📄 মুসার আগমন
তারিকের স্পেন বিজয় তাহার ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি ও পৃষ্ঠপোষক মুসার মনে ঈর্ষার সৃষ্টি করে । মুসা এতদিন আফ্রিকায় নীরবে ছিলেন । ৯৩ হিজরীতে রমজান মাসে/জুন ৭১২ খ্রীঃ সেনাপতি তারিকের অসমাপ্ত অভিযানকে সমাপ্ত করিবার উদ্দেশ্যে এবং স্পেন বিজয়ের সুনাম ও বৈষয়িক অংশ লাভের আশায় আঠারো হাজার সৈন্য লইয়া আফ্রিকা হইতে মুসা বিন নুসাইর স্পেন অভিমুখে যাত্রা করেন এবং কঙ্করময় খিদরা দ্বীপে পদার্পণ করেন । আরব অভিজাত ইয়ামানের হাবিব বিন আবু আবদাহ ফিহরী ১২ ইউসুফ আল ফিহরীর পূর্বপুরুষ, রসুলের সাহাবাদের বংশধর ও কিছু বার্বার সর্দার সমন্বয়ে গঠিত হয় তাঁহার সেনাবাহিনী । সংখ্যাগরিষ্ঠ বেদুইন সম্প্রদায়ের উপর কর্তৃত্ব করিতেন আরবগণ । আফ্রিকায় আগত কাউন্ট জুলিয়ানরা আরবদের সঙ্গে যোগ দেন । মুসা ইচ্ছাপূর্বক তারিকের অগ্রাভিযানের পথ পরিহার করিয়া উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হন । প্রথমেই তিনি মেদিনা সিদনীয়া ১৩ ও কারমোনা দখল করেন । এই দুই শহর মুসলিম শাসনাধীনে ছিল না । কয়েক মাস অবরোধের পর মুসা সেভিল ১৪ অধিকার করেন । ইহার পরই নিয়েবলা, (হুয়েলভা) ও বেজা বিজিত হয় । মুসা মেরিদাতে ভিজিগথদের এক শক্তিশালী সৈন্য দলের দুর্লঙ্ঘ্য প্রতিরোধের সম্মুখীন হন । দীর্ঘ এক বৎসর অবরোধের পর মেরিদা শহর রক্ষায় নিয়োজিত সেনাদল ৯৪ হিঃ শাওয়াল মাসে/৩০শে জুন ৭১৩ খ্রীঃ আত্মসমর্পণ করে ।
বিজয়ী বেশে মুসা টলেডোর নিকটবর্তী তারাভেরাতে প্রবেশ করেন । সেখানে তারিক তাঁহার জন্য অপেক্ষা করিতেছিলেন । সেই যুগের প্রথানুযায়ী দুই বিজয়ী বীর তাহাদের অসি বিনিময় করেন । ১৫ প্রবল বিক্রমশালী বীর তারিক সামরিক শৃঙ্খলার প্রতি নজিরবিহীন শ্রদ্ধা প্রদর্শন করিয়া নীরবে এই অপমান সহ্য করেন । পরবর্তী সময়ে মুসা ও তারিকের মধ্যে আন্তরিকতা ও বন্ধুত্ব গড়িয়া ওঠে । মুসার নামে ল্যাটিন ভাষায় মুদ্রিত স্বর্ণ মুদ্রা চালু হয় । উভয়ের সেনাবাহিনী একত্রিত করিয়া দুই বিখ্যাত সেনাপতি পুনরায় বিজয় অভিযান শুরু করেন । মুসা ও তারিক আরাগোনা অভিমুখে অগ্রসর হন । তারিক সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তীদলের সেনাপতি ছিলেন । আরাগোনার গভর্নর কাউন্ট ফরচুন আত্মসমর্পণ করিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন । সারাগোসা, বার্সিলোনা, আস্তুরিকা (আস্তোর গা) লিওন, লেগিও এবং ক্যান্টাবেরিয়ার রাজধানী আমায়যা শর্তাধীনে মুসার নিকট আত্মসমর্পণ করে । উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য শহরের একের পর এক পতন ঘটে । ফলে অনধিক দুই বৎসরের মধ্যে সম্পূর্ণ স্পেন মুসলমানদের করতলগত হয় এবং উত্তরে পীরেনীজ পর্বতমালা পর্যন্ত ইহার সীমানা সম্প্রসারিত হয় । বার্সিলোনা, পাম্পলোনা, লেরিদা, হুয়েস্কা, জেরোনা এবং তরতোসা কর প্রদানে সম্মত হইয়া স্বায়ত্তশাসন লাভ করে ।
