📄 অবশিষ্ট এলাকাসমূহ বিজয়
এই পরাজয় খ্রীস্টানদের মধ্যে বিরাট প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে । তাহারা পুনরায় স্থানীয়ভাবে অথবা আঞ্চলিকভিত্তিতে যুদ্ধ ব্যতীত বিশাল যুদ্ধক্ষেত্রে মুসলমানদের মোকাবিলা করিতে সাহস পায় নাই । দেশের বিপর্যস্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার দরুন সমগ্র স্পেন অনায়াসে মুসলমানদের করতলগত হয় । ৯ রডারিকের পরাজয়ের পর খ্রীস্টানগণ জান-মালে প্রভূত ক্ষতিগ্রস্ত হইয়া দেশ হইতে পলায়ন করে । ভূমিদাস (সার্ফ) ও ইহুদীগণ মুসলমানদের বিরোধীতা না করিয়া সাদরে গ্রহণ করে । কিন্তু অভিজাত শ্রেণী ও স্বাধীন সামন্ত সর্দারগণ বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের বাধা প্রদান করে । একটি ক্ষুদ্র দলের আক্রমণে এলভিরা ও আর্কিডোনার পতন ঘটে । ১০ তারিকের প্রধান বাহিনী অতি দ্রুত গতিতে এচিজার মধ্য দিয়া গথ রাজধানী টলেডো অভিমুখে অগ্রসর হয় । পলায়নপর গথগণ তাহাদের আশ্রয়স্থল হইতে মুসলিম বাহিনীকে এচিজাতে বাধা প্রদান করিতে পারিত কিন্তু সম্মানজনক শর্তে তাহারা আত্মসমর্পণ করে ।
মুগিম নামক জনৈক সেনানায়কের অধীনে সাতশত অশ্বারোহীর একটি ক্ষুদ্রদল কর্ডোভা নগরী অবরোধ করে । দুই মাস অবরোধের পর এক রাখাল বালকের সাহায্যে মুসলিম বাহিনী কর্ডোভা শহরে প্রবেশ করিতে সফলকাম হয় । নগর প্রাচীরের একটি সুরঙ্গ পথের সন্ধান দিয়াছিল মুসলিম বাহিনীকে এই রাখাল বালক । এই পথেই মুসলিম বাহিনী নগরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে । শহর প্রশাসকের নেতৃত্বে গীর্জায় আশ্রয় গ্রহণকারী খ্রীস্টান ব্যতীত অবশিষ্ট নাগরিকগণ মুসলিম বাহিনীর নিকট সানন্দে আত্মসমর্পণ করে । সেনাপতি মুগিথ গীর্জায় পানি সরবরাহ বন্ধ করিয়া দেন ।
তিনি গীর্জায় আশ্রয় গ্রহণকারী খ্রীস্টানদিগকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ অথবা জিজিয়া প্রদানে সম্মত হইতে বলেন । খ্রীস্টানগণ উভয় প্রস্তাব প্রত্যাখান করে । ৯৩ হিজরীর মহররম মাসে (অক্টোবর-নভেম্বর ৭১১ খ্রীঃ) গীর্জায় অগ্নি সংযোগের পর তাহারা আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য হয় । মালাগা, অরিহুয়েলা আলজেরিয়ার রাজধানী এবং এলভিরা বিজয়ের পর মুসলিম সেনাবাহিনী পূর্বস্পেনে (লভান্তে) গমন করে এবং রডারিকের পক্ষে থিওডোমির শাসনাধীন সম্পূর্ণ পূর্বস্পেন, ভ্যালেন্সিয়া ও আলমেরিয়ার মধ্যবর্তী এলাকা অতিদ্রুত মুসলিমের অধীনে আসে । মুরসিয়ার গিরিসঙ্কটে থিওডোমির অল্পসময়ের জন্য মুসলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন । মুরসিয়ার পতনের পর থিওডোমিরের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয় । অবশেষে তিনি পূর্বাঞ্চলের রাজধানী অরিহুয়েলাতে আশ্রয় গ্রহণ করেন । পরাজিত থিওডোমির শঠতার আশ্রয় গ্রহণ করিয়া নগরীর উপকণ্ঠে পুরুষ সৈন্যের বেশে অসহায় নারী ও শিশুদের সন্নিবেশ করেন । মুসলিম বাহিনী লক্ষ্য করেন যে, নগরটি অসংখ্য সৈন্য দ্বারা পরিবেষ্টিত । থিওডোমির