📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 আবদুর রহমানের দেশ ত্যাগ

📄 আবদুর রহমানের দেশ ত্যাগ


আবদুর রহমান ইউফ্রেতিসের নিকটবর্তী রাহতে পলায়ন করেন । সেখানে তাহার পরিবারের জীবিত সদস্যরাও তাহার সহিত মিলিত হয় । ইহাদের মধ্যে ছিলেন তাঁহার দুই কন্যা, তের বৎসর বয়স্ক তাঁহার কনিষ্ঠ ভ্রাতা এবং চার বৎসর বয়স্ক তাহার পুত্র সুলায়মান । আফ্রিকার উদ্দেশ্যে দীর্ঘ যাত্রার জন্য তিনি প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে শুরু করেন । পূর্ব হইতেই আফ্রিকায় কিছু সংখ্যক উমাইয়া রাজপুত্র আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল । যেমন—জাজি বিন আবদুল আজিজ বিন মারওয়ান, আবদুল মালিক বিন ওমর বিন মারওয়ান, আছি বিন ওয়ালিদ, মুসা বিন ওয়ালিদ এবং হাবিব বিন আবদুল মালিক ।

কিন্তু আব্বাসীয় অনুগামীদের অনুসরণের জন্য তাঁহার ভ্রাতাসহ তিনি অরণ্যে আত্মগোপন করিতে বাধ্য হন । স্বীয় আজাদকৃত দাস বদর এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সহিত মিলিত হইয়া তাহারা আত্মগোপনের জায়গা হইতে বাহির হইয়া ইউফ্রেতিস নদীর তীরে পৌঁছেন এবং সেখানে এক বাড়ীতে আশ্রয় গ্রহণ করেন । তিনি আশ্রয়দাতার মাধ্যমে কিছু অশ্ব ও রসদ সংগ্রহের চেষ্টা করেন । আশ্রয়দাতার এক ক্রীতদাসের নিকট সংবাদ পাইয়া আব্বাসী সৈন্যগণ তাঁহাকে এক বাগানের মধ্যে ঘেরাও করে । তিনি এবং তাঁহার কনিষ্ঠ ভ্রাতা কোন প্রকারে আত্মরক্ষা করিয়া নদীতে ঝাঁপ দেন । তের বৎসর বয়স্ক তাঁহার ভ্রাতা ভাল সাতার জানিত না । সে মধ্য নদী হইতে নদীর তীরে ফিরিয়া আসিতে বাধ্য হয় । কূলে অপেক্ষমান শত্রুগণ তাহাকে হত্যা করে ।

আবদুর রহমান নদী অতিক্রম করিয়া নিরাপদে ফিলিস্তিন (প্যালেস্টাইন) পৌঁছেন । সেখানে তিনি তাহার পরিবার ও তাহার মুক্তদাস বদর এবং তাহার ভগ্নি উম্মে আসবাগ, মুক্তদাস আবুল সুজা সেলিম-এর সহিত মিলিত হইয়া আফ্রিকায় রওয়ানা হন । আফ্রিকা এবং স্পেন তখনও আব্বাসীদের প্রভুত্ব স্বীকার করে নাই । আফ্রিকা এবং স্পেন তখন শাসিত হইত ফিহরী গভর্নর যথাক্রমে আবদুর রহমান বিন হাবিব আল ফিহরী এবং তাহার পুত্র ইউসুফ আল ফিহরী কর্তৃক । আবদুর রহমান তাঁহার মামা মাসলামাহ বিন আবদুল মালিকের ভবিষ্যদ্বাণীর কথা স্মরণ করিয়া উৎসাহিত হইয়া শাসক হইবার আশা পোষণ করেন । তিনি ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী, ধূর্ত, সাহসী ও নির্ভীক । প্রথমে তিনি আফ্রিকাতে তাহার ভাগ্য পরীক্ষা শুরু করেন । ইবনে হাবিব সেখানে নিজেকে স্বাধীন শাসক বলিয়া ঘোষণা করিয়াছিলেন । ইবনে হাবিব উমাইয়া উদ্বাস্তুদিগকে ঘৃণা করিতেন এবং কিছু সংখ্যক উমাইয়া উদ্বাস্তুকে তিনি হত্যা করেন । কারণ তাহার নিকট এক ইহুদী গণক ভবিষ্যৎবাণী করিয়াছিল যে, কপালে দুইটি বলিরেখা বিশিষ্ট উমাইয়া পরিবারের জনৈক রাজপুত্র তাহার পুত্রের সাম্রাজ্য অধিকার করিয়া লইবে । আবদুর রহমান নিজে তাহার হাতে নিহত হওয়া হইতে অল্পের জন্য রক্ষা পান । তাহিরাতের রুস্তমীদসের এক রাজ পরিবারে মিকনাশাহ বার্বারদের মধ্যে পরবর্তীকালে তিনি আশ্রয় গ্রহণ করেন । আবদুর রহমানের ষড়যন্ত্র সম্বন্ধে অবগত হইয়া মিকনাশাহ বার্বারগণ আফ্রিকায় তাহার উদ্দেশ্য পরিত্যাগের জন্য চাপ দেন ।