উত্তর-পশ্চিম স্পেনের অবশিষ্ট অংশ বিজয়ের অপেক্ষায় না থাকিয়া মুসা পীরেনীজ পর্বতমালা অতিক্রম করিয়া গথিক শাসিত এলাকা লাংগোয়েডক-এর একাংশ অধিকার করেন । নারবোন, এভিগনন (আভেন্নিস) ও লুজুনের (লায়ন) ১৬ পতন ঘটে । ফ্রান্সের কারোলিনজিয়ান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হেরিষ্টিলের পেপিন—আরবগণ যাহাকে কারলাহ বলিতেন। শেষোক্ত দুইটি শহর পুনরায় দখল করিয়া নারবোন অবরোধ করেন । কিন্তু ইহা অধিকার করা তাহার পক্ষে সম্ভব হয় না । ফ্রান্সের অন্তর্গত প্রদেশে ওয়ালিদের সমর্থন না থাকায় মুসলিম সেনাবাহিনী রোন (রুদানো) নদী অতিক্রম করে না । রোন নদীর তীরে মুসলমানগণ আরবী ভাষায় উৎকীর্ণ লিপি দেখিতে পায় । ১৭ ইহাতে লিখিত ছিল "ক্ষান্ত হও আর অধিক অগ্রসর হইও না, ইসমাইলের সন্তানগণ প্রত্যাবর্তন কর" । মুসার পরিকল্পনা ওয়ালিদ প্রত্যাখান করেন । ফলে মুসা ফ্রান্স অভিমুখে অভিযান পরিচালনা হইতে বিরত থাকেন । অতঃপর মুসা স্পেনের পর্বতসঙ্কুল এলাকার প্রতি মনোনিবেশ করেন । তিনি গ্যালিসিয়ায় প্রবেশ করিয়া লুগো দুর্গ ও অন্যান্য এলাকা অধিকার করেন এবং শত্রুকে আস্তুরিয়াসের কঙ্করময় সঙ্কীর্ণ গিরিসঙ্কটে বিতাড়িত করেন । পিলাইও অপরাজিত থাকে এবং আস্তুরিয়া অনধিকৃত থাকে । স্পেন ত্যাগের পূর্বে মুসা সদ্য বিজিত রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অবলম্বন করেন । তাঁহার পুত্র আবদুল আজিজ স্পেনের গভর্নর পদে নিযুক্ত হন । রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হয় সেভিলে । যোগ্য হস্তে ন্যস্ত করিয়া তিনি স্পেন পরিত্যাগ করেন ।
টিকাঃ
১২. খেলাফত-ই-মুয়াহিদীন, (উর্দু অনুবাদ) পৃঃ ৮।
১৩. ইবনে ইজারী, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১৭-১৮।
১৪. সেভিল, স্পেনের একটি বৃহত্তম শহর ও জ্ঞানকেন্দ্র। রোমান এবং গথদের সময়ও ইহা তাঁহাদের রাজধানী ছিল। ইহার পূর্ব সৌন্দর্য এখনও বিদ্যমান।
১৫. ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ২৩৩; আন্দালুস, পৃঃ ২১।
১৬. ইবনুল আছির, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ৪৪৭; ইবনে খালদুন, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১১২: নাফলুল-তিব, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১২৮: দ্যা তারিখ-ই-আন্দালুস পৃঃ ১১৫।
১৭. উইলিয়াম ম্যুর, খালিফাত, পৃঃ ৩৫৮ টীকা-৩: আল-মাক্কারী, নাফলুল-তিব, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১২১।
📄 সহজে স্পেন বিজয়ের কারণসমূহ