ছদ্ম বেশে নিজেই দূত হিসাবে মুসলিম সেনাপতির নিকট প্রস্তাব পেশ করেন যে নগরবাসীর জানমাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তার আশ্বাস দিলে তাহারা আত্মসমর্পণ করিতে পারে । মুসলিম সেনাপতি রক্তপাতের পরিবর্তে এই প্রস্তাব গ্রহণ করিয়া শান্তিচুক্তি সম্পাদন করেন । সেনাপতি নগর-অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া থিওডোমির ও তাঁহার দুই চারিজন ভক্ত ব্যতীত আর কোন সৈন্য না দেখিতে পাইয়া বিস্ময়ে হতবাক হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন "আপনার সেনাবাহিনী কোথায়?” উত্তরে থিওডোমির সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেন । থিওডোমিরের কৌশলে বিমুগ্ধ হইয়া সেনাপতি তাঁহাকে মুরসিয়া প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত করেন । পরবর্তীকালে থিওডোমিরের নামানুসারে মুরসিয়া প্রদেশ তুদমির নামে পরিচিত হয় ।
টিকাঃ
৯. ই. জি. গমেজ, হিস্ট্রোরিয়া ডি ইস্পানা, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১৪ এবং মানচিত্র দ্রষ্টব্য।
১০. দ্রষ্টব্যঃ মাজমুয়া আখবার আন্দালুস, পৃঃ ৯।
📄 রাজধনী টলেডোর পতন
মুরসিয়া ও অরিহুয়েলা বিজয়ের পর সেনাপতি তারিক গথরাজধানী টলেডো অভিমুখে অগ্রসর হন । মুসলিম বাহিনীর দুর্বার অগ্রাভিযানে ভীত সন্ত্রস্ত রাজন্যবর্গ, অভিজাত শ্রেণী ও যাজকগণ রাজধানী পরিত্যাগ করিয়া আস্তুরিয়ার পার্বত্য আঞ্চলে আশ্রয় নেয় । সাধারণ জনগণ ও ইহুদী সম্প্রদায় উৎফুল্লচিত্তে খ্রীস্টান ও অভিজাত শ্রেণী কর্তৃক পরিত্যক্ত শহর ও নগরের শাসনভার মুসলমানদের হস্তে সমর্পণ করে । ইহুদীদের অসহযোগিতার ফলেই খ্রীস্টানগণ শহরসমূহ পরিত্যাগ করিতে বাধ্য হয় । উইতিজার পুত্রগণ ও কাউন্ট জুলিয়ান রাজধানীতে ছিলেন । মনে হয় তারিকের নিকট নগর সমর্পণের উদ্দেশ্যেই তাহারা অপেক্ষা করিতেছিলেন । তারিক বিনা বাধায় নগরে প্রবেশ করেন । নগরবাসীদের সহিত তিনি অত্যন্ত ভাল ব্যবহার করেন । রাজধানী বিজয়ের পর মুসলিম বাহিনী প্রচুর পরিমাণে গানিমত লাভ করেন । জন্ম তারিখ, নাম, অভিষেক ও মৃত্যুর তারিখ উৎকীর্ণ করা স্বর্ণের চব্বিশটি রাজমুকুট এই গানিমতের মধ্যে ছিল । এগুলি গীর্জার গুপ্তস্থান হইতে উদ্ধার করা হয় । ১১
তারিক বিজিত অঞ্চলে সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন । উইতিজার পুত্র আচিলাকে মুসলিম শাসনের প্রতি আনুগত্যের স্বীকৃতি স্বরূপ ৩,০০০ হাজার কৃষিখামার সমন্বয়ে গঠিত তাহার পূর্ব জমিদারী প্রত্যার্পণ করা হয় । ইহাতে প্রমাণিত হয় যে ভিজিগথদের হস্তে সীমাহীন সম্পত্তি কেন্দ্রীভূত হইয়াছিল । বিশপ অপ্পাসকে টলেডোর গভর্নর নিয়োগ করেন । কাউন্ট জুলিয়ান তাঁহার কাজের প্রতিদান হিসাবে সিউটা প্রদেশের শাসনভার লাভ করেন । তাঁহার পরবর্তী খ্রীস্টান বংশধরগণও প্রদেশ শাসন করেন । মধ্য ও পূর্বাঞ্চলসহ অর্ধেক স্পেন ৭১১ খ্রীস্টাব্দের গ্রীষ্মকালের মধ্যে তারিকের করতলগত হয় । এই ভাবে খলিফা আল-ওয়ালিদের রাজ্যসীমা সুদূর ইউরোপের ভূখণ্ড পর্যন্ত প্রসার লাভ করে । তারিক তাঁহার কৃতিত্বপূর্ণ সামরিক বিজয়ের জন্য স্মরণীয় । কিন্তু অভিযানের পর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মুসাকে ক্ষুব্ধ করিয়া রাজনৈতিক দিক হইতে তিনি মারাত্মক ভুল করেন । গথিক শাসককে পরাজিত করিয়া তিনি সীমাহীন খ্যাতি অর্জন করেন । মুসলমান ও তাহাদের মিত্রগণ দেশের উত্তরাঞ্চলে পলাতক খ্রীস্টানদের পরিত্যক্ত শহরগুলিতে বসতি স্থাপন করেন । মুসলমানদের নেতৃত্বে বিজিত শহর ও জেলাগুলিতে মুসলমান গভর্নর নিযুক্ত করা হয় । মুসলমানদের সংখ্যা স্বল্পতার জন্য প্রত্যেক শহরে প্রতিরক্ষা বাহিনী নিয়োগ করা সম্ভব ছিল না । সুতরাং অনেক শহরের শাসনভার উপদেষ্টা পরিষদের উপর ন্যস্ত করিতে হয় ।
টিকাঃ
১১. রিয়াসত আলী, দ্যা তারিখ-ই-আন্দালুস, পৃঃ ৯৪. টীকা-১ দ্রষ্টব্য, এবং আল-মাক্কারী, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৩১১: ইবনুল আছির, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ৪৪৬।
📄 মুসার আগমন
তারিকের স্পেন বিজয় তাহার ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি ও পৃষ্ঠপোষক মুসার মনে ঈর্ষার সৃষ্টি করে । মুসা এতদিন আফ্রিকায় নীরবে ছিলেন । ৯৩ হিজরীতে রমজান মাসে/জুন ৭১২ খ্রীঃ সেনাপতি তারিকের অসমাপ্ত অভিযানকে সমাপ্ত করিবার উদ্দেশ্যে এবং স্পেন বিজয়ের সুনাম ও বৈষয়িক অংশ লাভের আশায় আঠারো হাজার সৈন্য লইয়া আফ্রিকা হইতে মুসা বিন নুসাইর স্পেন অভিমুখে যাত্রা করেন এবং কঙ্করময় খিদরা দ্বীপে পদার্পণ করেন । আরব অভিজাত ইয়ামানের হাবিব বিন আবু আবদাহ ফিহরী ১২ ইউসুফ আল ফিহরীর পূর্বপুরুষ, রসুলের সাহাবাদের বংশধর ও কিছু বার্বার সর্দার সমন্বয়ে গঠিত হয় তাঁহার সেনাবাহিনী । সংখ্যাগরিষ্ঠ বেদুইন সম্প্রদায়ের উপর কর্তৃত্ব করিতেন আরবগণ । আফ্রিকায় আগত কাউন্ট জুলিয়ানরা আরবদের সঙ্গে যোগ দেন । মুসা ইচ্ছাপূর্বক তারিকের অগ্রাভিযানের পথ পরিহার করিয়া উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হন । প্রথমেই তিনি মেদিনা সিদনীয়া ১৩ ও কারমোনা দখল করেন । এই দুই শহর মুসলিম শাসনাধীনে ছিল না । কয়েক মাস অবরোধের পর মুসা সেভিল ১৪ অধিকার করেন । ইহার পরই নিয়েবলা, (হুয়েলভা) ও বেজা বিজিত হয় । মুসা মেরিদাতে ভিজিগথদের এক শক্তিশালী সৈন্য দলের দুর্লঙ্ঘ্য প্রতিরোধের সম্মুখীন হন । দীর্ঘ এক বৎসর অবরোধের পর মেরিদা শহর রক্ষায় নিয়োজিত সেনাদল ৯৪ হিঃ শাওয়াল মাসে/৩০শে জুন ৭১৩ খ্রীঃ আত্মসমর্পণ করে ।
বিজয়ী বেশে মুসা টলেডোর নিকটবর্তী তারাভেরাতে প্রবেশ করেন । সেখানে তারিক তাঁহার জন্য অপেক্ষা করিতেছিলেন । সেই যুগের প্রথানুযায়ী দুই বিজয়ী বীর তাহাদের অসি বিনিময় করেন । ১৫ প্রবল বিক্রমশালী বীর তারিক সামরিক শৃঙ্খলার প্রতি নজিরবিহীন শ্রদ্ধা প্রদর্শন করিয়া নীরবে এই অপমান সহ্য করেন । পরবর্তী সময়ে মুসা ও তারিকের মধ্যে আন্তরিকতা ও বন্ধুত্ব গড়িয়া ওঠে । মুসার নামে ল্যাটিন ভাষায় মুদ্রিত স্বর্ণ মুদ্রা চালু হয় । উভয়ের সেনাবাহিনী একত্রিত করিয়া দুই বিখ্যাত