তিনি সিউটাতে নাফজাদাহ গোত্রীয় বার্বার তাঁহার মামার নিকট গমন করেন । প্রায় পাঁচ বৎসর কালব্যাপী তিনি মুক্ত দাসের সহিত ঘুড়িয়া বেড়াইয়া এখন তিনি স্পেন এবং আফ্রিকার সিংহাসন লাভের আশায় শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টায় ব্রতী হন । সিউটাতে তিনি বার্বারদের সমর্থন লাভ করেন । কিন্তু আফ্রিকায় তাহার উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হওয়ার কোন আশা ছিল না । অতঃপর তিনি স্পেনে স্থায়ীভাবে বসবাস করিবার জন্য চেষ্টা করেন । তাহার ভগ্নির ক্রীতদাস সালিম তাঁহার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে যে ভবিষ্যৎ বাণী করিয়াছিল স্পেনই তাহা পূর্ণ হওয়ার সঠিক জায়গা বলিয়া মনে করেন । অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য আবদুর রহমান তাহার বিশ্বস্ত মুক্ত দাস ও দুঃসময়ের সহচর বদরকে উত্তর স্পেনের এলভিরা, জাইন ও অন্যান্য জেলাতে প্রেরণ করেন । দামেস্ক এবং কিন্নিসরিন বিভাগের প্রায় পাঁচশত উমাইয়া অনুগামী এই এলাকায় বসতি স্থাপন করিয়াছিল ।

টিকাঃ
১। ইবনুল খাতিব, খেলাফত-ই-মুয়াহিদীন (উর্দু অনুবাদ) পৃঃ ১৩।
২। এডউইন হোল, আন্দালুস, লন্ডন, ১৯৫৮, পৃঃ ১৫৪-৫৫।

📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 স্পেনের পরিবেশ আবদুর রহমানের অনুকূলে ছিল

📄 স্পেনের পরিবেশ আবদুর রহমানের অনুকূলে ছিল


আবদুর রহমানের উচ্চাশা পূর্ণ করার জন্য তৎকালীন স্পেনের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল খুবই সহায়ক । গোত্রীয় দ্বন্দ্বে ও দলীয় কোন্দলে পরিবেশ ছিল তখন উত্তপ্ত ও অশান্ত । খ্রীস্টান, ইহুদী এবং বার্বাররা ছাড়াও স্পেনে মুজারী ও ইয়ামানী আরবরা গুরুত্বপূর্ণ দল গঠন করিয়াছিল । পূর্ব বর্ণনা অনুযায়ী দীর্ঘদিন যুদ্ধে শেষোক্ত দুইদল এই মীমাংসায় উপনীত হয় যে, প্রতি এক বৎসর অন্তর পালাক্রমে তাহাদের প্রতিনিধিগণ স্পেনের শাসন ক্ষমতা লাভ করিবে । এই চুক্তি অনুসারে শাসনকর্তা হওয়ার প্রথম সুযোগ পান মুজারী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ইউসুফ আল ফিহরী ।