মুসলিম সেনাবাহিনী শক্তি ও শান্তি উভয় নীতি অনুসরণ করিয়া গথিক সাম্রাজ্য অধিকার করে । স্পেনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুরাবস্থা মুসলিম অভিযানকে সাফল্য মণ্ডিত করিতে সাহায্য করে । আত্মকলহে অতিষ্ঠ, যুদ্ধ ও বিবাদ-বিসম্বাদে জর্জরিত স্পেনের সাধারণ জনগণ মুসলমানদিগকে তাহাদের ত্রাণকর্তা ও হিতাকাঙ্ক্ষী হিসাবে বিবেচনা করে । ফলে মুসলিম সেনাবাহিনী স্বল্প সময়ের ব্যবধানে উপদ্বীপকে সম্পূর্ণরূপে অধিকার করিতে সক্ষম হয় । স্পেনে অভিযান পরিচালনাকারীদের মধ্যে অধিকাংশ ছিল বার্বার । দুর্ধর্ষ বার্বারদের অসম সাহসিকতা ও রণনৈপুণ্য স্পেন বিজয়ের মূলে বিশেষ অবদান রাখিয়াছে ।
মুসা উত্তর আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকা এবং স্পেন দখল করিবার আশা পোষণ করেন । গোয়াদালেতে ১২,০০০ হাজার সৈন্য লইয়া যুদ্ধ জয়ের পর তারিক টলেডোর দিকে অগ্রসর হন । হিসপানীয় ও ভিজিগথদের মধ্যে মতবিরোধের ফলে তাহারা তারিককে বাধা প্রদান করিতে ব্যর্থ হয় । এই ব্যর্থতার ফলে মুসা উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা লাভ করেন । খ্রীস্টান শাসক ও সেনাপতিগণ আরামপ্রিয়তা ও কর্মবিমুখতার জন্য সেনাবাহিনীর উপর নির্ভরশীল হইয়া পড়ে । মুসলিম বাহিনী গোত্রীয় চরিত্র ও ইসলামী আদর্শের অনুপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ ছিল । মুসলিম সেনাগণ খ্রীস্টানদের তুলনায় দৈহিক শক্তি ও রণ-নৈপুণ্যে উন্নত ছিল । ভূমিদাস ও ক্রীতদাসদের সমন্বয়ে গঠিত খ্রীস্টান বাহিনী যুদ্ধ জয়ে তাহাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন সাধিত হইবে না এই কথা স্মরণে রাখিয়া যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করিত । ফলে যুদ্ধের ময়দানে অগ্রসর না হইয়া পশ্চাদপসারণ করিত । মাক্কারীর মতে, স্পেনীদের পরাজয়ের মূল কারণ ছিল ইল্লিয়ানের (বুলিয়ান) অসন্তুষ্টি । ১৮
স্পেন বিজয়ের অন্যান্য কারণসমূহের মধ্যে উত্তর আফ্রিকায় আশ্রয় গ্রহণকারী ইহুদী ও ক্রীতদাসদের অসন্তোষকেও গণ্য করা যাইতে পারে । ইহুদী, ভূমিদাস ও ক্রীতদাসগণ গথিক শাসনের নির্মম নির্যাতন হইতে অব্যাহতি পাইবার আশায় নবাগত মুসলমানদের সাদরে গ্রহণ করে । ভৌগোলিক কারণসমূহও মুসলমানদের অগ্রাভিযানে সহায়ক হয় । উত্তর আফ্রিকা ও স্পেনের মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র ১৪ মাইল প্রশস্ত জিব্রাল্টার প্রণালী । ফলে জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করিয়া ইউরোপে ক্ষমতা বিস্তার করা তাহাদের জন্য সহজ ছিল ।
টিকাঃ
১৮. গায়ানগোস, দ্যা মোহামেডান ডাইনেস্টিস ইন স্পেন, ১ম খণ্ড, পৃঃ ২৫১, ২৫৩, ও ২৫৫।
📄 স্পেন বিজয়ের ফলাফল