সেনাপতি পুনরায় বিজয় অভিযান শুরু করেন । মুসা ও তারিক আরাগোনা অভিমুখে অগ্রসর হন । তারিক সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তীদলের সেনাপতি ছিলেন । আরাগোনার গভর্নর কাউন্ট ফরচুন আত্মসমর্পণ করিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন । সারাগোসা, বার্সিলোনা, আস্তুরিকা (আস্তোর গা) লিওন, লেগিও এবং ক্যান্টাবেরিয়ার রাজধানী আমায়যা শর্তাধীনে মুসার নিকট আত্মসমর্পণ করে । উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য শহরের একের পর এক পতন ঘটে । ফলে অনধিক দুই বৎসরের মধ্যে সম্পূর্ণ স্পেন মুসলমানদের করতলগত হয় এবং উত্তরে পীরেনীজ পর্বতমালা পর্যন্ত ইহার সীমানা সম্প্রসারিত হয় । বার্সিলোনা, পাম্পলোনা, লেরিদা, হুয়েস্কা, জেরোনা এবং তরতোসা কর প্রদানে সম্মত হইয়া স্বায়ত্তশাসন লাভ করে ।
উত্তর-পশ্চিম স্পেনের অবশিষ্ট অংশ বিজয়ের অপেক্ষায় না থাকিয়া মুসা পীরেনীজ পর্বতমালা অতিক্রম করিয়া গথিক শাসিত এলাকা লাংগোয়েডক-এর একাংশ অধিকার করেন । নারবোন, এভিগনন (আভেন্নিস) ও লুজুনের (লায়ন) ১৬ পতন ঘটে । ফ্রান্সের কারোলিনজিয়ান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হেরিষ্টিলের পেপিন—আরবগণ যাহাকে কারলাহ বলিতেন। শেষোক্ত দুইটি শহর পুনরায় দখল করিয়া নারবোন অবরোধ করেন । কিন্তু ইহা অধিকার করা তাহার পক্ষে সম্ভব হয় না । ফ্রান্সের অন্তর্গত প্রদেশে ওয়ালিদের সমর্থন না থাকায় মুসলিম সেনাবাহিনী রোন (রুদানো) নদী অতিক্রম করে না । রোন নদীর তীরে মুসলমানগণ আরবী ভাষায় উৎকীর্ণ লিপি দেখিতে পায় । ১৭ ইহাতে লিখিত ছিল "ক্ষান্ত হও আর অধিক অগ্রসর হইও না, ইসমাইলের সন্তানগণ প্রত্যাবর্তন কর" । মুসার পরিকল্পনা ওয়ালিদ প্রত্যাখান করেন । ফলে মুসা ফ্রান্স অভিমুখে অভিযান পরিচালনা হইতে বিরত থাকেন । অতঃপর মুসা স্পেনের পর্বতসঙ্কুল এলাকার প্রতি মনোনিবেশ করেন । তিনি গ্যালিসিয়ায় প্রবেশ করিয়া লুগো দুর্গ ও অন্যান্য এলাকা অধিকার করেন এবং শত্রুকে আস্তুরিয়াসের কঙ্করময় সঙ্কীর্ণ গিরিসঙ্কটে বিতাড়িত করেন । পিলাইও অপরাজিত থাকে এবং আস্তুরিয়া অনধিকৃত থাকে । স্পেন ত্যাগের পূর্বে মুসা সদ্য বিজিত রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অবলম্বন করেন । তাঁহার পুত্র আবদুল আজিজ স্পেনের গভর্নর পদে নিযুক্ত হন । রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হয় সেভিলে । যোগ্য হস্তে ন্যস্ত করিয়া তিনি স্পেন পরিত্যাগ করেন ।
টিকাঃ
১২. খেলাফত-ই-মুয়াহিদীন, (উর্দু অনুবাদ) পৃঃ ৮।
১৩. ইবনে ইজারী, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১৭-১৮।
১৪. সেভিল, স্পেনের একটি বৃহত্তম শহর ও জ্ঞানকেন্দ্র। রোমান এবং গথদের সময়ও ইহা তাঁহাদের রাজধানী ছিল। ইহার পূর্ব সৌন্দর্য এখনও বিদ্যমান।
১৫. ডজি, স্পেনিশ ইসলাম, পৃঃ ২৩৩; আন্দালুস, পৃঃ ২১।