ইয়ামানী সম্প্রদায়ের পালা আসিলে অত্যাচারী ও স্বেচ্ছাচারী আল ফিহরী ক্ষমতা হস্তান্তর করিতে অস্বীকৃতি জানান এবং দশ বৎসর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকেন । তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল-সাফফাহর প্রতি শুধু মৌখিক আনুগত্য প্রকাশ করেন । মুজারী শাখার কাইসী প্রধান সুমায়েল ছিল ইউসুফের দৃঢ় সমর্থক । ইউসুফ কাইসী সম্প্রদায়কে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা ও আনুকূল্য প্রদর্শন করেন । তাঁহার শাসনকালে ইয়ামানী কালবিয়াগণ সবচেয়ে বেশি অত্যাচারিত ছিল । এই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত সেভিলের ওয়ালা (প্রতিনিধি) আহমদ বিন আমর নিজেকে স্বাধীন বলিয়া ঘোষণা করেন এবং ইউসুফের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন । সারাদেশে গৃহযুদ্ধ ছড়াইয়া পড়ে । বিশৃঙ্খল ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয় । দেশব্যাপী গৃহযুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলার সুযোগ লইয়া আসুরীয়গণ তাহাদের রাজ্যকে আরও উত্তরে সম্প্রসারিত করিতে চেষ্টা করে ।

একদিকে আকস্মিক দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টি, এবং অন্যদিকে খ্রীস্টানদের আক্রমণ জনগণের মধ্যে অসন্তুষ্টির সৃষ্টি করে । ফলে তাহারা একটা পরিবর্তন চাহিতেছিল । বার্বার ও নবমুসলিমগণ আরব শাসনে বিরক্ত ও বীতশ্রদ্ধ হইয়া উঠিয়াছিল । তাহারা পুরাতন শাসকের স্থলে একজন নতুন শাসকের আগমনকে স্বাগত জানায় । স্পেনে আবদুর রহমানের সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে ছিল উমাইয়া, মাওয়ালী ও মুক্ত দাসগণ ।

সর্বোপরি আবদুর রহমান ছিল একজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি যিনি সময়ের মত সুযোগ গ্রহণ করিতে জানিতেন । ইউসুফ যদিও স্পেনের শাসনকর্তা ছিলেন তথাপি প্রকৃতপক্ষে দেশ শাসন করিতেন সুমায়েল । ৭৫৫ খ্রীস্টাব্দের শেষ পর্যায়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের সহিত সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং এই সম্পর্ক এমন স্তরে পৌঁছে যে আফ্রিকা হইতে আবদুর রহমানকে আহবানের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তিনি অবহিত থাকা সত্ত্বেও ইউসুফের নিকট উহা গোপন রাখেন । যাহার ফলে ইউসুফের পতন ঘটে ।

টিকাঃ
৩। ইবনুল আছির, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ৩৭৬-৭৭।

📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 আবদুর রহমান আমন্ত্রিত

📄 আবদুর রহমান আমন্ত্রিত


স্পেনে যখন বদর আগমন করেন তখন সেখানকার রাজনৈতিক অবস্থা ছিল খুবই গোলযোগপূর্ণ এবং ঘোলাটে । তিনি এলভিরাতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী দামেস্ক প্রদেশের প্রধান আবদুল্লাহ বিন খালিদ এবং ওবায়দুল্লাহ বিন ওসমানের হাতে আবদুর রহমানের একটি চিঠি প্রদান করেন । উভয় নেতা ছিলেন হযরত ওসমানের মাওয়ালী । তাহারা এবং সেভিলের নিকট মুরাহর অধিবাসী আবুল সাববাহ বিন ইয়াহা আল ইয়াহ সুবির অধীন ইয়ামানীদের মন জয় করিয়া তাহাদের পক্ষে আনয়ন করে এবং মুজারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য তাহাদিগকে উত্তেজিত করে । তাহারা ইউসুফের দক্ষিণ হস্ত সুমায়েল বিন হাতিম বিন শিমারকে তাহাদের পক্ষে আনিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয় । দেশের উত্তরাংশে ইউসুফ এবং সুমায়েল যুদ্ধে ব্যস্ত ছিলেন জানিতে পারিয়া, ইয়ামানীরা সাহায্যের আশ্বাস প্রদান করিয়া উমাইয়াদের দ্বারা মুক্ত ব্যক্তিগণ বদরের সহিত আবু গালিব তাম্মাম এবং অন্য আরও দশজন গোত্রীয় প্রধানকে ইউসুফ সামরিক সাহায্যের জন্য যে টাকা পাঠাইয়াছিল তাহা প্রদান করিয়া আবদুর রহমানকে আনয়নের জন্য প্রেরণ করেন । ৪