স্পেন বিজয় সেখানকার জনগণের জীবনের প্রতিক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে । কর দানে স্বীকৃত হওয়ায় ও নবাগত শাসকদের শাসনকে মানিয়া লইবার ফলে তাহারা অবহেলিত কৃষকদিগকে সামাজিক সুবিচার এবং সর্বপ্রকারে তাহাদের রক্ষা করিবার প্রতিশ্রুতি দান করে । ১৯ খ্রীস্টান ও ইহুদীগণ তাহাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিপালনের অনুমতি লাভ করে । ২০ শহরাঞ্চলে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ায় এবং চুক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করিবার ফলে ৭৪৮ খ্রীস্টাব্দের মধ্যে অর্ধেক গীর্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয় । ২১ পূর্বে বিধ্বস্ত গীর্জাগুলিকে পুনর্নির্মাণের অনুমতি প্রদানের শর্তে প্রথম আবদুর রহমান অর্ধেক গীর্জা ১০০,০০০ দিনারে ক্রয় করেন । ২২ প্রথম আবদুর রহমান যুক্তিসঙ্গত কারণ প্রদর্শন না করিয়াই তারিক ও উইতিজার পুত্রের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ভঙ্গ করিয়া ২৩ আচিলার ভ্রাতা আরদাবাস্তের জমিদারী বাজেয়াপ্ত করেন । ২৪
সহনশীলতার আদর্শ হইতে বিচ্যুৎ হইবার জন্য শাসকগণই প্রধানতঃ দায়ী ছিলেন । চুক্তির শর্ত ও ভাষ্য মুসলমানদের নিকট অতীব পবিত্র বলিয়া বিবেচিত হইত । সম্পত্তি ও জীবনের সামান্যতম ক্ষতি না করিয়া মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের রীতিনীতিকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করে । এই উদার ব্যবহার খ্রীস্টানদের উপর বিরাট প্রভাব বিস্তার করে । মুসলিম শাসন ছিল নমনীয় এবং করপ্রথা ছিল কম উৎপীড়ন মূলক । ২৫ স্পেনবাসীদের মধ্য হইতে কর আদায়কারী নিযুক্ত হইত । সময় মত আত্মসমর্পণ করিলে তাহাদিগকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিস্বাধীনতা, সম্পত্তি ভোগ দখলের অধিকার ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সুযোগ প্রদত্ত হয় । তিনশত খ্রীস্টান ভূ-স্বামীকে তাহাদের জমিদারী ফিরাইয়া দেওয়া হয় এবং পূর্ব ক্ষমতা ও পদে পুনর্বহাল করা হয় । ইসলামী জীবন ব্যবস্থা চালু হওয়াতে জনগণ দাসপ্রথা হইতে অব্যাহতি লাভ করে এবং সাথে সাথে সামন্ত প্রথার নাগপাশ হইতে মুক্তি পায় । বিজিত প্রজাদের কল্যাণে বিশপদের অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা হ্রাস করা হয় । মুসলিম শাসন কর্তার অনুমোদনে গীর্জাসমূহ রক্ষণাবেক্ষণ ও সেগুলিতে দর্শনার্থীদের সেবা যত্নের জন্য বিশপদের লইয়া একটি কমিটি গঠিত হয় । ২৬ সেনা বিভাগের চাকুরী ছাড়াও অমুসলিম পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের বাৎসরিক আয়ের উপর ১২ হইতে ৪৮ দিরহাম জিজিয়া প্রদান করিতে হইত । ২৭ মেরিদা ও তুদমির প্রদেশের আলিকান্টে, অরিহুয়েলা, লোরকা, মুলা প্রভৃতি অঞ্চল ও গথিক রাজপুত্র শাসিত শহরসমূহের প্রজাদের উৎপাদনের এক দশমাংশ ভূমিরাজস্ব (খারাজ) প্রদান করিয়া তাহাদের সম্পত্তি ভোগ দখলের অধিকার লাভ করে । ২৮
