📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 আবুল খাত্তার

📄 আবুল খাত্তার


আন্দালুসীয়ার জনগণ অত্যাচার ও গৃহযুদ্ধের দরুন হাঁফাইয়া ওঠে । তাহাদের অনুরোধে আবুল খাত্তার নামে পরিচিত কালবী গোত্রের হুসাম বিন দিরার (৭৪৩-৪৫ খ্রীঃ) স্পেনের গভর্নর নিযুক্ত হন । আফ্রিকার ভাইসরয় হানজালাহ বিন সাফওয়ান কালবী রজব ১২৫ হিঃ/ ৭৪৩ খ্রীঃ কুতন ও উমাইয়াসহ ১০,০০০ হাজার আরব যুদ্ধবন্দীকে মুক্তি দেন । তিনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী সিরীয়দের রাজধানী হইতে বিতাড়িত করেন । থালাবাহসহ এক ডজন দাঙ্গাবাজ গোত্রীয় নেতাকে আফ্রিকায় নির্বাসিত করা হয় । সিরীয়দের মধ্যে জায়গীর হিসাবে সরকারী জমি প্রদত্ত হয় । কিন্তু জমিতে তাহাদের কোন স্বত্ব দেওয়া হয় না । ১৭ বিরোধী দলগুলিকে দেশের বিভিন্ন অংশে বিচ্ছিন্ন করিয়া দিয়া আবুল খাত্তার দেশের অভ্যন্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন, যদিও ইহা ছিল খুবই সাময়িক ব্যাপার । ইয়ামানী শিয়াদের প্রতি তাহার পক্ষপাতিত্ব সুন্নী মুজারীদিগকে বিদ্বেষ ভাবাপন্ন করিয়া তোলে, ফলে এক নতুন বিদ্রোহ দেখা দেয় ।

টিকাঃ
১৭। ইবনুল আছির, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ২৮৬-৮৭; আখবার মাজমুয়া, পৃঃ ৫৭।

📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 ইয়ামানী শিয়া এবং সিরীয় সুন্নীদের মধ্যে যুদ্ধ

📄 ইয়ামানী শিয়া এবং সিরীয় সুন্নীদের মধ্যে যুদ্ধ


স্পেনের গভর্নরদের ন্যায় উমাইয়া খলিফারা স্বৈরাচারী ছিলেন না । তারা শাসন কার্যে স্থানীয় আরবদের মতামতের গুরুত্ব প্রদান করিতেন । পরিণামে যখন খলিফারা দুর্বল হইয়া পড়ে প্রভাবশালী আরব নেতারা শাসন পরিচালনায় তাহাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করে । ইহার ফলে পুরাতন গোত্রীয় বিদ্বেষ মাথা চাড়া দিয়া ওঠে । সুমাইল বিন হাতিম ছিল কাইসী গোত্রের প্রধান । আবুল খাত্তারের বিরুদ্ধে সে ব্যক্তিগত ঘৃণা পোষণ করিত । সুমাইল জুজামী এবং লাক্ষ্মী নামে দুই ইয়ামানী উপজাতীয় দলকে গভর্নরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে উত্তেজিত করে । তাহাদের সম্মিলিত বাহিনী জুজামী নেতা ও ছালাবাহ বিন ছালামাহর নেতৃত্বে রাজকীয় বাহিনীকে গোয়াদালেট নদীর তীরে পরাজিত করিয়া গভর্নর আবুল খাত্তারকে বন্দী করে । কালবী নেতা আবদুর রহমান ইবনে নুয়াইম তাহাকে মুক্তি প্রদান করেন । আবুল খাত্তার পুনরায় তাঁহার লোকদের একত্রিত করিতে চেষ্টা করিয়া অকৃতকার্য হন । মুজারীগণ ছালাবাহ বিন ছালামাহকে স্পেনের গভর্নর নির্বাচিত করেন । সুমাইলের হাতের পুতুল হিসাবে তিনি শুধু ছয়মাস গভর্নর হিসাবে স্পেনের শাসনকার্য পরিচালনা করেন । তাহার মৃত্যুর পর (শাবান ১২৯ হিঃ/ ৭৪৭ খ্রীঃ) সুমাইল গভর্নর না হইয়া এইপদ নারবোন ও বার্সিলোনার সেনাপতি ইউসুফ বিন আবদুর রহমান আল ফিহরীকে প্রদান করেন ৭৪৭ খ্রীস্টাব্দে । আল কায়রোওয়ানের প্রতিষ্ঠাতা উকবা ইবনে নাফির বংশধর ছিলেন ইউসুফ । গোত্রীয় প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার জন্য গৃহযুদ্ধ চলার সময়ে এবং পরবর্তীকালে সুমাইল তাঁহার ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করেন এবং শান্তিপ্রিয় ইউসুফ দেশের শান্তি ও নিরাপত্তার খাতিরে গভর্নরের পদ গ্রহণ করতে রাজী হন ।

📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 সেকুন্দার যুদ্ধ

📄 সেকুন্দার যুদ্ধ


ছালাবাহ বিন ছালামাহর পুত্র নিগ্রো আমর সুমাইল অসন্তুষ্ট হইয়া আবুল খাত্তার এবং ইয়াহিয়া বিন হুরাইছ আল জুজামীর সহিত যোগদান করেন । যেহেতু শেষোক্ত গোত্রীয় আবুল খাত্তারের গোত্র হইতে সংখ্যায় বেশি ছিলেন সেইহেতু ইবনে হুরাইছ সম্মিলিত সেনাবাহিনীর নেতা নির্বাচিত হন । গোয়াদালকুইভিরের বাম তীরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয় । মুজারী এবং ইয়ামানী দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে প্রতি এক বছর পর পালাক্রমে এক একজন গোত্রীয় নেতা দেশ শাসন করিবে । ১৮ ৭৪৭ খ্রীস্টাব্দে প্রথম বৎসরে ইউসুফ দেশ শাসনের জন্য নির্বাচিত হন । এক বৎসর অতিবাহিত হইবার পর সুমাইল ইয়ামানী এবং ইউসুফের নিজের প্রতিবাদ সত্ত্বেও ইয়ামানী প্রতিনিধিকে ইউসুফের স্থলাভিষিক্ত করিতে ব্যর্থ হন । পুনরায় দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয় । এক সপ্তাহ স্থায়ী এই যুদ্ধ কর্ডোভার বিপরীত দিকে শাকুন্দাহর (সেকুন্দা) নিকট গোয়াদালকুইভিরে সংঘটিত হয় । সুমাইলের অনুরোধে ইউসুফ কর্ডোভার সাধারণ দোকানদারকে পর্যন্ত এই যুদ্ধে অংশ গ্রহণের আহবান জানান । ইউসুফ এবং সুমাইল বিজয় লাভ করেন এবং শত্রুরা চিরতরে নির্মূল ও ছিন্নভিন্ন হইয়া যায় । আবুল খাত্তার এবং ইবনে হুরাইস ধৃত ও নিহত হন । ইয়ামানীদের বিদ্রোহ দমন করা হয় । ৭৪৯ খ্রীস্টাব্দে স্পেনে তীব্র খাদ্যাভাব দেখা দেয় ফলে প্রথম আলফন্সোর রাজ্যবিস্তার বাধাপ্রাপ্ত হয় । মুসলমানরা গৃহযুদ্ধে লিপ্ত থাকায় তিনি লিওন, ক্যাস্টাইল এবং অন্যান্য জায়গা দখল করেন ।

টিকাঃ
১৮। রিয়াসত আলী, দ্যা তারিখ-ই-আন্দালুস, ১ম খণ্ড, পৃঃ ২১১।

📘 মুসলিম স্পেনের রাজনৈতিক ইতিহাস 📄 কোরাইশ ও সিরীয়দের যুদ্ধ

📄 কোরাইশ ও সিরীয়দের যুদ্ধ


সুমাইলের আধিপত্য হইতে মুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে ৭৫০ খ্রীস্টাব্দে ইউসুফ তাহাকে সারাগোসার গভর্নর নিযুক্ত করেন । সারাগোসার অধিকাংশ বাসিন্দা ছিল রসুলের সাহাবী মুসয়ার বিন উমাইয়েরের বংশধর । কর্ডোভার আমীর আবদারী এবং সারাগোসার ইয়ামানী নেতা হুবাব জাহরী, কুরাইশ নেতা সুমাইল, ইউসুফের বিরুদ্ধে আব্বাসীদের পক্ষ অবলম্বন করেন । বার্বার এবং ইয়ামানী সৈন্যদের এক বিরাট বাহিনী সংগ্রহ করিয়া তাহারা সুমাইলের প্রেরিত সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে এবং ৭৫৩/৪ খ্রীঃ সারাগোসা অবরোধ করে । সুমাইলকে সাহায্য করিতে ইউসুফ ব্যর্থ হন । জনৈক কালবী সর্দার উবাইয়েদ ১৯ তিনশত ষাটজন অশ্বারোহী সৈন্য সংগ্রহ করেন এবং বানুকাব নেতা ইবনে শিহাব ২০ সমভিব্যাহারে সুলায়মানের সাহায্যে অগ্রসর হন । যাত্রা পথে চারশত মুজার তাহাদের সহিত যোগদান করে । নতুন সৈন্যের আগমনে আমীর এবং হুবাব অবরোধ প্রত্যাহার করিয়া ৭৫৫ খ্রীস্টাব্দের ২১ প্রথম দিকে পলায়ন করেন ।

টিকাঃ
১৯। ডজি, প্রাগুক্ত, পৃঃ ৪১০।
২০। রিয়াসত আলী, প্রাগুক্ত, পৃঃ ২১১।
২১। ডজি, প্রাগুক্ত, পৃঃ ১৫৮-৬০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px