স্পেনের দুই বিখ্যাত নেতা ওবায়দুল্লাহ বিন ওসমান এবং আবদুল্লাহ বিন খালিদ সমভিব্যাহারে আবদুর রহমান ১৩৮ হিঃ আখের ৭৫৫ খ্রীস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে আল মুনেকার বন্দরে অবতরণ করেন । ৫ আবদুর রহমান জেবিল নদীর তীরে ইজনাজার ও লোজার মধ্যবর্তী স্থলে অবস্থিত টোরোক্সের দুর্গের দিকে অগ্রসর হন । ৬ তাহাকে আন্তরিক ভাবে অভ্যর্থনা জানান হয় । তিনি ভবিষ্যতে অনিবার্য যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেন । যুদ্ধে অংশ গ্রহণেচ্ছু ব্যক্তিগণ দলে দলে তাহার সৈন্য বাহিনীতে যোগ দান করে । টোরোক্সে তাঁহার সেনা বাহিনীতে যে সব বিখ্যাত নেতাগণ যোগদান করিয়াছিলেন তাহাদের মধ্যে ছিলেন টোরোক্সের আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন বখত, সেভিলের আবু আবদাহ হাসান বিন মালিক কালবী, আবুল সাবাবাহ বিন ইয়াহা ইয়াহ সুবি ও আলকামাহ বিন গিয়াস লাখমী । ৭

দেশের সুদূর দক্ষিণাংশে যখন এই সমস্ত ঘটনা ঘটিতেছিল সেই মুহূর্তে ইউসুফ আমীর আল-আবদারী ও হুবাব আল জুহরীর নেতৃত্বাধীনে ছাগারের (আরাগোন) বিদ্রোহীদের দমনে ব্যস্ত ছিলেন । সারাগোসায় বার্বার বিদ্রোহের বিরুদ্ধে তাহার অভিযান সফল হইয়াছিল । তিনি তাহার অঙ্গীকার ভঙ্গ করিয়া হুবাব আল জুহরী ও আমীর এবং তাহার পুত্র ওহাব ও হুবাবসহ বহু ইয়ামানী ও কুরাইশ নেতাকে হত্যা করিয়াছিলেন । এবং সুমায়েলের প্ররোচনায় ইবনে শিহাবের উপর অত্যাচার করিয়াছিলেন । ৮ ইহার ফলে সেনাদের মধ্যে আস্থাহীনতা দেখা দেয় এবং তাঁহার বহু দৃঢ় সমর্থক তাহাকে ত্যাগ করিয়া যুবরাজ আবদুর রহমানের পক্ষে যোগদান করে । ৯ এই সময় কর্ডোভায় অবস্থানরত তাঁহার স্ত্রী উম্মে ওসমান তাহাকে আবদুর রহমানের আগমন সম্বন্ধে অবহিত করায়, তিনি দ্রুত রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেন । ১০ কিন্তু আবদুর রহমানকে আক্রমণের জন্য সেনাবাহিনীর তরফ হইতে কোন সমর্থন ও সাড়া পাওয়া যায় না । উপরন্তু বর্ষাকাল হওয়ায় সেনা পরিচালনায় অসুবিধা দেখা দেয় । ইহাতে উমাইয়া যুবরাজ সেনা সংগ্রহ ও তাহাদেরকে ট্রেনিং দিয়া গড়িয়া তোলার জন্য প্রচুর সময় পান । ইউসুফের সেনাবাহিনী টোরোক্সে আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে যদি যুদ্ধ করিত তাহা হইলে স্পেনের ইতিহাস হয়ত অন্য রকম ভাবে লিখিত হইত । নিজেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখিয়া ইউসুফ যুবরাজের সহিত বিরোধ মীমাংসা করিতে চেষ্টা করেন । বিরোধ মীমাংসায় উপনীত হওয়ার জন্য তিনি খালেদের হাতে সুললিত ভাষায় লিখিত ১১ একখানা চিঠি ও তাহার কন্যাসহ প্রচুর উপঢৌকন, দুইজন বিশেষ দূত, উবায়েদ বিন আলী এবং ইসা বিন আবদুর রহমানকে, যুবরাজের নিকট প্রেরণ করেন । কিন্তু সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয় । অস্ত্রধারণ ব্যতীত তাহার সম্মুখে তখন আর অন্য কোন পথ খোলা ছিল না । ইউসুফের দলত্যাগকারী সৈন্যদের যোগদানের ফলে আবদুর রহমানের সেনাবাহিনী বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় । কাইসী দলপতিগণ, জাবির ইবনে শিহাবের পুত্র ১২, যাহাকে সুমায়েল বাসকিউস এলাকায় প্রেরণ করিয়া হত্যা করিবার ষড়যন্ত্র করিয়াছিল এবং ইবনে শিহাবের সঙ্গী হুসাইন অল্পের জন্য মৃত্যুর হাত হইতে রক্ষা পান । এবং সম্প্রতি আফ্রিকা হইতে আগত বহু সংখ্যক অশ্বারোহী সৈন্য আবদুর রহমানের সঙ্গে যোগদান করে । ইহা জানিতে পারিয়া ইউসুফ তাহাকে বাধা প্রদান করিবার জন্য রাজধানী ত্যাগ করিয়া অগ্রসর হন । আবদুর রহমান ইউসুফের অনুপস্থিতির সুযোগ লইয়া কর্ডোভা দখল করিবার জন্য যাত্রা করেন ।