বাজেয়াপ্তকৃত ভূমির চার পঞ্চমাংশ উপজাতীয় ভিত্তিতে সেনাদের মধ্যে বিতরিত হয় এবং অবশিষ্ট এক পঞ্চমাংশ (খুমস) ভূমি থাকে রাষ্ট্রের অধীনে । সরকারি সম্পত্তি সহজ শর্তে ভূমিদাসদের মধ্যে বিতরণ করা হয় । অধিক সংখ্যক লোকের মধ্যে ভূমি বণ্টন হইবার দরুন বৃহৎ জমিদারদের জুলুমের কবল হইতে দরিদ্র কৃষকগণ বাঁচিয়া যায় ও আর্থিক দিক হইতে স্বচ্ছল হইয়া ওঠে । ভূমিদাসগণ ভূমির সহিত চিরবন্ধনের গর্হিত নীতি হইতে মুক্তি লাভ করে । ২৯ স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণকারী কৃষকগণ প্রথম দিকে উৎপাদনের এক দশমাংশ ও বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির এক পঞ্চমাংশ ভূমি-রাজস্ব হিসাবে প্রদান করিত । ৭২৩ খ্রীস্টাব্দের পরবর্তীকালে সকলকেই উৎপাদনের এক পঞ্চমাংশ প্রদান করিতে হইত । ৩০ ডজির অভিমতকে জেরিনিমো লপেজ ও আয়ালা প্রভৃতি ঐতিহাসিকগণ বিনা দ্বিধায় গ্রহণ করিয়াছেন । ৩১ কিন্তু মধ্যযুগীয় সাহিত্যে এই অতিরিক্ত ভূমিরাজস্বের কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না । ৩২ কৃষকদের মালিকানা স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এবং সেচ ব্যবস্থার প্রচলনের ফলে কৃষিক্ষেত্রে এক নব যুগের সূচনা হয় । কৃষকমালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সুবিধাভোগী অভিজাত শ্রেণীর ক্ষমতা অনেকাংশে হ্রাস পায় । ক্রীতদাসদের ভাগ্যের উন্নতি সাধিত হয় । সুয়েভী, গথ, ভ্যান্ডাল, রোমান এবং ইহুদী নির্বিশেষে সকলের জন্যই সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয় । ৩৩ কালক্রমে মুসলিম-স্পেনও ইউরোপের শিক্ষা সংস্কৃতির জ্যোতির্কেন্দ্র হিসাবে গড়ে ওঠে ।
টিকাঃ
১৯. স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ২৩৯।
২০. ঐ. পৃঃ ২৩৯।
২১. প্রায় পাউন্ড ৪৪০,০০০, দ্রষ্টব্যঃ ডজি, পৃঃ ২৩৯।
২২. আন্দালুস, পৃঃ ৩০, ৪৯।
২৩. দ্রষ্টব্যঃ ডজি, পৃঃ ২৩৯।
২৪. দ্রষ্টব্য: হিস্ট্রোরিয়া ডি লস আরবস ডি লস মুরস ডি ইস্পানা, বার্সেলোনা, ১৮৪৪, পৃঃ ২০৫।
২৫. আন্দালুস, স্পেন আন্ডার দ্যা মুসলিমস, লন্ডন, ১৯৫৮, পৃঃ ২১।
২৬. বর্তমানে ৪ দিরহাম সমান ১ পাউন্ড (১৯৬৯ খ্রীঃ)
২৭. আন্দালুস, পৃঃ ৪৮।
২৮. দ্রষ্টব্যঃ হোল, আন্দালুস, পৃঃ ৪৮।
২৯. ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ২৩৫।
৩০. লপেজ, কন্ট্রিবিউকিউঞ্জ ইম্পাসটুস এন লিওনী, ক্যাস্টিল্লা ডরেন্ট ল্যা ইডেড মেডিয়া, মাদ্রিদ, ১৮৯৮. পৃঃ ৯৩-৯৪।
৩১. ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ২৩৫।
৩২. আল-ফিহরী, আল-সিফার আল-থানি মিনাল ওয়াথিককুলস, পৃঃ ১১৬খ, ১১৭ ক।
৩৩. দ্রষ্টব্য: রিয়াসত আলী, দ্যা তারিখ-ই-আন্দালুস, পৃঃ ২২১-২২৭।