকাঃ
১৩। ইবনুল আছির, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ৩৮১; আল-রিয়াসত আলী, ১ম খণ্ড, পৃঃ ২৬০।
১৪। ইবনুল আছির, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ৩৭৮।
১৫। মাজমুয়া আখবার, পৃঃ ৭৬, ৯৪-৯৫।
📄 ইউসুফ ও সুমায়েলের বিদ্রোহ
আবদুর রহমানের সম্মুখে বিরাট সমস্যা ছিল, খ্রীস্টান সম্ভ্রান্ত শ্রেণীর বিদ্রোহ ও বিপ্লবের প্রয়াস । দেশকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত করার আরব অভিজাত সম্প্রদায়ের পরিকল্পনা এবং অত্যাচারে জর্জরিত জনসাধারণের গভীর আর্তনাদ তাঁহাকে আরো বিপর্যস্ত করিয়া তোলে । আবদুর রহমানের অবস্থা তখন পর্যন্ত নিরাপদ ছিল না । ইউসুফ জায়েনে সুমায়েলের সহিত মিলিত হইয়া ও তাহার বিক্ষিপ্ত সেনাদল সংগ্রহ করিয়া এলভিরার পার্শ্ববর্তী এলাকায় গোলযোগ সৃষ্টি করিতে আরম্ভ করে । আবদুর রহমান তাহার প্রধান সমর্থক আবু ওসমানকে কর্ডোভার গভর্নর নিযুক্ত করেন । ইহার পর তিনি শত্রুদমনে অগ্রসর হন । ইউসুফ ইতিমধ্যে কর্ডোভা দখল করিয়া লইয়াছিল । আবু ওসমান প্রধান মসজিদের চূড়ায় আত্মগোপন করেন । আবদুর রহমানের অগ্রাভিযানের মুখে ইউসুফ ও সুমায়েল তাহাদের বাধা দান ব্যর্থ হইবে ভাবিয়া আত্মসমর্পণ করেন । ইহা সফর ১৩৯ হিঃ/৭৫৬ খ্রীঃ জুলাই মাসে ঘটে । আবু জাইদ আবদুর রহমান ও আবুল আসওয়াদ মুহাম্মদ জামিন হিসাবে থাকে এবং তাহাদের পিতা ইউসুফ ও সুমায়েল নির্বিঘ্নে তাহাদের সম্পত্তি ভোগ দখলে রাখেন । ১৬ আবদুর রহমান এবং ইউসুফের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি দুই বৎসরের অধিক কাল স্থায়ী হয় না । প্রাচ্য হইতে আগত আবদুল মালিক বিন ওমর বিন মারওয়ান ও খাইরী বিন আবদুল আজিজ বিন মারওয়ানের মত নিজ বংশীয় লোকদের মধ্যে আমীর ভূমি বণ্টন করেন । আবদুর রহমান এবং ইউসুফের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয় । ইউসুফ মেরিদাতে পলাইয়া যান । সেখানে (২০,০০০) বিশ হাজার লোক তাঁহার সহিত যোগদান করে । ১৭ সুমায়েল এবং ইউসুফের দুই পুত্র কারারুদ্ধ হয় । ১৮ কয়েকটি যুদ্ধ সংঘটিত হয় । শেষ যুদ্ধ হয় ১৪১ হিঃ/৭৫৮ খ্রীস্টাব্দে লুকসা যুদ্ধক্ষেত্রে । ১৯ ইউসুফ সেভিলের গভর্নর আবদুল মালিক বিন মারওয়ানের নিকট পরাজয় বরণ করেন । তাহার বহু সমর্থক নিহত হয় এবং সে মারাত্মক ভাবে জখম হইয়া আত্মরক্ষা করিতে সমর্থ হয় । পরের বৎসর রজব মাসে তাহার পুরাতন শত্রু আবদুল্লাহ বিন আমর আল আনসারীর হাতে তিনি টলেডোর নিকট এক গ্রামে নিহত হন । সুমায়েল কারারুদ্ধ হন এবং পরে বিষ প্রয়োগের কারণে মারা যান । আবু জাইদ নিহত হন এবং আবুল আসওয়াদ বহু বৎসর কারাবাসের পর অন্ধ মানুষের ছদ্মবেশে কারাগার হইতে পলাইয়া যান ।
নারবোনে অবরুদ্ধ সেনাবাহিনীকে সাহায্যের জন্য সুলাইমানের সেনাপতিত্বে রাজকীয় সেনাবাহিনীর একদল সৈন্য প্রেরিত হয় । কিন্তু ৭৫৯ খ্রীঃ গিরিসংকটে পতিত হইয়া সেনাদল বিভক্ত হইয়া যায় । ২০ খ্রীস্টানগণ পেপিনের সেনাবাহিনীর আগমনের জন্য নারবোনে শহরের প্রবেশ পথ উন্মুক্ত করিয়া দেন । নগরের পতন ঘটে এবং মুসলমানরা বিতাড়িত হয় ।
টিকাঃ
১৬। ইবনুল আছির, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ৩৮১; নাফলুল-তিব, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৬৬।
১৭। ইবনুল আছির, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ৩৮১, রিয়াসত আলী কর্তৃক উল্লেখিত, ১ম খণ্ড, পৃঃ ২৬০।
১৮। এইচ. কে. শেরওয়ানী, মুসলিম কলোনিস, পৃঃ ৮১-৮২ দেখুন।
১৯। ইবনুল আছির, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ৩৯০।
২০। রিয়াসত আলী, ১ম খণ্ড, পৃঃ ২৮৮; ই. জি. গমেজ, ইস্পানা মুসলমানস (হিস্টোরটা ডি ইস্পানা) ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ৬৯।