১৬. ইবনুল আছির, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ৪৪৭; ইবনে খালদুন, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১১২: নাফলুল-তিব, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১২৮: দ্যা তারিখ-ই-আন্দালুস পৃঃ ১১৫।
১৭. উইলিয়াম ম্যুর, খালিফাত, পৃঃ ৩৫৮ টীকা-৩: আল-মাক্কারী, নাফলুল-তিব, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১২১।
📄 সহজে স্পেন বিজয়ের কারণসমূহ
মুসলিম সেনাবাহিনী শক্তি ও শান্তি উভয় নীতি অনুসরণ করিয়া গথিক সাম্রাজ্য অধিকার করে । স্পেনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুরাবস্থা মুসলিম অভিযানকে সাফল্য মণ্ডিত করিতে সাহায্য করে । আত্মকলহে অতিষ্ঠ, যুদ্ধ ও বিবাদ-বিসম্বাদে জর্জরিত স্পেনের সাধারণ জনগণ মুসলমানদিগকে তাহাদের ত্রাণকর্তা ও হিতাকাঙ্ক্ষী হিসাবে বিবেচনা করে । ফলে মুসলিম সেনাবাহিনী স্বল্প সময়ের ব্যবধানে উপদ্বীপকে সম্পূর্ণরূপে অধিকার করিতে সক্ষম হয় । স্পেনে অভিযান পরিচালনাকারীদের মধ্যে অধিকাংশ ছিল বার্বার । দুর্ধর্ষ বার্বারদের অসম সাহসিকতা ও রণনৈপুণ্য স্পেন বিজয়ের মূলে বিশেষ অবদান রাখিয়াছে ।
মুসা উত্তর আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকা এবং স্পেন দখল করিবার আশা পোষণ করেন । গোয়াদালেতে ১২,০০০ হাজার সৈন্য লইয়া যুদ্ধ জয়ের পর তারিক টলেডোর দিকে অগ্রসর হন । হিসপানীয় ও ভিজিগথদের মধ্যে মতবিরোধের ফলে তাহারা তারিককে বাধা প্রদান করিতে ব্যর্থ হয় । এই ব্যর্থতার ফলে মুসা উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা লাভ করেন । খ্রীস্টান শাসক ও সেনাপতিগণ আরামপ্রিয়তা ও কর্মবিমুখতার জন্য সেনাবাহিনীর উপর নির্ভরশীল হইয়া পড়ে । মুসলিম বাহিনী গোত্রীয় চরিত্র ও ইসলামী আদর্শের অনুপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ ছিল । মুসলিম সেনাগণ খ্রীস্টানদের তুলনায় দৈহিক শক্তি ও রণ-নৈপুণ্যে উন্নত ছিল । ভূমিদাস ও ক্রীতদাসদের সমন্বয়ে গঠিত খ্রীস্টান বাহিনী যুদ্ধ জয়ে তাহাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন সাধিত হইবে না এই কথা স্মরণে রাখিয়া যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করিত । ফলে যুদ্ধের ময়দানে অগ্রসর না হইয়া পশ্চাদপসারণ করিত । মাক্কারীর মতে, স্পেনীদের পরাজয়ের মূল কারণ ছিল ইল্লিয়ানের (বুলিয়ান) অসন্তুষ্টি । ১৮
স্পেন বিজয়ের অন্যান্য কারণসমূহের মধ্যে উত্তর আফ্রিকায় আশ্রয় গ্রহণকারী ইহুদী ও ক্রীতদাসদের অসন্তোষকেও গণ্য করা যাইতে পারে । ইহুদী, ভূমিদাস ও ক্রীতদাসগণ গথিক শাসনের নির্মম নির্যাতন হইতে অব্যাহতি পাইবার আশায় নবাগত মুসলমানদের সাদরে গ্রহণ করে । ভৌগোলিক কারণসমূহও মুসলমানদের অগ্রাভিযানে সহায়ক হয় । উত্তর আফ্রিকা ও স্পেনের মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র ১৪ মাইল প্রশস্ত জিব্রাল্টার প্রণালী । ফলে জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করিয়া ইউরোপে ক্ষমতা বিস্তার করা তাহাদের জন্য সহজ ছিল ।
টিকাঃ
১৮. গায়ানগোস, দ্যা মোহামেডান ডাইনেস্টিস ইন স্পেন, ১ম খণ্ড, পৃঃ ২৫১, ২৫৩, ও ২৫৫।