টিকাঃ
৪। নাফলুল-তিব, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৬৪; ইবনুল কুতাইবা, পৃঃ ২২-২৩।
৫। পারেজা ফিলিক্স এম, ইসলামোলোজিয়া, পৃঃ ১৬৫ দেখুন।
৬। ডজি, পৃঃ ১৭৬ ও টীকা-৩; আধুনিক টুরক্স নহে।
৭। আল-মাক্কারী, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৬৬।
৮। কূটনীতিকদের প্রধান দায়িত্ব ছিল ভদ্রোচিত ভাষায় পত্র বিনিময় এবং আরবি ভাষা ছাড়াও তাহাকে হিব্রু ও স্পেনিশ ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করিতে হইত। ইহা ছাড়া তাহাকে শিল্পকলা ও বিজ্ঞান বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হইতে হইত।
৯। ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ১৮১-৮৪, ১৯৪ দেখুন।
১০। ঐ, পৃঃ ১৮৫, রিয়াসত আলী, ১ম খণ্ড, পৃঃ ২১১ দেখুন।
১১। ইবনে কুতাইবা ইহাকে বাগিদা বলে উল্লেখ করেছেন (আল-মাক্কারী, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৬৯) এবং স্পেনিশে আলমাজারা।
১২। ইউসুফ জায়েনের সুজারে (Xodon) এবং স্যামুয়েল মেরিদাতে আত্মগোপন করেন (আল-মাক্কারী, পৃঃ ৭২)।

📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 আমীর আবদুর রহমান

📄 আমীর আবদুর রহমান


আর্কিডোনায় ও সিদোনীয়ায় আবদুর রহমানকে জনগণ বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সহিত গ্রহণ করেন । আরকিডোনা ও সিদোনীয়ায় জর্দান এবং প্যালেস্টাইন অঞ্চলের সিরীয়রা বসবাস করিত । আবদুর রহমান ১৩৮ হিঃ ১লা শাওয়াল/৭৫৬ খ্রীঃ ৮ই মার্চ রাইউহর (রেজিওর) রাজধানী আরকিডোনায় প্রবেশ করেন । সেখানে তাহাকে আমীর বলিয়া ঘোষণা করা হয় । তাঁহার নামে খুতবা পাঠ করা হয় । রাইউহর গভর্নর ইসা বিন মাসাওয়ার জিদার বিন ওমর জনৈক কাইসী নেতা ও উপস্থিত জনগণ তাহার প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন । আবদুর রহমান ৪০০ মাওয়ালী ও তাহাদের অশ্বারোহী সৈন্য এবং রোণ্ডা জিলার বার্বার ও ইয়ামানীদের সঙ্গে লইয়া সেভিলে পৌঁছেন । সেখানে প্রধানত হিমসের আরবগণ বসবাস করিতেন । সিদোনীয়া ও রোণ্ডার গভর্নর গিয়াস বিন আল কামাহ আল লাখমী এবং ইব্রাহীম বিন শাজরাহ আবদুর রহমানের সহিত যোগদান করেন । এইরূপে রক্তপাতহীনভাবে যুবরাজ আবদুর রহমান ৭৫৬ খ্রীস্টাব্দের মার্চের মাঝামাঝি সময়ে স্পেনের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জেলাসমূহের শাসন ক্ষমতা দখল করেন ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px